somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্ষক যখন ভক্ষক ওরফে বেড়ালছানা ওরফে আরো অনেক কিছু

১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[জানুয়ারি 11, 2004]

কলিমুদ্দির চায়ের দোকানে বসে বসে মাছি তাড়াচ্ছিলাম। খুব যে কষ্ট করতে হচ্ছিলো, তা নয়, কারণ মাছিগুলো ল্যান্ড করার মতো উৎকৃষ্ট সিঙ্গারা বা আলুপুরি খুঁজে পাচ্ছিলো না, আপনা থেকেই ভেগে যাচ্ছিলো তারা। তবে খাসলত বলে কথা, আমার উদাস গালটাকে তেলেভাজা ভেবে যাতে তারা হামলা না করে, সেজন্যেই হাত পা নাড়ছিলাম আর কি।

প্রোডাকশন আপাতত বন্ধ, কলিমুদ্দি ঝিমুচ্ছে, জুম্মনটা একটা বেঞ্চে লম্বা হয়ে শুয়ে কুকুরের কান্নার মতো একটা সিনেমার গান গাইছে, সুরেশ বসাক গাঁজায় দম চড়িয়ে শিবনেত্র হয়ে বসে আছে এক কোণে। জুম্মনের গানের বক্তব্য শুনে আমারই কান লাল হওয়ার দশা, প্রেমিকাকে সম্ভাব্য সকরকম উপায়ে প্রেম নিবেদন করছে প্রেমিক, গানের পদে পদে খাজুরাহো-কোনার্ক গুলিয়ে মেশানো --- ভাবছি এক ধমকে থামিয়ে দেবো বেলি্লকটাকে, আরো ভাবছি আজকাল সিনেমার গানের নামে এসব কি অশালীন ছাঁইপাশ লেখা হচ্ছে, এমন সময় হুড়মুড়িয়ে দোকানে ঢুকলেন ---।

উঁহু, যা ভাবছিলে তোমরা, তা নয়। পিন্টুর মেজমামা নন। মেজমামা দিন তিনেক হলো ঢাকার বাইরে গেছেন। বান্দরবানে পাহাড় ঠেলতে গেছেন তিনি, শিবলির মুখে শোনা গেছে। মেজমামার অনুপস্থিতির কারণে কলিমুদ্দির ব্যবসা হাফ লাটে উঠে গেছে, আর আমরা অতবড় দিলদরিয়া নই যে নিজের পয়সায় চা আর তেলেভাজা কিনে খাবো। অগত্যা বেচারা কলিমুদ্দিকে পাড়ার অবশিষ্ট সুধীজনের ওপর ভর করে আর ভরসা করে চলতে হচ্ছে। কিন্তু অবশিষ্ট সুধীজনের সংখ্যা কম, বেশির ভাগই বাকির খাতায় নাম টুকিয়ে খায়। তাই কলিমুদ্দি নগদের অভাবে খুবই বাটে পড়েছে।

যা বলছিলাম, হুড়মুড়িয়ে দোকানে ঢুকলেন মনজুর চাচা। তাঁর হাতে একটা বোঁচকা, মুখে এক অপূর্ব অভিব্যক্তি, আধাসের রাগ, এক চিমটি দুঃখ আর এক মুঠো বিরক্তির এক বিচিত্র শরবত।

আমি খানিকটা ঘাবড়ে যাই। মনজুর চাচাকে আমরা সবাই সমঝে চলি। মিশমিশে কালো ময়দানবের মতো গড়ন তাঁর, দেখলে মনে হতে পারে তিনি এ পাড়ার গুন্ডাসর্দার, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি পন্ডিত মানুষ, এককালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন, যদ্দিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পন্ডিতদের শিক্ষকতা করার সুযোগ ছিলো। অবশ্য তাঁর আচরণ অনেকটা টুলো পন্ডিতদের মতোই, আমরা অনেকেই শৈশবে তাঁর হাতে মৃদু ঠ্যাঙানি খেয়েছি। প্রাচীন শিক্ষকদের মতো আদর্শবাদী লোক তিনি নন, বরং অনেকটা গোঁয়ারগোবিন্দ কিসিমের মানুষ, কোন কিছু তাঁর অপছন্দ হলে গায়ের জোরে সেটাকে দমন করে ফেলতে দ্বিধা করেন না। বৈশ্বিক ভালোমন্দের তিনি থোড়াই কেয়ার করেন, নিজের চোখে যেটা ভালো সেটার পালন এবং যেটা মন্দ সেটার দলনই তাঁর মটো। এ পাড়ায় অনেকেই তাঁকে ভয় করে চলে। তাঁর পন্ডিতিকে হয়তো কেউ পাত্তা দেয় না, কিন্তু পাঞ্জার জোরকে সামলে চলে।

কলিমুদ্দিও ঘাবড়ে যায় মনজুর চাচার মনজুড়ানো, মানে আত্মা-পানি-করা মূর্তি দেখে। সে এক ধমকে জুম্মনের গানটা অফ করে দেয়, সুরেশ বসাককে ঠ্যালা দিয়ে মৌতাত থেকে মুক্ত করে শঙ্কিত চিত্তে হাত কচলাতে থাকে। 'কী খাইবেন স্যার?'

'চা দে। পুরি দে।' সংক্ষিপ্ত গর্জনে বলেন মনজুর চাচা।

আমি যতটা সম্ভব অন্ধকারে মিশে যেতে চাইছিলাম, কারণ এখন তাঁর চোখে পড়লেই একগাদা উপদেশ ধমক আর বলা যায় না, দুয়েকটা চড়থাপড়েরও শিকার হতে পারি, কিন্তু বিধি বাম। মনজুর চাচা সোজা আমার সামনে এসে বসে বোঁচকাটা পায়ের কাছে ধপ করে নামিয়ে রাখলেন। কেমন একটা ফ্যাঁসফোঁস আওয়াজ ভেসে আসে বোঁচকা থেকে। আমি চমকে উঠে পা দুটো সরিয়ে নিই।

'কেমন আছিস তুই? তোর বাপ কেমন আছে? তোর মা? পড়াশোনা শেষ করেছিস? নাকি এখনো সেকেন্ড ইয়ারেই ঝুলে আছিস? চুলগুলো এমন বেখাপ্পা করে কেটেছিস কেন? সাপের পাঁচপা দেখেছিস? পেঁদিয়ে ফ্যাশন বের করে দেবো হারামজাদা ছেলে প্সপ্পু; তোর বাপমা তোকে কিছু বলে না, এমন বখাটা চুলের ছাঁট নিয়ে টো টো করে ঘুরে বেড়াস যে? যা এক্ষুণি মোড়ের দোকান থেকে চুল ছাঁটিয়ে আয় ---।' ইত্যাদি এমন আরো অনেক কিছু আশঙ্কা করছিলাম। কিন্তু তার পরিবর্তে মনজুর চাচা তাঁর প্রকান্ড লোমশ হাতে টেবিলের ওপর একটা চাপড় দিয়ে শুধু বললেন, 'শালা!'

