somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোনো শিক্ষার্থীকে দয়া করে অবহেলা করবেন না।

৩১ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আর কয়েক ঘন্টা পরেই এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে। প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের পর যাদের রেজাল্ট ভালো হয়- তারা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। এই খুশী স্বাভাবিক। যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন- তাদের মন বিমর্ষ হয়। এটাও স্বাভাবিক। এর পাশাপাশি কিছু সাংবাদিক , রিপোর্টার আছেন যারা শিক্ষার্থীদের নানা রকম প্রশ্ন করে- কেউ যদি কোন ভুল জবাব দেয় সেটা জনসম্মুখে প্রচার করে ব্যাপক আনন্দ পান। এরকম রিপোর্ট প্রকাশ করে মনে করেন দেশের সব সমস্যার সমাধান করে দেশ উদ্ধার করে ফেলেছেন। কয়েক বছর আগে এরকম একটা ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। এবং সেই ভাইরাল হওয়া কিশোরদের একজন সুইসাইড করে মারা যায়। তাই, জনসম্মুখে আর একজন শিক্ষার্থীকেও নাজেহাল করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার আগে দয়া করে নীচের বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশানের একটা ভয়াবহ রিপোর্ট- প্রতিবছর প্রায় ১ মিলিয়ন লোক সুইসাইডে মারা যায়। তারচেয়ে আরো ভয়াবহ হলো -এ্যাটেম্পট হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন। যা কিনা পৃথিবীব্যাপি হোমিসাইড, মার্ডার আর ওয়ারের চেয়েও বেশী। অথচ ওয়ার, সমরাস্ত্র ইত্যাদির পেছনে বিলিয়ন ডলার খরচ আর নানা চিন্তা,ভাবনা, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও মানুষের মনো উন্নয়নে তেমন কিছুই করা হয়না। বরং পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ইত্যাদি নানাভাবে এই সুইসাইডে প্ররোচিত করা হয়। সুইসাইডের অন্যতম কারণ হলো- কারো কাছ থেকে অবহেলা পাওয়া। সেটা ভালোবাসা ঘটিত হতে পারে, পারিবারিক হতে পারে, সামাজিক মর্যাদাহানি হতে পারে। তাই, লোক সম্মুখে কাউকে অবমাননা করা ক্রিমিনাল এ্যাক্ট। এই সমস্ত এক্টিভিটিস আইন কর্তৃক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজন খুনি , অপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে যখন মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হয় তখন তাদের চেহারাটা ঢেকে দেয়া হয়। কারণ তাদেরও একটা জীবন আছে। সমাজে যেন অপদস্ত না হয়-সেজন্য চেহারাটা ঢেকে রাখা হয়। কিন্ত পরীক্ষার রেজাল্টের পরপরই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নানা রকমের প্রশ্নবানে জর্জরিত করে যেভাবে নাজেহাল করা হয়, এর ফলে জীবনের প্রতি প্রবল ঘৃণা নিয়ে এদের একজনও যদি আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়-এর দায়ভারটা কে নিবে?শিক্ষার গুরুত্ব কিংবা অবনতি বুঝাতে যদি সম্মানিত সাংবাদিক , রিপোর্টার ভাইরা কোনো রিপোর্টি করে থাকেন-তবে সেটা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করবেন। দয়া করে, সোসাল মিডিয়ায় প্রচার করে কোনো শিক্ষার্থীকে আত্মহননের পথে প্ররোচিত করবেন না। আর যদি করেন, তবে মনে রাখবেন, আপনারা একটা ভয়াবহ রকমের শাস্তিযোগ্য অপরাধই করছেন।

পীথাগোরাসের বাড়ি কই সেটা আমরা কয়জনে জানি। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠে নাম-বুকে হাত দিয়ে বলেন- কয়জনে বলতে পারবেন? রবীন্দ্রনাথের একটি গল্প কেউ বলতে না পারলে তাকে নিয়ে হাসি তামাশা করার কোনো দরকার নাই। তার সাহিত্য ভালো লাগেনা। ব্যস। সমস্যা কি? ওরা একটা পারেনি, আপনি দয়া করে পাঁচটি ছোটগল্পের নাম বলুনতো। আমাদের অহঙ্কার মুস্তাফিজ ইংরেজী জানেনা- কিন্তু সেরা খেলোয়াড় কি হয়নি? প্রয়োজনে ওরাই বাংলা শিখেছে। সবাই কি সাহিত্যিক হবে, ম্যাথমেশিয়ান হবে, সেক্সপীয়ার হবে? কেউ কি মুস্তাফিজ হবেনা? কেউ কি একেবারে কমপড়ালেখা জানা আবুল কোম্পানীর মতো একটা বড় কোম্পানীর মালিক হবেনা? যেখানে হাজারো গ্র্যাজুয়েটরা চাকুরি করে। পীথাগোরাস যে জারজ সন্তান ছিলেন- সেটা কি জানেন? তাকেও যদি শৈশবে এভাবে টিটকারি করা হতো তবে হয়তো আত্মাহুতি দিতেন। আজকের পীথাগোরাসই পেতাম না। কারণ-সন্তান কোনোদিনই জারজ হয়না, জারজ হয় সন্তানের বাবা-মা। অথচ,কী দুর্ভাগ্য আমরা অবৈধভাবে যাকে জন্মদিলাম-তাকেই জারজ বলি। তার জন্মদাতাকে নয়!!!অতএব, বিচার করলে, হাসিতামাশা করলে -কাকে নিয়ে করবেন একটু চিন্তা করে দেখেন। ব্যর্থতার দোষটা শুধু ওদের না, দোষটা আমাদেরই। কারণ, আমরাইতো ওদেরকে তৈরি করছি। আমরা নিজেরা যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস না করি, তবে শিক্ষার্থীর কাছে প্রশ্নপত্র যায় কেমন করে? এখানে জারজ কে? শিক্ষার্থী নাকি সিস্টেম???

মাটি দিয়ে মূর্তি বানিয়ে আমরা যদি মনে করি এরা মানুষের মতো কথা বলবে- তবে সেই দোষটা কার? মাটির মূর্তির নাকি মূর্তির কারিগরের?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:৩৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×