1.
এক একটা বইয়ের ভাঁজে মাঝে মাঝে সমস্ত পৃথিবীটাই লেপ্টে যায়। শব্দ, বর্ণ, গন্ধ, স্পর্শ এসে ছুটে মিশে যায় প্রত্যেক পাতায়। অনেক অনেক দিন পর সে বই খুললে শুকনো ফুলের পাঁপড়ির মতো খসে খসে পড়ে সেই পুরনো চারপাশ।
স্মরণ করি এহমাদ ফারাজকে,
আব কে হাম বিছড়ে তো শায়দ কাভি খাবোঁমে মিলেঁ
জিস তারহা সুখে হুয়ে ফুল কিতাবোঁ মে মিলেঁ ...।
(এখন বিচ্ছেদের পর হয়তো কখনো স্বপ্নে দেখা হবে
যেভাবে বইয়ের ভাঁজে শুকনো ফুলের দেখা মেলে।)
পড়ছিলাম একটি কুকুরের উপাখ্যান, তারাপদ রায়ের লেখা। চিলির মতো একটা কুকুর ছিলো না বলে আজও দুঃখ হয়। বইটা হাতে নিয়ে খুলে দেখি, আমার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আমার আনন্দময় শৈশবের রেণু।
2.
মাগুরার এক গ্রামের পথ ধরে হাঁটছি। টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হলো হঠাৎ। এক মা তাঁর শিশুটিকে জীর্ণ শাড়িতে ঢেকে পথ চলছেন, আর বিড়বিড় করছেন। কৌতূহল জাগলো, একটু শ্লথ হয়ে তাঁর পাশে এসে শুনলাম তিনি ক্রমাগত বলছেন, একটু দেরি করো আল্লাহ, বাচ্চাটারে ঘরে নিয়া যাই, একটু দেরি করো আল্লাহ ...।
খুব কষ্ট হলো, খুব ভালো লাগলো, খুব রাগ হলো একই সাথে। কষ্ট হলো কেন জানি না, হয়তো এমন নির্ভার হয়ে কারো কাছে কিছু চাইতে পারি না বলে। ভালো লাগলো ঈশ্বরের প্রতি মহিলার এই সরল আস্থার কথা জেনে। রাগ হলো তাদের ওপর যারা ঐ আস্থার জায়গাটায় আঙুল দিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়।
তবে অবিশ্বাসী আমি দেখলাম, বৃষ্টি থেমে গেলো। ঈশ্বরের জন্য খুব ভালোবাসা হলো মনের ভেতর। সবার জন্যে দুয়ার খুলে কেউ একজন বসে আছেন, এমন কল্পনা করে খুব ভালো লাগলো। নিজের মনেই ঈশ্বরের ঠোঁটে গান তুলে দিলাম, আমার সকল নিয়ে বসে আছি, সর্বনাশের আশায় ...।
3.
সেদিন রেডিও টুডেতে সন্ধ্যেবেলা একটা সাঁওতাল গান শোনাচ্ছিলো, কথাগুলোও স্পষ্ট শুনতে পারিনি। গাড়ি চলছে ঝড়ের বেগে, আমি সীটে বসে ঢুলছি, কিন্তু গানটা বাড়তে বাড়তে ডুবিয়ে দিয়েছে সমস্ত গাড়ি। কার গাওয়া তা-ও শোনা হয়নি। অস্পষ্ট গুনগুন করছি গত তিনদিন ধরে। এখন আবার শুনতে পেলে আমার সমরখন্দ আর বোখারা দান করে দিতে রাজি আছি।
4.
একটা গল্প লেখার চেষ্টা করছি গত কয়েক হপ্তা ধরে। ড্রাফটের বাক্সে পড়ে আছে সে। এর মধ্যে আরো কত গল্প আর কবিতার ছক আর পংক্তি এসে ঊরু দেখিয়ে গেলো আমাকে, কিন্তু সেই অসমাপ্ত গল্প আর এগোচ্ছে না। কী করা যায়?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


