somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী -১

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ডিঈম ডিঈম বলে জানলার নীচ দিয়া ডিমওয়ালা ডাইকা গেলে , হঠাৎ গতকাইল রাইতের কথা মনে হয় । আমার আর মোন্তাজির দুইজনেরই । যদিও আইজ হোটেল আল-আমিন এ গরু ভুনা দিয়া তন্দুরের বিশাল ভোজ চালাইছি , তাও কাইল যা গ্যাছে তার জইন্য ডিম-দুধ খাইতে হৈব । স্বাভাবিক খাওন-দাওনে ঐটা পুষাইব না । একজন আরেকজনের দিকে চুখে চুখে না তাকিয়েও দুইজনে দুইটা কৈরা ডিম খাই । দামটা মোন্তাজিরই আগ বাড়াইয়া দেয় । অন্য সময় হৈলে আমি দেয়ার জইন্য বাৎচিত করলাম । তয় আইজ মনে হৈল, কতা যত কম উচ্চারণ করা যায় ততই মঙ্গল ।

এই মাদরাছার বিশাল এরিয়া রাইতেও পুরা সজাগ । কুনো না কুনো রুমে কেউ না কেউ জাইগা আছে । কেউ কুরান তিলাওয়াত করতাছে , কেউ উর্দু কিতাব মুখস্ত করতাছে । আর শয়তানডির কেউ কেউ হয়ত মুমবাত্তি জালাইয়া তাস পিটাইতাছে । মোহতারাম ছাব না হৈলেও ছাত্রাবাসের হুজুর মাঝে মইধ্যে রাইত বিরাইতে জানালা দিয়া কান পাইতা শুনেন পুলাপাইন কি করতাছে । পুলাপাইনও চালাক কম না । খেলব এক্কেবারে মুখে তালা মাইরা । ট্যাকার হিসাব, ডাক দেয়া ডাক নেয়া সবই ইশারা ইঙ্গিতে চলে । আওয়াজ নাই বৈলা সাধারণত কুনো কোন্দলও লাগে না । বোবার কুনো শত্রু নাই হাছা কতা ।

চাইরকোণা ছাত্রাবাসের চাইর তলা মিলাইয়া দুইশর মত রুম । মাইঝখানে ঘাসে ঢাকা মাঠ । বাইরের দিকের জানলা দিয়া দীঘিপাড়ের বাজার দেখা যায় । মাইঝরাইত তমাত ঐখানে বেচাকিনা চলে । উপরে সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলোয় মায়াময় মায়াময় লাগে । মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে গিয়া দীঘির পাড়ে বসি । বেলাজ মাইয়ারা পুলাবন্ধুগো লগে রংঢং করে দীঘির পাড়ে বৈসা । ওরা অবশ্য মোটামুটি প্রথম রাইতেই চৈলা যায় । রাইত একটার পরে ডিম, বাদাম, চানাচুরঅলা ছাড়া আর কেউ থাকে না । চাইরপাশে ঘুইরা ঘুইরা ওরা চিল্লায় । ডিঈম ডিঈম, বাআদেম বুট বাআদেম বুট ।

রাইতে বাইরে যাওয়া মোহতারাম ছাবের কড়া মানা । তয় যাওয়া যে যায়ন তা কিন্তু না । দারোয়ানরে ট্যাকাটুকা দেওয়া হয় মাঝে মইধ্যে । গেটের পাশেই ওর খুপরি । ভিতর বাইর দুইদিকেই দরজা আছে। তয় সেইডা ছাড়াও ব্যবস্থা আছে । লোহা দিয়া খুচাইয়া খুচাইয়া জানলার দুইটা শিক আলগা করা আছে । কাকপক্ষিরে টের না পাওয়াইয়া যাইতে চাইলে সেই রুট খুলা হয় । নীচের তলায় ঘর পাওয়াতে এই সুবিধা আমাগো রুমে । মাঝে মাঝে উপরের পুলাপানও এই রুম দিয়া পার হয় । তয় কুনোদিনই আমরা একসাথে অনেকে বাইর হৈ না । বাইরের পাব্লিকের চোখে পড়লে এই কান সেই কান হৈয়া মোহতারাম ছাবের কানে কতা যাইতে কতক্ষণ । শিডিউল ঠিক করা থাকে দিনেই । কাকপক্ষিও না জানলেও দুস্তরা ঠিকই জানে কে কখন বাইরে যাইতাছে । তয় এই ওয়াদা জানের ওয়াদা । জান যাইব তাও কেউ স্বীকার করব না অন্য কেডা বাইরে গেছিল ।

রুম থাইকা মনে হয় বাইরে বাইর হৈলে দীঘির পাড়ে গিয়া হাটতে ভাল্লাগবো অথবা দীঘির ডাইনপাশে ছুট্ট পার্কের বেঞ্চে বৈসা থাকতে ভাল্লাগবো । কিন্তু বাইরে যেদিন বাইর হৈ সেদিন মনে হয় এত বিপদ মাথায় নিয়া বাইর হৈয়া এইসব আবালের মত কাজে সময় নষ্ট করার কুনো মানে অয় না । হয় মোছাদ্দেক ঘাডে গিয়া সিরকেট খাওন, আর না হৈলে মোছাদ্দেক ঘাটেরই একটু পশ্চিমে আধা গেরাম আধা শহরের মত কইল্যানপুর রাস্তার মাথায় গিয়া , এলাকার দুস্ত শফিকের ভিসিআর এর দুকানে বুলু দেখা ।

