somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুল রাজনীতি নয়, চাই সঠিক দেশপ্রেম

৩১ শে মার্চ, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি সাধারণত বাংলাদেশের খেলাগুলোকে রাজনীতির উর্দ্ধে রাখার প্রান্তকর চেষ্টা করি। বিশেষত যে ক্রেকেট বাংলাদেশ নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়, মিশে দিয়েছে জাতি, বর্ণ, গোত্রকে এক ঐক্যের নিশানতলে; শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তানের নিন্দা নামক সীমাবদ্ধতার মাঝে তাই একে বেঁধে রাখতে নারাজ। তাছাড়া যেসব কারনে আমরা কেউ পাকিস্তান আবার কেউ ভারতকে সমর্থনের বিরোধীতা করছি, ঠিক সেই কারণটিতো ইংল্যান্ডের বেলায় প্রযোজ্য হওয়ার কথা। তাহলে এখন কি আমরা এই দাবী তুলবো যে, ইউরোপের শিল্প বিপ্লোত্তর সকল সম্পদ এই উপমহাদেশ, বিশেষত বাংলাদেশেরই প্রাপ্য। সুতরাং এসব সম্পদ আমাদের ফেরত দেয়া হোক!

বাংলাদেশের খেলার সময় ভারত-পাকিস্তান বিষয়ক যে দেশপ্রেম আমাদের মাঝে বাসা বাঁধে, সেটিকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতাই মনেকরি। এটি কখনোই আমাদের জাতিহ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না। দেশপ্রেম কেবল খেলায় ভারত-পাকিস্তানের বিরোধীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি আমরা সেটিকে আমাদের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি, আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সার্বভৌমত্ত্ব এবং আমাদের নিজস্ব পণ্যের প্রতি হয়; তবে সেটিকেই দেশপ্রেমের সত্যিকার জাগ্রত চেতনা বলতে হবে।

বর্তমানে পাকিস্তান-ভারতকে নিয়ে দেশপ্রেমকে ঠুনকো মানসিকতা ও ছেলে ভুলানো ফ্যাশন বলা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ থাকে না, যখন দেখি মুখে দেশপ্রেম আর কাজে দেশের সর্বনাশ করার চেষ্টায় রত হতে।

গত বৃহস্পতিবার বন্ধুরা মিলে কাপ্তাই যাওয়ার পথে ভারত-পাকিস্তানের বিষয়টি উঠে এলে আমাদের দুইজন বন্ধু এ বিষয়ে বেশ গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়ার মত বক্তব্য উপস্থাপন করল। এক পর্যায়ে তাদের একজন বলল ‘এখন থেকে যে ভারত কিংবা পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে সে আস্তা মা***দ।’ ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু না শেষ হয়নি।

আমারা সেই সকাল আটটায় রওয়ানা দেয়ার পর থেকেই আমাদের মাইক্রোটিতে একাধারে হিন্দি গান চলে আসছিল। বিরক্তির শেষ শিখরে পৌছানোর পর আমি অনুরোধ করলাম হিন্দি বাদ দিয়ে বাংলা চালাতে। কিন্তু তখন ঐ দুই বন্ধুর আরেকজন বলে উঠলো মামুন ভাই, এমন জার্নিতে চার-ছক্কা হৈহৈহৈ গান না হলে চলে না। যেহেতু বাংলায় এমন গান নাই, সেহুতু হিন্দিই বেটার দেন বেস্ট। কি আর করার! চুপ করে থেকে কান ফাটানো হিন্দি শোনা ছাড়া উপায় ছিল না। এক পর্যায়ে তাদের জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের ফেবারিট ছবি কোনটি। সবাই মোটামুটি ইংলিশ কিংবা হিন্দি বললেও আমার মত অবাগা যে, বাংলাকে ভালবাসে, তার মত কাউকে পাওয়া যায়নি প্রথমে। অবশ্য পরে যখন বললাম, আমার প্রিয় চলচ্চিত্র হল, “মরনের পরে” নামক বাংলা চিনেমাটি। তখন কয়েকজন বলল, হ্যা ওটা দেখেছি। ভাল লেগেছে।

অনেকে হয়তো আমার হিন্দি বিরোধিতাকে ভারত বিদ্বেষিতাকে ভাববেন। হ্যাঁ ভাবতে পারেন, সমস্যা নেই। কারন এই হিন্দি সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতির স্বাতন্ত্রতাকে কুড়ে কুড়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। পাকিস্তানি সেই হায়েনারা অস্ত দিয়ে আমাদের যেই মুখের ভাষাকে কেড়ে নিতে পারেনি, সেই মুখের ভাষা দিনদিন আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় সংস্কৃতি বিশেষ করে হিন্দি আজ আমাদের ৫ বছরের শিশু থেকে শুরু করে সমাজের বেশির ভাগ মানুষ বিশেষ করে তরুণ-তরুনীদের মুখের স্বাভাবিক ভাষা। ওদের মুখে যন হিন্দি শুনি তখন, বুকটা ফেটে চৌচির হয় সালাম, রফিক, বরকতদের জন্য।

শেষকথা বলতে চাই, আমাদের দেশপ্রেম খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মপন্ধায় সম্পাদ করি। আমি যেমন ভারতের সংস্কৃতি পরিহার করে চলার চেষ্টা করি, তেমনি পাকিস্তানি পণ্যগুলোকে ব্যবহার না করে চলার চেষ্টা করি। তাই আসুন, খুব বেশি প্রয়োজন নয়, এমন পাকিস্তানি ও ভারতীয় পণ্য বর্জন করার চেষ্টা করি। আর এরমাধ্যমেই হবে আমাদের দেশপ্রেমের প্রকৃত চেতনা। মাঠে ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গিত আর পতাকা ওড়ানোর বিরোধীতা করার মধ্যে কোন বীরত্ব আমি দেখি না
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অদৃশ্য অসুখের দৃশ্যমান সংকট: দ্বৈত বাস্তবতার প্রভাব

লিখেছেন বাঙালী ঋষি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আধুনিক সভ্যতা একটি মৌলিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা পরিমাপযোগ্য, সেটাই বাস্তব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমরা জানি কীভাবে শরীরের অসুখ নির্ণয় করতে হয়, কীভাবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×