somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষাক্ত জ্ঞান!

২১ শে জানুয়ারি, ২০২৩ ভোর ৫:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্ঞান বীজ 1) " খোকন যাবে শশুড় বাড়ী টোপর মাথায় দিয়ে।"=> জ্ঞান বৃক্ষ - একেবারে শৈশবেই বিয়ে করা ফরজ।"

জ্ঞান বীজ 2) "লেখা পড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে।"=> জ্ঞান বৃক্ষ– জীবন মানে গাড়ী-ঘোড়ায় চরা আর লেখা পড়া না জানলে টিকিট চেকার ঠকাবে ।

ফলাফল: সময়ের তেলে 1) ও 2) নং জ্ঞান বৃক্ষের গাছ পাকা ফলের আচার যা ষড়রিপুর বয়ামে প্রজ্ঞা নামে বাজারজাত কৃত:- "মানবকূলের জন্ম নারী আর গাড়ীর জন্য, এই দুইটা যত বেশী ততই জীবন ধন্য!"


পাদটিকা: সেই শিশু কাল থেকেই জ্ঞান বুদ্ধি আমার যতটা কম ভয় ততটাই বেশী। আকাশের তারা গুনে শেষ করা গেলেও আমার ভয়ের উৎস গুনে শেষ করা যাবে না। আর সরস্বতির গোস্বার কারণে বিদ্যা তো আর হলই না। তার উপর ইদানিং আমাকে দিবা নিশি ভয় দেখিয়ে তটস্থ রাখে “পরাজয়ের ডর” নামে এক মাফিয়া।

অগত্যা ভয়ে ভয়ে আমার গুরুকে একদিন আরজি জানালাম, "গুরু তোমার দোয়ায় ধন্য আমি ভয় করি না অকাল মরণ, কিন্তু আমার পরাণ না থাকিলে কে সেবিবে তোমার চরণ?" গুরু ভূঁরু কুঁচকে বললেন, "ভণিতা ছেড়ে বল চাস কি, এর আগে চেয়ে কি পাসনি!" কাঁচুমাচু করে বললাম, "এই মন সুন্দর এক খান অস্ত্র পেতে চায়, সুন্দরেরা দেখতে ছোট ক্ষমতায় নয়।" গুরু তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, "অস্ত্রের ভয় আনে নাকো জয় আনে নিদারন হতাশা, শত্রু বধিতে লাগে না কামান লাগে ভালবাসা।" এবার আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম, "গুরু তোমাকেও কি করেছে আছর বাঙ্গালী ভূতে, সুযোগ পেলেই মন চায় জ্ঞান আর উপদেশ দিতে!" গুরু এইবারে মাথা চুলকে বললেন, " ওরে অর্বাচীন জ্ঞান হীন চাস রণতুর্য, দিলাম কামান তবে একটা শর্ত প্রযোজ্য!" । মোবাইল কোম্পানির উপর ভয়াবহ রাগ হলেও কামানের আশায় দাঁতে দাঁত চেপে বললাম "একটা কেন ইচ্ছে হলে যত খুশি দেবে, আমি কি ডরাই তোমার শর্ত রাঘবে!" এরপর বীর বেশে কামানের কাছে ঘেঁষে খুঁজে পেলাম শর্ত, মোটেও ছোট নয় মোটা দাগে লেখা তায় করে বেশ গর্ত, "স্বর্গ মর্ত্য যেথা খুশি শত্রু নিধন কর, দূর্বলকে মারলে তুমি নিজেই মরতে পার।"

শর্তাভীত না হয়ে কামানসহ গুরুর কাছে থেকে বিদায় নিলাম। এই প্রথম ভয় না পেয়ে বুক ফুলিয়ে শত্রু নিধনের ব্রত নিয়ে শত্রুর খোঁজে নামলাম। প্রথমেই মনে পরল আমার জানের দুশমন মানুষ নিধনের কথা, কিন্তু মানুষ তো পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতু ও দূর্বল প্রাণী! তাহলে তো শর্ত মোতাবেক কামান দাগা যাবেনা! এবার মনে পরল বিশ্বের হিংস্র জীব জানোয়ার এর কথা, কিন্তু এদের বিনাশের জন্য 'মানুষ'ই যথেষ্ট অযথা কামানের দরকার কি? আচ্ছা মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এইগুলোর একটাতে দাগালে কেমন হয়! কিন্তু এরা তো এমনিতেই বুড়া, আজ বাদে কাল এমনিতেই মরবে। তবে কি শত্রুর অভাবে আমার শত্রু নিধনের মহান ব্রত পন্ড হবে?

এইবার একটু চিন্তায় পড়ে গেলেও হঠাৎ মাথায় জিন্জিরা বুদ্ধি খেলে গেল! আবার গেলাম গুরুর কাছে, অনুযোগের সূরে বললাম, "ডিজিটাল যুগে তুমি মোরে দিয়েছ এনালগ কামান, শত্রু নিধন পরের কথা কেমনে রাখিব নিজের মান!" গুরু মূখে কিছু না বললেও হাত ইশারায় আমাকে ওয়ার্কশপ দেখিয়ে দেন, তার মুখভঙ্গি দেখে আমার বুঝতে বাঁকি রইলা না যে আমার আপগ্রেড এর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।কামানটি আপগ্রেড করে অটো পাইলট, অটো টারগেট লক সিস্টেম ইনস্টল করে ম্যানুয়াল কামানকে ড্রোন কামানে উন্নীত করে নিলাম যাতে কামান নিজেই আমার দুশমনদের লক্ষ্য করে আক্রমন করতে পারে আর একটা প্লাজমা ডিসপ্লেও লাগিয়ে নিলাম যাতে শত্রুর মরণ যন্ত্রণা সরাসরি উপভোগ এবং শত্রুর বিবরন টেক্সট আকারে দেখা যায়।

এইবার ফিরে এসেই মহা আনন্দে নাচতে নাচতে কামানটা বের করে মহাশত্রু নিধনের মহা প্রত্যয়ের ঘোরে কামানের অটোপাইলট অন করে “জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু” অপশন সিলেক্ট করে ফায়ার বাটনে হাত রেখে অপেক্ষারত টার্গেট অটো লক এর জন্য, এমন সময় ডিসপ্লেকে আয়না ভেবে চমকে উঠি কারণ সেখানে ভেসে আছে আমার মাথার নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি যার নিচে লাল রং এর বড় বড় হরফে লেখা "বিষাক্ত জ্ঞান"!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ৭:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×