somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রেডিও বিতর্ক

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীর অনেকগুলো বিতর্কের অন্যতম একটি হচ্ছে “কে রেডিও (Radio system) বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার (wireless communication system) উদ্ভাবক” ? এটা এমনই এক বিতর্ক যে রেডিও বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ভাবনের পেটেন্ট নিয়ে বিতর্কটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
“রেডিও বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্ভাবন” এই আলোচনায় বাংলাদেশে প্রধানত তিনজন বিজ্ঞানীর নাম বহুলভাবে উচ্চারিত হয় – “ইতালীর মার্কোনি , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেসলা এবং বাংলার জগদীশচন্দ্র বসু”। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি , বাংলাদেশের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র থেকে তড়িৎ-কৌশলের অধ্যাপক , বাংলা অন্তর্জালের বিভিন্ন ব্লগ এবং রেডিও বিষয়ক আলোচনায়, রেডিও বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ভাবনের বিতর্কটিকে শুধুমাত্র মার্কোনি, টেসলা এবং বাংলার জগদীশচন্দ্র বসুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন।



অথচ বাংলাদেশের অনেকেই হয়তো জানেন না বিশ্বের অন্যপ্রান্তে বিশেষ করে রাশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশে প্রত্যেক বছর ৭ই মে উদযাপিত হয় “Radio Day” বা রেডিও উদ্ভাবনের দিন। কারন মার্কোনি , টেসলা এবং জগদীশচন্দ্র বসুর সমসাময়িক একজন রুশ তড়িৎ- প্রকৌশলী, রেডিওতরঙ্গ আদান-প্রদানের মাধ্যমে , বিশ্বে প্রথম তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর নাম “আলেক্সান্দার ইস্তেপানোবিচ পাপোভ”। শিক্ষাব্যবস্থায় ইঙ্গ- মার্কিন প্রভাব প্রবল হওয়ার কারনে বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাঠক এই ব্যপারটা জানেন না। আমার আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে রেডিও বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্ভাবক রুশ তড়িৎ- প্রকৌশলী “আলেক্সান্দার ইস্তেপানোবিচ পাপোভ” এবং তাঁর উদ্ভাবন সম্পর্কে ব্লগের পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

আমি গর্বের সাথে বলতে পারি “সামহোয়্যারইন...ব্লগ” বাংলাদেশের সকল শ্রেণীর পাঠকের সর্ববৃহৎ প্লাটফরম। তাই সবার কথা মাথায় রেখে আমি লেখাটা প্রস্তুত করার সময় পদার্থ বিজ্ঞানের একদম প্রাথমিক স্তর (elementary stage) থেকে শুরু করেছি যাতে বুঝতে সুবিধা হয় এবং কোন ধরনের গাণিতিক সমীকরনের ব্যবহার করিনি।

রেডিও বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা হল “রেডিও তরঙ্গ (Radio Wave)” কে ব্যবহার করে , কোন প্রকার বৈদ্যুতিক তার ছাড়াই তথ্য আদান-প্রদান করা। আমাদের ঘরের টেবিলে থাকা রেডিওটি থেকে শুরু করে বর্তমানে মোবাইল ফোন সহ আধুনিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা সবকিছুর মূলে রয়েছে এই রেডিও তরঙ্গ।

রেডিও তরঙ্গ হচ্ছে এক ধরনের তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন (Electromagnetic Radiation)।

আমাদের বুঝতে হবে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরিন কি?
পদার্থ বিদ্যায় বিকিরন (Radiation) হল কোন উৎস (Point source) হতে শক্তির উৎপাদন (Emission of Energy) অথবা উৎপাদিত শক্তির স্থানান্তর বা নির্গমন (Transmission of Energy)। সহজ কথায় উৎস হতে উৎপাদিত শক্তি যখন তরঙ্গরূপে (Acting as a wave) বা কণা আকারে (Particle) সঞ্চারিত হয় তখন তাকে বলা হয় বিকিরন।

তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন প্রকৃতিতে বিরাজমান (Natural Phenomenon) শক্তি (Energy),যা শূন্যের মধ্য দিয়ে (Vacuum of space) কোন রকম মাধ্যম ছাড়া অথবা কোন মাধ্যম(Material Medium গ্যাস , তরল পদার্থ , কঠিন পদার্থ ইত্যাদি) এর মধ্য দিয়ে তরঙ্গরূপে (In the form of wave) সঞ্চারিত (Propagated) হয়।

