সেদিন থেকে মিতুর খেলতে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। যতদিন না পরীক্ষায় ৮০ এর উপরে নম্বর পাবে, ততদিন ওর উপর এই অধ্যাদেশ বলবৎ থাকবে। বাসায় পড়ায় চাপও বেড়ে গেছে এখন ওর উপর। ইচ্ছে না থাকলেও খেলার সময়েও পড়তে বসতে হয় । মিতু খুব চেষ্টা করে পড়া মনে রাখবার। কিন্তু পরীক্ষার সময় ওর কি যে হয়! জানা জিনিসটাও লিখতে পারে না ঠিক মত। আগের মতই ভুল হতে থাকে ওর। আর সেজন্য শাস্তি তো বরাদ্দ আছেই। ইদানিং ক্লাসের মিসগুলোও যেন ওর শত্রু হয়ে গেছে। সেদিন বাবা মাকে ডেকে ওর অবাধ্যতা আর শৃংখলা ভংগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বাবা মাও সুযোগ পেয়ে মিসকে বিচার দিয়ে গেছেন, মিতু নাকি কিচ্ছু পড়ালেখা করে না। মিতুর কান্না পেতে থাকে।
এখানে মিতুর পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, স্কুলে যেয়ে শৃংখলা ভংগ, অবাধ্যতা, পরীক্ষার সময় নার্ভাসনেস ইত্যাদি সমস্যার জন্য ওর বাবা-মায়ের আচরণ বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। এ ধরনের বাবা-মায়েদের মনোবিজ্ঞানীরা কর্তৃত্বপরায়ন অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন। সন্তানের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি এবং সেগুলো তারা সন্তানের উপর চাপিয়ে দেন। এসব প্রত্যাশা তাদের কাছে এক ধরনের প্রেস্টিজ ইস্যু। প্রত্যাশা পূরণ করার মত সামর্থ্য সন্তানের আছে কিনা তা তারা বিবেচনায় আনেন না। আর প্রত্যাশা পূরণ না হলে সন্তানদের কঠিন শাস্তি দিয়ে থাকেন। শাস্তি দিয়ে থাকলেও সন্তানের ভুল সংশোধন করার জন্য কোন পদক্ষেপ নেন না। এছাড়াও সন্তানদের জন্য অনেক কঠিন নিয়ম কানুন তারা প্রবর্তন করেন, কিন্তু এগুলো কেন করছেন তার ব্যাখ্যা কখনো দেন না। সন্তানেরা বাধ্য হয়ে এসব মেনে চলে, কিন্তু মন থেকে মেনে নেয় না । সন্তানের পছন্দ-অপছন্দের কোন মূল্য তারা দেন না। আর সব বাবা-মায়েদের মত তারাও সন্তান্দের ভালবাসেন, কিন্তু তা সন্তানদের সামনে কখনো প্রকাশ করেন না। সন্তানের যেকোন কাজকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করে থাকেন। যেমনটা মিতুর বাবা-মাও করেছেন। মিতু পরীক্ষায় ৬৫ পেলেও, তারা তা গ্রাহ্য করেন নি। ভুলগুলো ঠিক করে দেন নি। আরো ভাল ফলাফল যে মিতু করতে পারে, সেজন্য কোন রকম উৎসাহ, প্রেরণা যোগান নি। উলটো তাকে খেলতে না দিয়ে চাপের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। ফলে পরীক্ষার সময় নার্ভাসনেসের কারণে আগের মতই ভুলগুলো হতে থাকে ওর। এছাড়াও স্কুলে শৃংখলা ভংগ করার প্রবনতা দেখা যায়।
এমন কর্তৃত্বমূলক বাবা-মায়ের প্রভাব সন্তানের সামাজিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে পড়ে। এ ধরনের বাবা-মায়ের সন্তানদের কিছু বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলোঃ
ভীতু বা লাজুক হয়ে থাকে
ঘরে বাবা-মায়ের কঠোর অনুশাসন মেনে চললেও বাইরে গেলে আক্রমণাত্নক আচরণ করে থাকে
দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সামাজিক অবস্থাতে সমস্যায় পড়ে থাকে এবং সেগুলো মোকাবেলা করতে পারে না
আত্নবিশ্বাস কম থাকে
বড় হলে নিজের কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না
যে কোন কাজে উৎসাহ বা কৌতুহল থাকে না বা কম থাকে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে চায় না।
অল্পতেই হতাশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে
আজ শুধু কর্তৃত্বপরায়ন বাবা-মা ও তাদের সন্তানদের সম্পর্কে বলা হল। পরে পর্বগুলোতে আরো বাবা-মায়ের কথা বলার ইচ্ছে রইল। বিভিন্ন ধরনের বাবা-মায়ের সাথে আপনিও নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
২০ জানুয়ারি, ২০১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




