বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দেশ। বর্তমানে এ উপমহাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন সাংবাদিক উইলিয়াম ইক্লরোজ 'দি ক্রিটি ক্যাল মাস' বইয়ে মন্তব্য করেছেন, 'এ উপমহাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত অঞ্চল।' এ পর্যালোচনায় নিশ্চয়ই কেউ বাংলাদেশকে উপমহাদেশের বাইরে কোনো 'ভিনদেশী' দেশ হিসেবে চিহ্নিত করবেন না। বাংলাদেশ যদিও একটি দরিদ্র দেশ ও সম্পদ সামর্থ্যের তুলনায় ভারত থেকে অনেক পিছনে আমাদের অবস্থান তবুও নিম্নলিখিত কয়েকটি কারণে বাংলাদেশ ভারতের নিজ স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে-
(ক) আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত আমাদের সরাসরি প্রতিপক্ষ না হতে পারে, কিন্তু সে যে চীন ও পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয় তা সকলের নিকটই স্পষ্ট। (যদিও ১৯৯৪ সালের চীন-ভারত সীমান্ত চুক্তিকে অনেকে পাক-চীন-বাংলাদেশ অক্ষের জন্য মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করছেন, তবুও একথা স্মরণ রাখা দরকার যে, ওই চুক্তির ফলে ভারতকে অরুনাচল প্রদেশের বিস্তৃত এলাকা চীনকে দিয়ে দিতে হয়। এছাড়া চীনা নেতা লী পেং দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করেন যে, 'ভারতের সাথে চুক্তির বিনিময়ে চীন তার পুরনো বন্ধুদের বিসর্জন দেবে না।' চীন-ভারত চুক্তি একটি সাধারণ সীমান্ত চুক্তি এবং কখনোই 'আদর্শ বিকিয়ে দেয়া একাত্মবোধক' চুক্তি নয়। যেমন আমাদের সাথে ভারতের ফারাক্কা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি জাতীয়তাবাদী সরকারের আমলে সম্পাদিত হলেও তা চীনের সাথে সম্পর্কের বিনিময়ে ভারতের কোলে ঠাঁই নেয়া বোঝাবে না।) ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ, ১৯৬৫ ও '৭১ সালের পাক- ভারত যুদ্ধের সময় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ভৌগোলিক গুরুত্ব চীন, ভারত ও পাকিস্তানের নিকট কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা বুঝতে হলে আমাদের এ অঞ্চলের ভারতীয় অবস্থান ও তার মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান ভালভাবে লক্ষ্য করতে হবে। বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ভারতের যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল, তার মাঝে একমাত্র যোগাযোগকারী পথ হচ্ছে তেঁতুলিয়া সীমান্তের উত্তর পার্শ্বের সরু করিডোর- যা ‘শিলিগুড়ি' করিডোর নামে পরিচিত। কাজেই যে কোনোরূপ চীন-ভারত সম্ভাব্য সংঘর্ষে চীনের প্রথম লক্ষ্য হবে, ‘শিলিগুড়ি করিডোর' বরাবর আক্রমণ চালিয়ে বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া সীমান্ত পর্যন্ত একটি পথ দখল করে দৃঢ়ভাবে প্রতিরক্ষা ব্যুহ রচনা করা, যাতে ভারতের পশ্চিমাঞ্চল হতে কোনো প্রকার গোলাবারুদ ও রসদপত্র পূর্বাঞ্চলে যেতে না পারে। এখন যেহেতু ভারতের পূর্বাঞ্চলে কোন সমুদ্র বন্দর নেই, তাই এ অবস্থায় পূর্ব ভারত হয়ে পড়বে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। এ পরিস্থিতির আলোকে ভারত বাংলাদেশকে একমাত্র ট্রানজিট রুট' হিসেবে বিবেচনা করে আসছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রসদপত্র পরিবহনের প্রস্তাবও রাখতে বাধ্য হচ্ছে । এখন যদি বাংলাদেশে একটি জাতীয়তাবাদী সরকার ও শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী থাকে এবং মুসলিম দেশগুলোর সমান্তরালে চীনের মত একটি পরাশক্তির ছত্রছায়া অব্যাহত থাকে তবে তা হবে Crisis Period-এ ভারতের জন্য পূর্ব ভারতে হুমকির সামিল।