আমি এবার আহত হই। শেষ পর্যন্ত গালি দিলেন?

কিন্তু আমার ভুল ভাঙে। আমাকে নয়, গালি তিনি অন্য কাউকে দিয়েছেন। আমাকে এক ঝলক দেখে নিয়ে তিনি স্নেহভরে বলেন, 'এই সন্ধ্যেবেলা তেলেভাজার দোকানে একা একা কী করিস?'

আমি মিনমিন করে অনেক অজুহাত দেখাতে চাই, বলতে চাই, আমি তো একা একা ঘোরাফেরার মতো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, আর এই বিশ্বসংসারে কে-ই বা আছে আমার, যাকে সাথে করে এই তেলেভাজার দোকানে বসবো? কিন্তু মনজুর চাচা ঘাস খেয়ে বড় হননি। তিনি পেছন ফিরে রাস্তার উল্টোদিকের বাড়িটা দেখে নিয়ে বলেন, 'সিদ্দিক সাহেবের মেয়েটা তো কলেজে উঠলো, নাকি?'

আমি ঢোঁক গিলে সায় দিই। তিনি বিমর্ষ চিত্তে মাথা দোলান। 'মেয়েটা দেখতে ভালো, কিন্তু বাপটা একটা মহা চামার। একদিন শালাকে ধরে মারবো দুইটা থাপ্পড়!'

আমার মুখ অনিচ্ছাসত্ত্বেও উজ্জ্বল হয়ে আসে, আমি প্রাণপণে আনন্দ গোপনের চেষ্টা করি। হক কথা বলেছেন মনজুর চাচা। শ্রদ্ধায় গদগদ হয়ে মাথা নাড়ি আমি। কিন্তু কেন সিদ্দিক সাহেবের বিরূদ্ধে মনজুর চাচার এই বিরাগ, সেটা আমার বোধগম্য হয় না। না হোক, কোন সমস্যা নেই। সিদ্দিক চাচার আসন্ন বিপদে আমার মন উলু দিয়ে ওঠে।

ওদিকে মনজুর চাচা আপন মনে বকে চলেন, 'সেদিন দেখি, হারামজাদা একটা রাস্তার কুকুরকে ইঁট ছুঁড়ে মারছে। কুকুরটা ওকে কিছু বলেও নি, তেড়েও আসেনি, চুপচাপ নিরালায় শুয়ে রোদ পোহাচ্ছিলো, এই ব্যাটা সিমার গায়ে পড়ে একটা আধলা ছুঁড়ে মারলো! --- কুকুরটা মরতেও পারতো!'

আমি মনজুর চাচার কুকুর প্রীতির পরিচয় পেয়ে অভিভূত হই। অবোলা জানোয়ারের ওপর এই অত্যাচারের কাহিনী শুনে সিদ্দিক লোকটার ওপর আমার মেজাজ আরো এক পর্দা খারাপ হয়ে যায়।

মনজুর চাচা হাঁক ছাড়েন জুম্মনের উদ্দেশ্যে, 'অ্যাই, ওর জন্যেও চা পুরি পাঠা।'
সদুপদেশ বা ধমকধামকের পরিবর্তে এই অযাচিত অনপেক্ষিত খাতির পেয়ে এবার আমি মনে মনে আঁতকে উঠি। মনজুর চাচাও কি কোন গাঁজাগুরি গপ্পো ফেঁদে বসবেন? আমার অভিজ্ঞতা বলে, যারা আমাকে সেধে সেধে এই তেলেভাজার দোকানে খাইয়েছে, প্রায় প্রত্যেকের স্টকেই বীভৎস সব কাহিনী ছিলো বলার মতো। আজও কি ইতিহাস নির্লজ্জের মতো পুনরাবৃত্ত হবে?

যথাসময়ে চা আর আলুপুরি আসে, তবে ইতিমধ্যে মনজুর চাচা সিদ্দিক সাহেবের গোষ্ঠী উদ্ধারের কাজে ব্রতী হন। তিনি খোলাসা করেন, কেন সিদ্দিক চাচা সরকারি চাকরি থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন, ঘুষের পয়সায় ঢাকা শহরের কোথায় কী কী সম্পত্তি কুক্ষিগত করেছেন, কোন কোন সিনেমার অতিরিক্তা এবং কোন কোন ঠোঙানাটকের উপনায়িকার সঙ্গে তাঁর নিষিদ্ধ দহরমমহরম রয়েছে, ইত্যাদি। সবশেষে একটি কুইজও আমার সামনে হাজির করেন তিনি, সিদ্দিক সাহেব দেখতে অত বদখদ, কিন্তু তাঁর মেয়েগুলো অমন পরীর মতো সুন্দর কেন?

আমি লজ্জায় লাল হই। মনজুর চাচাও আমার মতো তীক্ষ্ন দৃষ্টির অধিকারী, ভেবে তাঁর ওপর আমার শ্রদ্ধা বাড়ে। চায়ের কাপে মৃদু ভদ্রজনোচিত একটি চুমুক প্রয়োগ করে আমি ততোধিক মোলায়েম গলায় বলি, 'জি্ব, মানে, আমাকে কেন এসব বলছেন চাচা প্সপ্পু; আমার কি এসব নিয়ে চিন্তা করা মানায়?'

ভেবেছিলাম, ভদ্রতাবশে এমনই কিছু বলা উচিত, কিন্তু মনজুর চাচা চটে যান। চায়ের কাপটায় ফড়াৎ করে একটা চুমুক মেরে একটা কিল বসান টেবিলে, পুরিগুলো লাফিয়ে ওঠে। 'আহাম্মক কোথাকার! তুই কি দুধের বাচ্চা নাকি? বেশ তো দামড়া হয়েছিস দেখা যাচ্ছে, দিনরাত সিদ্দিকের মেয়ের সাথে টাঙ্কি মেরে বেড়াস, আর আমার সাথে সতীপনা দ্যাখাস? অবশ্যই চিন্তা করবি এসব নিয়ে, বুদ্ধির চর্চা হবে তাতে। --- তবে খালি মেয়ে নিয়ে ভাবলে এখন আর দিন চলবে না, মেয়ের বাপকেও খতিয়ে দেখতে হবে বৈকি।'

আমি সাথে সাথে একমত হই। 'জি্ব। ঠিক বলেছেন।'

মনজুর চাচা দুটো পুরি একসাথে মুখে পোরেন। 'আমি ঠিকই বলি। --- এই সিদ্দিক আমার সর্বনাশ করেছে, আমার জীবনের শান্তি নষ্ট করেছে! ওকে আমি মেরে পস্তা ওড়াব!'

