somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

যাপিত জীবন কড়চাঃ শীতের পীঠে, হারানো ঐতিহ্য নাকি আরব্য রজনী?

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গ্রামের একটা অদ্ভুত মজার ব্যাপার হচ্ছে ভোর পাঁচটা ছয়টার পর কিছুতেই আর ঘুমানো যায় না। যে ঘুম হয়ত এলার্ম ঘড়িও ভাঙাতে পারবে না, মোরগের ডাক ঠিকই সেই ঘুম ভেঙে আপনাকে তুলে দিবে। মুরগীর কক কক আওয়াজ তুলে দিনে প্রথম খাবারের সন্ধান, নানা রকম পাখিদের কিচিরমিচিরে নাক ডেকে ঘুমানো বেশ কঠিন। আপনি হয়ত বিছানায় জোর করে লেপ্টে থাকবেন, কিন্তু ঘুম আপনাকে বিদায় জানাবে। ইদানিং আমারও ঘুম ভাঙছে অনেকটা এমন পরিস্থিতিতে- একটা মোরগের ডাক শুনে। প্রথম প্রথম বেশ অবাক হয়েছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, পাশের বাসায় গৃহকর্তীর শখে পালিত মোরগ। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই তার ডাকাডাকি শুরু হয় আর ঘুমের সাড়ে সর্বনাশ। আজকেও তার ব্যতিক্রম হয় নি।


আমি একটা পাতলা শাল জড়িয়ে, টি ব্যাগের হালকা লিকারের চা নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। সুর্য উঠে গেছে, কিন্তু মানুষের কর্মব্যস্ততা এখনও শুরু হয় নি, রাস্তা এখনও প্রায় ফাঁকা। সুন্দর একটা ঝিরিঝিরি বাতাস। হঠাৎ নাকে ভেসে এলো পাতা পোড়ানোর গন্ধ। শীতের ভোরে পাতা পুড়ানোর এই পরিচিত সাধারন গন্ধ মনের ভেতর কেমন যেন একটা অদ্ভুত শিহরন সৃষ্টি করল। মনে হলো, কোথায় যেন বেশ আয়োজন করে শীতের পীঠা তৈরী হচ্ছে। চুলার পাশে বসে গরম গরম শীতের পীঠা খাবার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। যদিও ঢাকার ফেরীওয়ালারা চিনিয়েছে শীতের পীঠা মানেই চিতই আর ভাপা। কিন্তু আমার ইচ্ছে করছে গরম গরম পুলি পিঠা খেতে। সাথে খেজুর রস মেশানো হাতে বানানো চালের সেমাই, সাথে বেশি করে নারকেল কুচি। আহা!!

আমার সবচেয়ে পছন্দের পিঠার মধ্যে হচ্ছে, পুলি পিঠা, ভাপা পুলি আর খোলা পিঠা। আমি জানি না, খোলা পিঠার অন্য কোন নাম আছে কি না, এটা হচ্ছে চিতই পিঠার পাতলা আর বড় ভার্সন। খেজুরের পাতলা গুড় আর নারকেল কুঁচি দিয়ে খেতে হয়। অসাধারন স্বাদ! ঢাকায় আম্মা মাঝে মাঝে আগে বানাতেন। এখন আর ভালো জিনিসও পাওয়া যায় না, সেইভাবে বানানোও হয় না। পিঠা হয়ে গেছে গ্রামের খাবার।

এমনকি আমাদের পুরানো ঢাকায় এই দিকে যে বিখ্যাত সাকরাইন অনুষ্ঠান হয়, সেটার মুল অনুষ্ঠান কিন্তু ঘুড়ি আর নাচানাচি ছিলো না। কখনই না। মুল অনুষ্ঠান ছিলো পিঠার। সকাল থেকে পিঠার আয়োজন হতো, দুপুরের পর সবাই ঘুড়ি উঠাতো। আর এই ঘুড়ি প্রস্তুত করাই ছিলো মুল আনন্দ। কিন্তু এখন সবখানে পরিবর্তন এসেছে। সাকরাইনের নামে যা হচ্ছে, সেটা হাস্যকর এবং ক্ষেত্র বিশেষে অশ্লীল।

