somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাজারের প্রকৃতির পরিবর্তন

০৫ ই জুন, ২০২৪ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। অধিকাংশ মানুষ বরাবর কৃষির উপরেই নির্ভরশীল ছিল। এদেশের মানুষ সেই অর্থে ব্যবসায়ী ছিল না। গ্রামেগঞ্জে কৃষিজাত পণ্যের লেনদেন হতো কিন্তু মানুষ মূলত কৃষক ছিল , ব্যবসায়ী ছিল না।
ভারতের বিভিন্ন অংশের বণিকেরা, আরবরা, চীনারা , আফগানিরা, ইরানিরা, পরবর্তীতে ইউরোপীয়রা এই দেশে ব্যবসা করেছে। বঙ্গদেশের মানুষের ব্যবসার অভিজ্ঞতা খুব পুরানো না ( তবে ব্যবসায় যত রকমের ছল-চাতুরি করা যায় তার সবটুকুই সম্ভবত আমরা শিখে গিয়েছি)।

খোলা বাজার অর্থনীতিতে অসীম সংখ্যক ক্রেতা এবং অসীম সংখ্যক বিক্রেতা থাকে এবং বাজার নিজেই পণ্যের দর নির্ধারণ করে। অসীম বলতে গাণিতিকভাবে অসীম না, অনেক বড় সংখ্যা বোঝায়। যেমন বিদ্যুতের জন্য আমাদের সরকারি বিদ্যুৎ বিভাগ ছাড়া বিকল্প নেই কাজেই এখানে মুক্ত বাজার অর্থনীতির নীতি প্রয়োগ করা যাবে না‌ । ঢাকা শহরে যারা থাকেন পানির জন্য ওয়াসার উপরে নির্ভর করতে হয়। ওয়াসা যে দর বলে দেয় সেই দরে পানি কিনতে হবে।
আবার এই ঢাকাবাসী যখন বোতল জাত পানি কিনতে যায়, তখন অসংখ্য ব্র্যান্ড থেকে কিনতে পারে। এখানে প্রতিযোগিতা আছে। ফলে বিক্রেতা চাইলেই দাম বাড়িয়ে দিতে পারে না। এটি খোলা বাজার অর্থনীতির একটি উদাহরণ।

আবার যদি বিক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকে এবং ক্রেতার সংখ্যা কম থাকে, সেটিও স্বস্তিদায়ক নয়। যেমন করোনা পরবর্তীকালে করোনা সনাক্তকরণ কিট এর জন্য বিক্রেতা বাজারে অনেক আছে, ক্রেতা নাই। এখানে বিক্রেতাকে ক্ষতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

৩০-৪০ বছর আগেও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনকার মত অতিরিক্ত আকারে ছিল না। ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসায়ীরা এদেশে দীর্ঘকাল ব্যবসা করে আসতে পেরেছে। তবে পুঁজিবাদের ধাক্কা বাংলাদেশে ও লেগেছে। অল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা সম্ভবত মার্কেটে দীর্ঘদিন আর টিকে থাকতে পারবেন না।

কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হবে।

১৫-২০ বছর আগে দেশে প্রচুর মুরগির খামার গড়ে ওঠে। সামান্য পুঁজি নিয়ে অনেকেই ১০০ -২০০ মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তোলেন। এই খামারীরা যখন মুরগির ডিম বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে গেলেন, দেখা গেল কিছু কোটিপতি মুরগি খামারি কিছু লস দিয়ে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে থাকলো। স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন উনাদের সাথে লস দিয়ে প্রতিযোগিতা করতে না পেরে খামার গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। মাংস উৎপাদনকারী মুরগির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। কোটিপতি খামারীরা শুরুতে যেটুকু লস দিয়েছিল পরবর্তীতে দাম বাড়িয়ে তার বহু গুণ টাকা মার্কেট থেকে তুলে নিয়েছে।

কোরবানি উপলক্ষে অনেক কৃষক গরু পালেন । সামান্য কিছু লাভে কোরবানির সময় এই গরু বিক্রি করে দেন । দেখা যাচ্ছে পশু খাদ্যের দাম যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা পশু খাদ্যের দাম এত বাড়িয়ে দিয়েছেন যে কৃষকের পক্ষে এই খাবার কিনে গরু পালা অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে বিভিন্ন বড় আকারের এগ্রো ফার্ম, যারা বড় বিনিয়োগ করতে সক্ষম তারা এই ব্যবসাটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছেন। আমার ধারণা আগামী ১৫-২০ বছর পরে কোরবানির হাট বলে কিছু থাকবে না মানুষকে এগ্রো ফর্মে বুকিং দিয়ে কোরবানি করতে হবে। সনাতন নিয়মে এই সমস্ত কোরবানির টাকা হাটের দালাল, ফড়ে, ইজারাদার, কসাই , মৌসুমী ছুরি বিক্রেতা, ছুরি ধার দেনেওয়ালা, মৌসুমী পশু খাদ্য বিক্রি কারক , মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী- সকলের হাতে টাকাগুলো ঘুরতো , সকলেই লাভবান হত। এখন একটি নির্দিষ্ট ধনী শ্রেণীর হাতে এই টাকাটা চলে যাবে ।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য আমরা মুদি দোকানগুলোর উপর নির্ভরশীল। এই ব্যবসাটা ধীরে ধীরে মুদি দোকানদারদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে এখন সুপার শপ। আমার বাড়ির ৫০০ গজের মধ্যে এসিআই এবং প্রাণের দুটো সুপার শপ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য একাধিক সুপারমার্কেট রয়েছে। সুপার মার্কেটগুলো বাল্কে পন্য কেনে, এছাড়া এ সি আই বা প্রাণের নিজস্ব প্রোডাক্ট আছে যেগুলো তারা কম দামে দিতে পারে। সুপার শপ গুলো সারা মাসই বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে। যারা বাকিতে কিনতে পছন্দ করেন অথবা দরাদরি করতে পছন্দ করেন , তারা ছাড়া অধিকাংশ লোক এখন সুপারশপে কেনাকাটা করেন । সুপার শপ এ ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল পেমেন্টের সুযোগ থাকায় এদের ব্যবসা গুলো অনেক বেশি জমজমাট। মহল্লায় যেখানে ৫০ টা মুদি দোকান ছিল এগুলো উঠে যেয়ে দুইটা বা তিনটা সুপার শপ থাকবে।
সুপার শপ গুলোর মালিকরা কিন্তু সাধারণ লোক না, বড় বড় গোষ্ঠী- কোম্পানি। ব্যবসা সাধারণ লোকদের কাছ থেকে বড় ধনীদের কাছ চলে যাচ্ছে। দেশ ধনতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের দিকে চলে যাচ্ছে।
এটা কি ভালো? সম্ভবত না। ক্ষুদ্র পুজির ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন । সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরো বাড়বে।

ঠেকানোর কোন উপায় আছে? আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেরাই বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। উনাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আমি কখনো দেখিনি। কাজেই এই পরিবর্তন ঠেকানোর কোন উপায় নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৪ রাত ১০:০৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×