আমি উৎসুক দৃষ্টিতে তাকানোর চেষ্টা করি।

'কিন্তু সব দোষ ওর ঘাড়ে ফেলাই ঠিক হবে না।' তিনি চায়ের কাপে আরেকটা অভ্রভেদী চুমুক মারেন। 'তোর চাচীরও দোষ কম নয়!'

এবার আমার মাথায় বজ্রপাত হয়। এই কালোভূত আলকাতরামুখো সিদ্দিক চাচার সাথে নিজের সুন্দরী রুচিবতী বিদূষী স্ত্রীকে জড়িয়ে মনজুর চাচা কী বলছেন এসব? তাও আবার আমার সাথে?

মনজুর চাচা আমার ফ্যালফ্যাল চাহনি খেয়াল করে দেখেন না, আপনমনে গজগজ করে চলেন, 'তোর চাচী আরেকটা গবেট। সুন্দর মেয়েছেলেকে খোদা কোন বুদ্ধিশুদ্ধি দেয় নাই। বন্ধুত্ব করবি কর, তাই বলে ঐ চামারটার বউয়ের সাথে?'

আমি এবার একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। যাক, এবার দৃশ্যপটে সিদ্দিক চাচার বউ, কে জানে, হয়তো আমার হবুশ্বাশুড়ির আগমন ঘটেছে।

'সেই বেটি আবার বেড়াল পালে!' চাচা গর্জে ওঠেন। 'এই, আরো দুই কাপ চা পাঠা!'

জুম্মন চায়ের কেটলির কাছে উড়ে যায়।

'তোর চাচী, জানিসই তো, খুব চরম স্বভাবের মহিলা, একদিন দেখি ঐ সিদ্দিকের বাড়ি থেকে একটা বেড়াল নিয়ে এসেছে। বলে কি না, পুষবে। সিদ্দিকের বউ তার সই, তার সই বেড়াল পালে, কী সুন্দর কুচিকুচিকু বেড়ালের বাচ্চা, এখন সেও বেড়াল পালা শুরু করবে। আমি গোড়াতেই বোঝানোর চেষ্টা করলাম, দ্যাখো, বেড়াল খুব খারাপ জীব, বদমায়েশ জানোয়ার, এইসব করতে যেও না --- শুনলো না আমার কথা, গোঁয়ার মহিলা! এখন তার শখের মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাকে।'

এ পর্যায়ে আমি একটা ভুল করে ফেললাম, কেন করলাম কে জানে, সবই ওপরওয়ালার ইশারা নিশ্চয়ই। বেড়াল আমিও খুব একটা পছন্দ করি না, সুযোগ পেলে কষে লাথি লাগাই, আর এখন মতিভ্রমের কবলে পড়ে এই প্রবল বেড়ালবিদ্বেষী মনজুর চাচার কাছেই বেড়ালের হয়ে ওকালতি করতে গেলাম, 'কেন চাচা, বেড়াল তো নবীজীর প্রিয় জীব?'

মনজুর চাচা সটান সোজা হয়ে বসে আমাকে আগাপাস্তলা ভালো করে খুঁটিয়ে দেখেন, তারপর মন্দ্রস্বরে বলেন, 'আমি কি নবীজী?'

আমি ঢোঁক গিলে সাথে সাথে প্রবল প্রতিবাদ করি।

মনজুর চাচা আমাকে আরো এক দফা খুঁটিয়ে দেখে বলেন, 'তুই কি নবীজীর খুব আদর্শ উম্মত? তুইও কি বেড়াল ভালোবাসিস?'

আমি গা বাঁচানোর জন্যে এবার প্রাঞ্জল ভাষায় বেড়ালের বদনাম করি, 'আমি? কক্ষণো না। বেড়াল খুবই বদ জানোয়ার!' বেড়ালের প্রতি কোনরকম অনুরাগ দেখাতে গিয়ে ধোলাই খাওয়ার শখ আমার নেই।

মনজুর চাচা এবার চটে যান, 'তাহলে বেড়ালের মোক্তারি করিস কেন, ইডিয়েট? চুপচাপ কথা শোন, ফালতু কথা বললে এক চড়ে তামশা দেখিয়ে দেবো।'

আমি সাথে সাথে মুখে একটা আলুপুরি গুঁজে দিয়ে মৌন মেরে যাই।

মনজুর চাচা গুম হয়ে যান। তারপর গলা খাঁকরে চায়ে দু'একটা যাযাবর চুমুক দেন। তারপর বলেন, 'তো, তোর চাচীকে বললাম, দ্যাখো, পালতে চাও তো গরু পালো। বাড়ির পিছনে জায়গা আছে, গোয়ালঘর বানিয়ে দেবো, গরু পাললে দুধ খাওয়া যাবে, বাজারে পানি-মেশানো দুধের লিটার আটাশ টাকা। মহিলা, বিশ্বাস করবি না, একেবারে তেড়ে আসে, বলে বহুত গরুর খেদমত করেছে সে জীবনে, গরু পোষার ইচ্ছা আর তার নাই। এ তো পরিষ্কার আমাকেই অপমান! ইচ্ছা করছিলো, চুলের মুঠি ধরে তুলে মারি এক আছাড়, অন্যের বউ হলে তা-ই করতাম, নিজের বউ দেখে সামলে গেলাম। তারপর বললাম, তাহলে এক কাজ করো, খরগোশ পালো। দেখতে বেড়ালের চেয়ে অনেক সুন্দর, কেমন কুটকুট করে দৌড়ে বেড়ায়, সবচে বড় কথা খরগোশের মাংস খেতে বেশ, বড় বড় টুকরো করে বারবিকিউ করে খাওয়া যাবে। তোর চাচী শুনে কপাল চাপড়ায়। বলে, শুধু মাংস খাওয়ার জন্যেই যদি লোকে ঘরে জন্তুজানোয়ার পুষতো, তাহলে হাতি কী দোষ করলো? --- শোন মেয়েমানুষের কথা, হাতির মাংস কি খায় কেউ? ইচ্ছা হলো, কিছু বলি, কিন্তু বললাম না। খোদা যাকে বুদ্ধিশুদ্ধি দেয় নাই, তার সাথে তর্ক করতে যাওয়া বৃথা। তারপর বললাম, চলো মুরগি পালি, ডিমের হালি চৌদ্দ টাকা, মুরগির জোড়া দেড়শো টাকা, মুরগির একটা হারেম খুলে ফেললে আর চিন্তা নেই, এই বাজারে মুরগি খেয়ে বাঁচা যাবে। তখন বলে কী শোন, আমি নাকি চাষা, আমার পরামর্শ মতো চললে পাড়ায় আর প্রেস্টিজ নিয়ে বাঁচা যাবে না। মুরগি পছন্দ না হওয়ায় কবুতর পোষার বুদ্ধি দিলাম, পাড়ায় সম্মান বাঁচানোর জন্যে বেশ সাহিত্য মিশিয়ে বললাম, চলো পারাবত পুষি। এই বুদ্ধিটা ফল দিচ্ছিলো, মাটি করলাম আমি নিজেই। তোর চাচী পারাবত শুনে বেশ গলে গিয়েছিলো, খতিয়ে দেখছিলো, পারাবত পোষা ব্যাপারটা প্রেস্টিজের কোন ক্ষতি করতে পারে কি না। এর মধ্যে আমি কেন যেন আপনমনে বললাম, জালালী কবুতরের কোর্মা যা স্বাদ! আর যায় কোথায়, তোর চাচী পারলে আমাকে জুতো মেরে বের করে দেয় বাসা থেকে। বলে, দূর হও তুমি চোখের সামনে থেকে!'