উৎস হতে উৎপন্ন হওয়ার পরে,তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন উৎস স্থল থেকে তরঙ্গের মত করে ছড়িয়ে পরে। যেমনঃ সূর্য থেকে আসা আলো কিংবা টেবিল ল্যাম্প থেকে আসা আলো।

সাধারনত গামা রশ্মি , এক্স রে, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি , দৃশ্যমান আলো , ইনফ্রারেড , মাইক্রোওয়েভ এবং আমাদের আলোচিত রেডিও তরঙ্গ সবগুলো তরঙ্গই তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন।

উৎস হতে সৃষ্টি হওয়ার পর এই তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন তরঙ্গের মত করে সঞ্চারিত হয় কিংবা তরঙ্গের মত করে আচরণ করে বিধায় , তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরনকে, তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic wave) বলতে পারি। সুতরাং দৃশ্যমান আলো , আমাদের আলোচিত রেডিও তরঙ্গ এগুলো তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।

কিভাবে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের সৃষ্টি হয় ?
সহজভাবে বলতে গেলে পদার্থ (Matter) এর ক্ষুদ্রতম কণা হল পরমাণু।(Atom)। পরমাণুর অভ্যন্তরে থাকা অতিপারমাণবিক কণাগুলোর মধ্যে ইলেকট্রন ঋণাত্মক তড়িৎ আধান (Negative charge) এবং প্রোটন ধনাত্মক আধান (Positive charge) বহন করে। তড়িৎ আধানযুক্ত এই অতিপারমাণবিক কণাগুলোকে একসাথে বলা হয় তড়িৎ আধানযুক্ত কণা (charged particle )।

যখন এই তড়িৎ আধানযুক্ত কণাগুলো স্থির থাকে তখন তারা তাদের চারপাশে স্থির তড়িৎ ক্ষেত্র (Constant Electric field) তৈরি করে। আবার যখন এই তড়িৎ আধানযুক্ত কণাগুলি চলাচল করা শুরু করে (Moving condition) , তখন তারা তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে যাকে আমার বলি ইলেকট্রিক কারেন্ট এবং ইলেকট্রিক কারেন্ট সৃষ্টি করে চুম্বক ক্ষেত্র (Magnetic field)। এগুলো প্রকৃতির নিয়ম (Properties of Nature)।

আবার যখন এই তড়িৎ আধানযুক্ত কণাগুলো পরিবর্তনশীল বেগে চলাচল করা শুরু করে (Moving with variable speed) বা ত্বরিত হয় (Accelerated) , তখন তারা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল তড়িৎ ক্ষেত্র (oscillating electric field) এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল চুম্বক ক্ষেত্র (oscillating Magnetic field) তৈরি করে। পরিবর্তনশীল তড়িৎ ক্ষেত্র , পরিবর্তনশীল চুম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে , আবার পরিবর্তনশীল চুম্বক ক্ষেত্র ,পরিবর্তনশীল তড়িৎ ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াটি সাধারন সুসঙ্গত গতিতে (Simple Harmonic way ) চলতে থাকে।

যখন এই “সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল তড়িৎ ক্ষেত্র” এবং “সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল চুম্বক ক্ষেত্র” গুলো একইসাথে তরঙ্গের মত আচরণ করে , তরঙ্গের মত করে ছড়িয়ে পরে (Propagate as a wave) , তখনই এই জাতীয় তরঙ্গগুলোকে বলা হয় তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।

তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ প্রকৃতিতে বিদ্যমান। সুদূর মহাকাশে দৃশ্যমান অসংখ্য তারকারাজি থেকে প্রতিনিয়তই তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌঁছে।

তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ যখন তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয় তখন “সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল তড়িৎ ক্ষেত্র” এবং “সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল চুম্বক ক্ষেত্র” গুলো পরস্পরের সাথে সমকোণে থাকে (perpendicular to each other) এবং তরঙ্গ অভিমুখের সাথেও সমকোণে অবস্থান করে (perpendicular to the direction of energy and wave propagation)।



তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গগুলোকে তাদের কম্পাঙ্ক (Frequency) , তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) এবং তরঙ্গগুলো যে পরিমান শক্তি (Energy) বহন করে – এগুলোর উপর নির্ভর করে পরিমাপ (Measuring electromagnetic radiation) করা হয়। আজ পর্যন্ত যতগুলো তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ সনাক্ত করা গেছে , তাদের কম্পাঙ্ক (Frequency) এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মানের ক্রমানুসারে সাজানোকে বলা হয় তড়িৎ চৌম্বকীয় বর্ণালী (Electromagnetic spectrum)।



তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) হল পরস্পর দুটি তরঙ্গশীর্ষের মধ্যবর্তী দূরত্ব। তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে পরিমাপ করার জন্য একক হিসাবে মিটার meter (m) ব্যবহার করা হয়।

কম্পাঙ্ক (Frequency) হল একটি তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা , এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে সেই সংখ্যা। এদের একক হার্জ (Hz)। ১ হাজার হার্জ (Hz) এর সমান হচ্ছে ১ কিলোহার্জ (KHz) , ১ মিলিয়ন হার্জ (Hz) এর সমান হচ্ছে ১ মেগাহার্জ (MHz) এবং ১ বিলিয়ন হার্জ (Hz) এর সমান হচ্ছে ১ গিগা হার্জ (GHz)।

ক্রমবর্ধমান কম্পাঙ্ক অনুসারে সবচেয়ে উচ্চ কম্পাঙ্কের অধিকারী হচ্ছে গামারশ্মি। এর কম্পাঙ্ক ১০১৯ হার্জ এর উপরে, এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ নিকোমিটার এর চেয়ে ছোট।

তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরনের যে অংশ মানুষের চোখ সনাক্ত করতে পারে তাকেই দৃশ্যমান আলো বলা হয়। সাধারনত মানুষের চোখ তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরনের ৩৯০-৭৫০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো
সনাক্ত করতে পারে।

আর আমাদের আলোচিত রেডিও তরঙ্গ , তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরনের সবচেয়ে কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তরঙ্গ। রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ৩ কিলোহার্জ (KHz) থেকে ৩০০ গিগাহার্জ (GHz) এবং এর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ১ মিলিমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।



পৃথিবীতে প্রথম তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন এবং তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ সম্পর্কে ধারনা দেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। ১৮৩১ সালে বিখ্যাত ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ বিষয়ে মৌলিক সূত্র আবিষ্কার করেন। মাইকেল ফ্যারাডের বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক বলরেখা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তড়িৎ বল আর চৌম্বকীয় বলকে একীভূত করেন ম্যাক্সওয়েল! তিনি তাঁর ৪টি গাণিতিক সমীকরনের (যা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরন নামে পরিচিত) মাধ্যমে দেখান যে তড়িৎক্ষেত্র কিভাবে চৌম্বকক্ষেত্র কে প্রভাবিত করে। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনা প্রবন্ধে “A Dynamical theory of the Electromagnetic field” এ তিনি দেখান যে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন আলোর গতিতে সঞ্চারিত হয় (propagate at the speed of light) এবং আলো নিজে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। কিন্তু এগুলো সবই ছিল গাণিতিক প্রমাণ।

ম্যাক্সওয়েল তাঁর তড়িৎ চৌম্বকীয় তত্ত্বের প্রতিপাদনের পর তৎকালীন সময়ের অনেক বিজ্ঞানী চেষ্টা করছিলেন ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চৌম্বকীয় তত্ত্বের পরীক্ষামূলক প্রমান দেওয়ার।



১৮৭৩ সালে জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী Heinrich Hertz প্রথম তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরনের পরীক্ষামূলক প্রমান দেন। তিনি প্রথম পরীক্ষাগারে কৃত্রিম ভাবে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন উৎপাদন করেন। তাঁর তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন উৎপাদন করার যন্ত্রটিকে বলা হয় পৃথিবীর প্রথম Spark- Gap Transmitter। তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে , তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন যে ল্যাবরেটরিতে সৃষ্টি করা সম্ভব হার্জ তা দেখালেন। তিনি Ruhmkorff Induction coil এর সাহায্যে উচ্চ Voltage ব্যবহার করে বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ তৈরি করেন , যা তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন সৃষ্টি করে। উৎস হতে উৎপন্ন হওয়ার পরে , তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন উৎস স্থল থেকে তরঙ্গের মত করে ছড়িয়ে পরে এই ধারনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরল অর্ধ-তরঙ্গ ডায়াপোল এন্টেনাকে গ্রাহক যন্ত্র (Receiver) হিসাবে ব্যবহার করে রেডিও তরঙ্গ সৃষ্টি ও ধারণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন।



