somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বগালেইক টু কেওক্রাডং ভায়া ঋজুক ঝর্না।। (ছবি ব্লগ)

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দূর থেকে আমার ক্যামেরায়, কেওক্রাডংয়ের চূড়া।

কেওক্রাডং আর বগালেইক দেখার সাধ অনেকদিনের, অবশেষে গত সেপ্টেম্বরে সেই সাধ পূরণ হয়েছে। পুরো ট্যুরেই ট্রাই করেছিলাম বান্দরবনের বুনো সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরে রাখতে। কিন্তু বান্দরবনের সৌন্দর্য কোনভাবেই কিছুতে আটকে রাখা সম্ভব না। সেই ছবি গুলো নিয়েই আজকের ছবি ব্লগ।

রুমা বাজার। বগালেইক বা কেওক্রাডং যেটাই দেখতে চান রুমা বাজার হয়েই যেতে হবে।

রুমা লেইক। বগা লেইকের নাম তো অনেক শুনেছেন। এবার শুনুন রুমা লেইকের গল্প।



রুমা বাজার নৌকা ঘাট থেকে ঋজুক ঝর্না যাওয়ার পথে। কি সাঙ্গুর সৌন্দর্য কেমন দেখলেন। আমি আপনাদের শিউরিটি দিতে পারি, ক্যামেরায় আমি সাঙ্গুর সৌন্দর্যের ১০ ভাগ ও তুলে আনতে পারি নি।

ট্রলার থেকে আমার ক্যামেরায় বন্দী ঋজুক ঝর্না। একটু আফসোস ছিলো বর্ষায় ঋজুকের যৌবন দেখতে পারিনি বলে।


ঋজুক দেখে ফেরার পথে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো পাহাড় গুলো হাত বাড়ালেই ছোয়া যাবে।

কমলাবাজার থেকে বগা লেইকে যাওয়ার রাস্তা। ভয়ঙ্কর সুন্দর বুঝি একেই বলে।

বগা লেইক। সব কষ্ট বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম বগা লেইকের সৌন্দর্য দেখে। বর্ষায় গেলে দেখতে পাবেন কিভাবে মেঘ গোঁত্তা খেয়ে বগা লেইক থেকে উঠছে।

নিজের একটা ছবি তোলার লোভ সংবরণ করতে পারিনি।

বগালেইক পাড়া আর্মি ক্যাম্প। এদের জন্যই এসব বুনো অঞ্চলে অবাধে ভ্রমণ করতে পারছি।

বগা লেইক থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার পথে দূর পাহাড় থেকে, আমার ক্যামেরায় বগালেইক পাড়া।

ট্রেকিং করতে করতে যখন কাহিল হবেন, তখন বোনাস হিসাবে পাবেন চিংড়ি ঝর্নার সুপেয় ঠাণ্ডা পানি।

চিংড়ি ঝর্নার ট্রেইল পার হচ্ছে আমাদের গ্রুপ।

পাহাড়ি কন্যা। চিংড়ি ঝর্না।

এখানে থেমে বেশ আড্ডা হচ্ছিলো।


পাহাড়ের রুপ দেখে যেন মন ভরে না। ইচ্ছা হচ্ছিল ক্যামেরায় না পুর বান্দরবন টা উঠিয়ে নিয়ে আসি।

পাহাড়ি বুনো জবা ফুল।



দার্জিলিং পাড়াতে স্মৃতি স্তম্ভ।

চালে যে কুমড়া হয় তাকেই বুঝি চাল কুমড়া বলে। একদম পিউর চাল কুমড়া।


দার্জিলিং পাড়া থেকে, কেওক্রাডং দেখা যাচ্ছে।

এই পানীয়র নাম 'ক্যালসিয়াম'। দীর্ঘ ট্রেকিং এ আপনাকে চাঙ্গা করতে এর জুড়ি মেলা ভার।


আমাদের গ্রুপ। দার্জিলিং পাড়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দেখছি।



দার্জিলিং পাড়ার বাড়ি ঘর। এ যেন ছবির মতন ই সুন্দর।

দার্জিলিং পাড়ায় উনার দেখা পেয়েছিলাম।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিছন্ন গ্রাম। দার্জিলিং পাড়া। নীট এন্ড ক্লিন বলতে যা বুঝায় একদম তাই ই।

ফটোগ্রাফিতে ব্যাস্ত আমি।



কি কেমন দেখলেন বুনো পাহাড়ের সৌন্দর্য? মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলাম আমিও।

