somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি নষ্টালজিক পরিভ্রমণ-১

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




‘’বন্ধু মানে তোমার হাতে পড়ে থাকা
ভুলে থাকা মনযাতনার অলস সে হাত
বন্ধু মানে মনের কথা, আমার ভীষণ অন্ধকারে
পাশে বসা ছায়াটাকে বলতে পারা-
বন্ধু মানে দু:সময়ে একফালি রোদ,
শক্ত বাটের শরীফ ছাতা-
বন্ধু মানে ঝুম বৃষ্টি, কাঠ বাদামের মস্ত নেশা
বন্ধু হলো দীর্ঘসময় চুপটি করে আবার বলা:
কেমন আছিস!’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অনেক স্মৃতি।
আমার চোখ খুলে দেবার অধ্যায় এ পাঠপর্ব; সুদীর্ঘ পথচলায় এক একটা পরাতে কিছু বিস্ময়, অনেক আনন্দ, ক্ষীর্ণ বিষাদ, বন্ধুত্বের থই থই সারি আর অসীম প্রেরণা একজন আমার প্রান্তিক প্রাপ্তি হয়ে আছে- আমার তৃপ্তির খাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়েছিল আবার ভাজ করেও দিয়েছে। আমি ভাজ করে দিয়েছি বলছি এজন্যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলির পর ব্যক্তিগতভাবে আমার আর কিছু পাওয়ার ছিল না।
হয়ত আমার সাথে আমার সহপাঠিরা একমত হবেন।
সেই ক্যাম্পাস, টি এস সি, কার্জন হল, ফুলার রোড, মল চত্বর, রেজিস্টার বিল্ডিং কিংবা বাস ডিপো- চোখ বুজলেই ভালোবাসার টুকরো-টাকরা।
প্রথম প্রেম, প্রথম রাত জাগা, প্রথম বয়স্ক হবার পাঠ- পরিচিত মানুষের গন্ডি পেরিয়ে অপরিচিতদের আপন করার সময়- এসবের সাথে প্রাপ্তি লেপ্টে আছে জমজ আনন্দে।
বন্ধু যে আত্মার সাথে সম্পর্কিত হয়, ঘাষ যে এতটা সবুজ হতে পারে, রাত যে এতটা মুখর হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসলে আমি কি তা জানতাম!
তরঙ্গে বাসে ফেরার সেই স্বর্ণালী বিকেল অথবা চারুকলার পদ্মপুকুরে কাটানো সারারাত আর রাতকে ঘিরে থাকা বাউলীয়ানা, পলাশীর মোড়ের চিতই পিঠা শুটকির ভর্তা কিংবা নীলক্ষেতের জালাল মামার হোটেল আর কোথায় পাবো বলো!
নাজিমুদ্দিন রোডের নিরব আজ একেবারে নিরব হয়ে গিয়েছে নাকি, বাজমে কাদেরিয়ের পাশের হোটেলটার গরুর গোশত এখনও অত ঝাল কিনা, শাহবাগের কোহিনূরে সিঙ্গারা এখন পাওয়া যায় কি - এসব কিন্তু ভাবনায় ঘুরাঘুরি করে আজও-নিয়ত;

অনেকবছর পর এখন এই প্রবাসে যখন কোন বন্ধুকে পাই, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত কিছু তখন সবকিছু উতরে সেটাই মুখ্য হয়ে উঠে আজও...

(ক্রমশ)

ফুটনোট: শুরুতে ব্যবহৃত কবিতাটি আমার লেখা। আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।
আর পুরো লেখাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু সংগঠন ডুফার রিইউনিয়ান উপলক্ষে আমার লেখা, সংক্ষেপিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:১৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৭



১। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার পাশে একটি মেয়ে শুয়ে আছে! মেয়েটির মুখে এক আকাশ মায়া। মেয়েটিকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে- খুব আরাম করে সে ঘুমাচ্ছে। মাথা ভর্তি এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাকাতদর্শন

লিখেছেন মৃত্তিকামানব, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩০


আমাদের ছোটবেলায় প্রতিদিন নিয়ম কইরা দিনের বেলায় চুরি হইত আর রাতের বেলায় ডাকাতি।ডাকাতরা বেবাক কিসিমের মুখোশ পইরা, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আইসা স্বর্ণালংকার, টাকাকড়ি থেকে শুরু কইরা শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা পিঠাপুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার উপদেশ বা অনুরোধ

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৩



একটা গল্প দিয়ে লেখাটা শুরু করি-
একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ভদ্রলোক তরমুজ বিক্রি করছেন। তরমুজের মূল্যতালিকা এমন: একটা কিনলে ৩ টাকা, তিনটা ১০ টাকা।
একজন তরুণ দোকানে এসে একটা তরমুজের দাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৪






সকালে তৎপর মিডিয়া দেখাচ্ছিল বাবার মোটর বাইকে চড়ে মিন্নি কোর্টে এসেছে মাস্ক পরে । এই তিনটার সময় বাবা মিন্নি ছাড়াই বাইক নিয়ে ফিরে গেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিস্তায় চীনাদের যোগ করার কোন প্রয়োজন নেই, বাংগালীদের পারতে হবে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯



ভারতের সাথে তিস্তার পানি বন্টন ও বন্যা কন্ট্রোল কোনভাবে হয়ে উঠছে না; ভারতের পানির দরকার, এতে সমস্যা নেই; ওদের প্রয়োজন আছে, বাংলাদেশেরও প্রয়োজন আছে, এই সহজ ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×