somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-২০

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাড়ীতে ফিরার পথে আমি আর খুরশিদ কথা কই কম । খুরশিদ বেশকয়েকবার চায় আলাপ জমাইতে । কিন্তু জমে না । নিজের মইধ্যে অনুশোচনা হতাশা এইসব মিলা শেষপইর্যন্ত রাগ আসে । রাগ এই দুইন্যাদারির উপর । রাগ লুকজনের উপর । জীবনে এই ধরণের কাম করমু সেইটা কখনো ভাবতে পারি নাই । রাগ হয় শেষ পইর্যন্ত রাশেদাআপার উপর । গত কয়েকটা সপ্তাহ উনার অবহেলায় একেকবার আমার বিরক্তি এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠে ইচ্ছা হয় উনার সাথে আরো কুনোদিন কুনো আলাপ করমু না । ফুন করলে ধরমু না । খবর পাঠাইলে যামু না । কিন্তু ধৈরা রাখতে পারি নাই । এখন আর এইটাতে তো কাম হৈব না । ঠিক করি রাশেদাআপারে খুইলা বলব কাইলকা রাইতের ঘটনা । গায়ে লাগে কিনা দেখি ।

বাড়ীতে গিয়া দেখি ঐখানে লাইগা আছে আরেক ভেজাল । খোদেজার শ্বশুরবাড়ী থাইকা লুক আসছে । খোদেজা উল্টাপাল্টা আচরণ শুরু করছে । জামাইর দিকে হান্ডি-পাতিল ছুইড়া মারে । লুকজনের সাথে আবোলতাবোল কথা কৈতাছে । বুকের মইধ্যের মোচড় মাইরা উঠে আমার । তাইলে কি এই পাগলামি বংশগত নাকি । আব্বার এক জ্যাঠারে নাকি শেষ বয়সে এই রুগে ধরছিল বৈলা শুনছিলাম । সেই সিলসিলা কি আবার শুরু হৈল ? তাইলেওতো আব্বারটা নাহয় ঠিকাছে । কিন্তু খোদেজা অল্প বয়স্কা পিচ্চি মাইয়া । এই বয়স থাইকাই যদি শুরু হয় তাইলেতো কপালে শনি আছে । তাড়াতাড়ি ওরে শ্বশুর বাড়ী থাইকে আমগো বাড়ীতে আইনা চিকিৎসা শুরু করি । মোটামুটি একই রকম চিকিৎসা । কিন্তু খোদেজা বেশ তাড়াতাড়িই স্বাভাবিক হৈয়া আসে । ডাকতর কয় হিস্টিরি নাকি কি জানি হৈছিল । এই বয়সের মাইয়াগো নাকি এইটা স্বাভাবিক ব্যাপার । তয় গেরামের মাইনষে সবাই কৈতাছিল জ্বিনের আছর । আমি কানে তুলি নাই । জ্বিনের খাইয়া দাইয়া অনেক কাম আছে জুয়ান মাইয়াগো ডিস্টাব করা ছাড়াও ।

ভেজালে ভেজালে রাশেদাআপার সাথে ঠিকমত কথা কওনের সুযোগ পাইলাম দশ/বার দিন পর । তারে খুইলা কৈলাম ঢাকার ঘটনার কথা । উনার উপরে রাগ কৈরাই এই কাম করছি বৈলা চালাইয়া দিলাম । রাশেদাআপা যতটা অবাক হৈব মনে করছিলাম ততটা অবাক হৈলেন না । ঝাড়ি টাড়ি হালকা দিলেন অবশ্য । কিন্তু ক্যান জানি মনে হৈল ঝাড়িতে ততটা জোর নাই । অধিকার নাই । আমি চাইছিলাম তার প্রতিক্রিয়া তীব্র হোক । ভয়ংকর রাগ করুন । অধিকার নিয়া কথা কউক । কিন্তু তার কিছুই হৈল না । বরং উনার প্রতিক্রিয়া অনেক ঠান্ডা । মিজাজ আরো গরম হৈয়া যায় আমার । আমি আরো ডেসপারেট হৈয়া যাই । বলি আমি আরো এইরকম করতাম চাই । আবার সেই একই ধরণের প্রতিক্রিয়া পাই । হালকা ভাবে মানা করা । সিনেমার ডায়ালগের মত শুনাইতে থাকে আমার শেষের কথাগুলা । উত্তর ঠিকই দেন কিন্তু একটু উত্তাপে ঘাটতি থাইকা যায় । টের পাই । মেজাজ গরম করে ফুন করা বন্ধ কৈরা দিই ।

