somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাব্বিরের মৃত্যু পরবর্তী কিডন্যাপ ঘটনা

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বন্ধু সাব্বিরের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে দুঃখটা আমিই পেয়েছিলাম সবচেয়ে বেশি। কারণ আমি তার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে কাছের ছিলাম। তাছাড়া তার সাথে আমার বেশকিছু মিল ছিল। আমরা দুজনেই ক্রিয়েটিভ কাজের পাগল ছিলাম। এই যেমন লেখালেখি, কবিতা আবৃত্তি, গান- বাজনা, ছাবি আঁকা,নাটক তৈরী, বিভিন্ন রকমের সামাজিক সংগঠন করা- এইসব কাজে লেগে থাকতাম সারাক্ষণ। ভবিষ্যতে করার মতো দুজনের অনেক বড় বড় পরিকল্পনাও ছিল। তার মৃত্যুতে আমাদের পরিকল্পনাগুলি যে মাঠে মারা গেল এটা বলা বাহুল্য। ফেসবুক, মোবাইলের এই যুগে ক্রিয়েটিভ লোকজনের সাক্ষাৎ পাওয়া খুবই কঠিন- এটা আমার অজানা নয়। তাই মনটা আমার হুট করেই ভীষন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমি কিছুতেই তার এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই সাব্বিরে মৃতদেহটা কিডন্যাপ করার উদ্ভট পরিকল্পনাটা আমারই। হতে পারে আমার বন্ধুরা এ কাজে সাহায্য করেছিল। তবে তারা সেটা করেছিল তাদের নানা রকমের পুরস্কারের প্রলোভন দেখানোর পরে তবেই। আবার কিডন্যাপ শেষে পুরস্কারের আশা না করে পগার পার হয়েছে সাথে সাথেই। ভয়ে এখন আর তারা আমার আর সাব্বিরের মৃতদেহের কাছেও ঘেঁষবে না আশা করি। সেটা অবশ্য আমার আর দরকারও নেই। বাকি কাজটা আমি নিজেই করে নিতে পারব ঠিক।

কিডন্যাপের পর সাব্বিরের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাতটা বেশ হৃদয় বিদারক। সাব্বিরকে বিছানায় শুইয়ে হাত-পা শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধলাম। যদিও একটা মৃতদেহের ক্ষেত্রে এহেন সতর্কতা অবলম্বনের কোন প্রয়োজন ছিল না। তবু কাজটা করলাম কিডন্যাপ আবহটাকে একটু ভয়াবহ রূপ দেয়ার জন্য। তারপর মুখের মুখশটা খুলে যখন সাব্বিরের পাশে চেয়ার টেনে বসলাম সাব্বির চমকে উঠল।

কায়েস! এটা তুই! শেষ পর্যন্ত তুই আমার বন্ধু হয়েও আমাকে এভাবে কিডন্যাপ করলি। কিভাবে করলি এটা?

তোর ভালর জন্যই করলাম দোস্ত। চিন্তা করিস না।

ভালর জন্য! ভালর জন্য কেউ কিডন্যাপ করে বুঝি! তুই জানিস এখন আমার বাবা-মা, বউ কতো চিন্তা করছে। তারা কতই না জানি কান্না করছে! আমার সদ্য বিবাহিত বউটা...

সাব্বিরের কান্না দেখে আমার ভীষন হাসি পেল।

হাহাহাহাহা! ধুর! ডেড বডির জন বেশিক্ষণ কাঁদে না কেউ- এটা জানিস না? তুই যদি জীবন্ত থাকতি, তাহলে না হয় একটা কথা ছিল।

তুই কী চাস? সত্যি করে বলতো, তুই কী চাস? কত টাকা চাইছিস বাবার কাছে, আমাকে বল সেটা।

টাকা! তোর জন্য আমি টাকা চাইবো? তুই কি করে ভাবলি একটা মৃতদেহের জন্য তোর বাবা টাকা খরচ করবেন? তুই কি মরা হাতি? মানুষ তুই, মানুষ। একটা মৃত মানুষ। মৃত মানুষের কোন দাম নাই।

তাইলে তুই কী চাস? খুলে বল। কেন আমাকে এভাবে ধরে নিয়ে এলি?

