আহারে রাজনৈতিক অঙ্গন! তবে জবাবে আমি বলতে পারি কিছু নিয়ে চিন্তা করছি না। হ্যাঁ, অবশ্যই সেখানে নিরবতা আছে, আছে এক প্রকারের প্রত্যাহার, বরং আসুন বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত না করি। অস্পষ্টতা ছাড়াই আমার পছন্দ ও কর্তব্য সম্পর্কে জানা যেতে পারে। সন্দেহাতীত ভাবে আমি বিষয়টি এটা খুব একটা সুস্পষ্ট করিনি, এটা ঠিক তবে এখানে কোথায়ইবা সেই নিক্তি_ আদৌ কী তা আছে? এটা প্রায়ই দেখা যায় যে আমার কাছে শুধুমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী এবং সাধারণ কথাই বলার আছে, এ েেত্র আমি অন্যদের কথা বলার জন্য আমার কণ্ঠস্বর ব্যবহার করি বা ভোট দেই। যে কতর্ৃপ, ঋণ বা সুবিধাকে দোষারোপ না করে জমা রাখে অপরিচ্ছন্নভাবে তাকে 'বুদ্ধিজীবী' বা 'দার্শনিক' বলা হয়।
বুদ্ধিজীবিকার বিভিন্ন েেত্র আমার নিজেকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটা সমস্যা রয়েছে (দার্শনিক, লেখক নাকি অধ্যাপক) আর যাকে আপনি চেনেন দৃশ্যে রাজনীতি নিয়ে খেলছে তার ঐতিহ্য প্রশ্নসাপে। না, আমি এটাকে ঘৃণা বা সমালোচনা করি না। আমি মনে করি যে, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে, সেখানে একটা চিরন্তন কাজ এবং দায়িত্ব আছে যা এড়ানো যায় না। এটা এ ধারণা থেকে এসেছে রাজনৈতিক কমকান্ডে আমি কী বিবেচনা করব। আমি বেশ সতর্ক দৃশ্যের একটা পরিবর্তন সম্পর্কে যেটা দেনা-পাওনা শোধ করে কান্তিকর বন্ধা্যত্ব দিয়ে। মাঝেমধ্যে চূড়ান্ত খারাপ ক্রসরোডে পয়দা হয় সন্ত্রাস (যদিও সেটা ভালো কারণেও হতে পারে)। কোনও সাধারণ মানদন্ড ছাড়াই রাজনৈতিক কাঠামো, মিডিয়ার উন্নয়ন আমার ঘাড়ে নতুন দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। যখন সস্তায় একটা মিডিয়াকে কেউ নষ্ট করার চেষ্টা করবে না, তখন তা কোনও প্রকল্পেই বুদ্ধিজীবীর ধ্রুপদী সংজ্ঞায় পড়ে না।
আজকের দিনের অন্যতম ঝামেলা হলো, এই দায়িত্ব গণমাধ্যমের চলমান ফর্মের কাঁধে, এবং বিশেষ করে তাদের আধিপত্যের কাঁধে, তাদের জোতদারি এবং স্বতঃসিদ্ধতার কাঁধে। আপনি যে প্রত্যাহারের কথা বলেছেন তার মানে এই নয় যে আমার দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ ভাবে মিডিয়াবিরোধী। আমি তাদের উন্নয়ন এবং বহুমুখীকরণ দৃঢ়ভাবে কামনা করি। পাশাপাশি, দৃঢ়তার সাথেই আমি তাদের স্বাভাবিকীকরণের বিরেধিতা করি। যা আসলে সবকিছূতে নিরবতা আনে এবং মতার আবদ্ধে শনাক্তে অম। অথবা আপনি যা পাচ্ছেন তা একটা ছায়ামূর্তি মাত্র। মিডিয়ার প্রথম সমস্যাটি হলো এটা নির্ভর করে রাজনৈতিক ভাষার ওপর, গ্রহণযোগ্যতার আইনে ডান বাম ভারসাম্য রেখে।
এ সব গবেষণা, প্রশ্ন এবং বোঝাপড়ার পর আমি রাজনৈতিক ভাবে নিরব থাকতে আগ্রহী হই। হতে পারে আমি যা বলেছি এর মধ্যে রয়েছে শ্রবণাতীত রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রতি-সাংস্কৃতিক চিন্তা। হতে পারে, কেউ কথা বলবে এখানে সুযোগের, আশায় অথবা হতাশায়, সব সময় দুশ্চিন্তায় এবং সংখ্যালঘুর দলে।
দ্য অলমোস্ট নাথিং অফ দ্য আনপ্রেজেন্টবল বইয়ে প্রকাশিত দেরিদার সাক্ষাৎকার থেকে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


