somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধূলোর প্রাসাদ

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সানি লিওন বা মিয়া খলিফার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি আমাকে আর উত্তেজিত করে না।কোথায় যেন একটা বিষণ্ণতা-হতাশা-অপূর্ণতা খুজে পাই।

আচ্ছা,শারীরিক তৃপ্তিটাই কি সব?জৈবিক চাহিদা আর ক্ষুদার জন্যই কি আমরা ছুটে চলি?আত্মার সুখ বলতে কি সত্যিই কি কিছু নেই?

প্রশ্নগুলা আগে মনে জমাট বাঁধেনি, এখন খুব যন্ত্রণা করে,খুউউব।
আমার দুই জমজ ছেলে রাবার-শাবাব যতবার প্রশ্ন করে,"বাবা,বাবা, মা কোথায়?কখন আসবে?ফুপি কখন শপিং করে ফিরে এসেছে,মা আসেনি কেন?"

আমাদের প্রেমটা বাকিদের মত ছিল না,আমাদের পরিবার চাইত ;বেশ জোরই করেছিল।তাই অনেক মান-অভিমান-রাগ পেড়িয়ে আমরা প্রেমে পরেছিলাম।

আমার তখনো মনে হত,কেয়া বেশি ছাড় দিয়েছিল,এখনো তাই মনে হয়।আমি মোটেই সুদর্শন ছিলাম না।তাই সুন্দরি কেয়ার আমাকে মেনে নেয়া মোটেই সোজা ছিল না।আমি কালো,খাটো।মেয়ে ভোলানো আচরণও জানি না।কিন্তু পারিবারিক চাপেই মনে হয়,কেয়া মেনে নিয়েছিল।

আমি কোন সমঝোতা করিনি,তার প্রেমেই পরেছিলাম।টিউশনি, ক্লাস ফাকি দিয়ে তার সাথে দেখা করতাম।ভ্যান থেকে শপিং করা আমি,তার জন্য দামী গিফটই কিনতাম।না,তাকে মোহিত করার জন্য না।আমি পিয়াতে মোহিত ছিলাম তাই।বন্ধুরা তাকে আমার অলংকার বলতো, তাই!

কষ্ট করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেয়া আমি,তাকে নিয়ে দামী রেস্টুরেন্টেই যেতাম,তার সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগতো, তাই!

উজ্জ্বল রঙের শার্ট বা গেঞ্জি, থকথকে স্যুপ,লা বাম্বা'র ফুচকা,রঙিন চাঊমিন আমার কখনো ভালো লাগতো না তবু কখনো বলি নি।আস্তে আস্তে সয়ে গেছে।তার একদল ছেলে বন্ধুও আমার পছন্দ ছিল না,কিন্তু কিছু বলিনি।কারণ তাকে আমি খুব ভালোবাসতাম!

তার সাথে শপিংএ গিয়ে সব সময় টেনশনে থাকতাম,সামনে পরিক্ষা আমাকে টপার পজিশন ধরে রাখতে হবে,ছাত্রের পরিক্ষা পড়াতে যেতে হবে।দেখা যেত,৩ ঘন্টা ঘোরাঘুরি করার পর সে কিছুই কিনেনি।খুব বিরক্ত হতাম,কখনো প্রকাশ করিনি।কারণ তাকে ভালোবাসতাম!

Fire on Ice রেস্টুরেন্ট আমাদের প্রথম স্পর্শের সাক্ষী! আমিই তাকে স্পর্ধা করার জন্য মুখিয়ে থাকতাম।স্বপ্নে কত রাত তাকে পেয়েছি ইয়ত্তা নেই।

আমাদের বিয়ে হয়েছিল ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের আগে কখনো মনে হয়নি, সে নিমরাজি।

বাসরে তার চোখে তাকিয়ে, আমি আমার স্বর্গই দেখেছিলাম!আমার বুকে কেমন করে লুটিয়ে থাকতো!কই,আমিতো তার শারীরিক অপূর্ণতা বুঝতে পারিনি?তার চোখ,ঠোটের কোণে কখনো অপূর্ণতা দেখতে পাইনি!

প্রাচীন শারীরিক খেলা দুজন বেশ উপভোগ করেছি।তার চোখে,শরীরে তৃপ্তিই ছিল।তবে সেটাকি অভিনয় ছিল?

আমাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে দুনিয়ায় এসেছিল রাবাব-শাবাব ২০১৬ সালের ১লা নভেম্বর! নিজের জ্বীন-DNA নিজের হাতে হাতপা নাড়াচ্ছে,পিটপিট করে তাকিয়ে আছে!এটা দেখে আমার প্রায় মূরছা যাবার অবস্থা হয়েছিল!

লেবার পেইন ঊঠলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল।ডাক্তার আমাকে কিছুতে OT তে থাকতে দিবে না।কেয়া আমার হাত ছাড়েনি,শক্ত করে ধরে ছিল।আমার হাত,বুকের দাগ এখনো তার লেবার পেইনের প্রতিফলন বহন করে।

কই আমিতো কখনো তার মাঝে অতৃপ্তি-ঘৃণা দেখতে পাই নি?

