somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যানগঘের চিঠি-৫

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্য হেগ১৭ মার্চ, ১৮৭৩



অতিপ্রিয় থীয়,
আবার আমার কাছ থেকে তোমার কিছু শুনবার ও আমারও তোমার কাছ থেকে তোমার ও হেইন চাচাদের কুশল জানবার সময় হলো। আশাকরছি যখনই সময় পাবে আমাকে উত্তর লিখবে।


তুমি নিশ্চয়ই শুনে থাকবে যে আমি লন্ডন চলে যাচ্ছি১ এবং সেটা খুব শীঘ্রিই। আশাকরছি এর আগেই তোমার সাথে আমার দেখা হবে।

সম্ভব হলে, আগামী ইস্টারে হেইলভর্ট২ যাচ্ছি। কিন্তু এটা নির্ভর করছে নউভিয়েটসের উপর যেটা ইটারসন তার সেলস ট্রিপে সাথে নেবে৩। ও সে না ফিরলে আমি হেগ ছেড়ে যেতে পারছি না।

লন্ডনে আমার জীবনযাপন হবে সম্পুর্ন অন্যরকম। এইজন্য যে, আমাকে সম্ভবত লজিংয়ে থাকতে হবে একদম একা একা। যদিও আমাকে একসাথে অনেক কিছু ডিল করতে হবে, তারপরও কোন সমস্যা হবে না, যেমনটা এখন হয়।


আমাকে খুব তাড়াতাড়ি লন্ডনে যেতে হচ্ছে। কিন্তু আমি খুবই দুঃখিত যে আমাকে হেগ ছেড়ে যেতে হচ্ছে, যেমনটা তুমি খুব সহজেই অনুমান করতে পারো। আমার শুধু এটুকুই মনে হয় যে হেগ শহরের সাথে আমি কত গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলাম আর এই শহরটাকে চলে যেতে হচ্ছে অন্য আরেক শহরে। জীবন কত অদ্ভুত, না? আমার মনেহয় এটা আমার ইংরেজীর জন্য৪ খুব ভালো হবে, যে ভাষাটা আমি ভালই বুঝি অথচ অতটা সুন্দর করে বলতে পারি না, যতটা ইচ্ছে হয়।

আন্নার কাছে শুনলাম, তুমি তোমার একটা পোট্রেট তুলিয়েছ। হেইন চাচা কেমন আছেন? নিশচয়ই ভালো নেই। চাচী কেমন আছেন? চাচা কী নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন? তিনি কী এখন যন্ত্রনাময় সময় পার করছেন? তাদের দুজনকে আমার ভালোবাসা দিও, তাদের কথা আমার সবসময়ই মনে হয়।


তোমার সবকিছু কেমন চলছে? সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত নিশ্চয়ই, এখানে আমারও ব্যস্ততা। তুমি সম্ভবত এরইমাঝে তোমার পথের দিশা পেয়ে গেছ, কিভাবে চলতে হবে এই পথ। তোমার বোর্ডিং জীবন কেমন চলছে? তুমি নিশ্চয়ই এখন এটাকে ভালোবেসে ফেলেছো?
এটা খুব দরকারী। এছাড়াও ওখানে তুমি কী কী দেখলে ওখানে, সেগুলোও লিখতে ভুলোনা।

একপক্ষকাল আগে, এক রবিবারে আমি গিয়েছিলাম আর্মস্টারডামে একটা এক্সিবিশন দেখতে৬ । এটা ছিলো সেইসব চিত্রকর্মের প্রদর্শনী যেগুলো এখান থেকে ভিয়েনা গিয়েছিলো। এটা আমার জন্য দারুণ একটা অভিজ্ঞতা ছিলো। আমি খুবই উৎসাহী ছিলাম এটা জানতে যে ডাচরা ভিয়েনাবাসীর কী চিত্তসংস্কার করলো।

আমি ইংরেজ চিত্রকরদের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী, ওদের বেশীরভাগই তো ইংল্যান্ডে থাকে তাই ওদের ব্যাপারে আমরা তেমন একটা জানি না। লন্ডনে গোপীলের নিজস্ব কোন গ্যালারী নেই, তারা শুধু পেইন্টিংগুলি সরবরাহ করে। সেন্ট চাচা সম্ভবত এ মাসের শেষে এখানে আসছেন, তার কাছ থেকে কিছু শোনার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি। হ্যানীব্যাকদের বাড়ীর লোকজন ও ফী আন্টি৭ তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছিলেন। তারা তোমাকে তাদের ভালোবাসা জানিয়েছেন।
এখানে এখন দারুণ আবহাওয়া যতটা সম্ভব হয় এই সুন্দরের সাথে আত্মস্থ হবার চেস্টা করছি। গত রবিবার আমি আর উইলিয়াম৮ বের হয়েছিলাম নৌকা বাইতে। সামারে আমার এখানে থাকেতে কী যে ভালো লাগে, বলার মতো না। অথচ এমন সব নিয়তি আসে যাকে মেনেই নিতে হয়।