এই পরীক্ষণগুলো প্রমাণ করেছিল, তিনি যা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তা ছিল মূলত ম্যাক্সওয়েল এর পূর্ব অনুমিত তড়িতচৌম্বক তরঙ্গের ফলাফল। ১৮৮৭ সালের
নভেম্বরে তিনি তাঁর রিসার্চ পেপার "On Electro Magnetic Effect Produced by Electrical Disturbances in Insulators" প্রকাশ করেন। এই পেপারগুলো দেখিয়েছিল যে মুক্ত স্থানে অনুপ্রস্থ তড়িৎচুম্বক তরঙ্গ একটি নিদিষ্ট দূরত্ব সসীম বেগে যায়। হার্জ যে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ছিলেন সেখানে, তারগুলো থেকে তড়িৎ ও চুম্বক ক্ষেত্র তরঙ্গ আকারে বের হয়। তরঙ্গগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছিল ৪মিটার। তিনি ম্যাক্সওয়েলের তরঙ্গ পরিমাপ করেছিলেন এবং দেখালেন তরঙ্গগুলোর বেগ আলোর বেগের সমান। তিনি ঐ তরঙ্গগুলোর তড়িৎক্ষেত্রের তীব্রতা,পোলারিটি এবং প্রতিফলন পরিমাপ করেছিলেন। এই পরীক্ষণগুলো এটি প্রতিষ্ঠিত করে ছিল, আলো এবং এই তরঙ্গগুলো ছিল তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ যা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণগুলো মেনে চলে।

হার্জ যে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ উৎপাদন করেছিলেন তার কম্পাঙ্ক ছিল ৫০ MHz। বর্তমানে টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য যে রেডিও তরঙ্গগুলো ব্যবহৃত হয় তাদের কম্পাঙ্কগুলোও ৫০ MHz।থেকে শুরু হয়।

সমসাময়িক বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদরা হার্জ এর পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরনের নাম দেন “Hertzian wave”।শুধুমাত্র পর্যায়ক্রমে তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হিসাবে এই “Hertzian wave”এর ব্যবহার এর কারনে ১৯১২ সালে “Hertzian wave” এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “রেডিও তরঙ্গ বা (Radio Wave)” ।

হার্জ এর অসামান্য অবদানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৯৩০ সালে সকল তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গগুলোর কম্পাঙ্ককে (Frequency) পরিমাপ করার একককে হার্জ (Hz) নামে অভিহিত করা হয়।

এর যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর হার্জ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল , তাঁর আবিষ্কারের কি কোন ব্যবহারিক প্রয়োগ করা সম্ভব?
উত্তরে তিনি হেসে বলেছিলেনঃ "Nothing, I guess."
"It's of no use whatsoever...... this is just an experiment that proves Maestro Maxwell was right—we just have these mysterious electromagnetic waves that we cannot see with the naked eye. But they are there."

এবার আমি আমার মূল আলোচনায় ফিরে আসব। পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ “Hertzian wave” আবিস্কার হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এই তরঙ্গকে কাজে লাগিয়ে তথ্য আদান প্রদানের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে ওঠেন বিজ্ঞানীরা।

১৮৯০ সালের দিকে রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গ শহরে এক অখ্যাত তড়িৎ প্রকৌশলীর হাতে হার্জ এর গবেষণাপত্রটি আসে। ধর্মযাজক পরিবার থেকে উঠে আসা এই তরুণ তড়িৎ প্রকৌশলী বেশ কিছুদিন ধরে “Hertzian wave” বা “Radio Wave” এর উপরে গবেষণা করছিলেন। এই অখ্যাত তড়িৎ প্রকৌশলীর নাম “আলেক্সান্দার ইস্তেপানোবিচ পাপোভ”।



