somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনের আকাশের ধ্রূবতারারা

১২ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এ'কাহিনীটি আমদের প্রতিবেশী, এক দরিদ্র পরিবারের একটি ছোট মেয়ে, সিমোনের জীবনের একটি ছোট অংশকে নিয়ে। সিমোন আমার গ্রাম্য সম্পর্কের বড় ভাই, বদি মিয়ার ছোট মেয়ে: ৩ বোনের মাঝে সে তৃতীয়; বড় বোনের বিয়ে হয়েছে, মেঝো বোনের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসছে, সিমোনের বয়স হয়তো ১০ বছরের মতো; সে বেশ ছোটকাল থেকে পরিবারের জ্বালানী যোগাড় করতো: পাতা কুড়াচ্ছে, গাছের শুকনো ডাল নিয়ে আসছে, শুকনো গোবর সংগ্রহ করছে, ধানের নারা কাটছে; আমি নবম শ্রেনীতে পড়ার সময় সিমোন ক্রমেই আমার সামনে আসতে লাগলো; সে সব কিছু করতো খুব ভোরে; আর, আমিও ছিলাম ভোরের মানুষ: আমি কাছারীতে থাকি; খুব ভোরে উঠে পড়ালেখা, তারপর দরকার মতো চাষবাস, গরু, ছাগলগুলোর খোঁজ খবর নেয়া, ভোরে পুকুর থেকে মাছ ধরা; ৯টার পর থেকে স্কুলের যাওয়ার প্রস্তুতি।

নবম শ্রেণীতে থাকাকালে আমার উপর একটি বাড়তি কাজের দাযিত্ব পড়েছিলো, আমাদের সাদা গাভীর দুধ দোহানো; নামে সাদা হলেও, গাভীটি ছিল আসলে ধুসর; উহকে আমি কিনেছিলাম; এটি গাভী হলেও উহার মনমেজাজ ছিলো ক্ষিপ্ত যাঁড়ের মতো, আকারে বেশ লম্বা, শিংগুলো যাঁড়ের মতো; মানুষজন আশপাশ দিয়ে হাঁটতে পারতো না, সে আক্রমণ করার চেষ্টা করতো; আমাদের বুড়োমিয়া উহার দুধ দোহন করা তো দুরের কথা, উহার আশপাশ দিয়েও যেতেন না। দুধ দোহনের সময় বাচ্চাটা ধরার জন্য কাউকে পাওয়া যেতো না, আমাকে কোনভাবে একাই ম্যানেজ করতে হতো। এক ভোরে, গাভী ও বাচ্চা মিলে আমাকে যখন নাকাল করছিলো, সিমোন নিজের থেকে ভলনটিয়ার হয়ে আমাকে সাহায্য করতে এলো, সে কাছে এসে বললো,
-কাকু, বাচ্চাটা আমি ধরি?
-গাভী তোকে গুতো দিবে, এই গরুটি ভয়ংকর।
সে বাচ্চাটাকে ধরে, গাভীর সামনে নাগালের মাঝেই দাঁড়ালো; গাভী ২/৩ বার ফোঁসফাঁস করে বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলো, সিমোনকে মেনে নিলো। এরপর থেকে প্রতি ভোরে সিমোন নিজে এসেই উপস্হিত। আমি সিমোনকে দুধ দিতে চাইলাম; সে নয়নি, সে শুধুমাত্র ছাগলের দুধ খায়। এরপর, সিমোন আমার মাছ ধরায় যোগ দিলো: বর্ষায় ও শীতে, সকালে পুকুরে মাছ ভাসতো, আমি জাল নিয়ে ব্যস্ত থাকলে, সিমোন মাছগুলো কুড়িয়ে নিতো, মাছের ঢুলায় রাখতো। মাছ দিলে সে মাঝেমাঝে নিতো।

