somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ সলিল সমাধি, মৌলবাদের ভুত, সাম্প্রদায়িকতার চাষাবাদ আর লেলিনের চিন্তা।

১২ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১)
এক রিপোর্টারের সলিল সমাধি শব্দটা খুব পছন্দ ছিল, হামেশাই ব্যবহার করত। এতে বক্তব্যের ভার কিছুটা বাড়ে বলে তার ধারণা।বিশেষ কোন শব্দের প্রতি অতি মাত্রায় মমতা থাকলে যা হয়, একবার এক রোড এক্সিডেন্টের রিপোর্ট লিখতে গিয়ে হেডিং করে ফেলল ট্রাকের নীচে এক ব্যাক্তির সলিল সমাধি। যাহোক মৌলবাদি শব্দটা আমাদের শৈশবে কৈশোরে দেখিনি বা শুনিনি, রবি ঠাকুর, শরৎ, উলটে পালটে দেখার বদ অভ্যাস আছে, সেখানেও পাইনি। তাই এটা ইদানিংকার শব্দ এটা বুঝে নিতে কষ্ট হয়না।নুতন নুতন শব্দ ভাষায় আসবে, বাহুল্য যেটা সেটা ঝরে যাবে, এটাই হওয়া উচিত। সে হিসাবে নুতন শব্দ মৌলবাদির আগমন হলে আমার বলার কিছু ছিলনা । তবে যখন ওটা বুশ ব্লেয়ারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরন্তর যুদ্ধের স্লোগানের এক অতি চর্বিত ইংরাজী শব্দ ফান্ডামেন্টালিস্ট এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসাবে সরাসরি মৌলবাদি অনুদিত হয়ে বাংলায় ঢুকার জন্য ঝাপাঝাপি করে তখন বেশ অস্বস্তি হয়। মনে হয় প্রভুকে আগাগোড়া অনুকরণ করতে গিয়ে অনুবাদটা যেন খুব বেশী আক্ষরিক হয়ে গেল, কিন্তু বাংলা তো এতো দরিদ্র নয়! দুঃখের কথা, ইংরাজ জাতি তার ভাষায় যা বুঝাতে চাচ্ছে, মৌলবাদি বাংলায় সে একই আবেদন সৃষ্টি করতে পারছেনা, সঙ্গে টিকা টিপ্পনি হিসাবে কিছু ব্যাখা বিশ্লেষনও সাপ্লায় করতে হচ্ছে গা বাঁচানোর জন্য। হার্ডডিস্ক এর অনুবাদ বাংলায় শক্তচাকতি হয়ে গেঁড়ে বসতে চাইলে যেমন তামাশা মনে হয় ঐরকম এক অবস্থা।নুন খাওয়া অপরাধ না, তবে নুন খেয়ে যারা এই শব্দ আমদানি করল তারা অনুকরণ করতে গিয়ে এতো কাঁচা কাজ করল কেন ভাবলে বেশ অবাক লাগে। যাহোক এই ভূ-ভারতে মৌলবাদি না বলে উগ্র-হিন্দু বা উগ্র-মুসলিম শব্দটা আমার কাছে অনেক বেশি যথার্থ এবং বাংলায় গ্রহণযোগ্য মনে হয়।এতে প্রভুর ফান্ডামেন্টালিস্ট শব্দের সতিত্ব হুবহু হয়তো বাংলায় রক্ষা হলোনা, তবে যা প্রভু বোঝাতে চান সেটার ঘাটতিটা হয়তো কিছুটা কাটানো গেল।

২)
মোহাম্মদ সম্পর্কে যার যা বুঝ বা ধারনা তা তার ব্যক্তিগত বিষয় বলেই আমি ধরে নিচ্ছি, আমার বলা না বলাতে সেটা পাল্টাবেনা। ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতকে অস্বীকার করে ,সেটা পাঠ না করে আধো আলোছায়ার মাঝে রেখে, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট থেকে কাউকে বিচ্ছিন্ন করে এনে আজকের বিচারে তাকে ভিলেন বানানোতে কোন প্রতিভার দরকার পড়েনা, যৎকিঞ্চিত বিদ্বেষ থাকলেই পারা যায়। তবে উনাকে ব্যক্তি আক্রমণ করে এভাবে এক সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ালে সেটার প্রতিক্রিয়া হয় মারাত্মক। স্থায়ী ঘৃণার বীজ বপন হয় তাতে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, সমাজের আন্তঃবিনুনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ফলশ্রুতিতে অপরপক্ষ বলে বসবে, যে ধর্মে ব্রহ্মা স্বয়ং তার মেয়ে পার্বতীর প্রতি সুতীব্র যৌন আকর্ষন বোধ করে আর পিতার লোলুপ দৃষ্টি থকে মেয়ে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা পায়না, সে ধর্মের ক্রেডিবিলিটি কি। তখন কথার পিঠে কথা বাড়বে। নাস্তিকতার মুখোশের আড়ালে শেষ রক্ষা হবেনা। মাঝা মাঝি কোন শ্রেনী থাকবেনা। সরাসরি একে অপরের দিকে অঙ্গুলি নির্দেষ করে অস্ত্রে সান দিবে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বিষবাস্প তৈরী হবে। সবাইকে একছাতার নীচে নিয়ে এদেশের ভেতর ও বাইরের শত্রুর সাথে আমাদের যে লড়াই তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, শত্রু লাভবান হবে এধরনের বিবাদে।

৩)
বড় হয়ে গেল, সংক্ষেপ শেষ করি। ধর্মকে আধুনিক সমাজ কিভাবে মোকাবিলা করবে তার একটা গাইডলাইন ১৯২২ সালের ২ রা মার্চ লেলিন দিয়ে গেছেন। সময় পেলে পড়ে নিবেন। কোটেশনে আমার অরুচি আছে তাই দিলামনা। কোটেশন নয় এই আর্টিকেলটা আমাদের মন মগজ লাগিয়ে বুঝতে হবে।আজকের প্রগতিশীলতার দাবিদারদের কর্মকান্ডের সঙ্গে লেলিনের সেই চিন্তা চেতনার তফাৎ কেন ১৮০ ডিগ্রী সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। বুশ ব্লেয়ার আর ভারতের সাউথ ব্লকের নুন খেয়ে প্রগতিশীলতার ঝান্ডা হাতে নিলেই কেবল এই বৈপরিত্য সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।


(পূর্বের এক পোস্টে আমার কমেন্ট থেকে নেয়া, কিছুটা পরিবর্তীত)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×