শিরিন ভাবীর সাথে ফুনে আজাইরা আলাপ চালাই দুয়েকদিন । কিন্তু ঐদিকে আমার সাহস করে না । খালেদার মত আরেকটা বেঁকা হাসি সহ্য করনের ক্ষমতা এখনো হয় নাই । ঐ হাসি এখনো আমারে দুঃস্বপ্নের মত তাড়া কৈরা ফিরতাছে । যদিও ঢাকায় মনে হৈছে আমি ভালই ঠিকঠাক হৈয়া যাইতাছি কিন্তু ঐটারে বিশ্বাস করনের মত যথেষ্ঠ কারন নাই । ট্যাকা দিয়া কিনা জিনিস খাঁটি হওনের সম্ভাবনা থাকে বেশি । কিন্তু ভালোবাসা ট্যাকা দিয়া কিনাটা হয় উল্টা । মুখোশ পরাইন্যা । অভিনয় । দোকানদার হিসাবে এই জিনিস আমার হাঁড়ে হাঁড়ে জানা । আমিতো বেচাকিনার জগতেরই লুক ।

এমন এক বিরক্তিকর দিনে ক্যামনে ক্যামনে যেন কয়েক হাত ঘুইরা একটা মহিলার নাম্বার পাই । ফুনের বিভিন্ন নাম্বার আদান প্রদানের একটা বন্ধু মহল গৈড়া উঠছে আমার এরই মইধ্যে । বিভিন্ন ক্যাটাগরির মইধ্যে থাইকা ফাউল মাইয়াদের নাম্বারগুলা হাতবদল হয় বেশি । এইহাত সেইহাত হৈয়া নাম্বারডা আমার হাতে আইলো । ফুন ধইরা হ্যালো বললে আমি কৈলাম আফনে কে । আপনার কারে দরকার ? কৈলাম দরকার তো আফনারেই । মিয়া, ফাইযলামি করার আর জায়গা পান না, নাম্বার পাইছেন কৈ ? কৈলাম ফাইযলামি করার আসলেই জায়গা নাই দেইখাই ফুন করলাম । ঐপাশ থাইকা খিলখিল হাসির শব্দ শুনি । বুঝলাম সম্ভাবনা আছে ।

মিলির সাথে কথা আমার দিনদিন বাড়তে থাকে । অবশ্য নামডা নিয়া সন্দেহ আমার এখনো কাটে নাই । এরই মধ্যে তার হাজবেন্ড নিয়া তিন ধরনের কথা শুনা হৈয়া গ্যাছে । একবার কয় হাজব্যান্ড অন্য এক জায়গায় বিয়া করছে , তাগো নিয়া থাকে চিটাগাং । আরেকদিন কৈল হাজবেন্ড কুয়েতে থাকে । আবার আরেকদিন কয় হাজবেন্ড ঢাকায় চাকরি করে , মাসে দুই তিনবার আসে । জাহান্নামে যাক হাজবেন্ড । আমি বুঝি নিশ্চয়ই কুনো গোলমাল আছে । সেইটা নিয়া সন্দেহ নাই । সিনেমার ডাইলগ মারতে থাকি সমানে । নিজের জীবনে ইতিহাস খুইলা কই । সেন্সর কৈরা অবশ্য । মিলির জীবনের ইতিহাস শুনি । কিন্তু বিশ্বাস করতে ভরসা পাই না । হয়ত ঐ পক্ষও আমার কথা পুরাপুরি বিশ্বাস করে না । ঐটা নিয়া তেমন চিন্তা নাই আমার । কথা বিশ্বাস করানো উদ্দেশ্য না আমার । উদ্দেশ্য অন্য জায়গায় ।

