somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সায়েনস ফিকসন: সময়ের দরজা

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত ১ টা। আমার জন্য এমন কোন রাত না। কিছুক্ষণ আগে চাঁদ উঠেছে। মন ভাল করা একটা পরিবেশ। বাসা থেকে বের হবার পর ছোট গলিটায় দাঁড়ালাম। গলিটা গিয়ে বড় রাস্তায় মিশেছে। গলির মাথায় কয়েকজন মাঝবয়সী লোককে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কেমন জানি একটু অস্বাভাবিক ঠেকল।মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটবে বা তারা কার ও জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের এই গলিটার পাশ দিয়ে ঝোপে ঘেরা একটা পায়ে হাটা পথ আছে যেটা এখন আর ব্যাবহার করা হয় না। নতুন এই রাস্তাটা হবার আগে আমরা এই পথটা ব্যাবহার করতাম। যাই হোক আমি পুরানো এই রাস্তায় ঢুকে গেলাম। কেমন জানি গা সির সির করে উঠল। লোকগুলাকে এখন দেখা যাচ্ছে না কিন্তু তাদের হাল্কা কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। চুপি চুপি আগাচ্ছি। তাদের কথা আগের চেয়ে জোরে শুনা যাচ্ছে। আরেক টু এগিয়ে গেলাম। হটাৎ মনে হল কিছু একটা ছিরে বের হয়ে এলাম। এরকম অনুভুতি আগে কখনও হয়নি। চোখের সামনে যা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।পুরানো ঝোপে ঢাকা যে রাস্তাটা ধরে আমি এগুচ্চি আমার সামনে এখন সেই রাস্তার বাকি পথটা দেখা যাচ্ছে কিন্তু কোন ঝোপ নেই। মসৃণ পায়ে হাটা পথ। অবিকল সেই রাস্তাটা যেটা আমরা স্কুলে থাকতে ব্যাবহার করতাম। অন্ধকারটা মনে হল আগের চেয়েও একটু বেশি। পিছনে তাকিয়ে দেখি ঝোপের কোন চিহ্ন নেই। অইতো আমাদের বাসাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু একি আমার চোখের সামনে ২০ বছর আগের সেই আমাদের একতলা বাসাটা দেখা যাচ্ছে। এখন যেটা ৩ তলা। প্রচণ্ড ভয় করতে লাগলো। আমি কোন স্বপ্ন দেখছি না তো। লোকগুলার কথা মনে হল। না তাদের কোন হদিস নেই। আমি বুঝতে পারছি বা দিকে তাকালে বাবুদের টিন শেড বাসাটা দেখতে পাব এখন যেটা ৪ তলা। অই তো বাবুর রুমের আলো জ্বলছে যেমন টা দেখতাম স্কুলে থাকতে। বুঝতে পারছি কোন ভাবে আমার সামনে ২০ বছর পুরানো সেই সময় ভেসে উঠেছে অথবা আমি কোন ভাবে ২০ বছর অতীতে চলে এসেছি নাকি আমার অবচেতন মনের কল্পনা। গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরেছি ঘুম ভাঙলে দেখা যাবে আমি নিজের বিছানায় সুয়ে আছি। ভয়টা ক্রমশ বাড়ছে। সামনে এগুনুর সাহস পাচ্ছি না। আকাশে চাঁদ থাকার কথা কিন্তু নেই। আমি আস্তে আস্তে পিছনে আসার শুরু করলাম। ২ কদম পিছানোর পর আগের সেই অনুভুতি কিছু একটা জাল ছিঁড়ে চলে আসার মত। সাথে সাথে স্বপ্নটাও চলে গেল। আমি আবার নিজের জগতে ফিরে এলাম। বর্তমানে। আকাশে চাঁদটা আগের জায়গাতেই আছে। লোকগুলার কথা ভেসে আসছে। আমি সেই ঝোপঝাড়ে ঢাকা পুরানো রাস্তায়। আমি আর কোনদিকে না তাকিয়ে বাসার দিকে হাটা দিলাম। আমার শরীর এখনও ভয়ে কাঁপছে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×