আমি আঁচ করার চেষ্টা করি, মনজুর চাচা কি গাঁটরিবোঁচকা নিয়ে অভিমানে দেশান্তরী, নিদেন পক্ষে বাসান্তরী হচ্ছেন কি না।

তিনি বকে যান, আমি এই ফাঁকে আরেকটা পুরিতে মনোনিবেশ করি। 'তো, কোনমতে সামলে নিয়ে আমি তাকে আরো সদপরামর্শ দেই। বলি, গিনিপিগ পালো, নয়তো হ্যামস্টার, উঁহু, রাজি হয় না, তার নাকি ঘেন্না লাগে। চিন্তা কর একবার, বেড়াল ঘেন্না লাগে না, হ্যামস্টার ঘেন্না লাগে। তারপর বলি, আচ্ছা চলো তোতা পালি, তোতা পাখি দেখতে ভালো, কথাও বলে ক্যাটক্যাট করে, বেশ হবে। তোতা রাজি না হলে ময়না। কিন্তু সেগুলোও তার সয় না, তার নাকি কী একটা অ্যালার্জি আছে। আমি তো বরং জানতাম, অনেকের বেড়ালে অ্যালার্জি আছে, আর তোর চাচীর অ্যালার্জি তোতাময়নায়! আসল কথা হচ্ছে, মহিলার অ্যালার্জি আমার কথায়। আমি যা-ই বলি, কোনটাই তার পছন্দ হয় না। শেষে যখন বললাম, চলো কুকুর পালি, একটা ভালো টেরিয়ারের বাচ্চা চাইলে আমার বন্ধু মোফাজ্জল মাগনা দিয়ে দেবে। এই কথা শুনে মহিলা সু্যটকেস গোছায়। সে নাকি বাপের বাড়ি চলে যাবে, ঐখানে গিয়ে বেড়াল পালা শুরু করবে, তবুও বাড়িতে সে নাপাক কুকুর ঢুকতে দেবে না, খাবলুর মাংস খাওয়ার পর থেকেই মহিলার কুকুরের ওপর ঘেন্না ধরে গেছে। শুধু তাই না, এখন হয় বাসায় সে বেড়াল নিয়ে থাকবে, নয়তো আমি থাকবো। আমাকেও সে টিকতে দেবে না! চিন্তা করে দেখ, কী উগ্র চিন্তাধারা মহিলার! আজ সমাজে সন্ত্রাস বেড়েছে এইসব মহিলার কারণে। এরাই যতো নষ্টের গোড়া!'

আমি সমবেদনা জানাই, 'চাচা কি সেই কারণেই বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন?'

মনজুর চাচা সন্তুষ্ট হাসি দ্যান। 'পাগল? ঐ বেটির কথায় আমি বাড়ি ছাড়বো? আমিও বাঘের বাচ্চা বাঘ। বললাম, ঠিক আছে, পালো বেড়াল, কিন্তু উল্টাপাল্টা দেখলে চামড়া তুলে ফেলবো, সেই চামড়া দিয়ে মানিব্যাগ বানানো হবে।'

আমি আঁতকে উঠি।

'উঁহু, বোকা ছেলে,' আমাকে আশ্বস্ত করেন মনজুর চাচা, '--- তোর চাচীর চামড়া নয়, বেড়ালের চামড়া। আমি তো আর অত বলদ নই, ওভাবে ঐ খান্ডারনী মহিলাকে তখন চটিয়ে দিয়ে খামাখা ঝামেলায় পড়তে যাবো, হুঁহ! --- তো, শুরু করলো মহিলা বেড়াল পোষা।' চাচা গুম হয়ে আরেক কাপ চায়ের ফরমাশ দেন। 'এটা হচ্ছে ছয় মাস আগের ঘটনা।'

আমি একেবারে ঘায়েল হয়ে যাই। এ তো ইতিহাস! ইতিহাসের জের চাচা আজ পর্যন্ত টেনে চলেছেন?

'এই ছয় মাসে আবার জীবনটা কালি হয়ে গেছে!' হঠাৎ সর্পদংশিতলক্ষীন্দরভারেজর্জরিত বেহুলার মতো কাঁদো কাঁদো হয়ে বলেন পুরুষশার্দুল মনজুর চাচা। 'চিন্তা কর এই সিদ্দিকের কি কূটবুদ্ধি, একটা মাদী বিলাই গছিয়ে দিয়েছে তোর চাচীকে।'

আমি ঠিক ধরতে পারি না, বেড়ালের লিঙ্গের ঠিক কী ভূমিকা থাকতে পারে চাচার মসীলিপ্ত জীবনে। মাদীর বদলে মদ্দা দিলে কি সিদ্দিক চাচার সুবিধা হতো কিছু?

'বেড়াল চিনিস তুই?' মনজুর চাচা হঠাৎ শুধান।

আমি মাথা নাড়ি। 'হ্যাঁ, চিনি। দেখলেই সনাক্ত করতে পারবো। বাঘের মতো, খালি গায়ে কোন ডোরা নাই। বাঘের মাসি বলে বেড়ালকে।'

মনজুর চাচা জুলজুল করে খানিকটা দেখেন আমাকে, তারপর বলেন, 'ওভাবে তো বেড়ালকে একটা ছাগলও চিনতে পারবে। বেড়ালের স্বভাবচরিত্রের সাথে তোর জানাশোনা আছে? মানে, কতবড় হারামজাদা একটা জানোয়ার, তা জানিস?'

