somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ টাকার সুখ

২৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগে স্কুলে যেতাম আসতাম ভ্যানে করে। ভ্যানে করে বললে ভুল হবে, ভ্যন ঠেলতে ঠেলতে যেতাম আসতাম। স্কুল ভ্যানগুলার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলতো কে আগে যেতে পারে তাই ভ্যান থেকে নেমে ঠেলাঠেলি তখন আমাদের কাছে ছিলো একটা জনপ্রিয় খেলা।

টিফিনের জন্য বাসা থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা দেয়া হতো।দিন শেষ হয়ে যেতো তবে এই ১০ টাকা আমি শেষ করতে পারতাম না।

টিফিন টাইমে স্কুলের আসে পাশের সব দোকান/কনফেকশনারী/হোটেল ৫ মিনিটের মধ্যেই খালি হয়ে যেতো। তাই টিফিনের ঘন্টা পরার সাথে সাথেই শুরু হতো ভৌ দৌড়। ছোট্ট একটা গেট দিয়ে বের হয়ে হুমড়ি খেয়ে পরতাম স্কুলের পাশের হোটেলে।

তখন বড় বড় পুরি পাওয়া যেতো ৩ টাকা করে। ২ পিসেই আমাদের পেট ফুলে যেতো। ৬ টাকা বিল দেয়ার পরে অবশিষ্ট ৪ টাকা কিভাবে খরচ করবো ভাবতে ভাবতে টিফিন শেষের ঘন্টা পরে যেতো।

আর যেদিন ভাগ্য ভালো ছিলো, স্যার ঘন্টা পরার আগেই টিফিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিতো। সেদিন স্কুল ক্যান্টিনে যেতাম। ক্যান্টিনের একপাশে গ্রিলের ফাক দিয়ে হাত ঢুকানো যেতো। হাতের মুঠোয় টাকা গুজে নিয়ে হাত পেতে থাকতাম। এক্সক্লুসিভ আইটেম ছিলো বার্গার, দাম ৬ টাকা। ২ টাকার পাউরুটির ভিতর আলুর টিক্কা, আর ভাগ্য ভালো থাকলে আলুর মাঝে ডিমের অংশ পাওয়া যেতো।

আর যেদিন মিনিট পাচেঁক দেরি হতো ক্লাস থেকে বের হতে সেদিন ঝালমুড়ি ছাড়া আর কোনো গতি ছিলো না। সেই ঝালমুড়িতেও লাইন। খালেকের বিখ্যাত ঝালমুড়ি। একটা বড় বালতির মধ্যে সব মসলা নিয়ে এরপর বালতির মধ্যে হাত দিয়ে দিতো একটা ঘুরান্টি। ব্যাস! ঝালমুড়ি রেডি। ঠেলাঠেলি করে ৫ টাকার ঝালমুড়ি খাওয়ার পর ও আমার ৫ টাকা বেচেঁ যেতো।

টিফিন শেষে বেচে যাওয়াগুলো কেবল কাগজের টাকা ছিলো না, সেই টাকাগুলো ছিলো আমার কাছে এক টুকরো সুখ। চাইলেই দোকান থেকে আমি কিছু কিনে খেতে পারি কিংবা টাকা জমিয়ে একটা বল কিনতে পারি! এই বেপারগুলো ভাবতেই আমি রোমাঞ্চিত অনুভব করতাম। এক প্যান্টের পকেট থেকে আরেক প্যান্টের পকেটে টাকাগুলো ঘুরঘুর করতো, তবে শেষ আর হতো না।

এখন যেমন ঘুমের আগে হতাশার পৃষ্ঠা পালটাতে পালটাতে এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাই, সেই আগের সময় আমার সব ধ্যান ধারনায় ছিলো সেই এক টুকরো সুখ।

সময় বদলেছে, একে স্কুলের গলিটাও এখন আর আগের মতো নেই। নানান ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্রান্চ সেখানে। এখন হয়তো টিফিনের ২০ মিনিট শেষেও দোকানে খাবার রয়ে যায়। ৬ টাকার বার্গার চাইলেও পাওয়া যাবে না, কেবল সৃতিতেই রয়ে গেছে সেই বার্গার। পাওয়া যদি যেতো নিশ্চই কেউ সেই বার্গার খেয়ে ক্ষেত তকমা নিতে চাইতো না। ওই বার্গার তো ফুডব্যাংকেও শেয়ার দেয়া যেতো না সবাই পচানি দিবে বলে।

এখন পকেটের এক কোনে পরে থাকা ১০ টাকার নোটগুলো মূল্যহীন। হাজার টাকার নোটটাও যেনো কিভাবে খরচ হয়ে যায় টের পাই না। কেবল টের পাই নোটের বিপরীতে কেউ আমাকে এখন এক টুকরো সুখ দেয় না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×