সান ডিয়াগোতে আমার এক বাঙালি বন্ধু জানালো, গত বছর 3 জুন থাইল্যান্ডের দৈনিক এশিয়ান ট্রিবিউনে প্রকাশিত 'ইলেকশন 2007 ইন বাংলাদেশ: ডাউটস এন্ড সঙ্েকুলেশনস' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ঢাকার দুটি প্রভাবশালী দৈনিক প্রকাশ করেছে।
একটি দৈনিক আমার কলামটির নির্বাচিত অংশ ছেপেছে। এ কলাম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে সে দৈনিকে। 3 জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমি গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সমঙ্র্কে আমি লিখেছিলাম, 'এমনকি কিন্ডারগার্টেনে পড়ছে এমন শিশুও তারেক রহমান ও তার এ ঘনিষ্ট বন্ধুর সীমাহীন দুর্নীতির কথা জানে। বৈধ-অবৈধ অনেক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মামুন এখন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মালিক।' আমার এ মন্তব্য সম্পর্কে মামুনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকার সে দৈনিকটির রিপোর্টারকে তা' স্রেফ আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দেয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্টরা দেশের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে এবং লজ্জাহীনভাবে তাদের দুর্নীতি অস্বীকার করে যাচ্ছে। যদিও দেশি-বিদেশী মিডিয়ায় হওয়া ভবনের দুর্নীতি নিয়ে অনেক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও হাওয়া ভবন ও তারেক রহমানের ঘনিষ্টদের দুনর্ীতির কঠোর সমালোচনা করেছে।
তবে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি, এতে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুধরনের খবরই পাওয়া যায়। ইতিবাচক খবরটি হচ্ছে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর মাদার তেরেসা পুরষ্কার পেলেন। আর নেতিবাচক খবরটি হচ্ছে ঢাকার তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতি নিয়ে।
সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা না দেয়া পর্যন্ত ডিপিজেডের 92টি কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। যদিও সরকার ও বেপজা বিনিয়োগকারীদের এ কঠোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানানোর পাশাপাশি সংকট দূরীকরণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্প এ দেশের প্রধান খাত। এ খাত থেকে প্রায় 70 শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে বাংলাদেশ। এ শিল্প পতনের দিকে গেলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ বয়ে আনবে। এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। পারিশ্রমিক কম হওয়ায় বিকল্প আয় খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে শ্রমিকরা। নারী শ্রমিকরা নানাবিধ অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে আর পুরুষরা জড়িয়ে পড়ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে।
এ বছরের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশ হয়তো এবারো শীর্ষে থাকবে। ইমেজ রা করতে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আফসোস! ঢাকার দৈনিকের প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় মামুন লজ্জাহীনভাবে তার দুর্নীতির কথা যেভাবে অস্বীকার করেছেন, তাতে সরকারের কাছ কঠোরতার প্রত্যাশা করা অর্থহীন।
ক্ষমতাসীন দুর্নীতিবাজদের এ কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে_ তাদের মতা খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। বিশ্বের অনেক স্থানেই ক্ষমতাবান দুর্নীতিবাজদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা নির্বাসনে যেতে হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, রাজনীতিবিদরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। হয়তো দুর্নীতির চর্চা করতে করতে তাদের চিন্তা, চেতনা ও মগজ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে_ তারা আর ভবিষ্যত দেখতে পায় না।
অন্ধ হলে কি আর প্রলয় বন্ধ থাকে? বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, তাতে যে কোনো সচেতন নাগরিকই বুঝতে পারছেন_ রাজনৈতিক ময়দানে এ টর্নেডো আসছে। মামুনসহ সবাইকে মৃতু্য এড়ানোর কথা মনে রাখতে হবে।
(গত বছর জুন এশিয়ান ট্রিবিউনে প্রকাশিত সুনিতা পালের কলাম 'দোজ সেইমলেস করাপ্টস ইন বাংলাদেশ' অবলম্বনে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


