somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার শৈশবের কিছু প্রিয় অর্থহীন ছড়া (পড়লে সময় নষ্ট, না পড়লে আমার কষ্ট)

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





শৈশব, আমার প্রিয় শৈশব! শুধু আমার কেন? আবহমান কাল থেকে প্রতিটি মানুষেরই প্রিয় সময় বোধহয় শৈশব। আর এই শৈশবে সবারই অন্যতম প্রিয় একটি কমন বিষয় হল অর্থহীন মজার মজার সব ছড়া, যেগুলো ছিল আশৈশব খেলার সাথী। সময়ে, অসময়ে গুণগুণ করে গাইতাম সেইসব ছড়াগান। আজ বলব আমার কিছু প্রিয় অর্থহীন ছড়া, যার সাথে দুয়েকটি থাকবে স্মৃতিবিজড়িত। আসুন শুরু করা যাক, প্রথম দুটি আমার স্কুল জীবনে শিশু শ্রেণীতে (তখন এর নীচে প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, ফার্ম ;) এইসব ছিল না) নাসরিন ম্যাডাম (উনি আবার আমার প্রিয় স্কুল ফ্রেন্ডের আম্মা) শিখিয়েছিলেন। প্রথমটি স্কুল করিডোর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য, দ্বিতীয়টি গণিতের যোগ বিয়োগ শেখানোর জন্য।



“কাগজের টুকরা, কাগজের টুকরা
পড়ে আছে ঐ, পড়ে আছে ঐ।
জায়গা করে নোংরা, জায়গা করে নোংরা
তুলে নাও, তুলে নাও।”



=======================



“পাঁচটি সবুজ বোতল ঝুলছে দেয়ালে
পাঁচটি সবুজ বোতল ঝুলছে দেয়ালে,
হঠাৎ করে একট যদি পড়ে যায়
রইলো কয়’টি দেয়ালে?”

(হাত নেড়ে নেড়ে আঙ্গুল মুঠো করে এই কবিতা শুরু হয়ে দেয়াল শূন্য করে শেষ হোত। কল্পনায় দেখতাম সবুজ বোতলগুলো ঝুলতে ঝুলতে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে।)




=======================



এবার শুরু করি আমার শৈশবের কিছু অর্থহীন খেলার ছড়া।

“ইন পিন সেফটি পিন,
বেবী খায় ভিটামিন।
ভিটামিনে পোকা
ডাক্তার সাহেব বোকা।”



=======================



“রাজার খবর এসেছে...
কি খবর এসেছে...
রাজা একটা বেলচা চায়...
বেলচা দিয়ে কি হবে...
যুদ্ধ হবে...
রাত কয়’টার সময়...
রাত বারোটার সময়...
কাকে দিয়ে কাকে চাও...
একে দিয়ে ওকে চাই...”

(রাত বারোটার সময় যুদ্ধ! তাও আবার বেলচা দিয়ে... কি হাস্যকর অথচ কি মজার ছিল)



=======================



“আকাশ থেকে নেমে এল ছোট্ট একটা প্লেন,
সেই প্লেনে বসে ছিল ছোট্ট একটা মেম।
মেম’কে আমি জিজ্ঞাস করলাম
হোয়াট ইজ ইওর নেম?
সে আমাকে উত্তর দিল
মাই নেম ইজ বোকা মানুষ ;)

(শেষের লাইনে নিজের সুবিধামত নাম বসাতাম নিজেকে বাঁচাতে :P )



=======================



“চড়ুই পাখি বারোটা
ডিম পেড়েছে তেরোটা
একটা ডিম নষ্ট
চড়ুই পাখির কষ্ট”



=======================



“ওপেনটি বাইস্কোপ,
নাইন টেন টেলিস্কোপ।
রাজবাড়ীতে যেতে,
পান সুপারি খেতে।
পানের আগায় মরিচ বাটা,
ইস্প্রিংয়ের চাবি আঁটা।
যার নাম রেনু বালা,
তারে দিব মুক্তার মালা।”
(এই কবিতাটি ঠিকঠাক মনে নাই, উল্টা-পাল্টা হতে পারে)



=======================



এবার একটা পাগ্লুটি ছড়া, ডোন্ট মাইন্ড ফর দিস আবোল-তাবোল :P

“ছোট মামী রান্দে-বাড়ে
বড় মামী খায়,
মাইজ্জা মামী গাল ফুলায়া
বাপের বাড়ী যায়।
বাপে দিল লাতথি,
পাইলো একটা বাত্তি।
বাত্তিতে নাই তেল,
পাইলো একটা বেল।
বেলে নাই বিচ্চি,
পাইলো একটা কেঁচি।
কেঁচিতে নাই ধার,
পাইলো একটা হার।
হারে নাই লকেট,
পাইলো একটা পকেট।
পকেটে নাই টাকা,
কেম্নে যামু ঢাকা।
ঢাকায় নাই গাড়ী,
কেম্নে যামু বাড়ী।
বাড়ীতে নাই ভাত,
পাইলাম একটা পাত।
উঁহু...পাতে গন্ধ!
হাই স্কুল বন্ধ।”