আমি মাথা দোলাই। না।

'শোন তাহলে।' চোখ বুঁজে শুরু করেন চাচা, তার স্বর আবার কাঁদো কাঁদো হয়ে আসে। 'গান্ডেপিন্ডে গিলে শালী। সারাটা দিন খায়। হালাল যে খাবারটা দেয়া হয়, সেটা তো খায়ই, চুরি করে হারামটাও খায়। ফ্রিজটাকে আঁচড়ে কামড়ে ফালাফালা করে ফেলেছে। আমার খুব দুধ খাওয়ার শখ, এই বেড়ালী মেহমান হয়ে আসার পর আমার দুধ খাওয়া মাথায় উঠে গেছে। মাছ মাংস কিনে এনে দুই মিনিট ফেলে রাখা যায় না, সে সাবাড় করে ফেলে। তোর চাচী তাতে কী খুশি, কী যে তার আহ্লাদ তখন, দাঁত বের করে হেসে বলে, দুষ্টু! আর ঐ জানোয়ারটা তখন ল্যাজ নাড়ে, মানে, আরো খামু। মাঝে মাঝে পাত থেকে মাছমুরগি থাবা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়! এই ছয় মাসে এমন কোন দিন নেই, যেদিন আমার শার্টে লুঙ্গিতে ঝোল উল্টে পড়েনি!'

আমি তন্ময় হয়ে শুনি।

'খাওয়া চুরি করছে, ভালো, কিন্তু ভদ্রভাবে খা। অর্ধেক খেয়ে এঁটোটা যেখানে সেখানে ফেলে যায়। কখনো বাথরুমে, কখনো ড্রয়িংরুমে, কখনো শোবার ঘরে। সারাটা ঘরে তার ভুক্তাবশেষ। মেহমান এসে বসলো সোফায়, তারপর চিৎকার দিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। কী ব্যাপার, কী ব্যাপার? পেছনে তিন ইঞ্চি কাঁটা বিঁধে গেছে। ঘুমাতে গেছি রাতে, কম্বল গায়ে দিতে গিয়ে হাতে কাঁটা ফুটে গেলো।'

আমি মুখ বিকৃত করি।

'এই তো গেলো খাওয়ার কথা, খাওয়ার পর যে কাজটা সে করে সেটা শোন? বেড়াল তো আবার হেগে সেই গু লুকিয়ে রাখে। সারাটা ঘরে তার সেই গুপ্তধনের সৌরভ। কোথায় যে সে কর্মটি করে রাখে, খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাঝে মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় বটে, সেটা আমার বালিশের নিচে, কম্বলে, আমার প্যান্টে। তার গুয়ের গন্ধ ঢাকতে গিয়ে আমার এয়ার ফ্রেশনারের পেছনে হাজার হাজার টাকা গচ্চা গেছে। তোর চাচীকে বিচার দিলে সে বলে কী শুনবি? বলে আমার নাকি নাকে সমস্যা। আর মাঝে মাঝে যে বদ গন্ধটা ঘরে পাওয়া যায়, সেটা নাকি মদের গন্ধ। আমি নাকি চুরি করে মদ খাই। তুই তো লায়েক হয়েছিস, তুই বল, মদের গন্ধ আর বেড়ালের লাদির গন্ধ এক হলো?'

আমার লায়েকত্বে মনজুর চাচার অগাধ আস্থা দেখে আমি যুগপৎ বিস্মিত ও পুলকিত বোধ করি। সবক'টা দাঁত বিকশিত করে প্রবল পরাক্রমে এ দুয়ের সাদৃশ্যকে অস্বীকার করি। 'কক্ষণো না! মদের গন্ধ কত সুন্দর!'

মনজুর চাচা ভুরু কুঁচকে বলেন, 'খুব লায়েক হয়েছিস দেখছি! তোর বাপকে বলতে হবে কথাটা, পরে কোন এক সময় --- এখন শোন, এই বেড়ালী খেয়ে আর হেগে আমার বাড়িটার ওপর যে অত্যাচার করেছে, এই ছ'টা মাস, একেবারে অবর্ণনীয়। অকথ্য আর অশ্রাব্যও বটে। কিন্তু তোর চাচী, এমন নিমকহারাম মহিলা, আমার কোন কথা সে কানে নেয় না, সে দিনরাত মশগুল হয়ে থাকে তার বেড়াল নিয়ে। আর তোর চাচী এমন কান্ডজ্ঞানহীন, প্রথমে বেড়ালের নাম রেখে বসেছে মন্টু মিয়া, তারপর যেই আমি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম যে এটা একটা মাদী বেড়াল, তখন নাম পাল্টে রেখেছে। পাল্টে আবার নাম দিয়েছে কী শোন, শেহ্রজাদী! শেহ্রজাদী না ঘোড়ার ডিম, হারামজাদী একটা! তার শেহ্রজাদীর নামে কোন অভিযোগ সে শুনতে রাজি না। আর আমি রেগে গেলে সে বলে, বেড়াল তো আর তোমার মতো বিদ্যার জাহাজ না, মাঝে মাঝে এরকম করবেই, এটা নিয়ে বেশি ঢং করবা না। প্সপ্পু; চিন্তা কর, লাই দিয়ে দিয়ে কোথায় তুললো সে বেড়ালনীটাকে?'

আমিও লাইপ্রাপ্ত সেই বেড়ালরাজকুমারীর অবস্থানটা আঁচ করার চেষ্টা করি, যতদূর মনে হয় সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলে, সে মনজুর চাচার বেশ খানিকটা ওপরেই আছে।

'আর এই আহ্লাদ দিয়ে দিয়ে সে বদমাশ জানোয়ারটার মাথা পুরোই খেয়েছে। চরিত্র বলে আর তার কিছুই রইলো না। তাছাড়া দেখতে হবে না, কোন বংশের বেড়াল? সিদ্দিকের বাড়ির বেড়াল তো চরিত্রহীন হবেই, এ আর নূতন কী!'
আমি খুক করে কাশি।

মনজুর চাচা পাত্তা দেন না। 'কয়েক মাস যেতে না যেতেই হারামজাদী একটা হুলো প্রেমিক জুটিয়ে ফেললো। সেই খাইষ্টা জীবটা রাতবিরাতে আমার বাড়ির দেয়ালে উঠে যে কী চিৎকারটা করতো, ওফ, অসহ্য। এক একদিন ইচ্ছা হতো গুলি করে মারি, কিন্তু বন্দুকটা পড়ে থেকে থেকে নলে ময়লা জমে বরবাদ হয়ে ছিলো, তাই কিছু করা যায়নি। তোর চাচী, কোথায় হুলোটাকে একটু টাইট দিবে, তা না, সে উল্টে আরো খাতির করে হারামজাদাকে, নাম দিয়েছে বাদশা মিয়া। বাদশা মিয়াই বাড়ির বড় কুটুম্ব তখন।'

আমি বাদশা মিয়ার সাথে নিজের সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা করি, সিদ্দিক সাহেবের বাড়ির দেয়ালটার দিকে একবার তাকাই আড়চোখে। ওটাতে চড়ে রাতবিরাতে গান গাওয়া কি আমাকে পোষাবে? আর, সিদ্দিক সাহেবের কি আদৌ মরচে ধরা কোন বন্দুক আছে?

