জেনারেল জিয়াকে যাঁরা সরায়েছেন, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা, তাঁরা সাধারণ সৈনিক নন, কোন বিপথগামী সেনা নন; এবং বিদ্রোহী দলের প্রধান কর্ণেল মাহফুজ ছিলেন জেনারেল জিয়ার যুদ্ধকালীন ও রাজনৈতিক জীবনের 'একামাত্র' বন্ধু। 'জেড-ফোর্স' এর সবচেয়ে বিখ্যাত ক্যাপটেন ছিলে মাহফুজ, ফ্রন্ট ও গেরিলা বাহিনী ছিল উনার; চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ঢুবানোর অপারেশনের মুল উনি। যাঁরা জেনারেলকে সরায়েছেন, তাঁরা প্রয়োজনেই করেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতা নেয়ার জন্য করেননি, করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচানোর জন্য, দেশকে সামরিক সরকারের হাত থেকে নিয়ে সঠিক পথে নেয়ার জন্য।
যেই ১২ জনের ফাঁসী হয়েছে, তারা রা্স্তার কেহ নন, তাঁরাই জিয়া বা অন্য সেক্টর কমান্ডের অধীনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন; তাদের ফাঁসী দিয়েছে এরশাদ, সাত্তার, ড: বদরুদ্দোজারা, যারা কোনদিন বাংলাদেশ চায়নি, যুদ্ধ করার কোন প্রশ্নই আসে না।
ইয়াহিয়া, জিয়া, জিয়াউল হক, এরশাদ, মোশারফসহ পাকিস্তানের ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর 'রাজনৈতিক পিতা' হলো আইয়ুব খান। পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাকিস্তানের মালিক, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী বাংলাদেশের মালিক হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন, যারা চেয়েছিল আইয়ুবের রাজতণ্ত্র থেকে বেরিয়ে এসে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে।
১৯৭৫ সালে যা ঘটেছিল, মুক্তিযোদ্ধা অফিসারেরা চায়নি যে, জিয়া বাংলাদেশকে পাকী কায়দায় চালাক; তাঁরা চেয়েছিলেন যে, জিয়া যা অপরাধ করেছে, করেছে, এখন সরে যাক; জিয়া সরেনি; তাই শুরু হয় 'সামরিক ক্যু'; আসলে ক্যু ছিলো না সেগুলো, সেগুলো ছিল জিয়াকে সরানোর চেস্টা। পাকিস্তান ফেরত এরশাদ ও জিয়া আর্মিকে বিভক্ত করেছিল লোভ দেখায়ে; তাই ভয়ানক সমস্যা হচ্ছিল ভেতরে।
যাক, ক্যু হচ্ছিল, আর মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসীতে ঝুলাচ্ছিলেন জিয়া ও এরশাদ। একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্টের সেনাপতি কিভাবে হয় অযোদ্ধা ও পাকী ফেরত এরশাদ, যেখানে ১০/১৫ জন সেক্টর কমান্ডার জেনারেল ছিলেন?
স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়ার অবদানকে কাজে লাগায়ে জিয়া অনেক শিক্ষিত মানুষকেও বিভ্রান্ত করেছেন; সাধারণ মফিজ মিয়ারা জিয়াকে জানার কথা নয়; জিয়া ইনটেলিজেন্সের লোক ছিলেন, আর দেশের ১২ ভাগ লোক নাম লিখতে জানতেন।
জিয়ার ব্যক্তিত্ব ছিল খুবই গ্রহনযোগ্য, জিয়ার ব্যবহার ছিল জেনারেলের মতো, যা বাংগালীরা সব সময় পছন্দ করে আসছে; আজো আর্মি অফিসারের কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য মাতাপিতারা পাগল। যারা আর্মি অফিসারদের কাছ থেকে দেখেছে, বুঝার ক্ষমতা আছে, তারা জানে পাকীি ও বাংলাদেশের মিলিটারী অফিসারেরা কি ধরণের পদার্থ ছিল।
জিয়ার অবদান ও ব্যক্তিত্বকে পশ্চিমের ক্যাপিটেলিজমের দুস্টরা ব্যবহার করে, আমাদের দেশকে তাদের দলে নিয়ে গেছে; যুদ্ধে অকারণে আমরা প্রাণ দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