আমি কী চাই? আমি তোর ভাল চাই, ভাল। আমি তোকে আবার আগের মতো জীবিত করে তুলতে চাই।

তুই কি সৃষ্টিকর্তা নাকি যে আমাকে জীবিত করিব? তুই কিভাবে করবি? দেখ কায়েস, এমন পাগলামি করিস না। ছেড়ে দে আমায়। আমাকে মরে যেতে দে। মরে গেলেই শান্তি। চির শান্তি। কোন চিন্তা নাই, ভাবনা নাই। আমাকে আমার মতো করে থাকতে দে প্লিজ। তোর পায়ে পড়ি। তুই বুঝিস না কেন, সবাইকে তো মরতে হয়ই। মরণ মানুষের ভবিতব্য।

চুপ! তুই চুপ মেরে থাক। তোকে কিভাবে জীবিত করে তুলতে হয় সেটা দেখা আমার কাজ। তুই শুধু চুপ থাক। কোন কথা বলবি না। দাঁড়া, তুই এভাবে চুপ হবি না। আমি বরং তোর মুখে স্কচ টেপ সেঁটে দিই।

অামি সাব্বিরের মুখে এমন ভাবে স্কচটেপ মেরে দিলাম যাতে সে হাজারো চেষ্টায় আর মুখ খুলতে না পারে।

দ্বিতীয় দিন থেকে কাজ শুরু করলাম। কাজটা শুরু করতে হবে চোখ থেকে। সাব্বিরের চোখ দুটো কোটর থেকে বের করে নিলাম। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে সেগুলো রেখে দেখলাম, যা ভেবেছিলাম তাই। সেখানে খালি টাকার ছবি। নতুন সরকারি চাকরি পাওয়া ছেলে। এতোগুলো টাকা খরচ করে ডাক্তার হয়েছে। তার চোখে টাকার ছবি থাকাটই স্বাভাবিক। তবে আমি তো পারি না বন্ধুর চোখটা এভাবে নষ্ট হতে দেখে চুপ করে থাকতে। আমারও তো একটা দায়িত্ব-কর্তব্য আছে। আমি তার চোখ দুটি ভাল করে ধুঁয়ে নিলাম। শুধু হুইল পাউডার এখন আর কাজ করে না। সবকিছুতেই ভেজাল। তাই সাথে সার্ফ এক্সেলও মেখে ভাল করে চোখ দুটি পরিষ্কার করে আবার সেগুলো অনুবীক্ষণে রাখলাম। এই তো! হয়েছে! এখন চোখ দুটি একেবাওর ধবধবে সাদা। আর কোন ময়লা নেই চোখে। এখন ঠিক আছে। চোখ দুটি এখন ঠিক একটা সদ্য জন্মানো শিশুর চোখের মতোই পরিষ্কার হয়ে দেখাচ্ছে। এখন অবলীলায় চোখ দুটোর আরো বিশ-বাইশ বৎসর সুস্থতায় কেটে যাবে। মানুষের চোখে টাকার ছবিটা একটু দেরীতেই আসে।

তার পরদিন আবার বসলাম মৃতদেহটা নিয়ে। এবার নাক কেটে গন্ধ শুকলাম। উমমম.,.একটা নারীর মিষ্টি মধুর গন্ধ লেগে আছে তাতে। নিশ্চয়ই তার সদ্য বিবাহিত অপরূপ রূপসী বউটার গন্ধ এটা! পুরষগুলো যে কি! বিয়ের পরই নারীদের গন্ধ নাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো শুরু করে! কিভাবে যে পারে! তাইতো আমি বিয়েই করলাম না এখনো। সাব্বিররা বুঝেই না যে নারীর গন্ধটাই একমাত্র কাম্য হতে পারে না। আরো অনেক অনেক সুগন্ধ রয়েছে জীবনে। আকাশ থেকে নেমে আসা বর্ষার বৃষ্টির শীতল গন্ধ, সোঁদা মাটির উষ্ণ গন্ধ, খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের মিষ্টি গন্ধ, ভোকাট্টা হয়ে উড়া বেগুনি রংয়ের ঘুড়ির মুক্তির গন্ধ- কতোই না গন্ধ রয়েছে নাকে লাগিয়ে বেড়ানোর- এটা অবশ্যই সাব্বিরকে বুঝাতে হবে। নাক থেকে তাই তার অলফেক্টরি সেন্সরি নিউরনটি কেটে দিলাম এক ঝটকায়। কিছুদিন সে কোন গন্ধই আর পাবে না। তবে ভয়ের কিছু নাই। প্রকৃতি নিজে থেকেই আবার ঘ্রাণ নেয়ার এই নিউরনটি সাব্বিরের নাকে তৈরি করে দেবে নিশ্চয়ই।

