প্রতিবছর শীতের সময় এলাকা থেকে পিকনিকে যেতাম।সবাই মিলে চাদা ঠিক করা হতো।চাদার পয়সায় বাজেট না হলে এলাকার বড়ভাইদের থেকে বাকীটা টান পড়তো।নিদিষ্ট দিনের আগে সবাই চাদা দিলেও একজন সবসময় ভেজলি করতো। সে হলো পিন্টুর মামা। মামা হলেও বয়সে আমাদের চেয়ে দুবছরের বড় হবে বৈকি।সবসময় আমাদের সাথে আড্ডা দেন। অন্যের পয়সায় চা সিগারেট খান আর এলাকায় হাওয়া লাগিয়ে বেড়ান।কার ছেলে কার মেয়ের সাথে টাংকি মারে ,কে চটি বই পড়তে গিয়ে বাপের হাতে ধরা খেয়েছে কিংবা কোন ফ্ল্যাটে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে এসব খবর রাখার গুরু দায়িত্ব তিনি পালন করেন।
চাদার টাকা নিয়ে প্রতিবছর ভেজাল করলেও একবার সত্যিই তিনি টাকা দিতে নারাজ।কারণ উনার টাকা নেই। সবারই এককথা প্রতিবছরের মত এইবারও কম দেয়ার বাহানা। তিনি যদি চাদার পুরা টাকা না দেন তাহলে এইবার উনাকে ছাড়াই পিকনিক হবে।এবং তাই হলো। উনাকে ছাড়াই পিকনিকে গেলো সবাই।
এদিকে মামা রেগে আগুন। এলাকায় একটা ছেলেও নাই অথচ তিনি আছেন এটা দেখে বড় ভাইরা হাসিঠাট্টা করতে লাগলো।মামাকে না নেয়ার ব্যাপারে পিন্টুরই উৎসাহ বেশী ছিলো। এলাকার হাটথব নায়িকা জিনিয়া ছিলো এই পিকনিকের যাত্রী। মামা ভাগিনা দুজনই প্রায়ই ঝগড়া করতো জিনিয়াকে নিয়ে।
পিন্টুর উপর প্রতিশোধ নেয়ার উপায় বের করলো মামা। বাসায় গিয়ে পিন্টুর মাকে বললো যে একটা বাস এক্সিডেন্ট করেছে পিন্টুরা যে পথে গিয়েছে সে পথেই।ভাইয়ের কথা বিশ্বাস করে পিন্টুর মা চিন্তায় পড়লেন। ভাইকে দুশ টাকা দিয়ে বললেন দেখে আসতে ঘটনাস্থল।মামাও এলাকার বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে চা নাস্তা খেয়ে এসে বললেন যে ওটা পিন্টুদের বাস না।
সন্ধ্যায় সবাই এলাকায় ফিরলে কিভাবে নিজের বোনকে বোকা বানিয়ে ভাগিনার উপর প্রতিশোধ নিয়েছে সেটা বলে হাসতে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