'শেহরজাদী আর বাদশা মিয়ার প্রেমের ঠ্যালায় আমার রাতের ঘুম হারাম। কুত্তার বাচ্চা বিলাই দুইটা তখন আমার বাসায় খায়, আমার খাটে হাগে, আবার আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত খিঁচায়। চিন্তা করে দেখ, কত্ত বড় সাহস!' মনজুর চাচা চায়ের কাপটা আছড়ে রাখেন টেবিলের ওপর।

'তারপর?' আমি রূদ্ধশ্বাসে প্রশ্ন করি, বাদশা মিয়ার অমঙ্গল আশঙ্কায় আমার চিত্ত ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

'তারপর আর কী? বেড়াল তো আর বেড়ালই। বাদশা মিয়া তো পাড়ার বেড়াল, বাদশা শাহজাহান তো আর না। তার প্রেম শিগগীরই ফুরালো। শেহরজাদী পেটে বাচ্চা নিয়ে আমার বাড়িতেই রয়ে গেলো, বাদশা হারামজাদা ভাগা মারলো। আমি তো পারলে বাসায় মিলাদ পড়াই, ভেবেছিলাম, শেষ পর্যন্ত খোদা রহম করলো, এখন আর রাতে সেই হাউকাউ ক্যাচম্যাচ শুনতে হবে না। কিন্তু শান্তি মিললো না। পেট বাঁধিয়ে ঐ কুলটা বেড়ালীটার মেজাজই পাল্টে গেলো, খালি ফ্যাচফ্যাচ করতো সারারাত, আঁচড়ে কামড়ে আমার ঘরের পর্দাগুলোর হালৎ খারাপ করে দিয়েছে জানোয়ারটা।'

আমি সহানুভূতিসূচক একটা হাসি কপচানোর চেষ্টা করি। বাদশা মিয়ার পারফরম্যান্সে কেন জানি না, মনে মনে খুশিই হই, একবার ব্যাটার পিঠও চাপড়ে দিই। সার্থকনামা প্রেমিক ব্যাটা। এমন বাদশাবৃত্তিতে নিজেকে নিয়োজিত করা যায় কি না, ভাবি আনমনে।

'ফ্যাকফ্যাক করে হাসিস না এমন, স্টুপিড। শোন তারপর কী হলো, অ্যাই ছ্যামরা, আরো দুইটা চা দে তো! প্সপ্পু; হ্যাঁ, তোর চাচী আবার এদিকে আরেক কাঠি সরেস। সে শেহ্রজাদীর এমন আদরযত্ন শুরু করলো, যেন নাতনি আসছে তার। পুষ্টিকর খাবার খাওয়ায়, চান্দে চান্দে ওজন মাপে, কী সব আদিখ্যেতা --- যাক গিয়ে। কয়েক হপ্তা আগে বাচ্চা দিয়েছে হারামজাদী। চারটা বাচ্চা, দুটো হুলো, দুটো মিনি। বাচ্চাগুলো শুরুতে দেখতে ভালোই ছিলো, চোখটোখ ফোটেনি, সারাদিন কুঁইকুঁই করতো, মেঝেতে গড়াতো, মাঝে মাঝে কোলে নিলে চুপচাপ বসে গাঁইগুঁই করতো। এমনকি আমারও ভালো লেগেছিলো। আর এই সময়টায় শেহরজাদীও বেশ ভদ্র হয়ে গিয়েছিলো, কোন উৎপাত করেনি, ভদ্রলোকের মতো বসবাস করেছে। আমি ভাবলাম, যাক, সুদিন এলো শেষে।'

আমি মনজুর চাচার কাহিনীর মোড়ে হোঁচট খাই।

'কিন্তু বেড়ালের বাচ্চা সারাজীবন বাচ্চা থাকে না। খুব জলদি সেগুলোর চোখ ফোটে, তারপর সেগুলো বড় হয়ে যায়, বড় হয়ে সব শুয়োরের বাচ্চা হয়ে যায়। বাচ্চাগুলো বড় হতে না হতেই শেহ্রজাদী হারামজাদী নতুন উদ্যমে তার পুরান কারবার করা শুরু করলো। আর বাচ্চাগুলোও তাদের মায়ের দেখাদেখি একই কীর্তি করে। ফলটা কী হলো? এখন আমার ঘরে পাঁচটা বেড়াল, তারা চুরি করে, রাক্ষসের মতো খায়, খোক্কসের মতো হাগে, আর উঠতে বসতে আমাকে পেরেশান করে।' মনজুর চাচা কপালের ঘাম মোছেন।

আমি কিছু বলার সাহস পাই না, চুপচাপ চায়ের কাপে চুমুক দিই।

'তোর চাচীকে বললাম, এটা খুবই খারাপ হলো। কেয়ামতের আর বেশি দেরি নাই। এক শেহ্রজাদী চারখান বাচ্চা পয়দা করে বসছে, তাদের মধ্যে দুইটা মাদী। ওহ, তোর চাচী তো আবার অপোগন্ডগুলোর নাম দিয়ে ফেলেছে, সুয়োরানী দুয়োরানী লালকমল নীলকমল। আমি তাকে অঙ্ক কষে দেখিয়ে দিলাম, যে এই হারে চলতে থাকলে প্সপ্পু; সব তো জন্মেছে প্রেম করার জন্যে প্সপ্পু; আরো ছয়মাস পর বাড়িতে বেড়ালের সংখ্যা হবে সতেরো, এক বছর পর হবে তেপ্পান্নটা, শেষমেষ আমাদেরকেই বাসা থেকে উচ্ছেদ হতে হবে। তোর চাচী এসব হিসাব কানেই নেয় না। সে তার সুয়োদুয়োলালুনীলুকে নিয়ে ব্যস্ত। আমি সকালে কি খেলাম না খেলাম, কাপড়জামা পড়লাম কি ন্যাংটাই থাকলাম, তা নিয়ে তার ভ্রুক্ষেপ নাই, তার বেড়ালগুলি কী খাবে, সেটা নিয়ে সে ব্যস্ত।'

