somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ণে বর্ণে জ্ঞান শিক্ষা

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(১) বেশ অনেক বছর আগের কথা। আমরা একটা ছোট কুঁড়েঘড়ের মত একতলা বাসায় থাকতাম। ও বাসায় আরো দুটি পরিবার থাকত। ওরকম বাড়ীতে দু-চারটি শিশু সবসময়ই পাওয়া যায়। চার-পাঁচ বৎসর বয়স্ক এক শিশু ছিল তার মাকে দেখতাম তাকে পড়াতে। আমার মনে হত পড়ানোর ব্যাপারে শিশুটির ওপর অধিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। শিশুটির ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ কানে আসত। আমি লক্ষ্য করতাম কি এমন পড়ত যে বাচ্চার এমন জানবাজি রেখে রাত জেগে পড়াতে হবে! আসলে পড়া তেমন কিছুই না। আমাদের সবারই পরিচিত পড়া। তবে সে পরিচিত পড়াগুলোই আমাকে একটা বিষয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করল।

বাচ্চাটি পড়তঃ

অ-তে অজগরঃ ঐ অজগর আসছে তেড়ে।

আ-তে আমঃ আমটি আমি খাব পেড়ে।

ই-তে ইঁদুরছানাঃ ইঁদুরছানা ভয়ে মরে।

ঈ-তে ঈগলঃ ঈগল কেমন ছোঁ মারে।

(২) বাচ্চাদের দৈহিক ইনজুরী প্রতিরোধ এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের ওপর একটি গবেষণা সংস্থায় কিছুদিন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তখন মানুষের পরিণত বয়সে তার শিশুবেলার শিক্ষা-দীক্ষার প্রতিফলন বিষয়ে কিছু বাস্তবধর্মী জ্ঞান অর্জন করি। একজন পরিণত ব্যক্তির মানবিকতা, তার সেন্সিটিভিটি গড়ে ওঠে তার শিশুবেলার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ ও তার সে-সময়কার শিক্ষা-দীক্ষার ওপর। আপনি যদি কোন শিশুকে সততা শিক্ষা দিতে পারেন তবে সে বড় হয়ে কখনো অসততামূলক কাজ করবে না। তাকে যদি দুঃখী মানুষের প্রতি সহমর্মিতা শিক্ষা দিতে পারেন তবে সে পরবর্তী জীবনে দুঃখী মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে।

একজন শিশু হচ্ছে কাদামাটির মত। আপনি তাকে যেভাবে গড়ে তুলবেন সে সেরূপ হবে।

ইসলাম ধর্ম মানুষের এ বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিয়ে এভাবেঃ

"ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। প্রত্যেক মানুষ মুসলমান হয়ে জন্মলাভ করে। অভিভাবক, সমাজব্যবস্থা ও পরিবেশ তাকে অমুসলমান বানায়।"
(বিস্তারিত দেখুনঃ
জানাযা অধ্যায় ::
সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৩ :: হাদিস ৪৪১
রিয়াযুস স্বা-লিহীন :: হাদিস ১৩৯৩)

অর্থাৎ একজন শিশুর বড়বেলার বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে তার ছোটবেলার শিক্ষার ওপর। মানুষ স্বভাবতঃই বড়দের অনুসরণ করে। এজন্য ভুল শিক্ষা দেয়ার অভিযোগে বড়দের পাকড়াও করা হবে বলে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে বড়দের সতর্ক করেছেন।

যদি মা বাবার ভুল শিক্ষা দেয়ার কারণে সন্তান দ্বীনের ওপর না চলে গোমরাহীতে পতিত হয় তাদের বিষয়ে কুরআনের বক্তব্যঃ

وَقَالُواْ رَبَّنَآ إِنَّآ أَطَعۡنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَآءَنَا فَأَضَلُّونَا ٱلسَّبِيلَا۠
رَبَّنَآ ءَاتِهِمۡ ضِعۡفَيۡنِ مِنَ ٱلۡعَذَابِ وَٱلۡعَنۡهُمۡ لَعۡنٗا كَبِيرٗا

"সেদিন তারা বলবে, হে আমাদের রব, দুনিয়ার জীবনেতো আমরা আমাদের নেতা ও গুরুজনদের কথামতোই চলেছিলাম, তারাইতো তোমার পথ থেকে আমাদের গোমরাহ করেছে। হে আমাদের রব, আজ তাদের শাস্তিকে তুমি দ্বিগুণ করে দাও এবং তাদের প্রতি বড় ধরনের অভিশাপ দাও।" (সূরা আল আহযাব, আয়াতঃ ৬৭-৬৮)

(৩) গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে শিশুদের ঐ অজগর আসছে তেড়ে বা আমটি আমি খাব পেড়ে শেখানোর কোন গ্রহণযোগ্য কারণ খুঁজে পেলাম না। অজগর তেড়ে আসছে অথবা ইঁদুরছানা ভয়ে মরছে এ শিক্ষা সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত। আজ পর্যন্ত কোনদিন কোন অজগরকে তেড়ে আসতে দেখলাম না বা ইঁদুরছানা ভয়ে মরে কিনা জানতে পারলাম না। আম পেড়ে খাওয়ার কথা বাদই দিলাম। ফরমালিনমুক্ত আম কিনে খেতে পারলেই যথেষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।

অথবা ধরুন হাট্টিমা টিম টিম, তারা মাঠে পাড়ে ডিম, তাদের খাড়া দুটো শিঙ, তারা হাট্টিমা টিম টিম। আচ্ছা এ ছড়াটা কতখানি বাস্তবতা বিবর্জিত চিন্তা করুন একবার। খাড়া শিঙওয়ালা কোন জন্তু কি কখনো ডিম পাড়ে!

