
এক পুলিশ হাডসন নদীর ধারে একজন অভিযুক্তকে ধরবার জন্য অপেক্ষা করছিলো। গোপন সূত্রে খবর পায় যে সেই অভিযুক্ত নাকি প্রতিদিন ক্রোশখানেক সাতার কাটে এই নদীর ধারেই। তারজন্যই ১ সপ্তাহ ধরে সকালের ঘুম নস্ট করে সে অপেক্ষা করে। অভিযুক্তের দেখা না পেলে সে বুঝতে পারে রুটিন পাল্টেছে এবং নতুন রুটিন তার অজানা। রুটিনের ব্যাপারটা মাথায় খেলতেই তীরঘেষা ১০ তলা বিল্ডিং এর ছাদ থেকে কেউ একজন ঝাপিয়ে পড়ে। ঘটনার হতবিহ্বলতায় আগে পিছে চিন্তা না করে তাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দেয়, সাতার কেটে তাকে উদ্ধার করে।
আত্মহত্যাপ্রচেস্টাকারীর জ্ঞান ফিরতেই পুলিশ জিজ্ঞেস করলো ,"কেন তুমি ঝাপ দিয়েছিলে?" সে নিস্পলক দৃষ্টিতে শূন্যে তাকিয়ে ছিলো, পেটানো শরীর, হাতের ফিস্টে কালো দাগ দেখলেই বোঝা যায় লোকটা ফাইটার। মানুষ পিটানো তার জীবিকা,"আমি আমার স্ত্রীকে অনুসরন করছিলাম!" পুলিশ একটু অবাক হলো,"তোমার স্ত্রী সকাল বেলা সূর্য দেখতে ঐ ছাদে গেলো আর তুমি তাকে দেখে ঝাপ দিলে?" তার দৃষ্টি তখনও শূন্য,"গতকাল ওর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।" পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। কিছুদিন পর সে আবারও সেই ১০ তলা থেকে ঝাপ দেয় এবং সেবার কেউ তাকে আর বাঁচাতে আসেনি।
কাজের কথায় আসি। ধরা যাক আপনি ১০ টি শিশু নিয়ে একটা গুহায় আটকে রাখলেন। তাদের পায়ে শেকল বাধলেন, ঘাড় এমনভাবে সেট করলেন যে তারা শুধু সামনের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তারা ডানে বায়ে কাউকে দেখবে না অথচ পাশাপাশি বসে থাকবে আর শুধু দেয়ালের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। তাদের পেছনে বিশাল আগুনের কুন্ডলী জ্বালানো আছে যার সামনে দিয়ে কেউ হেটে গেলে প্রতিচ্ছবি দেয়ালে পড়বে। অমানবিক শোনালেও রিপাবলিক বইতে কথার ছলে এভাবেই একটা পরীক্ষার কথা বর্ননা করা আছে। পরীক্ষাটা বছরের পর বছর চলতে থাকলো। শিশুগুলো কৈশোরে পদার্পন করলে তার মধ্যে থেকে একজনকে বাইরের পৃথিবীতে ছেড়ে দেয়া হলো। সূর্য্যের আলো চোখের ওপর পড়তেই কিশোরটি অস্বস্তিতে ভুগতে থাকবে। প্রথম প্রথম মনে হবে তার মনিকোঠর পুড়ে যাচ্ছে, কপাল খারাপ থাকলে সূর্য্যের আলোর দিকে বেশীক্ষন চেয়ে থাকার ফলে তার কর্নিয়া পুড়ে চিরঅন্ধত্বের শিকার হবে। এমনকি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলে রড কনের কিছু অংশ জ্বলে বর্নান্ধ বরন করে নিতে পারে। সূর্য থেকে চোখে সরিয়ে চারপাশে জলজ্যান্ত মানুষ দেখলে ভীনগ্রহবাসী বলে ঠাউড়াবে কারন গুহায় সে এরকম মানুষের প্রতিকৃতিই শুধু দেখেছিলো। তার শেষ ধাক্কাটা আসবে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে।
গুহাতে বসবাস করা কালীন তাকে কোনো কাজ করতে হয়নি। সময় মতো খাবার পেয়েছে, ক্লান্তি লাগলেও এক জায়গায় বসেই তার অভ্যস্ততা গড়ে উঠেছে। কিন্তূ বাইরের পৃথিবীতে তাকে শ্রম করতে হবে, খাদ্যের জন্য উপার্জন করতে হবে যে ব্যাপারটা তার কাছে সম্পূর্নই অজানা। সে এসব সহ্য করতে না পেরে গুহাতেই ফিরে আসবে। তখন গুহাটাই তার কাছে স্বর্গ মনে হবে।