কেওক্রাডংয়ের চুড়ায় অবস্থিত কটেজ। এওরক এক্টায় আমরা ও ছিলাম।

কক্রাডংয়ে একমাত্র গেস্ট হাউজ। এদের সার্ভিস ছিল দারুণ।

হ্যালো! কেওক্রাডং থেকে বলছি।

কেওক্রাডং দেখে যেমন অবাক হয়েছিলাম। ঠিক তেমন ই একে দেখেও কম অবাক হইনি।

সৌভাগ্য আর কাকে বলে! কেওক্রাডংয়ে কাটানো রাত টা ছিল ফুল মুন। অসম্ভব রকমের অনুভূতি ছিল।

রাতে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি খাবারের বড় ভক্ত আমি।

কটেজ থেকে সূর্য উদয় দেখছিলাম।



সকাল বেলার কেওক্রাডং। আমি বেশ কিছু সুন্দর প্লেইস ঘুরেছি কিন্তু কেওক্রাডং এ দেখা সৌন্দর্যের কাছে বাকি সব নস্যি। দেখবেন মেঘের খেলা কাকে বলে। পাহাড়ের একপাশে মেঘে কালো হয়ে আছে অন্য পাশে ঝকঝকা রোদ। বর্নানা করে বুঝাতে অপরাগ আমি।





অনেক তো ঘুরলাম এবার বাড়ি ফেরার পালা। কেওক্রাডং বগা লেইক দেখে ফেরার পথে আমরা।

ইচ্ছা ছিলো কেওক্রাডং নিয়ে একটা বিস্তারিত পোস্ট দিবো কিন্তু দেই দেই করে দেওয়া হল না। কিছু মানুষ ইদানিং বিদেশ বাড়ির খুব প্রশংসা করছে দেখলাম। তাঁদের কে একটা জিনিস ই বলব আপনি একবার বর্ষায় কেওক্রাডং দেখেন। মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। নিজের দেশের রুপে মুগ্ধ হয়ে, শুধু মনে পরছে কবি গুরুর সেই বিখ্যাত কবিতার লাইন,

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

একটি ধানের শিষের উপরে

একটি শিশিরবিন্দু।।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৪৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

» গাঁও গেরামের ছবি (মোবাইলগ্রাফী-৩৬)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩২



ঘাসের উপর প্রজাপতির ছবি তুলতে গিয়ে, পিপড়েদের কবলে পড়েছিলাম। ঠিকমত ক্লিক দিতে পারছিলাম না তাই ঠাঁয় বসে ছিলাম হঠাৎ কুট কুট কামড় টের পেয়ে তাকিয়ে দেখি পা আমার লালে লাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিক ভাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২



আমার বাসার সামনেই ফেনী ফার্মেসী।
ফার্মেসীর মালিক রফিক ভাই। রফিক ভাই আমার বন্ধুর মতোন। তবে তার বয়স আমার চেয়ে বেশী। আমি প্রায়ই ফেনী ফার্মেসীতে আড্ডা দেই। রফিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্নচ্ছায়ায় স্বপ্নের অমনিবাস (অবরোহ)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

আলোকিত আঁধার এক
ঘোর কৃষ্নচ্ছায়ায় গ্রাস করে স্বপ্নের অমনিবাস
আত্মমর্যদা বাক স্বাধীনতা
চিরন্তন মুক্তির স্বপ্ন মূখ থুবড়ে, চারিদিকে শকুনির উল্লাস!

ভেজানো পাটা’শের মতো খুলে খুলে আসে মূল্যবোধ
নীতি নৈতিকতা, পরম্পরা- হারিয়ে যায়
হাওয়াই মিঠাই স্বাদে! দুর্বৃত্তায়নের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদী অয়েল-প্রসেসিং প্ল্যান্টে কারা আক্রমণ চালায়েছে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৩



গত শনিবার (সেপ্টেম্বর, ১৪) সৌদী আরবের আবকিক অয়েল-প্রসেসিং প্ল্যান্টে ড্রোন-গাইডেড মিসাইল আক্রমণ চালিয়ে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অয়েল-প্রসেসিং প্ল্যান্টটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে; এতে সৌদীর দৈনিক তেল উদপাদন ক্ষমতা অর্ধেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাদ–লিবিয়া যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৭



ছবি: যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে টয়োটা যুদ্ধের সময়ে একটি টয়োটা পিকআপ থেকে চাদীয় সৈন্যরা

চাদ–লিবিয়া যুদ্ধ ছিল ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে লিবীয় ও চাদীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত কয়েক দফা বিক্ষিপ্ত যুদ্ধ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×