সিএনজি বাঁ অটো রিক্সায় শেয়ার করে উঠলে ৫ টাকা আর রিক্সায় উঠলে ১৫ টাকা ভাড়া। অফিস থেকে ফেরার পথে বাস থেকে নেমে ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও রিক্সায় উঠি না।বন্ধু বান্ধবরা দেখে ফেলার ভয়ে মাথাটা নিচু করে রাখি। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মচারী হয়েও শেয়ারে অটো চরছি একটু হীনমন্যতায় ভুগি। প্রতিদিন সকাল বিকাল ১০ টাকা করে বাচানো মানে মাসে ৫০০ টাকা।ভাবি ডিপিএস টার জন্য কিছু টাকা বাচানো গেল। বন্ধুরা যখন সবাই মিলে মাঝে মধ্যে ফাস্ট ফুড বাঁ রেস্টুরেন্টে যেতে চায় আমি বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যেতে চাই। আমি জানি বন্ধুরা আমাকে বিল দিতে বলবে না। কিন্তু মাঝে মধ্যে যদি আমি অন্তত মাসে একবার বিল দেই আমার মিনিমাম ৫০০/৬০০ টাকা খরচ হবে। তাই বন্ধুদের এড়িয়ে গিয়ে মাঝে মধ্যে স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়াই উত্তম মনে করি। সখের অনেক কেনা কাটা যেমন সিডি, ডিভিডি এরকম আরও অনেক কিছু কবেই ছেড়ে দিয়েছি মেয়েটার জন্য মাঝে মাঝে খেলনা আর পুতুল কেনার জন্য। ফটোগ্রাফি টা ছিল অনেক সখের। একটা এসএল আর ক্যামেরা কেনার অনেক ইচ্ছে ছিল। আমি জানি এই ইচ্ছেটা শুধু সপ্নই থেকে যাবে। আর ভয়ে থাকি বিয়ের বাঁ জন্মদিনের দাওয়াতের।
আমি একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মচারী। প্রতিমাসে পিএফ এর টাকা কাটা যাওয়ার পর অ্যাকাউন্টে ১৮,৬২৮ টাকা জমা হয়। মাসে বাড়ি ভাড়া দিতে হয় ৭৫০০ টাকা, অফিসে আসা যাওয়া বাবত যানবাহন খরচ হয় ২৫০০। এই ১০০০০ টাকা আমার ফিক্সড কষ্ট। বাকি থাকে ৮৬২৮ টাকা। বাজারখরচের কথা এখনও বলিনি। বলিনি এখন ও অবসরপ্রাপ্ত বাবা মায়ের জন্য কিছু কেনাকাটার কথা। বলিনি কোন মাসে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা। বলিনি এমন আরও অনেক খরচের কথা। অথচ আমি একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক যার কাছে রিক্সা চড়াটাই বিলাসিতার পর্যায়ে পরে।
কিছু দিন আগে নতুন পে স্কেল টা দেখে ভাল লাগলো। ভাবলাম ইস যদি এই পে স্কেল টা যদি পাশ হয় তবে কতই না ভাল হত। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে যায় যখন দেখি বিশিষ্ট জনেরা প্রশ্ন তুলে এর যৌক্তিকতা নিয়ে। আর এই বিশিষ্ট জনেরা কেউই কখনও সরকারী চাকুরী করেনি। তারা প্রশ্ন তুলে ২০ লক্ষ সরকারী কর্মচারীর বেতন বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাকি ১৫ কোটি মানুষের কষ্ট হবে। কিন্তু তারা কখনও বলে না এই ২০ লক্ষ লোকের পরিবার সহ প্রায় ১ কোটি লোক এখন কষ্ট পাচ্ছে। তারা বলে সরকারী কর্মচারীরা দুর্নীতি গ্রস্ত। কিন্তু তারা বলে না এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরার অন্যতম বড় কারন যে সল্প বেতন। তারা বলে পে স্কেলের সাথে সাথে মুদ্রাস্ফিতি হবে। কিন্তু তারা বলে না কিভাবে বাজার নিয়ন্ত্রন করতে হবে। প্রকারান্তে কি তারা তাই বলতে চাচ্ছে সরকারী চাকুরী জীবীরা কষ্ট পাক কিন্তু বাকি ১৫ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