শিশুবয়সে যখন মাদ্রাসাতে ভর্তি হলাম তখন আমাদের শেখানো হয়েছিলো পশ্চিমা বিশ্বে প্রচুর অশান্তি বিরাজ করছে। তারা নিঃসঙ্গ, নিঃসঙ্গতার ভয়াবহতার কারনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যখন বৃদ্ধ হয় তখন ছেলে মেয়ে নাতি নাতনি কেউ তার পাশে থাকে না। নিঃসঙ্গতা বা একাকীত্বের ভয়াবহতা একজন শিশুর থেকে কেউ বেশী জানে না। কারন এসব শিশুরা অন্ধকার ঘরে একা হলে সামান্য শব্দেও চমকে উঠে। তার ওপর সবার মুখে মুখে শোনা দৈত্য দানো ভুত প্রেত শয়তানের গল্প তাকে আরো ভয় পাইয়ে দেয়। সে সুত্রে পশ্চিমা বিশ্বের এসব নির্মম নিঃসঙ্গতার গল্প আমাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলো। তখন আমরা নিজেদের দুঃসহ স্মৃতির সাথে সেগুলোকে মেলাতে পারতাম। সীমাহীন ব্যাভিচার, হারাম খাবার, এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের গল্প শুনিয়ে মনের মধ্যে ঘৃনার চাষাবাদ করিয়েছিলো বলেই মনে হতো নিজের দেশ বাবা মা এর ওপর আর কিছু নেই। তখন বাংলাদেশে যৌথ পরিবারের চল ছিলো যদিও শহুরে প্রেক্ষাপটে যৌথ পরিবারের ধারনা আস্তে আস্তে ভেঙ্গে যাচ্ছিলো। ২০০০ সালের পর ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার আমাদের মননশীল ধারনাতে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আনে। সক্রেটিসের গুহা এক্সেপেরিমেন্টের কনসেপ্ট অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় জাফর ইকবাল সাহেবের একটা ক্যাম্পেইন ছিলো তথ্যের স হজলভ্যতা। যার কাছে তথ্য আছে সেই রাজা। যদিও এসব গুঢ় কথা মাথায় তেমন খেলতো না। আস্তে আস্তে চাকুরিজীবন শুরু হলে, বাইরের জগৎ সম্পর্কে ধারনা পেতে শুরু করি এবং ছোটবেলায় শেখা সেসব ভয়, কল্পকথা, সত্যকথনের নামে একটা ইউটোপীয়ান রাজ্যের লোভ তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়ে।
এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই হয়নি, সবার ক্ষেত্রেই হয়েছে। যারা সাহস করেছে, তারা নিজেদের পাল্টাতে পেরেছে। যাদের সাহস হয়নি তারা সেই ভয় নিয়েই থেকে গেছে।
প্লেটোর ছাত্র এ্যারিস্টটলকে(এখানে আমি একটা ভুল করেছিলাম। লিখেছিলাম সক্রেটিসের ছাত্র। ভুলটা কেন করলাম জানি না তবে ব্লগার দজিয়েব সাহেবকে ধন্যবাদ এটা ধরিয়ে দেবার জন্য) আমার কখনোই ভালা মানুষ মনে হয়নি। সে ছিলো প্রচন্ড জাত্যাভিমানী। তার ছাত্র আলেক্সান্ডারকে শিখিয়েছিলেন গ্রীকরা হলো সবচে উচুজাতের এবং তাদের জন্মই হয়েছে শাসন করার জন্য। আলেক্সান্ডার বড় হয়ে দেখলেন আসলেই তাই। গ্রীকরা আসলেই উচুজাতের। তাদের চিন্তাভাবনার ব্যাপ্তি শাসন করার জন্য, প্রজা হয়ে নয়। শুরু হয় গনহত্যার নামে রাজ্য জয়ের নেশা। সেই নেশা তাকে খুব বেশী দিন বাঁচতে দেয়নি। ভারতবর্ষে এসে সামান্য জ্বরে তার মৃত্যু হয় অল্প বয়সেই। এ্যারিস্টটল গ্রীক থেকে চলে আসেন, একটা স্কুল খুলে সেখানে তার দর্শনের প্রচার করতে শুরু করেন। বলা হয়ে থাকে ইসলামী দার্শনিকদের সকলেই এ্যারিস্টটলের বস্তুবাদী দর্শন ও মেটাফিজিক্স দ্বারা প্রভাবিত। সেজন্যই তাদের মধ্যে ইসলামবিরোধী কথা বার্তা বা কাজের পরিচয় পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে ইসলামি মুক্তচিন্তাবিদ আভিরুশের মৃত্যুর পর ইসলামিক স্বর্ন যুগের সমাপ্তির শুরু। তখন ইসলামী রাজ্যগুলো একে একে হাত ছাড়া হয়ে সেই যুগের পরিমাপ্তি ঘটে। আভিরুশের চিন্তাভাবনার পুরোটাই জুড়ে ছিলো এ্যারিস্টটল টলেমির মতো দার্শনিকের ভাবাদর্শ।
আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর এ্যারিস্টটলের দর্শনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এটা একটা ধাক্কা হিসেবে ধরে নিলে এ্যারিস্টটলের চিন্তার জন্য কিছু নতুন তথ্যের সমন্বয় হয়েছে। আপনার ভাবনার গন্ডি নির্দিস্ট কিছু বই বা ভৌগলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে ব্যাপ্তি লাভ করে তখন আপনার মধ্যে পরিবর্তন আসবেই। নিজের মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষেদ, ভয়, দুর্ভাবনা গুলো দূর হয়ে আপনি তখন নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অনেকটা কম্পিউটারের এআই এর মতো। এ্যালগরিদম তাকে সিদ্ধান্তে উপনীত হবার ক্ষমতা দিয়েছে কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হলে তার দরকার সে সম্পর্কিত বিশাল ডাটাবেজ । ডাটাবেজে চোখ বুলানো শুরু হবার সাথে সাথেই তার সিদ্ধান্ত নেবার শক্তি জন্ম নেবে। যতবড় ডাটাবেজ তত নিখুত হবে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ডাটাবেজসমূহ স্বয়ংক্রিয় ভাবেই মেশিন লার্নিং বা সেন্সর থেকে নিতে পারে অথবা আপনি তাকে ম্যানুয়ালী দিতে পারেন।
মানুষ হিসেবে আপনিও পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সে সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকেন যদিও তার ব্যাপ্তি ব্যাপক। একটা ছোট্ট উদাহরন দেই, ভদ্রলোক রাশিয়ান। পিএইচডি করেছেন ইতিহাসের ওপর। রাস্তার ওপর এক বেদুইনকে ভিক্ষা করতে দেখে আক্ষেপ শুরু করে দিলো," এই যে এত ধনী মানুষ রোলস রয়েস, ফেরারী গাড়ি চালাচ্ছে, বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো কামাচ্ছে। কিছু টাকা এদেরকে যদি দিয়ে দিতো তাহলে কি সমস্যা হতো?" আমি কৌতুকদৃষ্টিতে তাকালাম,"তুমি কিছু দিয়ে দিলেই তো পারো।" আমাকে অবাক করে দিয়ে পকেটে যত খুচরা পয়সা, ইউরো দিলো সব তাকে দিয়ে দিলো,"শান্তি পেয়েছো? মনে কি হয় তার এই সমস্যার সমাধান হবে?"
সে প্রচন্ড বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হলো,"কি বলতে চাও তুমি? তোমার কি মনে হয় ওকে সাহায্য করে ভুল করেছি?"
: না, ভুল কখনোই করোনি। কিন্তু এতে তার সমস্যারও সমাধান হবে না।
: তাহলে তুমি কি প্রপোজ করো?
: ধরা যাক দেশের সকল ব্যাংকে ৮৩ বিলিয়ন ইউরো জমা আছে। অনেক টাকা মনে হচ্ছে তাই না? আর দেশে জনসংখ্যা আছে ১ কোটি। তুমি সবাইকে এই টাকাটা সমভাবে বন্টন করলে। সবাই কত করে পাবে?
: ৮৩০০ ইউরো
: এখন এই টাকা যখনই জনগনের হাতে যাবে তাদের খুব বেশী হলে চলবে মাত্র ৮ মাস। এরপর তাদের হাত শূন্য। ততদিন সরকারের পতন ঘটবে। সরকার কোনো উন্নয়ন করতে পারবে না। অফিস আদালত কার্যত অচল। একজন কৃষকের কাছে প্রচুর আঙ্গুর আছে কিন্তু সে ধান কিনতে পারছে না। যার কাছে ধান আছে সে ওষুধ কিনতে পারছে না। পুরো দেশটা ৮ মাস পর ধ্বংস হয়ে যাবে মানুষ জন আদিম অবস্হায় ফিরে যাবে। বুঝতে পেরেছো ব্যাপারটা কত ভয়াবহ?
: তা পেরেছি।
: যখন বিদ্যুৎ নেই, পানি স্বাস্থ্যসেবা এমনকি প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা যাবে তখন অপরাধ চরমে পৌছুবে। সমাজে অবক্ষয় গৃহযুদ্ধ নামের একটা মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। সেক্ষেত্রে তোমার এই সাম্যবাদী চিন্তা সুফল বয়ে আনছে না। কিন্তু সেখানে যদি কল্যানমূলক রাস্ট্র গঠন করো, এবং সেই রাস্ট্রে মানুষের মেধা ও শ্রমের ভিত্তিতে সম্পদের বন্টন চালু করো তাহলে তো সমস্যাটা মিটে যাচ্ছে ঠিক?
