somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুমায়ূন আহমেদের শেষ কবিতা

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হুমায়ূন আহমেদের শেষ কবিতা
হুমায়ূন আহমেদকে কাছ থেকে দেখিনি কখনো। তবু তাঁর গল্প-উপন্যাস পড়ে আর নাটক দেখে মনের গহিনে বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তির সঙ্গে গড়ে তুলেছিলাম এক অলৌকিক যোগাযোগ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা গিয়েছিলাম। কানাডায় ফিরে আসি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। সঙ্গে কবি ইকবাল হাসান। জানালেন, টরন্টো পৌঁছেই তিনি নিউইয়র্ক যাবেন হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে। উদ্দেশ্য, হুমায়ূন আহমেদকে উৎসর্গ করা তাঁর ও সমকাল-এর সম্পাদক গোলাম সারোয়ারের বই পৌঁছে দেওয়া।
হুমায়ূন আহমেদ তখন নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন। ইচ্ছে করলেই দেখা করা সম্ভব নয়। তাই ইকবাল হাসানের সঙ্গে যাওয়ার সুযোগটি ছাড়লাম না। হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎ পেতে মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহার স্ত্রী রুমা সাহা সর্বাত্মক সহযোগিতা করলেন। জানা গেল, তিনি কেমো নিচ্ছেন হাসপাতালে। তিনি যেদিন কেমো নেন, সাধারণত সেদিন হাসপাতালে থেকে পরদিন বাসায় ফেরেন। তবে আমরা সন্ধ্যার দিকে কিছুক্ষণের জন্য হাসপাতালে গিয়ে দেখা করতে পারি।
বেলভিউ হাসপাতাল। কেবিনে বিছানায় আধশোয়া হুমায়ূন আহমেদ। পাশের চেয়ারে স্ত্রী শাওন। মাঝখানে দাবার কোটে নিমগ্ন তাঁর চোখ। একপাশে ল্যাপটপ। কোনো উত্তেজনা নেই। চোখমুখে নেই কষ্টের কোনো ছাপ বা ব্যথার কাতরতা। কেমোর কারণে চেহারায় কালো দাগ পড়েছে। এদিক-ওদিক নল, গায়ে হাসপাতালের গাউন।
ইকবাল হাসানকে দেখে খুশি হলেন। একটু উঠে বসে বিছানা দেখিয়ে বললেন, ইকবাল আসো, এখানে বসো। রুমা আর আমি একটু দূরে চেয়ারে বসলাম। কত কথা! কথার মাঝখানে কৌতুক, কারও কারও সমালোচনা, হাসাহাসি। সন্ধ্যাটি বদলে গেল এক আশ্চর্য ঘরোয়া আড্ডায়। মূল কথক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি অসম্ভব প্রাণোজ্জ্বল, যেন কোনো কষ্টই স্পর্শ করছে না। হঠাৎ প্রশ্ন, চা খাবে তোমরা? বলেই হেসে উঠে বললেন, ও আচ্ছা, এখানে চা খাওয়াব কীভাবে? তার চেয়ে বরং কবির আগমন উপলক্ষে একটা কবিতা পড়ে শোনাই। তারপর শাওনের দিকে তাকিয়ে বললেন, কী বলো?
হলুদ খামে ভরা কবিতাটি পাশেই রাখা ছিল। হাসপাতালের কেবিনে বসেও যে তিনি লেখালেখি করেন, সে গল্পও শোনালেন। একদিন মগ্ন হয়ে লিখতে লিখতে অঝোর ধারায় কাঁদছেন। এক বিদেশি হঠাৎ তাঁর কেবিনে এসে হতবাক। প্রশ্ন করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, আই উইশ টু বি অ্যান অথার ইন মাই কান্ট্রি। আমি আমার চরিত্রদের খুব ভালোবাসি। ওদের দুঃখে আমি কাঁদি।
এরপর হলুদ খামের ভেতর থেকে বের করে আনলেন কাগজটি। বললেন, এটি আসলে একটি গান। ইচ্ছা আছে, সত্য সাহার ছেলেকে দিয়ে সুর করাব।
হুমায়ূন আহমেদ পড়ে শোনালেন মাকে নিয়ে লেখা তাঁর কবিতাটি। পুরো দৃশ্যটি আমি ভিডিও করলাম। আজ হঠাৎ এত দিন পর সেই ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে, ‘বেদনা কী ভাষায় রে মর্মে মর্মরি গুঞ্জরি বাজে।’
সূত্র: প্রথম আলো

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিলশানা পারুলদের অযাচিত, অপার্চুনিস্টিক রুপান্তর

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২



দিলশানা পারুল বা দিশেহারা পারুল, যাই বলি না কেন, একসময় তাহাকে আমাদেরই সহযোদ্ধা মনে করিতাম। মনে পড়ে হাসিনা পতনের বছরখানেক আগে পিনাকি ওরফে আবর্জনাকি ভট্টাচার্য যখন তাঁর একটা ভিডিও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×