এস এস সি পাস করেছি আজ প্রায় ৯ বছর ।আজ এস এস সি র ফলাফল প্রকাশ হবে,এতো দিন পর আমার আবার সেই পৃর্বে স্মৃতি মনে পরছে ।সে কারনেই এখানে লেখা । ছোট থেকেই অনেক কষ্টে বড় হয়েছি ।বাবার কষ্টের সংসারে সাহায্য করতে সব সময় আমাদের পানের দোকানে বসে ছিলাম।ক্লাসে আমার উপস্থিতি ছিল হাতে গোনার মত।ছাত্র যে খুব একটা খারাব ছিলাম তাও কিন্তু নয়।অভাবের কারনে এই দশা।শুরু করছি ফরম পুরোনের দিন থেকে।দোকান থেকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় বাবাকে নিয়ে স্কুলে গেলাম ফরম পুরনের জন্য,ফরমপূরন করার আগে গনিত স্যার জনাব সামসুল স্যার আমাকে , আব্বাকে,আমার চাচাকে (যিনি ঐ স্কুলের একজন স্টাপ),যে স্যারের আমি প্রিয় ছাত্র আর আমার ও প্রিয় শিক্ষক (পন্ডিত)তারাপদ স্যার কে , কম্পিউটার রুমে নিয়ে গেল । এখানেই বলেনেই অংকে খুব কাচা ছিলাম ,ক্লাস সেভেনের পর আর কোন পরীক্ষার গনিতে পাস করতে পারি নাই।প্রাইভেট ও পরছিলাম ঐ স্যারের কাছে,পরছি বলতে ভুল হবে শুধু ফাজলাম করেছি।মনে হয় সেই কারনে তিনি আমাকে সবার সামনে দাড় করিয়ে আপমান করলেন বাবা,চাচা রা মাথা নিচু করে শুনে গেলেন,আব্বাকে কোন দিন এরকম নারহ বা হতাশ হতে দেখিনি।এই ভেবে খুব কষ্ট পেলাম,কার ও মূখের দিকে পর্যন্ত তাকাতে পারিনি।স্কুল থেকে বেরহরে সোজা নীলফামারী গিয়ে একটা সামাধান নিয়ে এসে পুরা ৭২ ঘন্টা অংক করা,তারপর পরীক্ষা,মোবাইলে চার্জ নাই তাই আর বারালামনা।যে দিন পরীক্ষার ফলাফল দিবে সে দিন বাড়ী তে মন খারাব করে বসেছিলাম।মোবাইলে রেজাল্ট নিব তাই।ইতোমদ্ধে সবার রেজাল্ট নেয়া হয়েগেছে কিন্তু আমারটা নাই ।বাধ্য হয়ে স্কুলে যেতেই হবে । বাড়ী থেকে ভালোকোন কাপড় পরতে দেয়নি,স্কুলে রেজাল্ট নেয়ার জন্য বড় ভাইয়ের সাইকেলটা চাইলাম কিন্তু দিলোনা । তারা ভাবছিল পাস করতে তো পারবোনা । পাছে সাইকেল বেচে উধাও হবো এই ভেবে।হেটে হেটে স্কুলে গেলাম,সেখানে ও এক ই পরিস্থিতির শিকার হলাম , ইংলিশ টিচার আমায় দেখে মূখ বাকা করে বল্লো তু ই এখানে কেন ? তু ই তো পাস করতে পারবি না । আমি বোবার মতো দাড়ি য়ে থাকলাম ।আবার তিনি এক ই কথা শুনালেন।এবার গনিত স্যার মূখ খুল্লেন ।বল্রেন আমার বিস্বাশ রুপম পাস করেছে ।বলেই তিনি আমার রেজাল্ট সিটা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে র ইলে ন , অনেক্ষন কোন কথা নয় । এই ফাকে আমি বুঝে গেছি আমি পাস করতে পারিনি ! দু চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরড় । তার পর মূহুত্বে স্যার বল্রেন কি রে তুই তো পাস করেছিস। তখন আমি তাকে জরিয়ে ধরে হাউ মাই করে কাদতে থাকলাম ,তখন স্কুলে এক হৃথয়বিদারক দৃশ্ব।রুম থেকে বের হয়ে আসছি পিছন থেকে এক স্যার বল্লো কিরে চাচ্ছিস তোর রেজাল্ট কি হা করে তাকিয়ে র ইলাম । তখন আমার বোকামির জন্য হাসি দিয়ে হাততালি দিল।আসোলে আমার যে রেজাল্ট এত ভালো হবে তা আমিও ভাবতে পারি নি ! যাই হোক ছোট ভাই ও বোনেরা আগামী কাল তোমাদের রেজাল্ট।রেজাল্ট যেই হোক তোমরা তা মাথা পেতে নিবে । মনে রাখবে তোমরা যাই লিখছো এই ফলফলেই তোমাদের প্রাপ।আর ভালো করতে চা ইলে সামনে আর ও অনেক পরীক্ষা আছে , তখন আর ও বেশী করে চেষ্টা করবে। শোক কে এখন থেকেই শক্তিতে রুপান্তরিত করতে শিখ।আর অবিভাবক দের বলছি আপনার সন্তান যে রেজাল্ট করেছে অনেক ভালো করেছে । তাদের কোন প্রকার গালিগালাজ করবেন না ।আর তোমাদের বলছি শোন , আগামী পরশু যেন পেপারে বা টিভিতে না দেখি কেউ খারাব রেজাল্টের জন্য জীবন দিয়েছো । শোন এটটি ফলাফলের যেয়ে , একটি জীবনের মূল্য অনেক অনেক গুন বেশী ।
সকলের জন্য শুভকামনা র ইলো ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