সেবার শীতের এক খুব ভোরে, আমি কাছারীতে বসে পড়ছিলাম ও চা খাচ্ছিলাম; জানালা দিয়ে মাথা গলিয়ে দিয়ে সিমোন প্রশ্ন করলো,
-কাকু, তুমি কি খাচ্ছ, দুধ নাকি চা?
-চা।
-চা খেতে কেমন?
-তুই কোনদিন চা খাসনি?
-না।
-ভেতরে আয়, খেয়ে দেখ।
আসলে, চা সামান্যই ছিলো তলানীতে; সে সেইটুকু খেয়ে তৃপ্তি প্রকাশ করলো। মা আমাকে প্রতিদিন চা দিতেন না, বেশীরভাগ সময়ে দুধ দিতেন। আমি সিমোনকে ২ আনা পয়সা দিয়ে বললাম,
-মাদল কাকার দোকানে গিয়ে, ১ কাপ চা ও ১টা কুকি খেয়ে নিস।

পরদিন দেখা হওয়ার পর, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম,
-মাদল কাকার চা কেমন লাগলো?
-আমি চা দোকানে যাইনি!
-কেন?
-তোমার মাদল কাকা জানতে চাইতে পারে, আমি পয়সা কোথায় পেলাম?
-তুই বলতে পারতি যে, আমি দিয়েছি!
-সেই কারণেই যাইনি!
-সমস্যা কোথায়?
-সমস্যা আছে, সেটা তুমি বুঝবে না! পয়সাগুলো আমি মেলায় যাবার জন্য রেখে দিয়েছি।
-ঠিক আছে, আমার সাথে খালের ওপারের গ্রামে চা-দোকানে যাবি? ওখানে তোকে কেহ চিনবে না!
-না, যাবো না!
-সেখানে যেতে সমস্যা কি?
-তুমি পাশের সব গ্রামে যাও, তোমাকে অনেকে চেনার কথা!
-হয়তো চিনতে পারে, তুই সাথে গেলে তাতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়!
-অসুবিধা আছে!
-কি অসুবিধা?
-আমার কাপড়ই একটা অসুবিধা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৪৪
৩২টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাহলে ন্যায় ও সত্যের জায়গাটি কোথায় বাংলাদেশে?

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:৪৩

তাহলে ন্যায় ও সত্যের জায়গাটি কোথায় বাংলাদেশে?
আইডি হ্যাক করে সাজানো মিথ্যা অভিযোগের একটি আয়োজন!
জালিয়াতি চিহ্নিত হল, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে। এ নিয়ে একটা জিডিও হলো।

সবকিছু জেনেশুনে প্রশাসনকে বলা হলো, যেহেতু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাঙের বিয়ে [শিশুতোষ ছড়া]

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৬


কোলা ব্যাঙের বিয়ে হবে
চলছে আয়োজন ।
শত শত ব্যাঙ ব্যাঙাচি
পেলো নিমন্ত্রণ ।।

ব্যাঙ বাবাজী খুব তো রাজী ,
বসলো বিয়ের পিড়িতে
ব্যাঙের ভাইটি হোঁচট খেলো,
নামতে গিয়ে সিড়িতে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় অগ্রসর তরুণ প্রজন্মকে 'খোলাচিঠি'

লিখেছেন , ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:৫৮


প্রিয় অগ্রসর তরুণ প্রজন্ম,

তোমরা যারা ডিজিটাল যুগের অগ্রসর সমাজের প্রতিনিধি তাদের উদ্দেশ্যে দু'লাইন লিখছি। যুগের সাথে খাপ খাইয়ে ওঠতে অনেক কিছু আস্তাকুঁড়ে ফেলতে হয়। সেটা কেবলই যুগের দাবি, চেতনার চালবাজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পত্রিকা পড়ে জেনেছি

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:২৮



খবরের কাগজে দেখলাম, বড় বড় করে লেখা ‘অভিযান চলবে, দলের লোকও রেহাই পাবে না। ভালো কথা, এরকমই হওয়া উচিত। অবশ্য শুধু বললে হবে না। ধরুন। এদের ধরুন। ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ভারত ভ্রমণের পর অপ-প্রচারণার ঝড়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১০



বাংলাদেশের প্রতিবেশী হচ্ছে ২টি মাত্র দেশ; এই ২টি দেশকে বাংগালীরা ভালো চোখে দেখছেন না, এবং এর পেছনে হাজার কারণ আছে। এই প্রতিবেশী ২ দেশ বাংলাদেশকে কিভাবে দেখে? ভারতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×