আমিও দুশ্চিন্তিত হই। বেড়াল এই হারে বাড়ে, জানতাম না। কিন্তু চাচার হিসেবে নিশ্চয় ভ্যাজাল আছে, তারণ তা না হলে অ্যাদ্দিনে গোটা দুনিয়া বেড়ালে ছয়লাপ হয়ে যেতো। তিনি শুধু নিখুঁত উৎপাদনের হিসেবই করেছেন, কিন্তু বাস্তব বড় খুঁতিয়াল। শেহরজাদী আর বাদশা মিয়া ভালো খেতে পাচ্ছে, তাই চারখানা পয়দা করে বসেছে। এই সুয়োদুয়োলালুনীলুরাও ভালো খেতে পাচ্ছে, তাই আশা করা যায় তারাও বাবামায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু বাস্তবের উদ্বাস্তু বেড়ালরা পথে পথে ঘুরে বেড়ায় আর এঁটোকাঁটা খায়, তারা যে হারে জন্মায় প্রায় সে হারেই মারা পড়ে। তাই আমরা এখনো চ'রে বেড়ানোর জায়গা পাই, নইলে পেতাম না।

ওদিকে মনজুর চাচা বকে চলেন, 'আমি এবার ঠিক করলাম, আমাকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তোর চাচী চেতলে চেতুক, আমার কিছুই যায় আসে না। আমি করলাম কী, পিচ্চিগুলিকে ঠ্যাং বেঁধে গত পরশু দিন রাতের বেলা চুপচাপ এসে সিদ্দিক হারামজাদার বাড়ির ভেতরে ছুঁড়ে পার করে দিলাম। ঐ শালা, ঐ শালার বউ বেড়ালরসিক, বেড়ালের সমঝদার তারা, আর এই বেড়ালের বাচ্চাগুলি হচ্ছে তাদের আসলের ওপর সুদ। তাদের ইনভেস্টমেন্টের হাতে হাতে ফল। আমি বিচার করে দেখলাম, এগুলি আইনত ন্যায্যত ধর্মত তাদেরই প্রাপ্য। সেধে দিলে যে সিদ্দিকের মতো ছোটলোক বেড়ালগুলিকে রাখতে চাইবে না, সেটা আমি স্পষ্ট জানি, তাই চুপচাপ খোদাতালার মতো ছপ্পর ফেড়ে দিয়ে এসেছিলাম। তোর চাচী তো পরদিন সকালে উঠে বাড়ি মাথায় করে ফেললো, তারা সোনারা কোথায়, কোথায় তার সাত রাজার ধনেরা। আমি এদিকে চুপচাপ পেপার পড়ি আর মনে মনে হাসি। বোঝ বেটি, এবার বোঝ মজা।'

আমি পরের ধাপটা আঁচ করে ফেলি।

'কিন্তু বেড়াল যে এমন প্রভুভক্ত, আমি জানতাম না। আমার ধারণা ছিলো কুকুরই প্রভুভক্ত, বেড়াল একটা নিমকহারাম জীব। কিন্তু না। বাচ্চাগুলি গতকাল দুপুরেই হেলতে দুলতে এসে হাজির। নবাবের বাচ্চার মতো হাবভাব। তোর চাচী তো আনন্দে গদগদ। ছানা খাওয়ায়, পনির খাওয়ায়। বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে মরে যায়, তার স্বামী দিনের পর দিন বেড়ালের এঁটো খেয়ে খেয়ে রাস্তার নেড়ির মতো হাড় জিরজিরে চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তার কোন বিকার নাই, আর বারো ঘন্টার তফাতে বেড়ালের বাচ্চাগুলি নাকি শুকিয়ে কাঠি হয়ে গেছে, তাদের ভালো পথ্য দরকার। পথে ছুঁড়ে ফেলে দিলেই ল্যাঠা চুকে যেতো, হাতেনাতে পথ্য পেয়ে যেতো তারা, কিন্তু কাকে বোঝাবি এ কথা? --- বিকালে আবার সিদ্দিক হারামজাদা লোক পাঠিয়েছে, সে এসে নালিশ করে, বলে আপনাদের বাড়ির বেড়াল আমাদের বাড়িতে গিয়ে খুব উৎপাত করেছে, জিনিসপত্র ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছে, গোটা ঘর ময়লা করেছে, এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমি মিষ্টি করে বললাম, কেন বাবা, তোমার কেন মনে হলো এগুলো আমাদের বেড়ালের কাজ? আমি তো যতদূর জানি, তোমাদের ঘরেই এক কাঁদি বেড়াল আছে! সেই হারামজাদা তখন কী বলে শুনবি? বলে আগে ছিলো, কিন্তু সেগুলোর উৎপাত সহ্য করতে না পেরে সবকয়টাকে পাড়ার লোকের কাছে বিলিয়ে দেয়া হয়েছে। --- খালি চিন্তা করে দেখ, সিদ্দিকের মাথায় কী চোখা শয়তানি বুদ্ধি। নিজে সামলাতে না পেরে সেই ঝামেলা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে! আমি তখন বললাম, দ্যাখো বাবা, তোমাদের বিলানো বিলাই এই ছয়মাস আমার জীবনটা তছনছ করে ফেলেছে। ক্ষতি যদি কিছু হয়ে থাকে, সেটা আমারই হয়েছে। তার পূরণ যদি করতে হয়, তাহলে সিদ্দিক সাহেবেরই করা উচিত। আর আমার বাড়ির বেড়াল তোমাদের বাড়িতে গিয়ে উৎপাত করেছে, এটা যেমন বিশ্বাসযোগ্য না, তেমনি গ্রহণযোগ্যও না। তারা কেন এত আদরযত্ন ফেলে সিদ্দিকের মতো একটা চামারের কাছে যাবে? আর যদি গিয়ে থাকে, নাড়ির টানে গেছে, কারণ ঐটা তাদের নানীবাড়ি। নানীবাড়িতে গিয়ে লোকে একটু আধটু দুষ্টামি করেই, ঐগুলি ধরতে হয় না। এখন ফুটো।'

আমি শুনে যাই। সিদ্দিক সাহেব তাঁর মেয়েদের নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন কি না, আঁচ করার চেষ্টা করি। এই পাড়ার লোকের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার পদ্ধতিটা খারাপ কিছু না।

