১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করার পর আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা। শোষনমুক্ত এবং অথনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি জাতি গঠনই ছিল স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা। আমাদের র্পূবসূরীরা আমাদের দিয়েছে বাংলাদেশ আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে হবে উন্নত বাংলাদেশ। কিন্তু আজ ৪০ বছর পার করেও আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছুতে পারিনি। স্বাধীনতার মর্ম উপলব্দি করতে পারিনি। কবেই-বা আমরা পারবো এই স্বাধীনতার মান রক্ষা করতে?
এই দুঃসময়ের জন্য দায়ী কারা ? সহজ,স্পষ্ট ও একমাত্র উত্তর হল রাজনীতিবিদগণ!
জাতীয় জীবনে মূল চালিকাশক্তি হল রাজনীতি। এ রাজনীতিই জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। রাজনীতি কোন ব্যক্তি,পরিবার বা দলের মালিকানাধীন ব্যবসা নয়,বরং এর সাথে জড়িত সমগ্র রাষ্ট্র। তাই কোন একটি জাতির ব্যর্থতা দেখে নিশ্চিত বলা যায়, সে জাতির রাজনৈতিক নেতারা সঠিক ভাবে কাজ করেনি। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূলত এটিই ঘটেছে।
একটি দেশের উন্নয়ন বা সুখ-সমৃদ্ধির জন্য সেদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে বিপুল বিপ্লব আসার দরকার নেই। বরং বিপ্লব আনতে হয় নেতৃত্বে এবং সেদেশের রাজনীতিতে। রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পায় পথ-নির্দেশনা। আর এভাবেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে একটি সুখি ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ব্যাবস্থা।
অথচ বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন এক তলানিতে এসে ঠেকেছে যে আইনষ্টাইন বা নিউটন কারো পক্ষেই এর গতি প্রকৃতি বলা সম্ভব না।
দুএকটা ব্যাতিক্রম বাদে আমাদের ভাল নেতাকর্মী নেই। রাজনৈতিক সহনশীলতা নেই। আছে শুধু ল্যাং মারামারির নোংরা রাজনীতি। বস্তুত বাংলাদেশের রাজনীতি লক্ষ্যহীন! তাই পত্র-পত্রিকায়, টিভি চ্যানেলগুলোয় ভাল কোন খবর নেই। সর্বত্র অব্যবস্থাপনা , প্রশাসনিক র্দূনীতি , অবিচার সন্ত্রাস , বিশ্ববিদ্যালয়ে সেসনজট , ট্রাফিক জ্যাম......মোটকথা তেনাদের (রাজনীতিবিদগণ) লাঠালাঠিতে আমরা চরম বিরক্ত!
আফসোস! স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ছাড়া আর সবাই অসহায়!
আমরা যারা সাধারণ, চারপাশে যে শত শত মানুষের সাথে আমরা প্রতিনিয়ত কাটাই, রাজনীতি তাদের কাউকেই কিছু দেয়নি। তাই এখন উনাদের(রাজনীতিবিদগণ) কাছে চাওয়ারও কিছু নেই। শুধু পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা নিরাপদ হোক মানুষের জীবন ও জীবিকা। কেননা আমরা মনে করি গনতন্ত্র পাওয়ার আত্মতৃপ্তির চেয়ে জীবনের নিরাপত্তা অনেক বেশী জরুরী!
মনে মনে আরো একটি প্রার্থনা করি - যে রাজনীতি মুখে বললেও জনগনের শক্তিতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না, যে রাজনীতিতে পুষতে হয় দলীয় ক্যাডার-গডফাদার, তেলাতে হয় সেনাকর্মকর্তাদের, পদধুলি নিতে হয় পশ্চিমা কুটনীতিকদের, সে রাজনীতির চিরমৃত্যু ঘটুক!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



