somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাচতে হলে জানতে হবে!!

১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক জোরে বজ্রপাতের আওয়াজ, সুজনের মার ঘুম ভেংগে গেলো। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। সুজনের মার রাতে ভালো ঘুম হবার কারন বুঝতে পারলো। টিনের চাল দিয়ে পানি এসে মেঝে ভিজে গেসে। সুজনের মার মনটা একটু খারাপ হলো, কারন মাত্র কয়েক দিন আগে চালে আলকাতরা দিয়েছে, এই বৃষ্টিতে পানি পরার কথা না। পানি পরার কারনটা ভালো করে দেখতে হবে। কল্যানপুরের শহিন মিনার রোডের এই বস্তিতে ২ বছর ধরে আছে সে। ছোটো একটা কামরা, এতেই সুজন আর হাবিব (তার সম্পর্কের ভাই) মোটামুটি ভালই আছে, মাসে মাসে ৮০০ টাকা দিতে হয়। গেলো গরমে যখন বস্তিতে আগুন লাগে তখন পসের রুমের মুন্সি পরিবার চলে যায় বেরি বাধের কাছে। তখনই সুজনের মা কায়দা করে তদের নিজের রুমটা একটু বড় করে বানায়। এমন সময় সুজনের মার মোবাইল টা বাজে উঠে। মোবাইলটা মুরাদ ভাইদের দেওয়া, বাংলালিন্কির দেশ.....আজিবন সাধিনতা.........প্রয়োজন হলেই মুরাদ ভইদের বাসা থেকে ফোন করে। কারও ফোন ধরা বা কাওকে ফোন করা ......এতটুকু কাজ সে জানে। মুরাদ ভাইরা আজ কক্সবাজার যাবে সবাই মিলে, সুজনের মাকে আজ তাই কাজে যেতে হবে না, মুরাদ ভাই এর মা তাই ফোন করাছিলো। সুজনের মা চিন্তায় পরে গেলো। বাসায় চাল নেই, বাজার থেকে চাল আনতে হবে। গতকাল এই খবারটা দিলেও সে মুরাদ ভাইদের বাসা থেকে চাল আনতে পরতো। কি আর করা, হাবিব কে টাকা দিয়ে বাজার থেকে চাল আনতে পাঠালো। সবকিসুর যা দাম! সুজনের মা ভেবেছিলো, এই সরকারের আমলে সবকিসুর দাম কমবে, হাতে দুইটা পয়সা জমবে। কোথায়.......যেই লাউ....সেই কদু। ভাবতে ভাবতে সে আবিস্কার করে বাসায় তেলও নাই। ছোটো একটা বোতোল হাতে নিয়ে সে পাশের সালমা আপার রুমে যায়। সালমা আপা একটা এন.জি.ও তে চাকুরি করে। আর তার বর জুয়েল ভাই কি করে তা সে জানে না। তবে এতটুকু জানে যে জুয়েল ভাই বেস চালাক ও ভালো মানুষ, অন্যের উপকার করতে সে পিছুপা হয় না। গেলোবার আগুন লাগার সময় সে হাসুকে কোলে করে রুম থেকে বের হইসে। হাসুকে তারা দুইজনই খুব ভালবাসে। তাদের কোনো সন্তান নেই, আল্লাযে কেনো মানুষের সাথে এমন করে তা মাথায় আসে না। জুয়েল ভাই টিভি দেখছিলো। টাক মতো একটা লোক বলছে, "আগামি বছরের অগাস্টের আগে একফোটাও বেশি বিদ্যুত সরবরাহ সম্ভব না".....জুয়েল ভাই গালি দিল......হালার পুতেরা দেশটারে খাইয়া ফালাইলো। আশুগন্জ, ঘোরাশালেতো এরশাদের আমলেইতো সব হইসে, ১৫ বছর এই দুই দল করলোটা কি? সুজনের মার মনে মনে হাসে, .জুয়েল ভাইটার মাথাও মোটা!! সে সালমা আপার কাছ থেকা তেল নিয়ে চলে আসে। হাবিব এখনো চাল নিয়ে ফিরে নাই, সুজনের মার মেজাজটা একটু খারাপ হয়, সে ঠিক করে,হাবিব এলে তাকে একটা ডলা দিতে হবে!!
তার রুমের উলটা সাইডে ভাংগ গারির দোকান থেকে চিল্লাচিল্লি শুনা যাচ্ছে। কে একজন তাদের কাছে একটা মোবাইলফোন কিনেছিলো, সেটা নিয়ে তুলকালাম কান্ড। এমনটা প্রায়ই হয়। এটা নিয়ে না মাথা ঘামায়ে সে বরং অন্ন কাজে মন দিলো। গোসল করতে হবে। বস্তিতে গোসল করতে ইচ্ছা করে না। পাসের ফ্ল্যাট থেকে গোসলখনা দেখা যায়। পর্দার ফাক দিয়ে অনাকাই উকি ঝুকি মারে। বিচ্ছিরি ব্যাপার। ইদানিং গনি সাহেবও গোসল করার সময় পর্দার ফাক দিয়ে উকি ঝুকি মারেন, ভাব খানা হল তিনি আকাশ দেখছেন!! এমন সময় হাবিবকে দেখা গেলো, হেলে দুলে আসছে। দেখা হতেই জানালো, দুইটা পোলা গান্জা কিনতে আইসা ধরা খাইসে। পুলিশ ১২০০ টাকা চাইতাসে। একপোলা পুলিশের পা ধইরা বইসা আছে। পুলিশেরা গান্জা বিক্রেতাকে না ধরে, তাদের কেন ধরে!? চলবে....।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×