somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিপ্রেসন আসলে বড়লোকদের অসুখ, গরিবের হয়না।

২৪ শে মে, ২০২৩ রাত ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিপ্রেশন একটি মানসিক ব্যাধি। মন খারাপ থাকা আর ডিপ্রেশন এক জিনিস না। মা বকা দিল, আর অমনি আমি "আমাকে কেউ বালুবাসে না" ভেবে নিজের রুমের কোণে পড়ে থাকলাম, সেটাকে মন খারাপ বলে। সেটার পেছনে সলিড কোন কারন থাকে, একটু পরে সেই মাই যখন বলে "ভাত খেতে আয়" তখন তা কেটে যায়।
কিন্তু ডিপ্রেশনের জন্য এমন সলিড কারন না থাকলেও চলে। উল্টো হাসি ঠাট্টা, খেলাধুলার মতন চরম আনন্দময় মুহূর্তকেও তখন ফিকে মনে হয়। টাকা পয়সা, অঢেল সম্পদ, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রেম ভালবাসা, সাকসেসফুল ক্যারিয়ার ইত্যাদি সব কিছুকেই অর্থহীন মনে হয়। সেটা ডিপ্রেশন।
অনেকেই আবার দুইটাকেই গুলায় ফেলে, তাই ভেঙ্গে উদাহরণ দিয়ে বললাম।
তা হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একটি আর্টিকেল মতে ডিপ্রেশনের কারন শুধু ব্রেইনের কেমিক্যাল ইমব্যালেন্সই নয়, এর জটিলতা আরও গভীরে। বছরের পর বছর ধরে চালানো গবেষণা ইঙ্গিত করে যে ডিপ্রেশন শুধুমাত্র ব্রেইন কেমিক্যালের কম বা বেশি হয়ে যাওয়ার জন্যই ঘটে না, বরং এর পেছনে আরও অনেক কারন থাকে। যেমন ব্রেইন হয়তো আমাদের মেজাজ মতন রিয়েক্ট করতে ব্যর্থ বা ভুল করে, জিনগত দুর্বলতা, ঘটমান জীবনের স্ট্রেস বা টেনশন ইত্যাদি। আপনি হয়তো একই লক্ষনওয়ালা রোগী দেখবেন, বাইরের দিক দিয়ে তাঁদের দুইজনকে একই মনে হবে, কিন্তু তাঁদের ডিপ্রেশন হয়তো ভিন্ন ভিন্ন কারনে ট্রিগার করেছে, কাজেই তাঁদের চিকিৎসা পদ্ধতিও অবশ্যই ভিন্ন রকম হতে হবে। বর্তমান মনোবিজ্ঞানীরা অনেক কিছুই জানেন ডিপ্রেশন সম্পর্কে, কিন্তু ডিপ্রেশনকে পুরোপুরি বুঝে ফেলতে, বা একে জয় করতে তাঁদের এখনও আরও বহু গবেষণা, তথ্য, উপাত্তের প্রয়োজন আছে।
রোগটি আরও গভীরে ডুব দেয়। মানে ব্রেনের কোন কোন অংশ ডিপ্রেশনের সময়ে কিভাবে রিয়েক্ট করে সেটার ব্যাপারেও স্টাডি ও রিপোর্ট আছে। ওসব টেকনিক্যাল ব্যাপারে আপাতত না যাই। সেটা লিখে ফেললে একদল লোক আমার ইনবক্সে আসবে ডিপ্রেশনের রোগ নিরাময়ের ওষুধ জানতে। আরেকদল নিজেই নিজেকে ডাক্তার ভেবে অন্যের চিকিৎসা শুরু করে দিবে।
আপাতত যা বলতে চাইছি তা হচ্ছে,
১. যদি মেডিক্যাল লাইনে পড়াশোনা না থাকে, তাহলে নিজেকে ডাক্তার ভেবে বসবেন না। যদি আপনার মনে হয়ে থাকে কোন কারন ছাড়াই আপনাকে বিষন্নতা ভর করছে, তাহলে অবশ্যই মেডিক্যাল সাপোর্ট নিন। আপনার ব্রেইনের কোন অংশে হয়তো কোন কেমিক্যাল কম বা বেশি রিয়েক্ট করছে, ওষুধ ছাড়া তা সারানো সম্ভব না।
২. আবারও বলি, যদি মেডিক্যাল লাইনে পড়াশোনা না থাকে, তাহলে নিজেকে ডাক্তার ভেবে বসবেন না। অন্য কেউ যখন বলবে তাঁর বিষন্নতা আছে, তখন "এইটা করো, ঠিক হয়ে যাবে" টাইপ কথাবার্তা না বলে সে কি বলতে চায় শুনুন। ওকে প্রানভরে কথা বলতে দিন, ওকে ভরসা দিন যে ওর পরিস্থিতি আপনি বুঝতে পারছেন, এবং কোন মনোরোগ চিকিৎসকের সাথে কথা বলতে বলুন।
