somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

...আকাশের ঠিকানায়...

২২ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার অনেকদিনের পুরনো বন্ধু তানভীর।
ক্লাস ফাইভ থেকে একসাথে পড়ি।
এবং আমার হষ্টেল লাইফের ছয় বছরের রুমমেট। সেভেন থেকে টুয়েলভ আমরা একসাথে কাটিয়েছি।
কলেজ লাইফের শেষ দিকে এসে হঠাৎ ওর বাবা মারা যান। আংকেল কুমিল্লা শহরের নামকরা প্রফেসর ছিলেন। ম্যাথস পড়াতেন। আলী হোসেন মজুমদার।
তখন আমাদের সম্ভবত বছরের শেষ সেমেস্টার চলছিলো। মৃত্যুর খবর শুনে ও ছুটি নিয়ে বাসায় চলে গেলো। ফিরেও এলো কদিন পরে।
ব্যাক্তিগত শোকগুলোকে কেমন করে জানি খুব সহজেই সামলাতে শিখে গেছিলাম আমরা। তানভীরও কদিন পরে স্বাভাবিক হলো।
তখন মোবাইলের এরকম সহজ ব্যবহার ছিল না। তারচেয়ে বড় কথা ফোন ব্যাপারটাই অ্যালাউড ছিলোনা কলেজে। বাসার সাথে যোগাযোগের জন্যে চিঠিই একমাত্র ভরসা। প্রচুর চিঠি লিখতাম সবাই। বাসা থেকেও আসতো।

একদিন দুপুরে, রুমে, আমি বিছানায় শোয়া। তানভীর ওর পড়ার টেবিলে বসে মাত্রই একটা চিঠি লিখা শেষ করলো। আমি দেখলাম ও একটা হলুদ খাম নিয়ে তাতে ঠিকানা লিখছে।
হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ও দু'হাতে মুখ ঢেকে বসে আছে। আমার একটু অস্বাভাবিক লাগলো। বললাম, কি রে?
ও মাথা তুলে তাকালো। চোখ ভেসে যাচ্ছে পানিতে। আমি চট করে উঠে বসলাম। আবারো জিজ্ঞেস করলাম কি হলো?
ও আস্তে করে হাতের খামটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো- দ্যাখ না। ভুল করে ঠিকানায় আব্বুর নাম লিখে ফেলেছি!

আমি দেখলাম তাই। চিরকালের অভ্যেস। প্রাপকের জায়গায় তাই আংকেলের নাম।
ও কলম নিলো হাতে ঠিক করার জন্যে। কোন কথা না বলে আমি হাত বাড়িয়ে খামটা নিয়ে নিলাম ওর হাত থেকে। তারপরে আমার শেল্ফ থেকে নতুন একটা খাম নিয়ে কাঁপা হাতে ওর ঠিকানা লিখলাম তাতে। লেখা শেষে ওর চিঠিটা খামে ভরে অফিসে গিয়ে পোষ্ট করে দিয়ে এলাম।
রুমে ফিরে ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখি তখনো দু'হাতে মুখ ঢেকেই বসে আছে আমার বন্ধু।


-------------
আজ 23 আগষ্ট, আমার আরেকজন প্রিয় বন্ধুর জন্যে খুব কষ্টের একটা দিন।
সবাইতো আর আমার বা আপনার মত ভাগ্যবান হয় না। বাবা অথবা মা যেকোন একজনের নাম খামের উপরে লিখলেই আমাদের চলে যায়।
অনেকেরই যায় না।
অনেকেই তাই ভুল করে লিখে ফেলা নাম কাটার জন্যে কলম তুলে নেয় আবার। কতটা কষ্ট বুকে চেপে যে করে মানুষ সেটা!

প্রিয় তিতলি,
অনেকদিন আগে তানভীরকে দেয়া সেই হলুদ খামটা আজ তোকেও দিলাম।
খুব সুন্দর করে তোর মামণির নাম লেখা আছে তাতে, ঠিকানাও। তোর যেমন ইচ্ছা চিঠি লিখ আজ। এক বছর ধরে জমানো সব অভিমান, অনুযোগ আর ভালোবাসার কথা লিখ সেখানে।
যা ইচ্ছা হয়, তাই লিখ।

সৃষ্টিকর্তা নিজেই যেখানে পোষ্টম্যান, আমি জানি, সন্তানদের লেখা চিঠিগুলোও তিনি ঠিক পৌছে দেন বাবা-মার কাছে।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×