১৮৮৩ সালে পাপোভ রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের অদূরে ”ক্রন্সতাদ” দ্বীপে রাশিয়ান নৌবাহিনীর টর্পেডো ডিজাইন কলেজে , তড়িৎ প্রকৌশলের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এই কলেজের অধ্যাপক থাকাকালীন সময়ে তিনি “Hertzian wave” এর ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে আশাবাদী হন এবং চিন্তা করেন এই মুহূর্তে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জন্য তারহীন যোগাযোগ (wireless communication system) ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন। ১৮৯৪ সালের মে-জুন মাসে পাপোভ তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ সনাক্ত করার পরীক্ষাটি বেশ কয়েকবার সম্পন্ন করেন।

কিন্তু তিনি দেখলেন হার্জ এর উদ্ভাবিত যন্ত্রগুলির সাহায্যে শুধুমাত্র তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ উৎপাদন কিংবা সনাক্ত করা সম্ভব কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রায়ই অসম্ভব।।ঠিক এই সময়ে বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী “Sir Oliver Joseph Lodge” এর একটি গবেষণাপত্রের মাধ্যমে তিনি “কোহেরার Coherer” নামক একটি নতুন ধরনের device এর ধারনা পান। তিনি সিধান্ত নেন এই “Coherer” কে ব্যবহার করে তিনি “Hertzian wave বা Radio wave” এর ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে পারবেন।



কোহেরার (Coherer) কি? কোহেরার হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের রেডিও তরঙ্গ সনাক্তকরণ যন্ত্রের ভিত্তি (Radio wave detecting device)। ফরাসী পদার্থ বিজ্ঞানী “EDUARD BRANLY” প্রথম এই ধরনের ব্যবস্থার ধারনা দেন। যখন কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন কিংবা প্রকৃতি হতে প্রাপ্ত তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ , এন্টেনার মাধ্যমে গ্রহণ করে - কোহেরার এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় , তখন এই যন্ত্রটির মধ্যে তড়িৎ পরিবাহী অবস্থার (Conducting state) সৃষ্টি হয়। যার ফলে কোহেরারের সাথে সংযুক্ত ব্যটারী থেকে একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ (DC current), এর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে গ্রাহক যন্ত্রে সংযুক্ত ইলেকট্রিক বেল বা MORSE CODE RECORDER কে কার্যকরী করে তোলে। "The Work of Hertz and Some of his Successors" বইতে “Sir Oliver Joseph Lodge” এই যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন যা পাপোভকে এই deviceটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে।

পাপোভের এই পর্যায়ক্রমিক গবেষনার ফসল- ১৮৯৪ সালের শুরুতে তিনি তাঁর নৌবাহিনী কলেজের নিজের ল্যাবরেটরীতে রেডিও তরঙ্গকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন করেন পৃথিবীর প্রথম বজ্রপাত সনাক্ত করার যন্ত্র (Lighting Detector)।



এটি ছিল পৃথিবীতে রেডিও তরঙ্গের প্রথম ব্যবহারিক প্রয়োগ। তিনি এক্ষেত্রে হার্জ এর Spark- Gap Transmitter এর পরিবর্তে ব্যবহার করেন প্রকৃতি হতে প্রাপ্ত রেডিও তরঙ্গ। বজ্রপাত এর ফলে সৃষ্ট তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরন বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গকে তিনি কাজে লাগান। তখন রুশ নৌবাহিনীতে ঝড়ের পূর্বাভাষ আগে থেকে জানার জন্য এই ধরনের বজ্রপাত সনাক্ত করার যন্ত্র খুবই প্রয়োজন ছিল। তাঁর এই ব্যবস্থায় (System) বজ্রপাত হওয়ার সাথে সাথেই ইলেকট্রিক বেল বেজে উঠত। এই যন্ত্রের কার্যপ্রণালী ছিল বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট রেডিও তরঙ্গকে, এন্টেনার মাধ্যমে গ্রহণ করা , তারপর কোহেরারের (Coherer) মাধ্যমে সেই তরঙ্গকে, তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে ইলেকট্রিক বেলটাকে কার্যকর করে তোলা।