(এই ছড়ার শেষ লাইন একটু সেন্সর করা ;) আর এই ছড়ার মানে আজও বুঝি নাই)



=======================



অনেক হল এবার শেষ করি বুড়ো বয়সের ঘটনা দিয়ে। প্রফেশনাল একাউণ্টন্সি কোর্সে আমার এক জুনিয়র (বয়সে) সহপাঠী ছিল, নাম জনি। আমি তার সাথে জনি জনি ছড়াটা নিয়ে মজা করতাম, সেও মজা করতো। ইভেন পাবলিক প্লেসে। বুড়ো দুই ভামের কাণ্ড দেখে অন্যরাও মজা পেত। মাঝে মাঝে লিফটে যখন এটা করতাম, অপরিচিত মানুষ অবাক হয়ে আমাদের দুজনকে দেখতো আর মনে মনে ভাবতো...... পুরাই পাগল :P । তো কবিতার সেই দুষ্টুমিটা ছিল এরকমঃ

আমিঃ জনি... জনি... (তার দিকে তাকিয়ে)

জনিঃ ইয়েস পাপা (আমার দিকে তাকিয়ে সারা দেয়ার ভান করে)

আমিঃ ইটিং... সুগার? (প্রশ্ন করার সুরে)

জনিঃ নো পাপা। (কাঁদো কাঁদো সুরে)

আমিঃ টেলিং লাই?

জনিঃ নো পাপা। (পারলে সত্যি কেঁদে দেয়)

আমিঃ ওপেন ইওর মাউথ (কপট রাগের ভঙ্গিতে)

জনিঃ হা...হা...হা... (মুখ হা করে হাসতে হাসতে)

========== (সমাপ্ত) ==========



( বিঃ দ্রঃ সবগুলো ছবি নেট হতে সংগৃহীত। এতগুলো সোর্সের লিংক দিতে পারলাম না বলে নিজগুণে ক্ষমা করবেন। )
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:৫১
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

BNP কেও আওয়ামিলীগের মত নিষিদ্ধ করা যায়...

লিখেছেন অপলক , ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৩



আমাদের দেশে দারুন কিছু ঘটনা আমরা সাদরে গ্রহন করেছি, যদিও সেগুলো স্পষ্ট অপরাধ।

উদাহরন স্বরুপ:
১. কেউ অবৈধভাবে টাকা ইনকাম করল, সেই কাল টাকা সাদা করার সুবিধা দেওয়া হত, দেয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর আল ইসরা ওয়াল মিরাজ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


...................................মহাশুন্যে উর্ধালোকে ভ্রমনের একটি কাল্পনিক বাহন.
পোস্টের শুরুতেই এখানে প্রচ্ছদে থাকা ছবিটি সম্পর্কে বিনয়ের সঙ্গে পরিষ্কার করতে চাই এই ছবিটি কোনো
বাস্তব ঘোড়া বা জীবজন্তুর রূপ হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উনার কি এখন নতুন পি,এইচ,ডি করা লাগবে? ;) (সাময়িক)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫

সামু যাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেছে, তাঁর কথা বলছি। তিনি আমেরিকান কোন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রযুক্তিবিদ্যায় পিএইচডি করেছেন বলে শুনেছি। অথচ, সেই বিদ্যা এখন কাজে লাগছে না দেখছি!!! সামু'র 'গার্বেজ' সফটওয়্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=তোকে হলুদ ফুলের শুভেচ্ছা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩


হিমু,
কেমন আছিস? হলুদ ফুলের শুভেচ্ছা নিস
নিস শিশিরের স্নিগ্ধতা;
নিস কুয়াশার হিম আবেশ, মনে মাখিস
কেমন আছিস? আছিস কোথা?

এন্তার প্রহর গেল পেরিয়ে;
নিচ্ছিস না আর মনের খোঁজ,
কোথায় তুই গেলি হারিয়ে?
তুই কী জানিস, তোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেছন থেকে আর ডেকো না

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৭

মায়া,
একদম বুকে হাত রেখে বলো তো,
আমি কি সত্যিই অনেক বদলে গেছি?
কারণে-অকারণে আর তোমাকে খুঁজি না,
চুপচাপ থাকি,একদম নিঃশব্দ।
যেমনটা তুমি এতদিন চেয়ে এসেছো,
প্রতিক্রিয়াহীন এক মানুষ।
কিন্তু বলো তো,
এই নীরবতা তোমার ভালো লাগবে ক’দিন?
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×