(খ) বর্তমানে ভারতের একটি বড় মাথাব্যথা হচ্ছে, বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও এর ক্রমবিকাশ। এই সাতটি প্রদেশ যা North East Frontier Agency বা NEFA নামে পরিচিত, সেখানকার মিজোরাম, অরুনাচল, নাগাল্যাণ্ড, আসাম, ত্রিপুরা, মনিপুর ও মেঘালয় রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামে অস্থির ভারতের জন্য বাংলাদেশ হচ্ছে বিভক্তকারী অঞ্চল। বাংলাদেশ এই NEFA কে সমগ্র ভারত থেকে আলাদা করে রেখেছে এবং একজন বিশেষজ্ঞের মতে "Bangladesh has the potential either to ignite or cool down the turmoil in this part of the Indian union''। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশের অবস্থান এমনি যে, তার পক্ষে যেমন ভারতীয় ইউনিয়নের এঅঞ্চলকে উত্তপ্ত করার সুযোগ রয়েছে তেমনি গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিকে স্তিমিত করাও তার পক্ষে সম্ভব। এদিকে পশ্চিমাঞ্চলে কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে ব্যাপক সেনা সমাবেশের পর ভারতকে আরো প্রচুর সেনা সদস্য পূর্বাঞ্চলের NEFA-তে মোতায়েন করতে হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-বিক্ষুব্ধ অঞ্চলে প্রায় সময়ই বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়োজিত রাখায় ভারত এখন মূলত একটি Cantonment Country-তে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ সারা দেশজুড়েই সেনাবাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে মোতায়েনকৃত অবস্থায় আছে। এখন যদি পাকিস্তানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী বাংলাদেশকে ব্যবহার করে পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করা না যায়, তবে পাক-ভারত সংঘর্ষে ভারত কখনোই প্রয়োজনানুযায়ী সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। ফলে এ উপমহাদেশে ভারতের 'Hegemony' বা একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন হবে ব্যাহত এবং “ভারত সেজন্যই চায় একটি ‘বন্ধুভাবাপন্ন' বাংলাদেশ যা সাতকন্যার গেরিলাদের জন্য ভারতকে বিভক্ত করার একটি এলাকা হিসেবে পরিগণিত হবে না ” ।
এদিকে বাংলাদেশের শর্তহীন সমর্থন ভারতের জন্য কতটুকু প্রয়োজন সে ব্যাপারটি উঠে এসেছে বিশিষ্ট ভারতীয় সমরবিদ কে. সুব্রানিয়াম স্বামীর মন্তব্যে। তাঁর 'Bangladesh and India's Security' বইয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন,
'It's (Bangladesh) existence constitutes a weak point in Indian Security in the strategic northeast region. Should events in Assam and the other 'tribal' states in that region, or in neighbouring Burma, cause deterioration in India's control of the area, Bangladesh proximity would be a critical factor.
(গ) প্রতিটি অঞ্চলেই আঞ্চলিক বলয়ে একটি মূল প্রভাব বিস্তারকারী (dominant) দেশ থাকে, যাকে ঘিরে উক্ত অঞ্চলের নীতি-আদর্শ, রণনীতি আবর্তিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট গবেষক আবুল কালাম তার
'সমকালীন' আন্তর্জাতিক রাজনীতি বইয়ে উল্লেখ করেছেন,
'পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির পথে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অন্তরায় হচ্ছে-দ্বান্দ্বিক রণনৈতিক কাঠামো। দক্ষিণ এশিয়া এমন একটি অঞ্চল যাতে অভিন্ন হুমকিপ্রসূত কৌশলগত সমঝোতা নেই বললেই চলে। বরং এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি হুমকির ক্ষেত্রে কোনো না কোনো আঞ্চলিক ইন্ধন রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। বিশেষ করে এ অঞ্চলের কেন্দ্রস্থ রাষ্ট্র ভারত এবং প্রান্তস্থ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভয়-ভীতিজনিত ব্যবধান অব্যাহত রয়েছে। ...... নীতিগত পর্যায়ে এ অঞ্চলের প্রধান দেশ হিসেবে ভারত একটি বিশ্ব ভাবমূর্তি সৃষ্টি করতে সক্রিয় এবং এক্ষেত্রে ভারত যথেষ্ট চাতুর্য ও সুক্ষতার পরিচয় রাখে। পাকিস্তান ছাড়া এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারত 'আন্তঃ নির্ভরশীলতা' রণনীতির ভিত্তিতে গড়ে তোলে শান্তিপূর্ণ, বন্ধুপ্রতিম ও সহযোগিতার সম্পর্ক। যদিও অনেকে ভারতের এ ধরণের রণনীতিকে একক ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে মনে করছে।'
এবং এ জন্যই 'অন্য কারো কর্তৃত্ব' বা ‘ভারতীয় সরকারের সমার্থক রাজনৈতিক দর্শন ও আঞ্চলিক অবস্থান' ভিন্ন কোনো দেশের স্বাধীন চিন্তাধারা ভারতীয় রণ-রাজনৈতিক দার্শনিকদের চোখে গ্রহণীয় নয় ।

(ঘ) সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত দিক-নিদের্শনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন,
....
'পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই স্মরণ রাখতে হবে আমাদের দেশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানের কথা। বাংলাদেশের আশেপাশে কয়টি দেশ রয়েছে? ভারত, বার্মা, ভূটান, নেপাল, সিকিম এবং চীন এই ছয়টি দেশ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে প্রতিটি দেশ এত সন্নিকটবর্তী যাকে বলে স্টোন প্রোয়িং ডিসটেন্স। বাংলাদেশ থেকে নেপালের দূরত্ব ১৮ মাইল, ভূটান ৪৫ মাইল এবং চীনের বর্ডার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মাইল বা তার চেয়ে সামান্য বেশি হতে পারে। বাংলাদেশ সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ। আমাদের রাষ্ট্রীয় সীমানার শুরু সমুদ্রের জলরাশি দিয়ে। আর এ মহাসমুদ্রই বাংলাদেশকে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। এ কারণে আমরা হলাম সকলের টার্গেট। এটা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে'। অন্য এক রচনায় তিনি আরো উল্লেখ করেছেন 'বাংলাদেশ এ উপমহাদেশ এবং এ অঞ্চলের সামরিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এখানে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসতে পারে যে, ইংরেজ জাতি এ উপমহাদেশে তাঁদের উপনিবেশ কায়েমের প্রাথমিক ক্ষেত্ৰ হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছিল কেন? উপমহাদেশের অন্য যেকোনো স্থান তারা প্রথমে দখল করতে চাইলে নিশ্চয়ই পারতো। কিন্তু বাংলাদেশকে তারা এজন্য বেছে নিয়েছিলো যে, এখান থেকে অন্যান্য স্থানে চলাচলে সুবিধা হবে। বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক অবস্থান ও আকার তাতে এখান থেকে পশ্চিম ও পূর্বদিকে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করাও সুবিধাজনক বলে ইংরেজরা এ স্থানকে প্রথমে বেছে নিয়েছিলো বাংলাদেশের ছিলো এক বিরাট স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান এবং
বলাবাহুল্য যে, সেই অবস্থান আজও গুরুত্বপূর্ণই রয়ে গেছে। আমাদের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ' । এখানে তাই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ, উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের হাত হতে আমরা কি নিরাপদ? না । ভারতীয় আধিপত্যবাদী মনোভাব বুঝতে হলে রাজীব গান্ধীর সময়কার শ্রীলংকা অপারেশন ও নেপালের রাজধানীতে পুলিশী অভিযানের কথা উল্লেখ করতে হয়। ভারত-শ্রীলংকা চুক্তি (জুলাই '৮৭) সম্পাদনের পূর্বে ভারত বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান দ্বারা শ্রীলংকার জলসীমা ও স্থলসীমায় তামিল গেরিলাদের জন্য রসদপত্র ফেলেছিল। এটি করা হয় শ্রীলংকার বিনানুমতিতে। তখন প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রীলংকা যখন একটু মাথা উঁচু করতে চেয়েছিল তখন তদানীন্তন রাজীব সরকার শ্রীলংকার বিরূদ্ধে কিরূপ নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় নিম্নলিখিত মন্তব্য থেকে। বলা হয়,
'This exchange of letters (Veteran President Jayawardane and Rajib Gandhi) ensures that forces prejudicial to India's interest will not be present on Sri Lanka's soil. It also ensures that Sri Lankan ports, including Trincomale will not be given for military use, this is prejudicial to India's interest
শ্রীলংকা অপারেশন সম্পর্কে আরো কিছু চমৎকার তথ্য ছাপিয়েছে ভারতীয় পত্রিকা 'Sunday'। উক্ত পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়।
'Mrs Gandhi told kao (RAW chief) to repeat his Bangladesh success in Sri Lanka. RAW set up camps in Tamil Nadu and old RAW trainers (Bangladesh operation) were brought, to train the militants to destabilise the Government. The former Indian high commissioner in Sri Lanka JN Dixit, even accused RAW of having given Rs. 5 crores to LTTE?