এখন, ভ্রাতা; আশাকরছি তুমি বেশ ভালো আছো, ভালো থাকবে এবং দ্রুতই আমাকে উত্তর লিখবে। আমাদের পক্ষ থেকে হেইন চাচা, চাচী, স্মিথ, এডওয়ার্ড৯ সবাইকে আমার শুভকামনা। আশা করছি, দেখা হচ্ছে ইস্টারেই!

তোমারই প্রানের ভ্রাতা

ভিনসেন্ট

পুনশ্চ: মিঃ ও মিসেস রুস, উইলিয়াম তোমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আমি তোমাকে চিঠিটা লিখতে বসেছি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ জানাবার জন্য ওই প্রোট্রেটটি পাঠানোর জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমার হেইলভর্ট আসা নিয়ে বেশী কিছু জানতে পারলে তৎক্ষনাত তোমাকে লিখে জানাবো। খুব ভালো হবে যদি আমরা দুভাই একই দিনে হেইলভর্ট গিয়ে পৌঁছি। থীয়, আমি তোমাকে পাইপ খাওয়া শুরু করতে বলবো, তুমি যখন কাজের চাপে বিমর্ষ থাকবে এটি তোমাকে উদ্দম দিতে পারবে। আমি শুরু করেছি।


নোট: ১. আংকেল ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ (ভ্যান গঘের চাচা) এর সাথে কথা বলার পর গোপীল এন্ড কোং এর পরিচালকবৃন্দ ভিনসেন্টকে তাদের লন্ডন শাখায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।

২. ভিনসেন্ট ও থীয় উভয়েই তাদের পিতার বাড়ী হেইলভর্টে ইস্টারের ছুটি কাটান। ১৩ এপ্রিল ১৮৭৩।

৩. এটা গোপীল এন্ড কোং একটা নতুন আর্ট সংস্করন যেটা দিয়ে টিউনিস ভন ইটারসন তার সেলস ট্রিপে বইবিক্রেতা, পেইন্টিং বিক্রেতা ও আর্ট ডিলারদেরকে আগ্রহী করার চেষ্টা করেছিলো। ভন ইটারসন গোপীলের হেগ শাখার একজন কর্মকর্তা।

৪. মিসেস ভ্যান গঘ থীয়কে অভিযোগ করেন: ভিনসেন্ট তাকে লিখেছে যে, সে খুবই আশ্চর্য এইজন্য যে দিনের বেলা আর সন্ধ্যা সাতটার পর চমৎকার সময়টাতে তাকে সবসময় তাড়াহুড়ো করতে হয়। ভিনসেন্টের বাসার দুটো তোতাপাখির কথা তোমাকে বলেছিলাম না যাদের একটা ভিনসেন্টের চেয়ে ভালো ইংরেজী বলে।

৫. এটি নিশ্চিত নয় এখানে কোন পোট্রেটের কথা বলা হয়েছে, তবে তাদের পিতামাতার মারফতে থীয় আন্নাকে একটা পোট্রেট পাঠিয়েছিলো।

৬. ২ মার্চ তারিখে ভিনসেন্ট আর্মস্টারডামের Arti et Amicitiae গ্যালারীতে একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী দেখতে যান যেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকে ২ মার্চ, ১৮৭৩। এই পেইন্টিং গুলো ১ মে থেকে ১ নভেম্বর ১৮৭৩ সালে ভিয়েনার ডাচ প্যাভিলিয়নে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়। নেদারল্যান্ডে মার্চের প্রদর্শনীতে ওই প্রদর্শনীর ৬৬০০ চিত্রকর্মের ভিতর থেকে ১৬৭ টি প্রদর্শিত হয়।

৭. ফী হলো সোফিয়া কর্নেলিয়া এলিজাবেথ কার্বেন্টাস ভ্যান বেমেল।

৮. উইলিয়াম ভেরিনাস মাল্কিস; ভিনসেন্টের মতোই ভি. এম রুস এর একজন বোর্ডার।

৯. এডওয়ার্ড হাম্মান।


ছবি: ড্রয়িং ভিনসেন্ট ভ্যানগঘ, ২৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮০

"In spite of everything I shall rise again: I will take up my pencil, which I have forsaken in my great discouragement, and I will go on with my drawing."

Vincent van Gogh
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৩৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×