somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রীক শিকারি অ্যাক্টিয়নঃ নারীর সৌন্দর্যই যার জীবনে হয়েছিলো কাল।

২৭ শে মে, ২০১১ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গ্রীক পুরানে বর্ণিত অ্যাক্টিয়ন এর কাহিনীকে হতভাগ্যের নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করলে খুব একটা ভুল হবেনা। অ্যাক্টিয়ন কোন সফল গ্রীক নায়ক , কিংবা মহানায়ক হতে পারেন নি এই ক্ষেত্রে যে তাকে শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল।



অ্যাক্টিয়ন ছিল থিবিস রাজ পরিবারের সদস্য বা বংশধর। অ্যাক্টিয়ন এর বাবা অ্যারিস্টাস এবং মা অটোনী, যিনি ছিলেন ক্যাডমাস এর কন্যা।
থিবিস রাজ পরিবার প্রারম্ভ থেকেই ছিল দুর্ভাগ্য পীড়িত। অ্যাক্টিয়ন এর ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।



থিবিস পরিবারের রাজকুমার অ্যাক্টিয়ন ছিল এক দক্ষ শিকারি। তার শিকার চর্চা শুরু হয় তার গুরু ‘চেরন’ এর হাতে যাকে গ্রীক মিথ এ একজন মহাজ্ঞানী এবং সফল শিক্ষক হিসেবে ধরা যায়। অ্যাক্টিয়ন এর মৃত্যুকে শুধুমাত্র অ্যাক্টিয়ন এর দুর্ভাগ্য বললে ভুল হবে, এটি বস্তুত অ্যাক্টিয়ন এর মা অটোনী এর দুর্ভাগ্যও বটে, কারন তাকে জীবনের অনেক দীর্ঘ সময় সইতে হয়েছিলো পুত্র হারানোর শোক, যেখানে অ্যাক্টিয়নকে মোটামুটি ভাবে নির্দোষ হিসেবেই ধরে নেয়া যায়।

গ্রীক দেবী আর্টেমিস ছিলেন একজন কুমারী যিনি শিকারের প্রধান দেবী। যেহেতু অ্যাক্টিয়ন নিজেও একজন শিকারি সুতরাং তিনি আর্টেমিস এর অনুসারী হবেন এটাই স্বাভাবিক। অ্যাক্টিয়ন আর্টেমিস এর অনুসারী ছিলেনও, কিন্তু এই শিকারই ডেকে এনেছিল তার দুর্ভাগ্য। অ্যাক্টিয়ন শিকার করতেন তার বিশ্বস্ত কুকুরের পাল নিয়ে, যা ছিল অত্যন্ত হিংস্র।



গার্গাফিয়া এর উপত্যকাটি ছিল পাইন গাছ এবং সাইপ্রেস জাতীয় গুল্মে ঘের, যেটি আসলে শিকারি দেবী আর্টেমিস এর পবিত্র বিচরণ ক্ষেত্র। এই উপত্যকার অনেক গভীরে ছিল এক গুহা, যেটি প্রকৃতি নিজ হাতেই সংরক্ষিত করেছিল লোক চক্ষুর আড়াল থেকে। গুহার অভ্যন্তরে কোন এক উৎস থেকে নেমে আসা জলধারা দিয়ে তৈরি হয়েছিলো এক জলাধার , যেটা ছিল আর্টেমিস এর খুব প্রিয়, কারন এখানেই এই কুমারী দেবী শিকার শেষে স্নান নিতেন তার কুমারী ভৃত্যদের সাথে।



অ্যাক্টিয়ন ছিলেন এই স্থানটি সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। কোন একদিন শিকারের নিমিত্তে অ্যাক্টিয়ন প্রবেশ করে এই উপত্যকাটিতে। তৃষ্ণায় অস্থির হয়ে জলের সন্ধানে সে প্রবেশ করে আরও গভীরে, তার কুকুরের পাল ছিল তার সাথে। কিছুদুর অগ্রসর হয়েই তার চোখে পড়ে গুহার প্রবেশমুখ।

