somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের গ্রামের গল্প

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকতো। বর্ষাকালে সারারাত ব্যাঙ ডাকতো। পদ্মার পাড় থেকে আসতো শীতল বাতাস। গ্রামের মানুষ গুলো সহজ সরল ছিলো। গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বাররাও জটিলতা কুটিলতা মুক্ত ছিলো। সেই সময় ঢাকা থেকে গ্রামে যেতে লম্বা সময় লাগতো। বাস, নৌকা, তারপর মাটির রাস্তায় দুই মাইল হাঁটা পথ। এরপর রিকশা। এখন যেতে যেতে সময় লাগে এক ঘন্টা। নৌকার প্রয়োজন হয় না। দুই মাইল হাঁটতেও হয় না। এখন গ্রামটাকে আর গ্রাম মনে হয় না। প্রতিটা গ্রামে আট দশটা রাজকীয় বিল্ডিং! গ্রামে গেলেও গ্রামের স্বাদ পাওয়া যায় না।

স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আব্বার সাথে গ্রামে যেতাম।
এক সপ্তাহ থাকতাম। গ্রামে বেশ আনন্দে দিন যেতো। কেউ কিচ্ছু বলতো না। কোনো শাসন-বাড়ন নেই। বরং সবাই আহ্লাদ করতো। যা চাইতাম তা-ই দিতো। এমনকি গ্রামের মানুষ গুলো পর্যন্ত খাতির যত্ন করতো। আমি সারাদিন গ্রামে ঘুরে বেড়াতাম। গ্রামের সমবয়সী ছেলেমেয়েরা বেশ খাতির করতো। দেখতে শুনতেও ভালো ছিলাম। খোদাবক্স নামে একলোক আমাকে নিয়ে পদ্মানদীতে যেতো। নৌকা করে আমরা ভাগ্যকূল যেতাম। ভাগ্যকূলের মিষ্টি অনেক বিখ্যাত। মিষ্টি খেয়ে আবার নৌকায় করে বাড়ি ফিরতাম। পুকুরে লাফালাফি করে গোছল করতাম। ডাব গাছ থেকে পুকুরে লাফ দিতাম। আমার সারাক্ষনের সঙ্গী ছিলো খোদাবক্স। সোজা বাংলায় বলতে গেলে খোদাবক্স ছিলো আমাদের বাড়ির কামলা। আগে গ্রামে ধনীদের বাড়িতে দুই তিনজন করে কামলা থাকতো।

খোদা বক্সের বয়স হবে প্রায় ত্রিশ।
ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ফরিদপুর থেকে বিক্রমপুর এসেছিলো খোদাবক্স। তার কোনো যোগ্যতা নেই। সে কোনো কাজই করতে পারে না। লেখাপড়া জানে না। তবে লোকটা সৎ। খোদাবক্স ভূত বিশ্বাস করে। সে আমাকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ভৌতিক গল্প কাহিনী বলেছে। আমার ধারনা খোদাবক্স মিথ্যা গল্প বলেনি। বোকা মানুষ মিথ্যা বলতে পারে না। তার একটা গল্প এরকমঃ সে একটা খুন করেছে। নিজ হাতে খুন করেছে। একটা মেয়েকে তার পছন্দ হয়ে যায়। কিন্তু সেই মেয়ের স্বামী আছে। মেয়েটার পরামর্শে খোদাবক্স লোকটাকে খুন করে। লোকটার নাম হারুন। এক বর্ষার রাতে হারুনকে ধাক্কা দিয়ে বিলে ফেলে দেয়। বর্ষার পানিতে ভরা বিল থেকে হাপানীর রোগী হারুন আর উঠতে পারেনি। হারুন তার ভুল বুঝতে পেরে সেই স্ত্রীলোককে আর বিয়ে করেনি।

এরপর থেকে সে মৃত হারুনকে দেখতে পায়।
একবার সে ভাটিয়াপাড়া থেকে যাত্রা পালা দেখে ফিরছে। রাত তখন এগারোটা। চৌধুরী বাড়ি পার হতে কিছুটা জংলা জায়গা। সেখানে সে হারুনকে স্পষ্ট দেখতে পায়। তার চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হারুন কিচ্ছু বলে না। শুধু করুন চোখে খোদাবক্সের দিকে তাকিয়ে থাকে। মূলত খোদাবক্স হারুনের কাছ থেকে মুক্তি পেতেই নিজের দেশ ছেড়ে বিক্রমপুর এসেছে। ভাগ্য অন্বেষণের জন্য নয়। খোদাবক্সের ভাগ্য ভালো হারুন ফরিদপুর ছেড়ে বিক্রমপুর আসতে পারেনি। আমার ধারনা হারুন সত্য কথাই বলেছে। স্ত্রীলোকের কথা শুনে সে হারুনকে আড়ই বিলে ফেলে হত্যা করেছে। সে অন্যায় করেছে। সেই অন্যায় খোদাবক্সকে তাড়া করে। সে এখন হারুন থেকে মুক্তি চায়। সহজ সরল সত্য কথা হলো- এক জীবনে মানুষ যে অন্যায় করবে, সেই অন্যায়ের শাস্তি তাকে দুনিয়াতেই ভোগ করে যেতে হয়। এটাই ভালো। তাহলে পরকালে আর শাস্তি ভোগ করতে হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৬
১৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আমি কিংবদন্তির কথা বলছি".......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩০ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৮

আজ ৩০ মে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর দিন। আজ সেই মহানায়ক, সেই সৈনিক, সেই রাষ্ট্রনায়কের শাহাদাৎ বার্ষিকী- যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের জন্য।
তিনি শহীদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলা ববি হাজ্জাজের মূর্খতা নাকি অহংকার?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন "নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যা গবেষণা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০


গত রোজার ঈদে বাংলাদেশে একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, নাম "বনলতা এক্সপ্রেস"। হুমায়ূন আহমেদের "কিছুক্ষণ" উপন্যাস অবলম্বনে বানানো, মোশাররফ করিম আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো মানুষরা অভিনয় করেছেন। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লটারি: শার্লি জ্যাকসন

লিখেছেন নিবারণ, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১

২৭ জুনের সকালটা ছিল একদম পরিষ্কার আর ঝলমলে। ভর গ্রীষ্মের এক সতেজ ওম চারদিকে; ফুলের দল ফুটে আছে থোকায় থোকায়, আর ঘাসগুলো একেবারে গাঢ় সবুজ। সকাল দশটা নাগাদ গ্রামের লোকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা'র আন্তর্জাতিক খেলা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫২



শেখ হাসিনা- একটি নাম, একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন খুব কম নেতাই আছেন, যাদের নাম উচ্চারিত হলে সমর্থন ও বিরোধিতা- উভয়ই এত প্রবলভাবে সামনে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×