somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীবাদ নিয়া কয়েক পাতা - ১

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারীবাদের আন্দোলন ব্যাপকতার দিক থাইকা ঝিমাইয়া পড়ছে । বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক সমস্যা এইগুলার চাপে নারীবাদ নিয়া উচ্চকিত হৈলে , যুগের হাওয়া ধরতে না পারার কারণে লোকের বাঁকা চোখের সামনে পড়তে হয় বৈলা সম্ভবত । ষাইটের দশকের সেই দিনগুলা এখন অনেকটা স্বপ্নের মত হৈয়া পড়ছে।

অনেক মতবাদের মতই নারীবাদের প্রথম ধাপেই বিরোধীরা যেই জিনিস নিয়া জল ঘোলা করে সেইটা হৈল এর সংজ্ঞা ও পরিসীমা নিয়া । যদিও যারা সিরিয়াসলি চিন্তা করেন এইসব নিয়া তাদের কাছে সংজ্ঞাটা ক্লিয়ার, কিন্তু কুসংস্কারে তুষ্ট বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়াশীলতা শুরু হয় সংজ্ঞাকে আক্রমণের মধ্য দিয়াই ।

"বর্তমান সমাজ এবং মূল্যবোধ কাঠামোতে, মানুষ হিসাবে নারীর যেইসব অধিকার এবং সুবিধা পাওয়ার কথা সেইগুলা ঠিকমত দেয়া হৈতাছে না । এর বিপরীতে তার উপর যেইসব দায়িত্ব পড়ার কথা তার চাইতে বেশি পরিমাণ দায়িত্ব তার উপর চাপাইয়া দেয়া হৈছে, বিনা সুবিধায় । অতএব এই ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার , এবং দায়িত্ব ও অধিকারের সীমা পুনঃনির্ধারণ করা দরকার" । সোজা কথায় নারীবাদের সংজ্ঞা হৈল এই । এইখানে একটা শব্দ হাইলাইট করা দরকার সেইটা হৈল *মানুষ* হিসাবে ।
এখনকার পরিস্থিতিতে মানুষের অধিকারের সীমা নিয়া তাত্তিক পূর্ণতায় মোটামুটি আসা গেছে বলা যায় । এইজন্যই মানুষের জন্য যেই অধিকার বরাদ্দ বা যেই মাপকাঠিতে বরাদ্দ সেইটা নারীর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করার কথা আসে । অথবা অধিকারের সীমা নিয়া পূর্ণতা না আসলেও, এখন যেই সীমা আছে, সেই সীমার মধ্যেই নারী পুরুষ দুইদলকেই যদি বৈষম্যবিবর্জিতভাবে বিচার করা হয়, তাইলেও , বর্তমান কাঠামোতে নারীর উপর সুবিচার করা হৈতাছে না , এইটা নিশ্চিত ।

যেকোন সংস্কার বা নতুন মতবাদের তিনটা মৌলিক ধারা থাকতে হয় ।

১ . বর্তমান ব্যবস্থার সমস্যা কোথায় ।
২ . এই সমস্যার উৎপত্তির কারণগুলার বিশ্লেষণ এবং সমাধানের জন্য করনীয় কি ।
৩ . সমস্যা সমাধানের পর টোটাল সিস্টেমের অবস্থা কি রকম হবে তার মডেল প্রস্তাবনা ।

এই ধারা তিনটা বিস্তৃতি অতিব ব্যাপক । সামাজিক, অর্থনৈতিক থাইকা শুরু কৈরা প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণাতেও নতুন তত্ত, মতবাদ, পেটেন্টের এই তিনটা মৌলিক ধারা ।

বর্তমানের সমাজ এবং মূল্যবোধ ব্যবস্থায় নারীর সমস্যার ক্ষেত্র বলতে গেলে অসীম পরিমাণ । এই দিকটি সাধারণত নারীবাদের বিরোধী কট্রর মুল্লারা পর্যন্ত স্বীকার কৈরা নেয় । সামগ্রিক অপরাধের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নারীর বিপরীতে ঘটে । মূলত নারী এইটার প্রতিরোধ করতে পারবে না এই দৃষ্টিভঙি থাইকা । জোরপূর্বক যৌনদাসত্বের স্বীকার পুরুষরাও যে হয় না সেইটা বলা যাবে না, কিন্তু এইজাতীর মোট অপরাধের পার্সেন্টেজ বিবেচনায় নারীর উপর সংঘটিত অংশ, পুরুষের উপর সংঘটিত অংশের কয়েক ডিজিট বেশি হৈব । শ্রম ব্যবস্থায় বৈষম্য, সামজিক সুবিধায় বৈষম্য, মৌলিক ব্যক্তিঅধিকার স্বীকার কৈরা না নেয়া এইজাতীয় উদাহরণ দেয়া যায় হাজার হাজার ।

এইধরণের নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ এবং বৈষম্যের সাথে সাথে আরেকটি যন্ত্রণা হৈল তার উপর অবাঞ্চিৎ কিংবা অবৈতনিক , আলগা দায়িত্ব চাপানো । বাইরে শ্রম বিক্রি করুক বা না করুক , ঘরের সমস্ত কাজও তার করতে হৈব, পুরুষের উদ্ভট আবদার মানতে হৈব, ভারসাম্য রক্ষা করতে হৈব এইজাতীয় হাবিজাবি দায়িত্ব অনেক আগে থাইকাই তার উপর চাপানো । যথাযথ সুবিধার বিনিময়ে এইগুলা পালন করতে সাধারণত আপত্তি থাকার কথা না । কিন্তু তার উপর এইগুলা চাপানো হৈতাছে তার বায়োলজির উপর ভিত্তি কৈরা, সুযোগ-বিনিময়ের উপর ভিত্তি কৈরা না । যন্ত্রণাটা এইখানে ।