পেছন থেকে তীক্ষ্ণ কন্ঠে হঠাৎ বুয়ার ডাকে সংম্বিত ফিরে এলো। ভাইয়া, নাস্তা খাইতে আইয়েন!!
বারান্দার দরজা টেনে দিয়ে খাওয়ার রুমে আসলাম। দৈনন্দিন নাস্তার মেন্যুতে উপস্থিত ডিম পোচ, রুটি আর আলুভাজি এবং চা। রুটি ছিড়ে যখন আলুভাজি মুখে দিলাম, ততক্ষনে আমার লোভনীয় শীতের পিঠা কর্পোরেট ব্যস্ততায় হারিয়ে গেছে।

একবার বাসায় শীতের পিঠা বানাবার আয়োজন করে সবাই মন খারাপ করেছিলাম। হাতের কাছে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই পাওয়া যায় না। হয়ত উপকরন পাওয়া গেলেও, কৌশল পাওয়া যায় না। ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাবে তৈরী হয় অনভিজ্ঞতা আর অনভ্যস্ততা। দিনশেষে এর কেতাবী নাম- হারানো ঐতিহ্য, আরব্য রজনী।

জীবিকার তাগিদে, সময়ে সংকটে, আমাদের সকল চাহিদার কর্পোরেট সমাধান - সুপার মল। সবই এখানে রেডিমেড, হোমমেইড। দামও সস্তা। কিন্তু স্বাদ নেই। মাঝে মাঝে আনাড়ী হাতের টুকটাক পিঠার আয়োজনে উচ্চ মুল্যে দুই এক আইটেম পিঠা সামান্য চেখে দেখে আমরা ঐতিহ্য লালন করি, উপভোগ করি আরব্য রজনীর মুগ্ধতা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২১
১৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ সাহেব তো নেই, উনাকে জানার, বুঝার উপায় কি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৭ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৮:৫০



শেখ সাহেব নেই, যারা উনার আশপাশে ছিলেন, তাদের অনেকেই নেই; উনার সাথে যারা ছিলেন, আজো আছেন, তাদের মাঝে সুক্ষ্ম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কোন মানুষ নেই, যিনি শেখ সাহেবের বিশ্বাস, ভাবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার আঁকা চারটা ছবি

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৩৮



গত ১৫ বছরে নদিপথে মোট ৫৮৭ টি নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১৪ হাজার । তদন্ত ৬১৩ টি । তদন্তের একটিও রিপোর্ট মানেনি নৌযান মালিক-চালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের আমানত হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরিবের বিয়ে

লিখেছেন এমএলজি, ০৭ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:১৯

ছবিটি গরিবের।

গরিবের কথাটি বলেছি যথার্থ অর্থেই। কারণ, এমন ছবিতে কনের গলায় জড়িয়ে থাকার কথা ছিল বিভিন্ন আকারের ঝলমলে সোনার হার। অথচ, স্বর্ণ বলে তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না মেয়েটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোভিড ভাতা- হিসাবে মিলে না

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৮ ই মার্চ, ২০২১ ভোর ৪:১৩


আবারো আমেরিকান সিনেট/কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট বাইডেন এর থেকে প্রস্তাবিত প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ($২,০০০,০০০,০০০,০০০) এর কোভিড বিল পাশ করছে। টাকাতে এর পরিমান কত হবে??? 169,510,440,000,000 Bangladeshi Taka। এর থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্বোধনে ভালবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১০:৩৯

আলতাফ সাহেব তার লেখার টেবিল ছেড়ে একটা দরকারি কাগজ খোঁজার জন্য বেডরুমে প্রবেশ করলেন। তার স্ত্রী তখন প্রাতঃরাশ সেরে কেবল বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে সেলফোনটা হাতে নিয়ে কিছু একটা দেখছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×