তারপর সে বিচ্ছিরি মোটা হয়ে গেল।মোটা মেয়ে আমার একদম পছন্দ না।প্রতিবার বিছানায় কেমন মরা মাছেরমত পরে থাকতো, আগের মত আবেদন নেই।তার চেয়ে বরং বাসার কাজের মেয়েটাকে দারুণ লাগতো।

কই,আমারতো নৈতিক পদস্খলন হয়নি?আমিতো তাকেই বিছানায় চাইতাম,তাকে নিয়েই খুশি ছিলাম।কখনো কখনো সে নিজেই রাজি হত না,আমি প্রায় জোর করেই.......

পরে কিছুদিন আমি তাকে জোর করিনি।ভেবেছি সে একটু সময় চাচ্ছে,থাকুক না কিছুদিন। সারাদিন একা বাসায় থেকে দুইটা জমজ বাচ্চার ঝামেলা পোহানো মোটেই সোজা না।তারপর রাতে আবার আমার শারীরিক অত্যাচার? তাই নিজের পৈশাচিক চাহিদাটাকে একরকম দাবিয়েই রেখেছিলাম!

আমি তাকে হারিয়ে ফেলেছি, আমি বুঝতেই পারিনি!যেমন বুঝতে পারেনি কামরুল ভাই।
তার বৌ আমাদের কাজের লোকের সাথে ভেগে গিয়েছিল।

অথচ কামরুল ভাইকে পাড়ার মেয়েরা সুপুরুষ হিসেবেই জানতো। এলাকায় চেংড়া ছেলেদের কাছে প্রচলিত ছিল,কামরুল ভাই নাকি এলাকার প্রায় সব মেয়েকেই পাট খেতে নিয়ে গিয়েছে!একটা ঘটনার সাক্ষীতো আমি নিজেই।
তবে এই সফল-সুপুরুষ লোকটির বৌ কেন কাজের লোকের সাথে ভেগে গেল?কাজের লোকটি তাকে সুন্দর জীবন দিতে পারবে?

সবাই বলে,কামরুল ভাই তার যুবক বয়সের পাপের ফল ভোগ করেছে।তবে, আমার সাথে কেন এমন হল?আমিতো কখনো অমন পাপ করিনি!

আমিতো তার এলোকেশে আমার স্বর্ণ খুঁজতাম।অপেক্ষায় থাকতাম,কখন ছেলেগুলা ঘুমিয়ে গেলে সে আমার কাছে আসবে।

আজ ১২ দিন হল,কেয়া আমাদের বাসার ড্রাইভারের সাথে চলে গিয়েছে।ড্রাইভার ছেলেটিকে মাত্র ২ মাস হল রাখা হয়েছে,সে এমন কি করলো, যা আমি ৭ বছরেও করতে পারিনি?খুব জানতে ইচ্ছে করে।

আমার ছেলেগুলা না হয় ছোট,একটা সময় আর মায়ের কথা মনে করবে না!আমার কি হবে,আমার এই ব্যর্থতা আমাকে সারাটা জীবন কুড়ে খাবে।

মানুষ যখন বলে,"আহারে এমন দুধের শিশু ছেড়ে কেমনে গেল মাইয়াটা?"
খুব খারাপ লাগে,রাগ হয়!
হয়তো আমি তাকে সুখ দিতে পারিনি,সে তো আমায় ঠিকই সুখের সাগরে ভাসিয়েছিল।

কখনো দেখা হলে প্রশ্নগুলা জিজ্ঞেস করবো.......
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৩
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ আশাহত বালকের আত্মকথা!!

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:২২



একদা করিয়াছিলাম পণ ছোটবেলায় মনে
সুখি হইতে হইবে আমায় এই জীবনে,
বড় উচ্চাশায় করিলেন ভর্তি স্কুলেতে পিতা
ফি বছর রেজাল্ট দেখে বুঝিলেন সবই বৃথা।

বিদ্যা অর্জন নিতান্তই কঠিন শক্ত মর্ম তাহার,
অবশেষে উপলব্ধি করিলাম এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মরণে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৪


বিশ্বজুড়ে তোমারই জয়
হে জাতির পিতা
শত বছরের বন্দী জাতির
তুমি ভাগ্য বিধাতা ।।
সালাম তোমায় প্রণাম তোমায়
জানাই নমষ্কার
সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য
তুমি অনন্য অহংকার।।
ভুলিতে পারনিি তোমায়
ভোলা কি যায় ?
দিকভ্রান্ত দুষ্টু লোকের
নানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Prescription

লিখেছেন রেজা শাহ্‌, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯



কলিজাকে ডাক্তার দেখিয়ে Prescription নিলাম ।

মোবাইলে Prescription এর ছবি তুলে ফার্মেসিতে গেলাম ঔষধ কিনতে।

বল্লো হবে না,
অরিজিনাল Prescription ছাড়া কোন মতেই ঔষধ দিবেন না ।

না তো নাই।

= বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুধে ভেজাল মেশানো কোম্পানিগুলো বিপদে ফেলে দিয়েছে খামারিদের

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫১

নিজেদের খামারে উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারিরা। ওই অঞ্চল থেকে মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার পর প্যাকেটজাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্রেমবন্দির গল্প-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:১০

©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
গত এপ্রিল মাসে আম্মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ইসলামিয়া ইস্পাহানী চক্ষু হাসপাতাল চোখ দেখাতে। সেখানে চোখ দেখাতে অনেক ঘুরাঘুরি করতে হয়। ফাইল কাগজপত্র এখান থেকে সেখানে, সেখান থেকে ওখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×