এখানে উল্লেখ্য যে , তিনিই প্রথম প্রকৃতি থেকে পাওয়া রেডিও তরঙ্গকে সনাক্ত করার জন্য Antenna ব্যবহার করেন। তাঁর বজ্রপাত সনাক্ত করার যন্ত্রটি পৃথিবীর প্রথম “Antenna সহ Radio wave Detector” যা আমাদের টেবিলে থাকা রেডিওটির আদি রূপ।



১৮৯৫ সালের ৭ই মে রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গের Russian society of Physics and Chemistry এর মিলনায়তনে (Auditorium) তাঁর আবিস্কারের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন। Society এর জার্নালে তাঁর জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্যটি গবেষণাপত্র হিসাবে প্রকাশ পায় “ On the relation of metallic powder to electrical oscillation” ( ১৯২৫ সালের ৭ই মে সোভিয়েত সরকার “৭ই মে” কে “রেডিও আবিষ্কারের দিন” হিসাবে ঘোষণা দেয় যা এখনও পর্যন্ত পুরো রাশিয়ান ফেডারেসন , মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরপের প্রত্যেক দেশে উদযাপিত হয়)

পাপোভ তাঁর গবেষণা অব্যাহত রাখেন। ১৮৯৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি তার বজ্রপাত সনাক্ত করার যন্ত্র (Lighting Detector) এর সাহায্যে সেইন্ট পিটার্সবার্গের Forest Academy এর এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংএ জনসম্মুখে প্রায় ৩৫০ ফুট পর্যন্ত রেডিও তরঙ্গ প্রেরন করতে সক্ষম হন।

১৮৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি কৃত্রিমভাবে রেডিও তরঙ্গ উৎপাদন করার জন্য শক্তিশালী Transmitter তৈরির ঘোষণা দেন। ১৯৯৬ সালের ২৪ এ মার্চ পাপোভ “Saint Petersburg State University” তে “Russian society of Physics and Chemistry” এর আয়োজনে একটি উন্মুক্ত পাবলিক বক্তৃতায় তার নতুন উদ্ভাবনের কথা তুলে ধরেন। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম “Wireless transmission of Radio wave”।



তিনি উৎপাদক (Transmitter) যন্ত্র থেকে গ্রাহক যন্ত্রটিকে (Receiver) প্রায় ১০০০ ফুট দূরে স্থাপন করেন এবং ইলেকট্রিক বেল এর পরিবর্তে ব্যবহার করেন Pencil এবং MORSE code Recorder। তিনি জনসম্মুখে তাঁর উদ্ভাবিত Transmitter থেকে রেডিও সিগন্যাল পাঠানো শুরু করেন এবং অপর প্রান্তে Receiver এ MORSE code Telegraphy Technology ব্যবহার করে সিগন্যাল গ্রহন করছিলেন তাঁর সহকর্মী প্রফেসর “ পেত্রুবিচ”। তাঁর পাঠানো রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে সর্বপ্রথম “GENRIC GERTZ (রুশ ভাষায় Heinrich Hertz কে এভাবে লেখা হয়) শব্দটি MORCE code এ লেখা হয়। এটা ছিল পৃথিবীর প্রথম “ তারহীন টেলিগ্রাফ যন্ত্র , Wireless Telegraph”।



সেই বছরই “Russian society of Physics and Chemistry” এর জার্নালে তার উদ্ভাবন গবেষণাপত্র হিসাবে প্রকাশ পায় “The apparatus for detecting and recording Electrical Oscillator”।



১৮৯৭ সালের মার্চ মাসে তিনি তাঁর নৌবাহিনী কলেজে বিশ্বের প্রথম “Radio Transmission Station” স্থাপন করেন এবং সমুদ্র উপকূল থেকে সমুদ্রে অবস্থানরত নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে সর্বোচ্চ ৪৫ মাইল পর্যন্ত রেডিও তরঙ্গ আদান-প্রদানে সক্ষম হন।

১৮৯৬ সালের শুরুর দিকে তিনি তাঁর উদ্ভাবিত “wireless radio telegraphy” যন্ত্রটির আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করার উদ্যোগ নেন। পাঠক, এখানেই কবি নীরব। রুশ নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ তাঁর এই উদ্ভাবনকে শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করার অনুমতি দেন এবং নির্দেশ জারি করে যাতে এই উদ্ভাবনের পেটেন্ট শুধুমাত্র রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

