somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণতন্ত্রের চেহারা, মানবতার বীভৎস রূপ

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের সমাজের বড়ই করুণ অবস্থা। সব অদ্ভুত অদ্ভুত নিয়ম আমরা নিজ হাতে তৈরি করছি এবং অন্যকে পিষে মারছি। যাদের হাতে নিয়মের তৈরি তারাই আবার এসবের কোনো তোয়াক্কা করে না। আমাদের নেত্রিত্ব দানকারীদের ওপর কখনও ঝায়-ঝামেলা, বিপদ-আপদ আসে না। যতো ধরণের বিপদ আপদ সব গরীব, অসহায়, নিঃস্বদের ওপর এসে পড়ে। আজ অবদি কেউ দেখাতে পারবে কখনো উঁচু তলার সাহেবের কোনো ক্ষতি হয়েছে। অথচ তাদের কারণে কী পরিমান খেটে খাওয়া মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে আমার সাধ্য নেই তার হিসেব কষি।

দেশ বিদেশ থেকে অসহায়দের জন্য প্রচুর অর্থ সহায়তা আসে। জানিনা আমাদের গরীব পরিবারের হাতে তার কতো অংশ পৌঁছায়। উন্নতির মহাসড়কে আমাদের দেশ ভেসে যাচ্ছে, এসব আমাদের মতো নিম্ন পরিবারগুলো জানতে চায় না, দেখতেও চায় না। তারা চায় দু’মুঠো খেয়ে-পরে যেন বাঁচতে পারি। এতো এতো সম্পাদের মালিকও তারা হতে চায় না। অনেক কথাই বলতে মন চাই কিন্তু বলতে পারি না। আমাদের মুখে তালা এঁটে দেয়া হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে অনেকেই ইশতেহারে বলছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। এখন পুরোপুরি দেশে গণতন্ত্র পতিষ্ঠিত তাই মুখ খুলে কোনো কথা বলতে পারি না। সাধারণ একটা পত্রিকায় কাজ করি। সত্য কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা সব পত্রিকার কর্মকর্তারা বলে কিন্তু কয়জন সেটা পারে কে জানে। আজকাল মানুষেরা সাংবাদিকদের ওপর খুব চটে আছে। হাতে কিছু বলতে না পারলেও মুখে কেউ ছাড়ে না আমাদের। কিছু বলতে গেলে মনেও জোড় পাই না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জেল-জুলুম হলে কেউ মিটিং মিছিল করবে না। জেলেই পঁচে মরতে হবে। কেউ জানবেও না একজন গরীবের বন্ধু এই করুণ অবস্থা। আমার মতো অনেকেই এ কারণে মুখ খুলেন না। কারণ তাদের কিছু হলে কাউকে পাশে যাবে না। আর পেলেও হবেটা কী? যে মুখ খুলবে তার পক্ষে তার পরিনামও একই রকম হবে।

আমরা বরবর যুগের কথা বলি কিন্তু আমরা কি তার চেয়েও বেশি বরবর না? আমি অবসর পেলেই ঢাকার অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়, বস্তিগুলোতে যাই। দেখি আমার মতো গরীব, অসহায়দের অবস্থা। কতো কঠিন ও করুণ জীবন যাপন করছে তারা। কতোবার এসব অসহায় মানুষের চোখে পানি দেখে আমি মুষড়ে পড়েছি তা নিজেও জানিনা। যে কোনো দিন তাদের অবস্থা দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি কারও না কারও চোখে জল আমার হৃদয়ে কঠিন আঘাত করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার মতো একজন মানুষও নেই। আমি যেয়ে তাদের সঙ্গে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলার সময়ও অনেকের চোখে পানি গড়াতে দেখেছি। অনেকেই কেঁদেছে একজন সাংবাদিক এই প্রথম তাদের দেখতে যাওয়ার গেল। অবার অনেকে কথাই বলতে চায় না। হয়ত এটা তাদের মনের কষ্টের কারণ...।

আমি এসব গরীবদের বলি যে, আমি আপনাদের মতোই একজন গরীব ঘরের সন্তান। শুধু পোশাকের ভিন্নতা ছাড়া আর কোনো ভিন্নতা নেই আমাদের। যখন কোনো বস্তি থেকে ফিরেছি, অনেক কেঁদেছি। কতো মলিন, শীর্ণ শরীর বিশিষ্ট্য মহিলারা আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে, তাদের কাপড়ের ময়লা আমার পোশাক নষ্ট করে ফেলেছে কিন্তু কখনও খারাপ লাগেনি। আরো গর্ববোধ হয় এতে আমার।

অনেকে ভাবছেন একটু ভাল কাজ করে কেন ঢোল পিটিয়ে বেড়াচ্ছি? হ্যাঁ ঢোল পিটিয়ে বেড়াচ্ছি। কারণ আমি তাদের কাছে গিয়ে যতোটুুকু বুঝেছি এভাবে তাদের কাছে কেউ কখনও যায় না। প্রিয় পাঠক, আমার ভাই! তুমিও সুযোগ হলে একবার যেও তাদের খোঁজ নিতে। দেখো তোমার সঙ্গে তারা কেমন ব্যবহার করে। তোমার দিল যদি শক্তও হয় চোখে পানি চলে আসবে। আমার চোখে কখনও পানি আসে না। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ফিরে আসার সময় আমি চোখের পানি লুকোতে পারি না।

মানবতা কাকে বলে? কিসের নাম মানবতা? সারাদেশে আজ জুলুম, অত্যাচার, অনাচারে ভরে গেছে। সমসাময়িক কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করলে তা স্পষ্ট বুঝে আসবে। কিন্তু এখন আর এসব আলোচনা না করলেও হয়। যথেষ্ঠ হয়েছে। দেশের দিকে চোখ তুলে তাকালে যদি নূন্যতম আকল কারও থাকে তার স্পষ্ট বুঝে আসবে। আমরা কোন দেশে বাস করছি। সোনার বাংলার মলিন চেহারা খুব কাঁদায় আমাকে। আমার মতো হাজারও মানুষকে, যারা ভালবাসে জীর্ণ শীর্ণ মলিন এই বাংলাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×