৩. আপনার নিজেরও যদি আগে ডিপ্রেশন থেকে থাকে, সেটা থেকে কোন ওষুধে বা টোটকায় ভাল ফল পেয়ে থাকেন, তবুও ওর চিকিৎসা ভিন্ন হবার সম্ভাবনাই বেশি। কাজেই, ওকে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টে পাঠান, নিজে প্রেসক্রিপশন রচনা করতে শুরু করবেন না। আপনার ইনটেনশন ভাল হলেও এতে আপনি ওর ১০০% ক্ষতিই করবেন। ওর যদি আসলেই ভাল চান, তাহলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
৪. "যার ঈমান থাকে, সে কখনও ডিপ্রেস্ড হয় না" - শুধু অতি ফালতু ও আজাইরা বাক্যই নয়, বরং ইসলামবিরোধী কথাও। আমাদের রাসূলের (সঃ) জীবনীতেও একটা সময়ে তিনি ডিপ্রেস্ড ছিলেন। যদি সেটাকে ডিপ্রেশন নাও বলি, এঞ্জাইটি যে ছিল সেটাতো বলতেই হবে, এবং এর পরিপ্রেক্ষিতেই সূরা আদ-দুহা নাজেল হয়। পৃথিবীর অনেক অনেক অনেক দেশে ইসলামিক স্কলাররা ডিপ্রেস্ড রোগীদের চিয়ার করতেই এই সূরা বারবার পড়তে বলে। সূরাটি আসলেই ইন্সপায়ারিং। পড়ুন, বুঝুন, নিজের জীবনের ঘটনাগুলোর উপর এপ্লাই করুন, মনে হাতির বল পাওয়া উচিত। না পেলে অবশ্যই বুঝবেন আপনার ডিপ্রেশন আছে নিশ্চিত।
৫. ডিপ্রেশন যেহেতু একটি রোগ, কাজেই কোন চিকিৎসক বা মেডিক্যাল প্রফেশনাল ছাড়া অন্য কারোর কথাকে দুই পয়সার মূল্যও দিবেন না। হোক তিনি কোন মহান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট কোন ডিগ্রিধারী স্কলার, হোক তিনি দুর্দান্ত সেলিব্রেটি লেখক, অভিনেতা, খেলোয়াড় কিংবা হোক তিনি পৃথিবীখ্যাত কোন নেতা। হয়তো তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ফিল্ডে একেকজন লেজেন্ড, কিন্তু মেডিক্যাল ফিল্ডে তাঁরা হাতুড়ে ডাক্তার। এবং হাতুড়ে ডাক্তারদের উপর ভরসা করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।
৬. ক্যান্সার, ডায়রিয়া, আমাশয়, করোনা ইত্যাদি যেমন ধনী গরিব দেখে আসেনা, কাজেই ডিপ্রেশনও আপনার ব্যাংক ব্যালেন্সের খোঁজ নিয়ে আপনাকে ধরবে না। এমন ভাবার কোনই উপায় নেই যে "আমিতো গরিব, আমার ডিপ্রেশন হবেনা - ওটা ধনীদের হয়।" আপনি পথের ফকির হলেও আপনার ডিপ্রেশন হবে, আপনি ইলন মাস্ক হলেও হবে। গরিব হলে, ডাক্তারের কাছে না গেলে, গন্ডমূর্খ হলে রোগটা সম্পর্কে জানবেন না, কাজেই ধরেই নিবেন "আজ আমার মন ভাল নেই। ইচ্ছা করতেছে তিনতলা বিল্ডিং দিয়ে নিচে লাফ দেই।" ওটাই ডিপ্রেশন।

এই যে আমি এতক্ষন লিখলাম, আবারও পড়ুন, ভাল করে পড়ে দেখুন কোথাও আমি এটাকে হাল্কা করে দেখিয়েছি কিনা, কোথাও বলেছি কিনা ওটা আপনাতেই সেরে যায়, কোথাও মনে হচ্ছে কিনা আমি বলার চেষ্টা করেছি ডিপ্রেস্ড রোগী আসলে ঢং করে, দুইটা চটকানা দিলেই লাইনে চলে আসবে, কিংবা এমনই কিছু। যদি কোন বাক্যে বা শব্দে তা মনে হয়ে থাকে, এখুনি আমাকে জানান, এডিট করে দিব। এটি অতি সিরিয়াস বিষয়। মোটেই হাল্কাভাবে নিবেন না। পরে দেখবেন আপনার অতি আপনজন কোন কারন ছাড়াই আত্মহত্যা করে ফেলেছে, এবং আপনি আফসোস করে মাথা চাপড়াচ্ছেন। তখন আপনার মনে হবে আপনি জানতেন, অথচ কিছু করেননি।
কিংবা কে জানে! রোগী হয়তো আপনি নিজেই, এবং কিছু ক্ষেত্রে আপনার নিজের উপরই কন্ট্রোল থাকবে না।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০২৩ রাত ২:৫৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×