somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভৌতিক অভিজ্ঞতা

২৯ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকে ব্লগে এসেই জিন-ভুত নিয়ে অনেকগুলো পোষ্ট দেখে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করার ইচ্ছা হল। বিষয়গুলো খুব একটা ভৌতিক কিনা জানিনা, তবে আমি কিন্তু ভয় পেয়েছিলাম। যাই হোক, আমার অভিজ্ঞতার গল্পে এখন আপনাদের নিয়ে যাব।

ঘোস্ট হান্টিং ট্যুর (ডেসটিনেশন- সোনারচর, হাতিয়া নোয়াখালী)

আমাদের নিয়মিত আড্ডার বিষয়বস্তু একদিন হঠাৎ করেই ভুত-আড্ডায় পরিনত হল। অমুকের তমুক অমুক জায়গায় এই দেখেছে তার গল্প শেষ না হতেই আরেকজনের বাবা নিজেই পরীর সাথে ভেগে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাল গাছের মাথা থেকে তাকে নামিয়ে আনা হয়, এইসব আলোচনা চলছিলই। তো এরই মধ্যে আমাদের এক বন্ধু তার নিজের গ্রামের বাড়ির কাছে এক পতি গোরস্থানে অশরীরের আনাগোনার কথা জানান দিল। আমরা সবাই চিন্তা করলাম এইবারের কোরবানির ঈদের বন্ধে সেখানে যাব। যেই ভাবা সেই কাজ, সবাই রউনা হয়ে গেলাম- ভুতের গুষ্ঠি উদ্ধার করতে।

বন্ধুর নানা বাড়ি সোনারচরে। তাদের বাড়ির অদূরেই একটা গোরস্থান, আর সেই গোরস্তানের কাছেই ছোট পরিসরে একটা পতি গোরস্থান। যাদের জানাজা হয় না, আত্মহত্যা করেছে, নিশিকন্যা কিম্বা যারা সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় সেই সব হতভাগা লাশের গন্তব্য হচ্ছে এই পতি গোরস্থান। যারা পৃথিবীতে বেচে থাকতে অতৃপ্ত ছিল, মৃত্যুর পরেও যে অতৃপ্তি থাকবেনা তা তো বলা যায় না।

রাত ১০টার দিকে তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলাম, পরিকল্পনা হল রাত ১ টার দিকে আমরা সবাই পতি গোরস্থানে যাব। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা দশ জন মিলে ভুতের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম, যে যার মতন বিভিন্ন অপার্থিব বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলো। এমনিতেই আমাবস্যা তার উপরে এই সব আলোচনা, কেমন যেন ভয় ভয় করতে লাগলো।

রাত ১টা, সবাই যে যার মত প্রস্তুত। টর্চ লাইট নেয়া হল বেশ কয়েকটা। রউনা দিলাম, এমনিতেই প্রত্যন্ত গ্রাম, আসার পর থেকেই শেয়াল কুকুরের থেমে থেমে ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। রউনা দেবার পরে সেই ডাক যেন আর বেড়ে গেলো, যীযী পোকার ডাক বাতাসের শব্দ, গাছের পাতার শন শন এই নানান রকম সাউন্ড ইফেক্টের কারণে ভয়টা যেকে বসছিল।

প্রায় ১০ মিনিট হাটার পরে আর পারিপার্শ্বিকের অবস্থা দেখে মন বিদ্রহ করে উঠলো, আর না যাই। এই অবস্থা সবার মাযে আস্তে আস্তে সংক্রমিত হওয়া শুরু করেছে। আকা বাকা মেঠ পথ তার মধ্যে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। তো এভাবে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় ১৫ মিনিট পরে আমরা পতি গোরস্থানের কাছে এসে পৌঁছলাম। চারদিক জান্তব আওয়াজ যেন আর বেরে গেছে। আমরা সবাই খুব ধিরে হাটা শুরু করলাম। গোরস্থানের এক পাশে ঢাল, আর ঢালের পাশেই একটা বিরাট দীঘি। আমরা সবাই গিয়ে সেই ঢালের উপর দাঁড়ালাম। একটা আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটলো। শেয়াল, কুকুর,যীযী পোকার ডাক, বাতাসের শব্দ সব বন্ধ। এক আশ্চর্য নীরবতা। সবাই যে যার মতন দোয়া দুরুদ পড়া শুরু করে দিলাম। একজন আরেকজনের গায়ে গায়ে দাড়িয়ে আছি, আর সবাই পতি গোরস্থানের সবটা জুড়ে চোখ বুলাচ্ছি, নাহ কিছু দেখলাম না। কিন্তু প্রত্যেকেই অনুভব করলাম কিছু একটা।

হঠাৎ করেই একটা জোড় বাতাস বইলো। প্রত্যেকেই কেপে কেপে উঠলাম। প্রায় পাঁচ কি সাত মিনিট ধরে দাড়িয়ে আছি, কিন্ত মনে হচ্ছে অনন্তকাল ধরে আছি। আর সহ্য হলনা সবাই মিলে ফিরতি পথে রওনা হলাম আর আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করলাম শেয়াল, কুকুর,যীযী পোকার ডাক, বাতাসের শব্দ আবার শুরু হয়ে গেছে। কিছুই দেখিনি এটা সত্য কিন্তু অনুভব করেছি। এই অনুভুতির নাম কি দেয়া যায় জানিনা, কিম্বা শেয়াল, কুকুরের ডাক বন্ধ হবার কি রহস্য তাও জানিনা।

---------------------------------------------------

গল্পটা বড় হয়ে গেছে :) তাই অন্য ঘটনা গুলো আরেক দিন হবে।

১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×