somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মসিহা এসেছিল - ২

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ নেমে আসে এ কি দূর্যোগ! সারাদেশ জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। মানুষ কি করবে ভেবে পায় না। অফিস-আদালত ইত্যাদির কাজ প্রায় স্থবির। হাসপাতালে চিকিৎসায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। এই দিনের বেলা হয়তো বোঝা যায় না, তবে রাত নামলেই এক ভূতুরে অবস্থার সৃষ্টি হবে বলে সবার আশংকা।

এদিকে একটি মফস্বল এলাকায় দেখা দিয়েছে পানির সংকট। নারী-পুরুষ, ছোট ছোট বাচ্চা সবাই পানির বালতি এবং কলসি নিয়ে এদিক-ওদিক করছে। কোথায় পাওয়া যাবে একটু খাবার জল?

এমনি সময় কে যেন চিৎকার করে উঠে, - মসিহা এসেছে.....মসিহা !!!

সামান্য এক টুকরো কাপড় আর মুখ ভরা জটাধারী দাড়ি নিয়ে মসিহার মুখ শীতের আগমনীতে একটু ফুটিফাটা হয়ে গেছে। অথচ তার বুদ্ধি-দীপ্ত চোখ দুটোর কি তেজ!

দেখতে দেখতে তাকে ঘিরে জটলা পাকায় সবাই। সবার চোখে-মুখে কেমন একটা আশার চিহ্ন। কি বলবেন আজ মসিহা? আজকের এই বিপর্যয়, এই জলের আশায় ইতিউতি ছুটে বেড়ানো, তাদের কি একটু আশার বানী শোনাবেন না? বলবেন না সব সেরে যাবে? কারো কারো মনে হয়, মসিহার পিপাসা তেষ্টা পায়নি তো? একবার ভাবে কলসের সামান্য পানিটুকু তাকে দিয়ে দেবে।

কেউ কেউ ভাবে কয়েকদিনের লাগাতার হরতাল আর সংঘাত নিয়ে কিছু আলোকপাত করলেও করতে পারেন। অথবা বিচারের মাধ্যমে জাতির কলংক-মুক্ত হবার কথা বলবেন তিনি? আচ্ছা, এই বিষয়ে তার মত তো কোনদিন জানা হল না? তিনি কি আদৌ এইসব নিয়ে ভাবেন? শত হোক, তিনি এ দেশেরই লোক।

আবার কেউ কেউ ভাবছে দেশে নাস্তিক মানুষের উত্থান নিয়ে তিনি কিছু বলবেন। তারা কিভাবে একদিন ধ্বংস হবে তাই বলবেন। মসিহা তো ধর্মের এই অবমাননা সহ্য করবেন না!

এমনি ভাবতে ভাবতে এই দুই শ্রেণীর মনে হঠাৎ প্রশ্ন জাগে মসিহা কোন পক্ষের লোক? অবশ্যই দেশের দুটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কোনটা তাকে হতে হবে। সবাই মনে মনে কামনা করতে থাকে মসিহা যেন তাদের দলের হয়। কারণ আমরাই তো সঠিক।

আশ্চর্যের ব্যাপার মসিহা কিছু বলে না, কারো দিকে তাকায় না পর্যন্ত। নিরবে দাঁড়িয়ে থাকে সবাই। চিত্রবৎ স্থির সব। মসিহার পানে চেয়ে আছে সকলে কিছু শুনবে বলে, কিন্তু মসিহা নিরব।

হঠাৎ ভীরের ভিতর একটা দশ-বারো বছরের শিশুকে দেখে তার মাথায় হাত রাখে মসিহা। তার চোখের দিকে তাকিয়ে গুরুগম্ভীর সুরে শুধু বলে, - "সবুর কর!"

তারপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মসিহা তার গমনপথের দিয়ে হেটে হেটে চলে যায়। পিছন থেকে চেয়ে থাকে সবাই। হতাশ!

তবু যেন তার ছায়ার পানে তাকিয়ে তারা এক শীতলতার ছোয়া পায়।
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌতালী রায়ের অজ্ঞতা না ধৃষ্টতা ?"

লিখেছেন আরািফন, ২০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

একজন আইনজীবী হয়েও সে যেভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আলাদা প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দেখিয়েছেন,তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নামে দেশের মানচিত্র খণ্ডিত করার হুমকি কোন নাগরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×