রাশেদাআপারে ফুনে বলি আমার নতুন পীরিতের কথা । একটু হিট দিতাম চাই । কিন্তু কেমন জানি মনে হয় হিট লাগতাছে না । আমি আরও মিলির সাথে জড়াইয়া যাই । একদিন দেখা করার প্রস্তাব দিই । মিলি কয় না সম্ভব না কুনোমতেই । আমি বুঝি খুব সম্ভব । ওর কথার মইধ্যে থাইকা আসল উদ্দেশ্য বাইর করা নেয়াটা শিইখ্যা গেছে এর মইধ্যে । ওর বাড়ী বাতিসা । তাই ঠিক করি চৌদ্দগ্রামে দেখা করমু । কোলে একটা বাচ্চা নিয়া মিলি আসে । পালকিতে একটা সিনেমাও দেখি দুইজনে । ওর বাড়ী যাইতে চাই আমি সেইদিনই । কিন্তু মিলি মানা করে । বাড়ীতে শ্বাশুড়ী নাই , জা আছে একজন । তার কাছে বৈলা আসছে পিচ্চিরে নিয়া ডাকতর দেখাইতে যাইতাছে । ঠিক করি অন্য একদিন যামু । মিলির এক মামা থাকেন ছৌদিতে । চালানের জিনিস দিতে আইছি বৈলা যামু ।

ফেনীতে এক দামি কসমেটিকের দোকান থাইকা বিদেশি শ্যাম্পু আর সুনো কিনা সেইগুলারে প্যাকেট কৈরা একদিন মিলির বাড়ীতে চৈলা যাই । ফুনে কথা বৈলাই যাই । মিলির জা আসে দেখা করতে । আমি চৈলা যাই বলি উনার সামনেই । মিলি কয় না, যাওন চলবো না , দুপুরে খাইয়া যাইবেন । আমি বুঝি ঘটনা কি । না যাইতেই হৈব কৈতে কৈতে আমি থাইকা যাই । ঘরের পিছন দিকে রান্নাঘরে চৈলা যায় মিলি রান্না করতে । একটু পরে উইঠা আমিও যাই । বাড়ীতে ফিরি বিকালে । একটু খুশি একটু অনুতাপ নিয়া । নিজের মর্দামির উপর একটু একটু কৈরা বিশ্বাস ফিরা আসতাছে দেইখা একটু খুশি । দোযখের ডরে একটু অনুতাপ ।

মাইঝা ভাই ফুন কৈরা খবর দেন তিনি আর সাইঝা ভাই দুইজনেই একসাথে দেশে ফিরতাছেন সামনের মাসের পরের মাসে । আম্মা গোঁ ধরেন পরপর দুই সপ্তাহে দুইজনেরই বিয়া দিতে হৈব । আমি মনে মনে একটু খুশিই । তবু খরচ নিয়া চিন্তা লাইগা যায় । দুইজনেই ফুন কৈরা ট্যাকার ব্যাপারে আশ্বাস দিলে শুরু হৈয়া যায় বউ খোঁজা ।

দুই ভাইয়ের বিয়ার সময় লোকসমাগম দেইখা মনে হয় আব্বার পাগলামি আবার উইঠা যায় । এইবার অবশ্য বেশি উল্টাপাল্টা করনের আগেই , ইনজেকশন দিয়া উনারে শান্ত বানানো হয় । বিয়ার কয়েকদিন পরে তাবলীগে চৈলা যান আব্বা । ফিরা আসেন আকাম কৈরা । ফেনীতেই এক তাবলীগের মজলিস থাইকা দরবেশরে যৌতুকবিহীন কম দেনমোহরের বিয়া পড়াইয়া বৌ নিয়া আসেন । একটু হাউকাউয়ের পরে আম্মা মাইনা নেন । তয় দরবেশের বৌ আমগো ঘরে থাকেনা । তার বাপ ফেনীর আড়ৎদার । ভাই নাই । দুই বইন তারা । বাপের বাড়ীতেই থাকবো মাইয়া ।

মিলির বাড়ীতে আরো দুইবার যাই । প্রতিবার আইসা রাশেদাআপারে খুইলা বলি ঘটনা । তার মইধ্যে একটু রাগের উৎপত্তি দেখতে চাই । দেখা হয় না । দিনদিন আরো ঠান্ডা হৈতে থাকেন, আরো গুটাইয়া নিতে চান । ফুনে কথা কিন্তু তেমন কমে না । একদিন ফুন কৈরা মিলি আমারে আর ফুন কর‌তে মানা কৈরা দিলে এবং কয়েকদিন পরে ফুন বন্ধ কৈরা দিলে রাশেদাআপার সাথে ফুনে কথা আবার বাইড়া যায় আমার । সিনেমার ডাইলগ বাইড়া যায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:১৫
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×