তৃতীয় দিন সাব্বিরের বুক কেটে হৃদপিন্ডটা বের করলাম। এখানেও দেখি একটা মেয়ের ছবি ঝুলে আছে। কে এই্ মেয়ে? একে তো কখনো দেখিনি। সাব্বির কখনো তো আমাদের এর কথা বলেনি! তবে কি এ মেয়েটি সাব্বিরের গোপন কোন প্রেমিকা? মেডিকেলে পড়ার সময় অবশ্য তাকে অনেকেই দেখেছি ক্লাসে স্যারের লেকচার শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তে। তখন আমাদের কেউ কেউ ঠিক ঠিক ভেবে নিয়েছিল নিশ্চয়ই রাত জেগে মোবাইল কথোপকথোনের জন্য সকালে লেকচার ফাঁকি মারার এমন কৌশল অবলম্বন সাব্বিরের। ভাল ছাত্র হওয়ায় সাব্বিরকে একথা জিজ্ঞেস করার সাহস হয় নি আমাদের। সাব্বিরও নিজ থেকে কখনোই বলে নি। তাহলে দোস্ত কাহিনী তবে এটাই ছিল, না? এভাবে তো হবে না সাব্বির। এভাবে হতে পারে না। মেয়েদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অঙ্গের ভেতর সঙ্গোপনে জায়গা করে দিলে এভাবেই তো অকালে ঝরে পড়তে হবে তোমাকে। তোমার তো অকাল মৃত্যু হবার কথাই। নাহ! এ মেয়ের ছবি কিছুতেই এখানে রেখে দেয়া চলবে না। এটাকে খুন করে এখনি কেটে ফেলে দিতে হবে। তাই করলাম। সাব্বিরের হৃৎপিন্ডের ভেতরকার নাম না জানা সেই মেয়েটিকে ধারালো একটা ছুরি দিয়ে হত্যা করে হৃৎপিন্ড থেকে আলাদা করে দিলাম। তারপর সাধারন মেহনতি মানুষের কিছু ছবি, দেশের কিছু ছবি, এ সমাজের কিছু ছবি, কিছু শিল্পীর কিছু চিত্রকর্ম, বিখ্যাত নাট্যকারদের কিছু নাটক, সত্যজিতের কিছু মুভি, মার্কেজ সহ নামী-দামী অনেক সাহিত্যিকের কিছু লেখা তার হৃৎপিন্ড চিঁড়ে ভেতর ঢুকিয়ে সেলাই করে দিলাম ভালমতো।

চতুর্থ দিন শেষ কাজ। সাব্বিরের মস্তিষ্কটা দুভাগ করে নিলাম। তারপর মাথার সাথে নাক, চোখ আর হৃৎপিন্ডের সংযোগটা পুনঃস্থাপিত করে দিলাম ভাল করে।

কিডন্যাপের পঞ্চম দিন সাব্বিরের সব বাঁধন খুলে দিলাম।

দোস্ত, আমি কি বেঁচে আছি?

হ্যা, এই মুহুর্তে আশা করি তুই বেচে আছিস। আমার মিশন সাকসেসফুল হবে আশা করি।

তবে আমাকে ছেড়ে দে না এবার। কতোদিন বাড়ি যাই নি।

তুই যদি আমাকে কিছু কথা দিস, তবেই ছেড়ে দেব তোকে।

কী কথা।

আগে বল তুই রাজী কি না।

হ্যা দোস্ত, হ্যা। আমি রাজী।

বল, টাকা রোজগারই তোর একমাত্র উদ্দেশ্য হবে না। তুই আগে যেমন করে সমাজ, দেশ নিয়ে ভাবতি, এখনো তাই ভাববি।

ওকে দোস্ত তাই হবে।

শুধুমাত্র কাজ অার পরিবারকে সময় না দিয়ে, এ সমাজের জন্য, এ জাতির জন্য, এ দেশের জন্য তোর আরো কিছু কাজ কারার আছে। সেগুলি করবি।

করব।

তোর প্রিয় সব পাঠক, যারা তোর লেখার পড়ার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে, তাদের জন্য আগের মতো গল্প লিখবি।

লিখব। কথা দিচ্ছি দোস্ত।

গরিব রোগীদের কাছ থেকে কোন ভিজিট নিবি না।

না, নেব না।

আমাদের একটা লাইব্রেরি করার শখ ছিল।

অবশ্যই সেই শখটা পূরণ করব।

আমাদের ম্যাগাজিনটা সম্পাদনা করা ছেড়ে দিবি না। আগের মতোই সময় দিবি।

দেব দোস্ত, দেব। এবার আমায় ছেড়ে দে প্লিজ!

ওকে। থ্যাংকস। এবার তুই যেতে পারিস।

সাব্বির হাত বাড়িয়ে দিল। হাত ধরে তাকে টেনে তুললাম।
দরজা খুলে দিলাম।

যাই দোস্ত।

ওকে যা। সাবধানে বুঝে শুনে পথ চলিস। নয়তো আবার মরে যাবি।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×