এবার আপনি আগডুম বাগডুম ছড়াটা বাস্তবতার নিরিখে পর্যালোচনা করুন। একটা কমলাফুলির এতটুকু টিয়ের সাথে কি এতবড় সূর্য্যিমামার বিয়ে হওয়া সম্ভব!!

বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মকান্ড, তৎপরতা ও নৈতিক বোধ যদি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং এর সাথে তাদের শিশু বয়সের এসব অর্থহীন লেখাপড়ার সম্পর্ক খুঁজি তাহলে একজন সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের পক্ষেও উপলব্ধি করা কঠিন হবে না বলে মনে করি। এসব লেখাপড়া আমাদেরকে একটা নৈতিক চেতনা শূন্য, ভোগবাদী, আরামপ্রিয় ও স্বার্থপর শিক্ষিতগোষ্ঠী উপহার দিয়েছে মাত্র। কোন আগ্রহী সমাজবিজ্ঞানী বা পরিসংখ্যানবিদ এ বিষয়ে গবেষণা করলে নিশ্চয়ই অনেক চিত্তাকর্ষক বিষয় উন্মোচিত হবে ইনশাআল্লাহ।

(৪) অতঃপর আমি লিখলামঃ

অ-তে অযুঃ অযু করে নামায পড়।

আ-তে আল্লাহঃ আল্লাহর হুকুম মেনে চল।

ই-তে ইসলামঃ ইসলাম কবুল কর।

ঈ-তে ঈমানঃ ঈমানের মেহনত কর।

উ-তে উপদেশঃ কুরআনের উপদেশ গ্রহণ কর।

ঊ-ঊষাঃ বিছানা ছাড় ঊষার আগে।

ঋ-তে ঋণঃ ঋণ থাকলে পরিশোধ কর।

এ-তে এহরামঃ এহরাম বেঁধে হজ্জ্বে চল।

ঐ-তে ঐঃ ঐ দেখ কাবা ঘর।

ও-তে ওজনঃ ওজন কর সঠিক ভাবে।

ঔ-তে ঔষধঃ ঔষধ খাও আল্লাহর নামে।


পুরো বর্ণমালার পিডিএফ লিঙ্ক
দিয়ে দিলাম। আগ্রহীরা ডাউনলোড করে লেমিনেটিং করে নিজের সন্তানের জন্য, ভাই-ভাতিজার জন্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাচ্চার জন্য ব্যবহার করবেন। ফী-সাবিলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন সদকায়ে জারীয়া হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

(৫) যে শিশু শিখবে ই-তে ইঁদুরঃ ইঁদুরছানা ভয়ে মরে অথবা যে শিশু শিখবে ই-তে ইক্ষুঃ ইক্ষুরস অতি মিষ্ট;
অন্যদিকে যে শিশু শিখবে ই-তে ইসলামঃ ইসলাম কবুল কর - এতদুভয়ের আউটকাম বা পরিণতি কি সমান হবে?

যে শিশু শিখল হাট্টিমা টিম টিম, তারা মাঠে পাড়ে ডিম; অন্যদিকে যে শিশু শিখল ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
"সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার জন্য" - তাদের উভয়ের মধ্যে কার মানসিক বিকাশ ভাল হবে? যে অর্থহীন মূর্খামী শিখল তার নাকি যে জগতসমূহের কথা এবং তার প্রতিপালকের কথা শিখল তার?

হয়ত আধুনিক শিক্ষার ধ্বজাধারীরা আমার এ কথাগুলোতে কোনদিনই কর্ণপাত করবে না বা বুঝতে চাইবে না, পাছে তাদের সন্তানদের দুনিয়াবী স্বার্থ সঙ্কুচিত হয়ে পরে এই ভয়ে। ইউনিসেফও এসব শিক্ষা বাচ্চাদের শেখানোর জন্য কোনদিনই অর্থায়ন করবে না। কারণ এতে করে তারা তাদের অনুগত বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী দাস তৈরী করতে পারবে না। আমার মেহনত শুধু তাদেরই উপকারে দেবে যারা আল্লাহ তায়ালাকে না দেখেও ভয় করে এবং আখিরাতের প্রতি দৃঢ় ঈমান রাখে।

[বিঃদ্রঃ এ লেখার সাথে আমার যেসব বন্ধুরা একমত নন তাদের প্রতি আমার কোন প্রত্যাশা নেই। সবাই একমত হবেন না এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু যারা আমার এ লেখাটিকে পছন্দ করছেন তাদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন লেখাটিকে বেশী বেশী শেয়ার করেন। নিজের সন্তানের জন্য, ভাই-ভাতিজার জন্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাচ্চার জন্য ব্যবহার করবেন। ফী-সাবিলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন সদকায়ে জারীয়া হিসেবে কবুল করুন। আমীন।]


পড়ুনঃ

বর্ণে বর্ণে জ্ঞান শিক্ষা - পিডিএফ

বর্ণে বর্ণে জ্ঞান শিক্ষা - পিডিএফ

বর্ণে বর্ণে জ্ঞান শিক্ষা - পিডিএফ

আরেকটি লিঙ্কঃ

আমার পরিচয়

আমার পরিচয়

আমার পরিচয়
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×