
১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসে উত্তর চট্টগ্রামের এক এলাকায় বেশ ভোরে দেখলাম, মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে দৌড়ায়ে পশ্চিম দিকে পালাচ্ছে; পাকিস্তানী সৈন্য নেমেছে বিশাল এলাকা জুড়ে, বাড়ীঘরে আগুন দিচ্ছে, গোলাগুলি করে মানুষ মারছে; মানুষ বেদিশার মতো পশ্চিম দিকে পালাচ্ছে; এরা চর অবধি যেতে পারবে; তারপরই সমুদ্র। ইতিহাস অনুসারে, বুঝা যায় যে, চেংগিস খানের সৈন্য আসছে শুনলে অনেক রাজ্যের লোকজন শত মাইল দুরে গিয়ে পালায়েছে। আজকের তালেবান, আইএস, আলকায়েদা, লস্করে তৈয়বা থেকে মানুষ হাজার মাইল দুরে পালাচ্ছে; পালাতে গিয়ে, কাবুল এয়ারপোর্টে প্রাণ হারাচ্ছে।
বিশ্বের ৮০ ভাগ মানুষ ধর্মে বিশ্বাস করেন, বা কমপক্ষে ধর্মের আচার-আচরণ মানেন; কিন্তু এদের সিংহভাগ, জাতির সর্বোচ্চ প্রতিষ্টান, রাষ্ট্রকে সর্বশক্তিমানের নিয়মে পরিচালনার বিপক্ষে, এরা রাষ্ট্রের বেলায় তাদের প্রাকৃতিক জ্ঞান প্রয়োগে বিশ্বাসী। অনেক মুসলিম দেশে কিছু কিছু মানুষ রাষ্ট্রকে ধর্মীয় নিয়মে চালাতে চান; রাষ্ট্রকে ধর্মীয় আইনে চালানোর পক্ষে মুসলিম দেশগুলোতে রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিপুল পরিমাণে বেআইনী মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে উঠেছে; এদের মাঝে আছে: তালেবান, আইএস, আলকায়েদা, লস্করে তৈয়বা, হেজবুল্লাহ, হামাস, বোকা হারাম, অনেক শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী। একা আফগানিস্তানে এই রকম ২২টি মিলিশিয়া বাহিনী আছে।
তালেবানদের ভয়ে, তাদের দেশবাসী আগে পালায়েছিলো পাকিস্তান ও আশপাশের দেশে; এবার আশপাশের দেশে পালাচ্ছে; সাথে সাথে ২ লাখের কাছাকাছি পালাচ্ছে অমুসলিম দেশে, পশ্চিমে। যারা আজকে পশ্চিমে পালাচ্ছে, তাদের ছেলেমেয়েদের একাংশ আর ইসলাম মানবে না।
আমেরিকার উইথড্রতে আফগানীরা খুশী হয়ে জাতীয়তাবাদী সরকার গঠন করলে, বিশ্ব তাদেরকে স্বাগত জানাতো; কিন্তু ক্ষমতা দখল করেছে তালেবান; তারা আল্লাহের দেয়া নিয়ম, শরীয়া আইন চালু করবে দেশে, এতে বিশ্ব কেন তাদের নিয়ে অসন্তষ্ট? ওরা তো আমেরিকা, জাপান, জার্মানীতে শরীয়া আইন চালু করতে যাচ্ছে না!
ব্যাপারটা সোজা, আমেরিকা, জাপান, ইউরোপ আজকে প্রাকৃতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ; তারা ভালো জীবন দিতে পেরেছে জাতিকে; তারাও এক সময় ধর্মীয় জ্ঞান দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলো, তাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে, উহা ভালো ছিলো না; উহা মানুষের প্রাকৃতিক জ্ঞানের পরিপন্হি ছিলো। মানুষের প্রাকৃতিক জ্ঞান হচ্ছে, স্বাভাবিক লজিক্যাল ভাবনার প্রকাশ, মানুষের লব্ধজ্ঞান; আর ধর্মীয় জ্ঞান হচ্ছে আগের দিনের মানুষের লব্ধজ্ঞান যা আজকের পরিমাপে অনেক দুর্বল ও সভ্যতার জন্য অকেজো ও পরিপন্হি।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