‘র’-এর উপনিবেশবাদী অপারেশনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো সিকিমের ভারত ভুক্তিকরণ। নিজ ইচ্ছা ও মতবাদ অন্যের ওপর চাপিয়ে সে দেশে আপাতদৃষ্টিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আড়ালে প্রভাব বলয় বিস্তার করার উদাহরণ হতে পারে নেপালের গণআন্দোলন ও ভারতপন্থী কংগ্রেসী সরকারকে ক্ষমতায় বসানো এবং উক্ত এলাকায় ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব খর্ব করা ও সাথে সাথে তিব্বত অঞ্চলে 'র'-এর অপারেশন নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া ।
বর্তমানে এ উপমহাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে 'কেন্দ্রস্থ' ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়া প্রতিটি দেশকে তার প্রভাববলয় ও আদর্শিক সমার্থকতার মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। যেহেতু পাকিস্তানের সাথে গুপ্তচর তৎপরতায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পেরে ওঠা বিভিন্ন কারণে অতটা সহজ নয় তাই ভারত পাকিস্তানের বিপক্ষে সরাসরি সামরিক তৎপরতা ও সামরিক পর্যায়ে গুপ্তচরবৃত্তি পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অন্যরকম। যেহেতু একমাত্র 'Friendly Bangladesh'-এর উপস্থিতিই তার নিরাপত্তা বলয়কে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে পারে তাই বাংলাদেশে 'বন্ধু' সন্ধান ও সে 'বন্ধু'র মাধ্যমে গোপন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা লাভ হচ্ছে ভারতীয় সরকারের মূল উদ্দেশ্য। সামগ্রিকভাবে বলা যায় ভারতীয় নীতি নির্ধারকগণ এটা নিশ্চিত করেছেন যেখানে এখন 'By any measure economic, political or military power, India dominates the strategi- cally important Asian subcontinent and the Indian Ocean' ' অর্থাৎ ভারত সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রতিটি পর্যায়েই যে কোন উপায়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ উপমহাদেশ ও ভারত মহাসাগরে প্রাধান্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছে। এই প্রাধান্য বিস্তারের জন্যই সম্ভবত ভারত ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে সামরিক বাজেট বাড়িয়েছে ২৮% ভাগ।

এরপূর্বে ১৯৯৩ সালে ভারতের ২৮,৭৭০ কোটি টাকার সামরিক বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪,৫০০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায় অর্থাৎ এক বছরের বৃদ্ধি পায় ৫৭৩০ কোটি টাকা। ভারত এক বছরে তার সামরিক খাতে ব্যয় যতখানি বাড়িয়েছে সেই বর্ধিত অংশটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে সাড়ে তিন বছরের বাজেটের সমান। এখন স্বভাবতঃই প্রশ্ন আসে, চীন-ভারত চুক্তি যদি ভারতের অনুকূলেই হবে তবে দারিদ্রপীড়িত ভারতে এক বছরে ('৯৩ সালে) ২০%ভাগ সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছিল কেন? এরপর যদি ভারতের মতো একটি দেশ আমাদের পাশে থাকে তখন ভারত ও তার আশেপাশের ছোট দেশগুলোর অবস্থান সম্পর্কিত একটি সুন্দর কিন্তু সুনির্দিষ্ট মন্তব্য উল্লেখ করা যায়।
নেপালের অধ্যাপক G. B. Khanal বলেছিলেন, 'For a small country the best neighbour is a rich country with a small army. The most dangerous enemy is a poor country with a big army'
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