'আমি তারপর ভেবে দেখলাম,' মনজুর চাচা চায়ে একটা প্রকান্ড চুমুক দেন, 'সিদ্দিককে একটা হালকা টাইট দেয়া গেছে --- হাতে না হোক, মুখে --- এবার তোর চাচীর সাথে একটা ফয়সালা হওয়া দরকার। মহিলা আশকারা পেয়ে পেয়ে মাথায় উঠে গেছে। আমি তাকে উচিত শিক্ষা দেবো বলে ঠিক করেছি। আজকে সে নিউ মার্কেটে গেছে ক্যাটফুড কিনতে। আমি এই ফাঁকে সবকয়টা হারামখোরকে দৌড়ঝাঁপ দিয়ে ধরেছি। অবশ্য খবিশ জানোয়ারগুলি আমাকে আঁচড়ে কামড়ে শেষ করে ফেলেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকয়টাকে আমি বস্তায় ভরতে পেরেছি, এখন ডাক্তারের কাছে ইঞ্জেকশন নিয়ে তবে আসছি। তোর চাচী ফিরে এসে কোন শেহরজাদী-হারামজাদী সুয়োরানী-শুয়োরনী দুয়োরানী-গুয়োরানী লালকম্বলনীলকম্বল খুঁজে পাবে না। সে যদি জিজ্ঞেস করে, তার বেড়াল কোথায়, আমি বলবো বাদশা মিয়ার কাছে খোঁজ করতে। অথবা এ পাড়ায় বেড়ালের হর্তাকর্তাবিধাতা, বেড়ালসংস্কৃতির ধারকবাহকরক্ষক ঐ বেড়ালতপস্বী সিদ্দিকের পো-কে জিজ্ঞেস করতে বলবো। তবুও তোর চাচী আমাকেই সন্দেহ করবে, আমি জানি, সে আমাকে আরেক দফা আঁচড়ে কামড়ে শেষ করবে, দরকার হলে আমি আরেক দফা ইঞ্জেকশন নেবো। --- তবে সে যদি বেশি উৎপাত করে, তাহলে আগেই বলে রাখছি, আমার কাছে তার সাইজেরও একটা বস্তা আছে, হ্যাঁ!'

আমি এতক্ষণে মনজুর চাচার পায়ের কাছে পড়ে থাকা বোঁচকাটার দিকে তাকাই। সেটা যেন অল্প একটু নড়েচড়ে ওঠে। আমি বলি, 'এই ব্যাগে করে নিয়ে এসেছেন নাকি?'

মনজুর চাচা হাসেন ঠা ঠা করে। 'হ্যাঁ। মজবুত পলিথিনের ব্যাগ। তবে পাঁচপাঁচটা বেড়ালকে এরকম একটা ব্যাগে রেখে দিলে দুই মিনিটেই ব্যাগ ফাঁসিয়ে বেরিয়ে যাবে। ব্যাগে ভরে আচ্ছামতো পেঁদিয়েছি শালাদের। অজ্ঞান হয়ে আছে বোধহয়।'

আমি শিউরে উঠি। বাদশার বংশধরদের এই পরিণতি?

মনজুর চাচা আমার দিকে তাকিয়ে ভ্রুকুটি করেন। 'সে কী? তুই শরীর চোমড়াচ্ছিস কেন? উঁহু বৎস, অত নরমটি হলে চলবে না, চরমটি এবং গরমটি হতে হবে! বীরপুঙ্গব না হলে কিছুতেই সংসার করতে পারবি না, বউয়ের ধোলাই খেয়ে অচিরেই ফিট হয়ে যাবি। বাঘের মতো নিষ্ঠুর না হলে বেড়ালের কাছে হার মানতে হবে তোকে। আর তোকে কেন ছাই উপদেশ দিচ্ছি, আমার তো এ কাজটা করা উচিত ছিলো ছ'মাস আগেই! খামোকা এত ভালো একটা সমাধানকে মাথায় জিইয়ে রেখে এই ছয়ছয়টা মাস বেড়ালের উৎপাতে অতিষ্ঠ হতে হলো আমাকে।' চাচা চায়ে চুমুক দেন ঠাস করে। 'আর একটা পরামর্শ দিচ্ছি তোকে শোন, বেড়াল মারতে দ্বিধা করবি না কখনো। বিয়েশাদী করলে যতো জলদি সম্ভব বেড়াল মেরে নিজের অধিকার কায়েম করবি, সম্ভব হলে বাসর রাতেই মারবি।'

নিজের বাসর রাতে করণীয় নৃশংসতার কথা ভেবে আঁতকে উঠি, খানিকটা লজ্জা লজ্জাও লাগে। কিন্তু সামলে যাই। ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করি, 'কী করবেন এখন এগুলোকে?'

মনজুর চাচা চুলে হাত চালান। 'আমিও এ নিয়েই ভাবছি, বুঝলি? প্রথমে ভেবেছিলাম, গোয়েন্দা গুল মোহাম্মদের ঐ পোষা নেড়ি, ডগি না ভগি --- কী যেন নাম, ওটার সামনে ছেড়ে দেবো সবকটাকে। অত্যন্ত তেজী কুত্তা, দুই মিনিটেই পাঁচটাকে সাবড়ে দেবে। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, এতে যেমন অযথা রক্তপাত হবে, পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি হবে, তেমনি ডগির বদহজম হতে পারে। মাগনা খেয়ে খেয়ে বেড়ালগুলির যা কেঁদো স্বাস্থ্য হয়েছে, গুরুভোজনে ডগির একটা অনিষ্ট হতেই পারে। তাছাড়া, জ্ঞান ফিরে এলে পাঁচটা পাঁচদিকে ছুটবে, ডগি একটাকেও পাকড়ে সাবাড় করতে পারবে না। আর পরে ওগুলো বাসায় ফিরে আমার ওপর একহাত দেখিয়ে দেবে। তাই আর ডালকুত্তা দিয়ে খাওয়ানো গেলো না।'

আমি ঢোঁক গিলি।

'তারপর ভাবলাম, মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে ফেলি। হেঁটোয় কন্টক আর ওপরে কন্টক। ডালকুত্তাদের মাঝে বন্টক করা না গেলে এটাই পরবর্তী ভালো আইডিয়া, কিন্তু এতে করে আমাকে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে বিস্তর, আর লোকজন দেখে ফেললে উল্টোপাল্টা সন্দেহ করবে। আর, কী একটা গল্প পড়েছিলাম, সেখানে এমনই কয়েকটা বেড়াল ভূত হয়ে
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:২৭
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিয়া আচরণে অতিষ্ট হয়ে হযরত আলী (রা.) ও তাঁর শিয়ার বিপক্ষের সত্য প্রকাশ করতে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩১



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×