১৮৯৭ সালের জুন মাসে তিনি পত্রিকা মারফত জানতে পারেন ইতালির এক তরুন যুবক মার্কোনি তারহীন রেডিও গ্রেট ব্রিটেনে পেটেন্ট করেছেন।

১৯০০ সালে রাশিয়ার Hogland দ্বীপে, ফিনল্যান্ড উপসাগর এবং বাল্টিক সাগরের ১৮০ কিমি. পশ্চিমে পাপোভ আরেকটি রেডিও স্টেশন স্থাপন করেন। এই রেডিও স্টেশন এর মাধ্যমে , রুশ নৌবাহিনী তাদের নেভাল বেস থেকে, ফিনল্যান্ড (Gulf of Finland) উপসাগরে অবস্থানরত রণতরীগুলোর সাথে পাপোভের উদ্ভাবিত “wireless radio telegraphy” যন্ত্রটির সাহায্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। ঠিক এই সময়ে সমুদ্রে বিপদে পরা যুদ্ধজাহাজ Admiral Aproxin কে উদ্ধার করার জন্য পাপোভের তৈরি “wireless radio telegraphy” ব্যবহার করা হয়।



১৯০০ সালের দিকে রুশ নৌবাহিনী পাপোভের উদ্ভাবিত “wireless radio telegraphy” যন্ত্রটি বাজারজাত করার উদ্যোগ নেয়। তারা ফ্রান্স নৌবাহিনীর সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ১৯০০ সালের দিকে রুশ নৌবাহিনী পাপোভের যন্ত্রটি বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন করার উদ্যোগ নেয়। তারা ফ্রান্সের “Diucretet Firm” এর সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। তারা ফ্রান্সে পাপোভের “wireless radio telegraphy পেটেন্ট (№296354) করে। এই বছরই “Diucretet Firm” – “Popov-Diucretet radio telegraphy” নামে পাপোভের “wireless radio telegraphy” যন্ত্রটির বানিজ্যিক উৎপাদন (industrial production) শুরু করে।

তাহলে পাঠক বিতর্কটা কোথায় ? ব্রিটেনসহ পৃথিবীর প্রায় সব পশ্চিমা বিশ্বের দাবী ছিল যেহেতু ১৯৯৭ সালে মার্কোনি প্রথম তাঁর উদ্ভাবনকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্রিটিশ পেটেন্ট অফিসে রেজিস্ট্রেসন করেছিলেন, এবং তিনি একে বাজারজাত করে জনপ্রিয় করেছিলেন, তাই তিনি একক কৃতিত্বের দাবীদার।
আবার অন্যদিকে রুশদের দাবী যেহেতু ১৮৯৫ সালে পাপোভ জনসম্মুখে তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথম রেডিও তরঙ্গ সনাক্ত (Detect) করে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ করেছিলেন , যা মার্কোনির ব্রিটিশ পেটেন্ট অফিসে রেজিস্ট্রেসনের বহু আগে।



অন্যদিকে ১৮৯৬-১৯০০ সালের মধ্যে মার্কিন তড়িৎ প্রকৌশলী “Tesla টেসলা”, রেডিও তরঙ্গকে ব্যবহার করে বেশ কিছু উদ্ভাবন করেন। তাঁর এই উদ্ভাবনের উপর ভিত্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট ১৯৪৩ সালে , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মার্কোনির করা সমস্ত পেটেন্টকে বাতিল ঘোষণা করে।

বাংলার জগদীশচন্দ্র বসু ঠিক একই সময়ে কৃত্রিমভাবে রেডিও তরঙ্গ উৎপাদন এবং এর বাস্তবিক প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তিনি Sir Oliver Joseph Lodge এর “কোহেরার” কে আরও উন্নত করার চেষ্টায় ছিলেন। ১৮৯৯ সালে তিনি Royal Society এর Proceedings এ ব্যাপারে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন “One a self recovering coherer and the study of the cohering action of different metals”। জগদীশচন্দ্র বসু গ্যালেনা ক্রিস্টাল (সালফারের একধরনের খনিজ) থেকে সলিড স্টেট ডায়োড ডিটেক্টার তৈরী করেন এবং ১৯০৪ সালে এটার উপর পেটেন্ট নেন। বলা যেতে পারে উনিই সেমিকন্ডাক্টার তৈরির প্রথম পথিকৃত।

১৯০৯ সালে মার্কোনিকে, কার্ল ফের্ডিনান্ড ব্রাউন এর সাথে যৌথভাবে পদার্থ বিদ্যায় “নোবেল পুরস্কার (নোবেল পুরস্কার - আমার জীবনে দেখা চরম ভণ্ডামি গুলোর অন্যতম)” দেয়া হয় যার অন্যতম কারন ছিল “Development of Radio telegraphy”.

