রাতের খাবার খেয়ে টিভি দেখতে বসেছি। দেখছি একাত্তর টিভি। আমার পছন্দের কোনো চ্যানেল নেই। রিমোট ঘুড়াতে ঘুড়াতে যখন যেটায় চোখ আটকে যায়, তখন সেটাই দেখি। একাত্তর টিভিতে এসে চোখ আটকে গেল। সংবাদের মাঝে তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেন ও হ্যাপী নামে একজন মডেল কিংবা চিত্রতারকার মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে।
এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। তারাকাদের ব্যক্তিগত প্রেম ভালোবাসার বিষয়গুলো নিউজ হতে পারে। এটা আমরা হর হামেশাই দেখছি। এ ধরনের নিউজের একটা ডিমান্ড রয়েছে।
আমি একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলাম- যখন দেখলাম, খবরের মাঝে দুজনার মধ্যকার গোপনীয় কথাবার্তার মোবাইল রেকর্ডিং দর্শকদের শোনানো হচ্ছে।
সাংবাদিকতার যে ক্ষুদ্র জ্ঞান আমার রয়েছে, তাতে ইথিক্স বলে একটা শব্দ আমার জানা আছে। হয়তো সেই শব্দটি একাত্তর টিভির সংবাদকর্মীদের জানা নেই।
বর্তমানে কর্পোরেট মালিকানায় সংবাদপত্র বা মিডিয়া হচ্ছে কর্পোরেট ব্যবসার বহুমুখী মাধ্যমগুলোর একটি। একদিকে ব্যবসা বৃদ্ধি, ট্যাক্স ফাঁকি এবং ব্যবসার নিরাপত্তার হাতিয়ার এবং অপরদিকে প্রতিযোগী বা শত্রুকে বিনাশ করার এক মোক্ষম মারণাস্ত্র।
নীতি ও নৈতিকতা বোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন পূর্বক মহান সাংবাদিকতা পেশাটিতেই কালিমা লেপন করে দিচ্ছেন বর্তমানের কিছু মিডিয়া মালিক ও সাংবাদিক নামধারী কয়েকজন অসভ্য ও অপদার্থ।
দুজন ভালোবাসার মানুষ যখন ফোনে কথা বলেন, তখন তাদের অনেক ব্যক্তিগত কিংবা আবেগঘন কথাবার্তা হয়ে থাকে। সেটি পাবলিককে জানানো কতটা অনৈতিক ও শালীনতা বিবর্জিত সেটি বোধ করি একাত্তর টিভির জানা দরকার।
আর হ্যাপী নামে যে মেয়েটি অডিওটি প্রকাশ করেছে। তাকে বলাবো, ভালোবাসার পূর্বশর্ত হচ্ছে, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ। যারা ভালোবাসেন তারা নিজের জীবন দিয়ে হলেও ভালোবাসার মানুষটির মর্যাদা ও সম্মানের হানী হয় তেমন কোনও কাজ করেন না। আর ভালোবাসার মানুষটির অজান্তে তার একান্ত কথাগুলোও রেকর্ড করে রাখেন না। আপনার এমন ভালোবাসা দেখে আমরা সত্যিই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি।
আর হ্যা, ভালোবাসলে খানিক লজ্জাবোধও থাকা চাই মানুষের..........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


