বাংলায় কিভাবে বলা যায়? অনর্থশাস্ত্র?
স্টীভেন লেভিট একজন অর্থনীতিবিদ, বয়সে তরুণ। তেমনি আরেকজন তরুণ সাংবাদিক স্টিফেন ডাবনার। লেভিটের গুণ হচ্ছে, তিনি সবকিছুর ছায়ালো দিকটা দেখার আর দেখানোর চেষ্টা করেন। আর ডাবনারের গুণ হচ্ছে লেখনীতে। কাজেই একজনের ভাবনা আরেকজনের কলম বেয়ে শেষমেশ বার হলো এই ফ্রীকোনমিক্স।
অর্থনীতি বড়সড় ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায়, তবে তার সামর্থ্য আছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপারস্যাপার নিয়েও অনেক কিছু বলার। লেভিট সে কাজটাতেই মন দিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে এলোমেলো কিছু আর্টিকেলকে নিপুণভাবে জুড়ে দেয়া হয়েছে বইটাতে। তবে এগুলোর পেছনে লেভিটের স্বতসিদ্ধগুলো হচ্ছে এমন,
1. বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের জীবনটাই দাঁড়িয়ে আছে ইনসেনটিভ (কী বলবো বাংলায়, ফুসলি? উৎসাহ? প্রলোভন? উঁহু, মূলা!) এর ওপর। মূলার আকৃতি ও প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে পালটাচ্ছে মানুষের আচরণ।
2. কনভেনশনাল ওয়াইজডম বা প্রচলিত জ্ঞান বেশিরভাগক্ষেত্রেই সঠিক নয়।
3. যেকোন বড়সড় নাটুকে ঘটনার পেছনে, অনেক পেছনে কাজ করে মিহি সব কারণ, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বোধের অগোচরে থাকে।
4. বিশেষজ্ঞরা তাঁদের আস্তিনের আড়ালে রাখা তথ্যগুলোকে নিজের সুবিধামতো কাজে লাগান।
5. কী মাপতে হবে আর কিভাবে মাপতে হবে তা জানা থাকলে এই জটিল দুনিয়াটা আরেকটু সহজ লাগে।
এরপর লেভিট বকে গেছেন ডাবনারের কলমে। স্কুল শিক্ষক আর সুমোকুস্তিগীরদের মধ্যে মিলটা যে আসলে চোট্টামির ক্ষেত্রে, সেটা নিয়ে এক দফা। জমির দালাল আর কু ক্লুক্স ক্ল্যান যে আসলে অনেকটা একই কিসিমের মাল, সেটাও বুঝিয়েছেন বেশ ফর্সা করে। নেশার জগতের চুনোপুঁটি আর রাঘববোয়ালদের নিয়ে রয়েছে বেশ চমকালো একটা আর্টিকেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের ক্রমবিস্তারের পর হঠাৎ তা কমে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে লেভিট বার করেছেন এক দারুণ তথ্য, গর্ভপাত বৈধ করে আদালতের জারি করা আইনই নাকি আসল হিরো, পুলিশ বা পলিটিশিয়ানরা নয়। আর শেষমেশ লেভিট দেখিয়েছেন ভালো অভিভাবক কাকে বলে, একেবারে পরিসংখ্যান হাঁটকে। বইটা অবশ্য শেষ হয়েছে একটা আবছা আর্টিকেল দিয়ে, তবে তা-ও ভাবনার বিরাট খোরাক, সংস্কৃতির সংখ্যায়ন নিয়ে।
বইটা পড়ে ভালো লাগলো। আরো একটা নুড়ি কুড়িয়ে নিলাম সৈকত থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