অন্যদিকে আমার আলোচনার মূল ব্যক্তি “আলেক্সান্দার ইস্তেপানোবিচ পাপোভ” ১৯০১ সালে “Saint-Petersburg state Electro Technical university” (আমার বিশ্ববিদ্যালয় ) এ পদার্থ বিদ্যার সন্মানিত অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তিনি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কিভাবে “Human Voice” কে আদান-প্রদান করা যায় এই বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখেন।

১৯০৬ সালে ১৩ই জানুয়ারি মাত্র ৪৬ বছর বয়সে পাপোভ মারা যান।

আমার এই লেখাটি প্রস্তুত করার জন্য ছবি এবং তথ্য , সুদূর সেইন্ট পিটার্সবার্গ আমাকে পাঠানোর জন্য আমার বন্ধু ও এক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী “Anna P. Konstantinova” এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

References :
1. Click This Link
2. Click This Link
3. Click This Link
4. https://fiz.1september.ru/2002/16/no16_1.htm
5. Click This Link
6. Click This Link
7. https://tech.wikireading.ru/2467
8. Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:০১
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকার মতপ্রাকেশর পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী

লিখেছেন আখ্যাত, ২৪ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:৩০

প্রিয় ভাইবোন, আপনাদের সাময়ীক কষ্টের জন্য আমরাও কষ্টিত। বিশেষভাবে ব্যথিত। আপনাদের Log in প্রবলেম সমাধান করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নির্ঘুম ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

ভায়েরা আমার, আপনারা সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বান-আন বিভ্রাট !

লিখেছেন আর্কিওপটেরিক্স, ২৪ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:১৪


বানান নিয়ে বাঙ্গালীর বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং এর মতোই অবস্থা। এখন ঠিক তো তখন বেঠিক ! যেন বিদ্যুতের অবারিত আসা-যাওয়া। আমরা আর আমড়া নিয়ে লাগে মাড়ামাড়ি থুক্কু মারামারি !... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনটি রাজনীতি ঘেইষা দাঁড়ানো কৌতুক ও ব্লগারদের জন্য একটি বেমক্কা ধাঁধা !!

লিখেছেন টারজান০০০০৭, ২৪ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:৪৩

১. যুবরাজ সালমান ঘোষণা করিলেন, এখন হইতে নারী স্বাধীনতার পথে অগ্রযাত্রা হিসেবে নারীদের গাড়ি চালাইতে দেওয়া হইবে !! ইহাতে ডগমগ হইয়া তাহার স্ত্রী শুধাইল , হ্যাগা , সত্যি !! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্যাটেলাইট নিয়ে এত কান্নাকাটি কিসের?

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৪ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৩:০৩

স্যাটেলাইট নিয়ে এত এলার্জি কেন?

বাংলাদেশ ছিল ৫৭ তম স্যাটেলাইট অউনিং দেশ।
সম্প্রতি (গত মাসে) পাশের ছোট দেশ নেপালও স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ৫৮ তম হয়েছে।
সেখানে সবাই সন্তুষ্ট। এই স্যাটেলাইট নিয়ে কোন কান্নাকাটি হয়নি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের জীবনে একটা ভুল ধারনা/কুসংস্কার হল, লোকে কি বলবে? যদি আমি নিজের মতো কিছু করি।

লিখেছেন আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ২৪ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:১১




আমাদের জীবনে একটা ভুল ধারনা/কুসংস্কার হল, লোকে কি বলবে? যদি আমি নিজের মতো কিছু করি।
_=============
আমরা জীবনের শুরুতেই একটা শিক্ষা পেয়ে থাকি, আমাদের মুরুব্বীরা দিয়ে থাকে, আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×