somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টার্বুলেন্স - শেষ পর্ব

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্ব Click This Link
২য় পর্ব
Click This Link
৩য় পর্ব
Click This Link

(৪)
পাশ করে বের হবার পর এই লম্বা সময়টা আমার প্রফেসরের সাথে আমার বন্ধু্ত্ব অনেক গভীর হয়েছে। উনি সবসময় আমকে উনার পরিবারের একজন বলে পরিচয় দেন।তবে কেন জানি কখনও পুরানো ইউনিভার্সিটিতে একবারের জন্যেও ফেরা হয়নি। আসলে কাজ না থাকলে এখন কোথাও যাওয়া হয়না। আর শহরটা বেড়ানোর মত জায়গা না।

তবে অনেকদিন পরে এই মার্চে যে্তে হল। ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারা আমাকে চাইছেন।না না করেও গেলাম। এক যুগেরও বেশী সময় পরে ফেরা। সবকিছু অনেক বদলে গেছে। অবাক হয়ে দেখালাম আমি আর মুগ্ধ হচ্ছি না। এই দীর্ঘ সময়ে আমি অনেক ক্যাম্পাস দেখেছি। এই ক্যাম্পাসটা অন্য কোনটা থেকে খুব ভিন্ন মনে হচ্ছে না।

প্রায় দেড়দিন ধরে বিভিন্ন জনের সাথে অনেক কথা বলতে হল। শেষ দিন রাত্রে ডিনারে গেলাম, আমি, আমার প্রফেসর আর ডঃ কুমার। ডঃ কুমারের সাথে কোন যোগাযোগ রাখা হয়নি, বছর আট আগে একটা কনফারেন্সে আল্প সময়ের জন্য একবার দেখা হয়েছিল। মনে হল কেমন যেন বুড়িয়ে গেছেন। আমার প্রফেসর জিজ্ঞসা করলেন,
-ডিনারে কোথায় যেতে চাও?
-মিঃ জিমস কি এখনও চালু আছে? আমি জানতে চাইলাম।
-আছে।তবে নাম বদল হয়েছে। নতুন নামে জেরি’স গ্রিল। তবে কোয়ালিটি খারাপ হয়ে গেছে। তাছাড়া তোমাকে ভাল কোথায় নিয়ে যেতে চাই।
আমি বললাম না আমি ওখানেই যেতে চাই। ভাল খারাপ ব্যাপার না।
জেরি’স গ্রিল দেখে অবশ্য মনটা খারাপ হয়ে গেল। আগে একটা শান্ত চুপচাপ রেস্টুরেন্ট ছিল। এখন হইহই ব্যাপার। মুলত হাই স্কুলের ছেলেমেয়দের আনাগোনা। শুক্রবার তাই গমগম করছে। বুঝলাম উনারা কেন আসতে চাঈছিলেন না। আমরা রেস্টুরেন্টের চাতালের কোনার দিকের একটা টেবিলে বসলাম। এক যুগ পরে সব কিছুই যেন আচেনা।

ডঃ কুমার আমাকে বোঝাতে লাগলেন কেন আমার দায়িত্বটা নেওয়া উচিত। আমি অনেক্ষন উনার কথা শুনার পর আস্তে আস্তে জানতে চাইলাম
-প্রফেসর কুমার তোমাকে আমার একাটা প্রশ্ন করার ছিল।প্রশ্নটা আমার অনেকদিনের।
উনি বিস্মিত হয়ে বললেন,
-কি প্রশ্ন, এতদিন তবে যানতে চাওনি কেন?
-তুমি কি মনে করতে পার তোমার সাথে অনেকদিন আগে একটা কোর্স নিয়েছিলাম।টার্বুলেন্স।সেটা ছিল আমার প্রথম সেমিস্টার। আমি কিছুই পারছিলাম না। সবকয়টা পরীক্ষায় ফেল করেছিলাম। তোমার কি মনে হয়নি বাংলাদেশ থেকে একটা গাধা এসেছে। তুমি শিওর তোমরা আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে চাও-আমি সোজা কন্ঠে যানতে চাইলাম।

