somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পে স্কেল-২০১৫

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিএনজি বাঁ অটো রিক্সায় শেয়ার করে উঠলে ৫ টাকা আর রিক্সায় উঠলে ১৫ টাকা ভাড়া। অফিস থেকে ফেরার পথে বাস থেকে নেমে ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও রিক্সায় উঠি না।বন্ধু বান্ধবরা দেখে ফেলার ভয়ে মাথাটা নিচু করে রাখি। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মচারী হয়েও শেয়ারে অটো চরছি একটু হীনমন্যতায় ভুগি। প্রতিদিন সকাল বিকাল ১০ টাকা করে বাচানো মানে মাসে ৫০০ টাকা।ভাবি ডিপিএস টার জন্য কিছু টাকা বাচানো গেল। বন্ধুরা যখন সবাই মিলে মাঝে মধ্যে ফাস্ট ফুড বাঁ রেস্টুরেন্টে যেতে চায় আমি বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যেতে চাই। আমি জানি বন্ধুরা আমাকে বিল দিতে বলবে না। কিন্তু মাঝে মধ্যে যদি আমি অন্তত মাসে একবার বিল দেই আমার মিনিমাম ৫০০/৬০০ টাকা খরচ হবে। তাই বন্ধুদের এড়িয়ে গিয়ে মাঝে মধ্যে স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়াই উত্তম মনে করি। সখের অনেক কেনা কাটা যেমন সিডি, ডিভিডি এরকম আরও অনেক কিছু কবেই ছেড়ে দিয়েছি মেয়েটার জন্য মাঝে মাঝে খেলনা আর পুতুল কেনার জন্য। ফটোগ্রাফি টা ছিল অনেক সখের। একটা এসএল আর ক্যামেরা কেনার অনেক ইচ্ছে ছিল। আমি জানি এই ইচ্ছেটা শুধু সপ্নই থেকে যাবে। আর ভয়ে থাকি বিয়ের বাঁ জন্মদিনের দাওয়াতের।
আমি একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মচারী। প্রতিমাসে পিএফ এর টাকা কাটা যাওয়ার পর অ্যাকাউন্টে ১৮,৬২৮ টাকা জমা হয়। মাসে বাড়ি ভাড়া দিতে হয় ৭৫০০ টাকা, অফিসে আসা যাওয়া বাবত যানবাহন খরচ হয় ২৫০০। এই ১০০০০ টাকা আমার ফিক্সড কষ্ট। বাকি থাকে ৮৬২৮ টাকা। বাজারখরচের কথা এখনও বলিনি। বলিনি এখন ও অবসরপ্রাপ্ত বাবা মায়ের জন্য কিছু কেনাকাটার কথা। বলিনি কোন মাসে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা। বলিনি এমন আরও অনেক খরচের কথা। অথচ আমি একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক যার কাছে রিক্সা চড়াটাই বিলাসিতার পর্যায়ে পরে।

কিছু দিন আগে নতুন পে স্কেল টা দেখে ভাল লাগলো। ভাবলাম ইস যদি এই পে স্কেল টা যদি পাশ হয় তবে কতই না ভাল হত। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে যায় যখন দেখি বিশিষ্ট জনেরা প্রশ্ন তুলে এর যৌক্তিকতা নিয়ে। আর এই বিশিষ্ট জনেরা কেউই কখনও সরকারী চাকুরী করেনি। তারা প্রশ্ন তুলে ২০ লক্ষ সরকারী কর্মচারীর বেতন বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাকি ১৫ কোটি মানুষের কষ্ট হবে। কিন্তু তারা কখনও বলে না এই ২০ লক্ষ লোকের পরিবার সহ প্রায় ১ কোটি লোক এখন কষ্ট পাচ্ছে। তারা বলে সরকারী কর্মচারীরা দুর্নীতি গ্রস্ত। কিন্তু তারা বলে না এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরার অন্যতম বড় কারন যে সল্প বেতন। তারা বলে পে স্কেলের সাথে সাথে মুদ্রাস্ফিতি হবে। কিন্তু তারা বলে না কিভাবে বাজার নিয়ন্ত্রন করতে হবে। প্রকারান্তে কি তারা তাই বলতে চাচ্ছে সরকারী চাকুরী জীবীরা কষ্ট পাক কিন্তু বাকি ১৫ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকুক।
৯টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×