somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞাপনের বনে-

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঘটা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার ওপর। ব্যস্ত রাস্তা। শাঁ শাঁ করে ছুটছে গাড়ি। তাই পেরুবার জো পাচ্ছে না।
সারা গায়ে ধুলোর পরত। জীর্ণ শরীর। বড়ো অসহায় হয়ে আছে বাঘটা।
গোল পাতা নেই। কেওড়ার বন নেই। নেই শাল-গামারির ঝোপ।
আছে শুধু বেনিয়ার লোলুপ দৃষ্টি। ভোগের অগ্ন্যুৎপাত। চারদিকে শুধু বিলবোর্ড আর বিলবোর্ড।
বিজ্ঞাপনের বনে বড়ো বিপন্ন বাঘ।
দৃশ্যটা আপনার শহরেরই। একটু দরদি মন নিয়ে টাইগারপাস মোড়টা ঘুরে এলেই বুঝতে পারবেন।
কী সুন্দর ছিমছাম একটা শহর বিলবোর্ডের মোড়কে মুড়িয়ে নরক বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সবুজের কোমল-বক্ষে কেবল বিজ্ঞাপনের আঁচড়।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটা সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছিল এই বিলবোর্ডের বিরদ্ধে। বৈধ অবৈধ নির্বিচারে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল অনেক ওভারহেড, বিলবোর্ড, পোল ইত্যাদি। আমি তখন ছুটিতে চট্টগ্রাম এলে জিইসি নইলে টাইগারপাস মোড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতাম। আর অবাক হতাম এই শহরের স্বপ্নদ্রষ্টাদের দূরদর্শিতার কথা ভেবে।

এই শহরের প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ মোড়েই এক পশলা সবুজের আয়োজন রাখা হয়েছিল। প্রতিটা মোড়েই ছিল একটা করে ফুলের বাগান। সেই বাগান উপড়ে বিপনি বিতান করা হয়েছে। তারপরও যা আছে কম কী। এই জিইসি মোড়ের কথা ধরুন। পশ্চিম পাড়ে জিইসি ফ্যাক্টারি আর গৃহায়ণ অধিদপ্তরের অফিস। বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে দেয়ার পর ঝিলমিল করে উঠেছিল যেন এই সবুজের উপত্যকা। আর টাইগারপাস, প্রবর্তক, নিউ মার্কেট... এসব মোড়ে এলে নিজেই দ্বিধায় পড়ে যেতাম, এই কি সেই আমার চিরচেনা চট্টগ্রাম?

আসলে অতিরিক্ত সুন্দরীদের বেশি সাজতে নেই। বড়জোর একটা লাল টিপ, নইলে চোখে দুটো কাজলের টান। তাতেই সই। তাতেই দশ পাড়ার বউ- ঝিদের বুকে কাঁপুনি লাগে।

বিশ্বকাপের আগে বিলবোর্ড সরানো সেই ফকফকা শহরে আলতো কিছু কাজলরেখা দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। যারাই খেলা দেখতে চট্টগ্রাম এসেছিল সবার মুখে ছিল ধন্যি ধন্যি। আমরাও ভেবেছিলাম নতুন নগরপিতা তাঁর এই পরিমিতিবোধ দিয়ে আরো উৎকর্ষিত করবেন প্রাচ্যের দুলালীকে।

কিন্তু আমরা ভাবি এক হয় আরেক। কাল দেখলাম টাইগারপাসের সরু ফুটপাথ খুঁড়ে বড়ো বড়ো পোল বসানো হচ্ছে। তাতে চড়ানো হবে বিলবোর্ড। বছর দুয়েক আগে একই স্থান থেকে একই বস্তুই সরানো হয়েছিল। এটা কিসের আলামত?

বিলবোর্ডে বিলবোর্ডে শহরটা এখন এমন হয়ে যাচ্ছে আমাদের দৃষ্টি আর ঊর্ধ্বগত হবার কোন উপায় নেই। সেদিন প্রবর্তক থেকে গোলপাহাড় পর্যন্ত এই একরত্তি পথে হিসাব করলাম বিলবোর্ডের ৬ টি বড়ো পোল। প্রবর্তক মোড় থেকে গোলপাহাড়ের দিকে তাকালে কেবল বিলবোর্ডগুলোই চোখে ভাসে। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণের মতো এই শহরে প্রকট হয়ে উঠছে বর্ণ দূষণও।

ঈশ্বরের দেয়া রূপের ওপর বাড়তি রূপ চড়াতে গেলে প্রকৃতি বিরূপ হয়। পরমা হয় পেঁচা।

জিইসি মোড়টার দিকে তাকালে এর সত্যতা মেলে। পশ্চিম-প্রান্তটা এতো সবুজ, অথচ তিন তলা চার তলা বিজ্ঞাপনের বাহুপাশে পুরোটাই হরিয়ে গেছে দৃষ্টিসীমা থেকে। ওদিককার অনেক গাছ নাকি মারা পড়ছে সূর্যালোকের অভাবে।

জানি একটা শহর চালানোর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। এই টাকা যেসব জায়গা থেকে আসে বিজ্ঞাপন তার একটা। তবে আমার জানা মতে বিজ্ঞাপন খাত থেকে চসিকের খুব একটা বড়ো অংকের রাজস্ব আসে না। ২০০৬ সালে একবার খবর নিয়ে দেখেলিাম সেই আয় বছরে এক কোটি টাকাও নয়। যেখানে সিটি কর্পোরেশনের বার্ষিক বাজেট অর্ধসহস্র কোটি টাকার অধিক, সেখানে এই মামুলি টাকার জন্য মুখে কালি মাখানোর কি মানে? অঞ্চলভিত্তিক বিজ্ঞাপনের ভাড়া স্থির করলে আরো কম বিজ্ঞাপন দিয়ে এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন সম্ভব।

সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার একটা ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে এই বিলবোর্ড পোলগুলো রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়বে। তখন সব রকমের উদ্ধারকাজ থমকে যাবে এসবের জন্য।

লেখাটা বড়ো করা যায়। অনেক কথা বলা যায়। অনেক যুক্তি দেখানোও যায়। কিন্তু কাকে দেখাবো। কাকে বোঝাবো। এই শহরের কর্ণধার যিনি তিনি আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসেন এই শহরটাকে আমি বিশ্বাস করি। না হলে এতো বিপুল ভোটে তার জয় হত না। আশা করি আমার এই ক্ষুদ্র আঁকুতিটা তাঁকেও স্পর্শ করবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×