ডঃ কুমার আরো বিস্মিত হলেন।
-তুমি গাধা হবে কেন। আমার ঠিক মনে আছে ওই কোর্সে আমি তোমাকেই শুধু এ দিয়েছিলাম। যতদুর মনে পড়ে তোমার ম্যাথ নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল, কিন্তু মূল বিষয়টি তোমার থেকে আর কেউ ভালো বুঝতে পারেনি।
এবার আমার বিষম খাওয়ার পালা। আমি চরম বিস্ময়ে বললাম
-তুমি বল কি। শুধু আমাকেই এ দিয়েছিলে।
উনি আরো বলে গেলেন
-তোমার ভোর্টেক্স স্ট্রেচিং নিয়ে ফাইনাল প্রজেক্টটা ভয়ানক ভাল হয়েছিল। আমি তো তখনই সাব কে বলেছিলাম, এ ছেলে একদিন নিশ্চয় তোমাকে ছাড়িয়ে যাবে।
আমি অপার আশ্চর্যে ডঃ কুমারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আবশ্য এটা নিশ্চিত যে আমি কখনই প্রফেসর সাব গলের মত বিশাল মানুশ কে ছাড়িয়ে যেতে পারবনা ।
কেন যান সবকিছু খুব ভালো লাগতে লাগল। মনে হল আমার ফেলে আসা লাইব্রেরিটাতে যদি গিয়ে বসতে পারতাম।

পরিশেষঃ
সকালে হোটেলে যখন ঘুম ভাঙল তখন দেখি ৭টাও বাজেনি। দেখি এরই নধ্যে ডঃ গল ধন্যবাদ জানিয়ে ইমেইল পাঠিয়েছেন। উনি আমার ফেরার আগে দেখা করতে পারবেন না জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। উনাকে এখনি তার মেয়ের কাছে যেতে হবে। কিছু সমস্যা হয়েছে। আবশ্য এটা জানাতেও ভোলেননি যেন আমি উনাদের প্রস্তাবটা গুরত্ব দিয়ে ভাবি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উনাদের কে আমার সিন্ধান্ত জানাই।

আমার সকালটা মুক্ত হয়ে গেল। কারও সাথে দেখা করার নেই। আমার ফেরার ফ্লাইট ১২টায়। ভাবলাম আমার পুরানো শহরটা একটু ঘুরে দেখি।
গাড়ী চালাতে চালাতে কখন যেন ইউনিভার্সিটিতে এসে পড়েছি। ডিপার্টমেন্টের সামনে গাড়ি পার্ক করে, সিড়ি বেয়ে উঠলাম। এত সকালেও দেখি মেইন দরজা খোলা। ভিতরে ঢুকতেই একটা পরিচিত গন্ধ পেলাম। এক ঝলকে ফিরে গেলাম এক যুগ আগে।

আস্তে আস্তে তিন তলায় ৩০৩ নম্বর রুমটার সামনে এসে দাড়ালাম। আজকে শনিবার। কোন ক্লাস নেয়। কাচের দরজা বন্ধ। তারপরও আমি কাচের মধ্যে দিয়ে পরিস্কার দেখতে পেলাম এক মাথা এলোমেলো লম্বা চুল নিয়ে বিষন্ন মুখে একটা ছেলে বসে আছে। তার চোখ দুটি চিকচিক করছে।

আমার কেন যেন বাসায় ফিরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছে হতে লাগল। আমার সাত বছরের মেয়েটার সাথে কথা বলার জন্যে ফোনটা বের করলাম।
এরমধ্যে আমি পরিস্কার শুনতে পেলাম ছেলেটা আমাকে বলছে ,
দূর বোকা ছেলে; তুমি আর আমি এক না। আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমার অস্তিত্বে জেগে আছে প্রিয় ঠিকানা খুলনা। তোমার বাড়ী টেক্সাসে। আমরা কিছুতেই এক না।!!!!
শেষ।

কপিরাইট©২০১১ স্পার্টন
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×