somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুগের হাওয়া

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ থেকে ২৫ বছর আগের কথা বলছি। আমার কোন ভাই নেই, বাবাও নেই। স্বাভাবিক ভাবেই আমার বিয়ের কোন প্রস্তাব আনার মতো কেউ নেই। এক কথায় মেনে নিতে হলো, যে আমার আর বিয়ে হবে না।

তখন একজন শুভাকাংখী দাদা উদ্যোগী হলেন। তিনি ছিলেন একজন উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা।
তিনি কয়েক জায়গায় আমার বিয়ের ব্যাপারে যোগাযোগ করতে লাগলেন। সব জায়গা থেকে বিমুখ হলেন। একই সমস্যা। আমার বাবা নেই।তাদের শ্বশুর বাড়ী হবে না। তারা শ্বশুর বাড়ী এলে বাজারের ব্যাগ নিয়ে কে মুরগী আনতে যাবে?তা ছাড়া শ্বশুর না থাকলে কি শ্বশুর বাড়ী হলো?

আমার কোন ভাই নেই, তাদের বাচ্চারা মামা বাড়ী যেতে পারবে না। ইত্যাদি অসংখ্য অজুহাত্ শেষে তিনি হাল ছেড়ে দিলেন।
এর প্রায় ১০ বছর পরের কথা।আমার ইজ্ঞিনীয়ার দেবর বিয়ের মেয়ে দেখে বেড়াচ্ছে।
তার মন্তব্য ছিল এরকম: কোন মেয়ের ঘাড় খাট, কোন মেয়ের ভাই নেই, কোন মেয়ের রং কালো, কোন মেয়ে মোটা,কোন মেয়ে রোগা, কারও চুল নেই, কারও মাতুলে কেই নেই, কোন মেয়ের পরিবার আবার মাতুল ঘেষা। যোগ্যতা নিয়ে কোন মেয়েকে কিছু বলতে পারে নি।

আর আমাদের মধ্যে কাস্ট এর সমস্যা এখনও প্রবলভাবে রয়েছে। মনে হয় যেন লেখা পড়া শিখে আমরা কত উদার হয়েছি। কিন্তু না । আসল জায়গাতে ঠিকই আছি। সেটা বোঝা যায় বিবাহ ক্ষেত্রে। এখনও এই প্রথা প্রবল যে ভিন্ন কাস্টে বিবাহ হবে না।
আমার মনে হয় এ পর্যন্ত যে গুলি অসবর্ন বিয়ে হয়েছে তার প্রায় সবগুলিই প্রেম ঘটিত।
এবং এই বিয়েগুলিকে এখনও সামাজিক মর্যাদা দিতে মুরুব্বী গন আধুনিক হলেও তাদের মননশীলতাই বাধে।

কাস্ট প্রথা যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও কি হারে বিরাজ করছে তা কেবল বিয়ের বাজারেই প্রস্ফুটিত হয়।হোক না পাত্র পাত্রী শিক্ষিত।
আর পাত্রীর গায়ের রং তো এখনও বিয়ের বাজারে প্রধান ফ্যাক্টর হিসাবে পরিগনিত হয়।তাতে করে কন্যা যতই শিক্ষিত হোক না কেন?
মেয়ে যে দেখতে অপরূপা হতেই হবে!
যুগ শুধু ২৫ বছর নয়, শত বছর এগিয়েছে, আমরা লেভা পড়াতে এগিয়ে গিয়েছি, পোশাকে সভ্য হয়েছি, কাসার থালা ছেড়ে কাঁচের প্লেটে ভাত খেতে পছন্দ করি,, শাড়ীর পরিবর্তে সালোয়ার কামিজ প্রিয় হয়েছে ,তুলসী তলায় প্রণাম করতে লজ্জা পাই,যুগের হাওয়া বদলে গেছে কিন্তু মনের কোসে আমাদের এখনও সেই কু সংস্কার গুলো আকড়ে বসে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৪৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌতালী রায়ের অজ্ঞতা না ধৃষ্টতা ?"

লিখেছেন আরািফন, ২০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

একজন আইনজীবী হয়েও সে যেভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আলাদা প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দেখিয়েছেন,তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নামে দেশের মানচিত্র খণ্ডিত করার হুমকি কোন নাগরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×