somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

IRGC এর সদর দপ্তর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে | ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে

০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গণতন্ত্রের ধারক এবং বাহক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যেশ্যে একযোগে হামলা চালিয়ে ইরানের প্রথম সারির ৫০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যা, শতশত স্কুল ছাত্রছাত্রীদের হত্যা, অসংখ্য সিভিলিয়ানস নারীপুরুষ হত্যা করার মাধ্যমে ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে- গত দুই দিন ধরে ইরানের আকাশ থেকে বোমিং করার মাধ্যমে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ঘরাবারি জ্বালিয়ে দিয়ে, অসংখ্য অবকাঠামো ধ্বংস করার মধ্যমে তারা ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের ঝান্ডাধারী ডোনাল ট্রাম্প প্রয়োজনে প্রতিদিন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এবং শিশু হত্যার মাধ্যমে; ইরানকে ধুলির সাথে মিশিয়ে দিয়ে হলেও তিনি ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াই ছাড়িবেন। জয় হোউক গণতন্ত্রের।



ইরান কিন্তু ইতিমধ্যেই গণতন্ত্রের সুবাস পেতে শুরু করেছে- গতরাতে ইরানের নৌবাহীনীর বেশ কয়েকটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং IRGC এর সদর দপ্তর শান্তিপূর্ণভাবে গুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইরানকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হইয়াছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন "ইরান যদি নিজেদের রাক্ষায় আর কোন মিসাইল ছুড়ে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রদর্শণ করা হাবে যা বিশ্ব দেখেনি কখনো আগে" এভাবেই তিনি শ্বান্তিপূর্ণভাবে ইরানে গণতন্ত্র এক্সপোর্ট করতে চান বি২ বোমারু বিমানের মাধ্যমে।



ছবি: ইরানে গণতন্ত্রের বীজ বপণ হচ্ছে


অবাক করা তথ্য হচ্ছে- গণতন্ত্রের পাদ্রী মিস্টার ট্রাম্প মুখে গণতন্ত্রের বুলি আউরালেও প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজেই গণতন্ত্রেরের ধার ধারেন না- আমেরিকার প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ ইরানে হামলার বিপক্ষে, যুদ্ধ শুরু করতে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদনের কোন ধার ধারেন না। সারা বিশ্বের অন্তত ৯০% জনগণই এই হামালার বিপক্ষে কিন্তু তবুও তিনি ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াই ছাড়িবেন- ইহাই গণতন্ত্রের সুফল, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণতন্ত্রের (আমেরিকার) আরেক চ্যালা ইউরোপ ( বিশ্বজুড়ে যারা এক সময় ডাকাতি করে বেড়াতো ) গতকাল ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছে- ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র দেশগুলোর উপর মিসাইল হামলা বন্ধ না করে তাহলে তারাও ইরানের উপর শান্তিপুর্ণভাবে হামলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াই ছাড়িবে- আর এভাবেই তারা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের সুবাস ছড়িয়ে দিতে চায়।

সারাবিশ্বে আজ গণতন্ত্রের পতকা পতপত করে উড়িচ্ছে যার কিছু উদাহরণ হচ্ছে-
গত মাসেই আমেরিকা ভেনিজুয়েলাতে গণতন্ত্রের পতকা উড়িয়ে দিয়ে এলো
ইরাকে তো সেই কবেই থেকেই গণতন্ত্রের পতকা পত পত করে উড়ছে,
তাছাড়া- লিবিয়া, সিরিয়া, লেবাননে আজ গণতন্ত্রের পতকা পত পত করে উড়ছে, এ সকল দেশের জনগণ এখন বেশ শান্তিতেই আছে।
সমগ্র আফ্রিকা জুড়ে তো গণতন্ত্রের সুবাস মৌ মৌ করছে।


সাপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলো, আমারও এখন খুব শান্তিতে আছি। :D

বর্তমান সময়ে বিশ্বের বৃহৎ দুটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত এবং আমেরিকা- জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারত এগিয়ে এবং অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিতে এগিয়ে আমেরিকা। আমেরিকার কাজ যেমন বিশ্বজুড়ে ডাকাতি করা আর ভারতের কাজ হচ্ছে এশিয়ার ছোট ছোট দেশগুলোর উপর খবরদারি করা; এভাবেই বিশ্বের বৃহৎ দুটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের চর্চা করছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন দেশ দুটির ভিতরেও গণতন্ত্রের সঠিক কোন চার্চা নেই। যারা অন্যের সম্পদ লুটপাট করে, বিশ্বজুড়ে ডাকাতি করে বেড়ায়, নিজ দেশের ভিতরেও যাদের গণতন্ত্রের চার্চা নেই সেই তারাই আবার কিভাবে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ছবক দেয়?
বিষয়টা হচ্ছে এমন- একজন চোরের কাছ থেকে ধর্মের বাণী শিখতে হবে, একজন ডাকাতের কাছ থেক নীতি নৈতিকতা শিখতে হবে, একজন ধর্ষণকারীর কাছ থেকে নারীর অধিকার শিখতে হবে- বিষয়গুলো অনাকাংখিত হলেও বিশ্ব কিন্তু ঠিক সে পথেই এগুচ্ছে। :(


বিশেষ দ্রষ্টব্য : পোস্ট'টি মূলত গণতন্ত্রকামী'দের উদ্দ্যেশ্যে যারা মনে করে- ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরানী জনগণের জীবন মান উন্নয়নের উদ্দ্যেশ্য আমেরিকা ইরানে এই হামলা চালিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬
৬টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুশদেশের চিরায়ত শিশুসাহিত্য

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৭


ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান লেখক চেখভ , তুর্গেনেভ , দস্তয়েভ্‌স্কি , তলস্তয়ের নাম বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত। এই লেখকেরা - রাশিয়ার জাতীয় গৌরব । ঊনবিংশ শতাব্দীর রুশ লেখকদের মধ্যে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭

"নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন — নীরবতা হোক আপনার শক্তির সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র।"
সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার একার না। আপনি যদি বারবার বোঝান, কিন্তু কেউ বুঝতে না চায় — তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×