: হ্যা, তাই।
: এবং এটা করার জন্যই পুজিবাদের একটা শক্ত ভীত দরকার। এই যে বেদুইন সে যদি তার যৌবনে মদ জুয়াতে সময় নষ্ট না করতো, সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে নিজের কিছু পুজি দিয়ে কিছু করতো তাহলে কি আজ তার এই দিন দেখতে হতো? আজ পুজিবাদ আছে বলেই একজন আর্টিস্ট তার জলরং কোনো শৌখিন শিল্পনুরাগীর কাছে ভালো মূল্যে বিকিয়ে তার মেধার মূল্যায়ন পাচ্ছে। অথবা একজন গায়ক..অথবা তোমার মতো ইতিহাসবিদ। কিছু মনে করবে না, একজন প্রোগ্রামার বা ইন্জিনিয়ার যে পরিমান গঠনমূলক এবং অর্থকরী কাজ করে, যখন পুরো পৃথিবী সাম্যবাদের সুষম বন্টনের নীতিতে চলতে শুরু করবে তখন কি হবে? তুমি হয়তো ইতিহাস নিয়ে পড়তে না, হতে একজন ছুতার।
: কিন্তু তোমার পুজিবাদ থাকা সত্বেও এখনো অনেক মানুষ না খেয়ে মরে।
: অবশ্যই মরে। এবং সেটা দুঃখজনক। তোমার হাতে যদি অগাধ টাকা থাকে তাহলে তুমি কি চাকুরী করতে? এই যে সমাজ গঠনে তোমার অবদান সেটা কি পাওয়া যেতো? ফিনল্যান্ড সুইডেন আমেরিকা কানাডা ভারত ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম চালু করেছে। কেনিয়ার মতো দেশে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটা চালু করা হয়েছিলো। শর্ট টার্মে দেখা যায় তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায় কিন্তু লং টার্মে এটা কমে যায় (বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তাদের মতো), তারা তাদের সন্তানদেরকে আরো ভালো শিক্ষার দিকে মন দিতে পারেন।মানসিক প্রফুল্লতার কারনে চিকিৎসা খরচ কমে। যদিও এটা একটা টেস্ট কেস কিন্তু লং টার্মের এফেক্ট বলা যাচ্ছে না। এখন আবার ফিরে আসি তোমার কথায় যদি সবাইকেই আমরা সমানভাবে সম্পদের সুষম বন্টন করি এবং ধরে নিলাম সরকার টিকে থাকবে তখন কি হবে?
: কি হবে?
: তখন দেখা যাবে সবাই ব্যাবসা করছি। সবাই একরকম জিনিস তৈরী করলে তাতে কোনো উন্নয়ন বা আবিস্কার থাকবে না। একজন অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত মানুষ যে জিনিস বানাচ্ছে একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষও সেটা বানাচ্ছে। তার মানে শিক্ষা এখানে মূল্যহীন। শিক্ষাব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটবে। শৈল্পিক কাজে যারা নিয়োজিত তারা কর্মহীন পয়ে পড়বেন কারন পুরো পৃথিবী হয়ে যাবে মেধার অনুপস্থিতি বা নতুনত্ব তৈরীর স্পৃহা। কিন্তু সেটা সম্ভব না। মানুষ নতুন অভিনব জিনিস তৈরী করবে। তখন স্বল্প সংখ্যক লোক অভিনব জিনিস দিয়ে মিলিয়নিয়ার থেকে বিলিয়োনিয়ার হয়ে যাবে এবং যারা ধরা খাবে তারা হয়ে যাবে নিঃস্ব। তাহলে আমরা ফিরে যাচ্ছি সেই একই পুজিবাদী অবস্থায় কিন্তু তখন আর সরকারের রেগুলেশন নাই বা রেগুলেশন থাকলেও সেটা হবে অন্যায়। এইজন্যই তোমাদের দেশের সমাজতান্ত্রিক সাম্যবাদ টিকেনি। এই কনসেপ্টের গোড়াতেই গলদ।
: আচ্ছা বুঝলাম। এখন উঠি, কাজ আছে।
আমি জানি তার কোনো কাজ নেই। যখন কোনো কট্টর জাতীয়তাবাদী মানুষ লাগসই সমালোচনার শিকার হয় তখন সেটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে না।
কিন্তু আমরা যদি এই প্রহেলিকা পূর্ন এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে কিছু তথ্য আহরন করি এবং সেই তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে যাচাই বাছাই করি তাহলেই সক্রেটিসের গুহাতত্বকে ভুল প্রমানিত করতে পারবো নতুবা আমরা সেই অন্ধকার তিমিরেই থেকে যাব।
হ্যাপী ব্লগিং
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