এইখান পর্যন্ত নারীবাদী এবং মোটামুটি বুঝদার নারীবাদ-বিরোধির সাথে সংঘর্ষ তেমনেকটা নাই । সংঘর্ষের শুরু এর পর থাইকা । নারীর উপর বৈষম্যের মূল কোথায়, সেইটা কিভাবে দূর করতে হৈব এইটা নিয়া । এইখানে বিরোধিদের সাথে যেমন ঝামেলা তেমনি নিজেদের মধ্যেও বিভক্তি । এই পয়েন্টে আইসা নারীবাদীরা মোটা দাগে দুইটা অংশে ভাগ হৈয়া যায় ।

ক . মেরামতবাদী বা কাঠামোবদ্ধ নারীবাদী
খ . আমূল নারীবাদী

মেরামতবাদী নারীবাদের মূল কথা হৈল : চলমান সিস্টেমের থিওরী ঠিকাছে, সমস্যা হৈল তার যথাযথ প্রয়োগে । এই বড় গ্রুপের আওতায় বুরখা , টুপি পড়া ইসলামি নারীবাদি যেমন পড়ে তেমনি শান্তিপ্রিয় পলায়নপ্রিয় মধ্যপন্থী, নারীবাদরে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না করা নাস্তিকও পড়ে । কোরান, বাইবেল, মনুসংহিতা ঘাইটা ঘাইটা জীবন কাবজাব কৈরা দেয়া মেরামতবাদীরা কৈতে চায়, পুস্তকের লেখা ঠিকাছে মাগার মানুষ সেই পুস্তকের কথামত চলতাছেনা, এই জন্যই সমস্যা । পুস্তকে কুনো ভুল নাই । এদেরকরে এক অর্থ ক্লীব বা মাউরা নারীবাদীও বলা যায় । কাঠামোর প্রতি এদের অপরিসীম প্রেম এবং পরিবর্তনের প্রতি ব্যাপক আলস্য মূলত এদের চালিকাশক্তি ।

এদের মাউরা বলার কারণ হৈল পাহাড়প্রতিম প্র্যাকটিকাল উপাত্তের বিপরীতেও পশ্চাৎদেশ দিয়া পাহাড় ঠেলার অর্থ একটাই হৈতে পারে, যেই সিস্টেমে তার অভ্যস্ত সেইটা একশভাগ ঠিকাছে এইটা নিয়া তারা অলরেডি নিশ্চিত । প্র্যাকটিকাল উপাত্ত নগণ্য পরিমান হৈলে সেইখানে এইধরণের এপ্রোচরে তত্তের প্রতি ভালোবাসা দিয়া চালাইয়া দেয়া যায় , যেইটা অনেক বড় চিন্তাবিদ বা বিজ্ঞানিরাও কইরা থাকেন মাঝে মধ্যে । আইনিসটাইনও করছিলেন ।

ইউরোপ আম্রিকা জুইড়া পাব্লিক বাইবেল আর জীবনরে আলাদা কৈরা দেয়ার পরই সেইখানে নারীর মুক্তি , পুরাপুরি না হৈলেও, আসছে । বাইবেল খুইজা খুইজা নারী অধিকারের সাপোর্ট বাইর করতে গেলে আরো পাঁচশ বচ্ছরেও পশ্চিমা নারী আজকের অবস্থানে পৌঁছাইতে পারত না । মুসলিমগো মাঝে এখন এই ধারার মাউরা নারীবাদীরা বেশ একটিভ । একদিক দিয়া এদের একটা ভালো গুন স্বীকার না করলেই নয় যে এরা অন্তত নারীর অবস্থার উন্নতি চায় । কিন্তু কোরান ঘাঁইটা বাইর করতে গিয়াই যত সমস্যা । যেখানে জিনিস নাই সেইখানে যত বড় বিশেষজ্ঞ সন্ধানকারীই যাক না কেন লাভ নাই ।

প্র্যাকটিকাল ডেটা থাইকা এইটা ক্লিয়ার , যেইদেশ যত বেশি ইসলামের পথে , সেইদেশে নারীর উপর নির্যাতন তত বেশী । পাকিস্তানে শতকরা ৮০ ভাগ মহিলাই পুরুষ সঙ্গী/স্বামীর হাতে নিয়মিত মাইর খায় । ছৌদি বা ইরানের কথা বলাই বাহুল্য । এই দেশগুলাই সবচে কাছাকাছি আছে ইসলামিক সমাজ-ব্যবস্থার । অবশ্য তাগো এছলাম 'সত্যিকারের ' এছলাম না । কোনটা যে সত্যিকারের সেইটা খোদ আল্লাও জানে কিনা সন্দেহ আছে ।

আমূল নারীবাদীদের আক্রমণ টোটাল নর-নারী ডাইনামিকসের ভিত্তিগুলারেই । যেই ভিত্তিগুলা দাঁড়াইয়া আছে কিছু রেটোরিকের উপর । বলা বাহুল্য সেইসব রেটোরিকের জন্ম কোন যৌক্তিক প্রক্রিয়া বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা কিংবা নিরপেক্ষ বিচারের ফলাফল থাইকা না । ওভারঅল গোটা বিশ্বে এখনো নর-নারী সম্পর্ক সংক্রান্ত মূল্যবোধগুলার প্রধান অংশটা আসে ধর্মগুলা থাইকা । এইকারণে আমূল নারীবাদীদের আক্রমণে সাধারণত প্রথমেই আসে ধর্মের কথা । তবে এইটা ছাড়াও বিভিন্ন লোকায়ত কুসংস্কার, কিছু আউলা দার্শনিকের রেক্টামজাত ফর্মুলার প্রভাবও কম না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪৬
৩৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×