বুলু দেখার সময় সারা শইল্যে গরম ভাপ জাগে কিন্তু ফিরা আসার সময়ডা সবাই চুপচাপ । মনে মনে হাজারবার আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে পড়তে ফিরা হয় । মোটামুটি প্রতিবারই । যেগুলির সাহস বেশি হেইগুলি কতডি কইল্যানপুর বাজারের মাগির ঘরেও যায় । কিন্তু গোপনীয়তা এক্কেবারে প্রসিডেন্ট লেভেল । মাগি নিজেও চেহারা দেখতে পারে না । কুনো কতাও হয় না । আমার কইলজা এখনো অত বড় হয় নাই । যেগুলি যায় অগো কাছ থাইকা হুনি আর গরম গরম হৈ । লগে লগে এস্তেন্জার কথা বৈলা যাওন যায় না । পুলাপাইন বদমাইশ । হাসাহাসি করে । আর রাইতে গোসল করতে দেখলেতো অবস্থা আরো খারাপ । এই কয়েকমাস প্রায় প্রতিডা ফজরেই ফরজ গোসল না কৈরা খালি ওজু দিয়া নামাজে দাড়াই । পরে দুপুরে গোসল কৈরা পাক পবিত্র হৈয়া জুহরের পর , আর জুম্মার দিনে আল্লার কাছে কান্দি । গুনা মাফ করার জইন্য ।

মাঝে মইধ্যে মনের মইধ্যে সন্দ জাগে । এই যে বয়সের খাই আল্লায় ত ভালাই জানে । আর আমার আট ভাই । আমার উপরেই আরো চাইরডা । সবডি আবিয়াত্যা । আল্লায় ত জানেই বিয়া করাও সম্ভব না আবার জিনা না কৈরাও থাকা সম্ভব না , তাইলে আল্লায় ক্যান বানাইলো এত কঠিন নিয়ম । তাও খালি ঢুকাইলেই জিনা হয় তা না । হাতের জিনা চুখের জিনা কত কিছু । একবার জিনা করলে বিশ বচ্ছরের ইবাদত নষ্ট হৈয়া যায় । জীবনডাই আমার বিশ বচ্ছরের । নষ্টতো হৈয়া গ্যাছে মনে হয় কয়েক লাখ বচ্ছরের । তয় আল্লা গাফুরুর রাহীম । উনার দয়ার কুলকিনারা নাই । পাক দিলে তওবা করলে নিশ্চয়ই বুঝবেন ।

নাকি কুনো অল্পদৃষ্টিওয়ালা আবাল মানুষ বানাইলো এই নিয়ম । বানাইয়া আল্লার নাম দিলো । শইল গরম হৈয়া গ্যালে মনে জাগে এডি বেশি । আবার বাইর হৈয়া গ্যালে আস্তাগফিরুল্লাহ বৈলা বাম পাশে তিনবার ছ্যাপ ফালাই । নবি কৈছে ঐগিলি শয়তানের কুমন্ত্রণা । ঐগিলি মাথায় আইলে এই কাম করতে হয় । বেহেশতের হুরগো কতা মনে কৈরা মনরে বুঝাই । ভালা জিনিস পাইতে হৈলে সবুর করতে হয় । মিন্নত করতে হয় ।

তয় কাইল রাইতে যা হৈল তা এক্কেবারে নতুন । মনের অনুতাপের ধরণটাও ছিল তীব্র আর নতুন । রাইতে চুপেচুপে আবার বাইর হৈয়া দীগির বরফের মত ঠান্ডা পানিতে, এক্কেরে দুরের কুনাটাতে গিয়া গুছল কৈরা আইসা তাহাজ্জুদ নামায পড়লাম বারো রাকাত । নীরবে কানলাম আল্লার কাছে অনেক্ষণ । তওবার দোয়া পড়লাম এক হাজার বার । মনের অনুতাপ একটু কমলেও অহনো চুখে চুখে তাকাইতে পারতাছি না মোনতাজিরের ।

মোনতাজিরের সাথে পরিচয় এই মাদরাছাতে আসার পরেই । বড় ভাই এইখান থাইকা পাশ করছিলেন । এই মাদরাছার উপর আলাদা একটা আকর্ষণ আছে । পরথম দিন দরখাস্ত পূরণ করতে গিয়া মোনতাজিরের কাছে কলম চাইতেই কৈল দোকানে যান আমি কি কলম বেচি নাকি । কিন্তু মুখের ভাব দেইখা বুঝলাম , পুলা আমার মতই মজা কৈরা কথা কৈতে পছন্দ করে ।একখান বোকা হাসি দিয়া ওর হাত থাইকা কলমডা কাইড়া নিয়া কৈলাম এইবার চাইলে কিন্তু আমি একই কতা কমু । সেই থাইকা দুইজনের ভিতর যে মিল হৈল, সেইডা একই রুমের জইন্য দরখাস্ত করার পর থাইকা, একসাথে থাকার এই নয় মাস পর্যন্ত এখনো একটু ও কমে নাই ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৩৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×