আর্টেমিস এবং তার কুমারী ভৃত্যরা তাদের পোশাক ছেড়ে স্নানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় তার নগ্ন ভৃত্যরা গুহার মুখে অ্যাক্টিয়নকে দেখে ফেলে। তারা তারস্বরে চিৎকার করে এবং চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে কুমারী আর্টেমিসকে।



কিন্তু আর্টেমিস ছিলেন অনিন্দ্য সুন্দরী এবং সবার চেয়ে লম্বা। ফলে সহজেই অ্যাক্টিয়ন দেখে ফেলে নগ্ন কুমারী আর্টেমিসকে। হতবিহব্বল অ্যাক্টিয়ন পালাতে ভুলে যায়, অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর্টেমিস এর দিকে। দেবীর সৌন্দর্যের কাছে হার মেনে দাড়িয়ে থাকা যুবকটিকে অবশ্য পালাবার কথা বলবার মতো কেউই ছিল না তার পাশে, তাহলে হয়তো অ্যাক্টিয়ন এর এই পরিনতি হতো না। কিছুক্ষনের জন্য অ্যাক্টিয়ন আর্টেমিস এর সৌন্দর্যে অন্ধ হয়ে যায়। দেবীকে এইরূপে দেখার সৌভাগ্য কয়জনের হয়?



কিন্তু আসলে তা সৌভাগ্য ছিল না। আর্টেমিস কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়াই অ্যাক্টিয়নকে শাস্তি দিতে চাইলেন। তিনি বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে অ্যাক্টিয়ন এর মুখে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন, কারন আর্টেমিস এর ধনুক ছিল তার হাতের নাগালের বাইরে এবং বলে উঠলেন-

“এখন তুমি সবাইকেই বলতে পারো তুমি দেখেছো বিবসনা আর্টেমিসকে , যদি তোমার তা বলার সামর্থ্য থাকে।”



তার ছিটিয়ে দেওয়া জল কাজ করলো অব্যর্থ এক অস্ত্র হিসেবে, জাদুর বলে সেই জল রূপান্তরিত করলো অ্যাক্টিয়নকে মানুষ থেকে একটি পুরুষ হরিণে। এবং তার চিত্ত ও হয়ে গেলো হরিনের মতোই, ভীত, সন্ত্রস্ত। মুহূর্তের মধ্যেই সে পালাতে চাইলো সেই জলাশয় থেকে, কিন্তু অ্যাক্টিয়ন এর বিশ্বস্ত কুকুরের পাল তাকে তাড়া করলো। ভীত হরিন তার সমস্ত শক্তি দিয়েও পিছে ফেলতে পারলো না কুকুরের পালকে। হতভাগ্য শিকারির মৃত্যু তারই বিশ্বস্ত কুকুরের দ্বারা,তারা হত্যা করলো হরিণটিকে এবং ছিন্নভিন্ন করে দিলো তার দেহকে।





কুমারী আর্টেমিস এভাবেই শাস্তি দিলেন অ্যাক্টিয়নকে। এটির জন্য দায়ী আসলে সেই নারী সৌন্দর্য,যার জন্যে অ্যাক্টিয়নকে দিতে হল প্রান। দেবী আর্টেমিস এর ভয়ংকর সৌন্দর্যই ডেকে এনেছিল মৃত্যুকে, হতভাগ্য অ্যাক্টিয়ন এর কাছে।




ছবিঃ ইন্টারনেট
তথ্যঃ ইন্টারনেট


http://'www.mythindex.com/greek-mythology/A/Actaeon.h
http://'www.users.'globalnet.co.uk/'~loxias/diana.htm'
http://'www.paleothea'.com/Myths/Actaeon.ht
http://'www.maicar.com/'GML/'Actaeon.ht
http://'www.online-mythology.com/'diana-actaeon
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×