somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিকিরে খফি !

১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) হুজুরেপাক ﷺ এর এরশাদ বর্ণনা করিয়াছেন যে, জিকিরে খফি যাহা ফেরেস্তারাও শুনিতে পায় না, তাহা সত্তর গুণ বর্ধিত হইয়া যায়। কেয়ামতের দিবস সমস্ত হিসাব নিকাশ যখন শেষ হইয়া যাইবে তখন আল্লাহ পাক বলিবেন,
-অমুক বান্দার কোন আমল বাঁকী রহিয়াছে কি? তখন কেরামান কাতেবীন বলিবেন,
-আমাদের লিখিত সমস্ত আমলই আমরা পেশ করিয়াছি। তখন আল্লাহ তায়ালা বলিবেন,
-আমার নিকট তাহার এমন আমল রহিয়াছে যাহা তোমাদের জানা নাই । উহা হইল “জিকিরে খফি” অন্য রেওয়ায়েতে আছে, যেই জিকির ফেরেস্তাগণ শুনিতে পায় না উহা জিকিরে জলির উপর সত্তর গুণ বেশী ফজীলত রাখে ।
-
জিকিরে খফির ব্যাখ্যা করিতে গিয়ে কবি বলিলেন,
-অর্থাৎ “প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে এমন সব রহস্য রহিয়াছে যাহা ফেরেস্তাগণও জানিতে পারে না। [ফাজায়েলে আমাল, ফাজায়েলে জিকির অধ্যায়, ৩০৫পৃঃ]

■পর্যালোচনাঃ
=============
►কবিতায় যে প্রেমিক-প্রেমিকার কথা বলা হয়ে থাকে, তা আল্লাহর শানে ব্যবহৃত হইতে পারে না, কারন আল্লাহ পুরুষ নন এবং স্ত্রীও নন। তিনি প্রেমিক/প্রেমিকা হবেন কিভাবে? আল্লাহর শানে স্ত্রী বা পুংলিঙ্গ সূচক শব্দ ব্যবহার কি অজ্ঞতা ও বাতিল আক্বীদার বহিঃপ্রকাশ নয়? আল্লাহর সঙ্গে বান্দার মুহাব্বাত হতে পারে, কিন্তু ইশক হতে পারে না। কারন ইশকের মধ্যে পাগলামী আছে যা সৃষ্টি বা মাখলুকের সঙ্গে চলে। খালিক অর্থাৎ স্রষ্টার সাথে ইশক চলে না।

►দূর্বল হাদীস! পৃথিবীর কোন সহীহ হাদীসে এ বর্ননা পাওয়া যায় না।

►কোরআনের আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন মহান আল্লাহ কিরামান কাতিবীন (সম্মানিত লেখকদ্বয়) সম্পর্কে বলেন,

وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ۞ كِرَامًا كَاتِبِينَ ۞ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
-অথচ তোমাদের ওপর পরিদর্শক নিযুক্ত রয়েছে। এমন কিরামান কাতিবীন (সম্মানিত লেখকবৃন্দ)। যারা তোমাদের প্রত্যেকটি কাজ জানে৷ [সূরা ইনফিতার ১০১২]
→আয়াতটি ভাল করে পড়ুন এবং বুঝুন। এখানে মহান আল্লাহ বলেছেন যে, বান্দা যেসব ‘আমল করে কিরামান কাতিবীন ফেরেস্তাদ্বয় তা সবই জানেন। আর লিখক সনদবিহীন হাদীস আর কবিতা বর্ণনার ভিত্তিতে বলেছেন ‘জিকিরে খফি’ নাকি ফেরেস্তারা জানে না।
.
মহান আল্লাহ কোরআনের অনত্র বলেন,
وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
-আর সেদিন আমলনামা সামনে রেখে দেয়া হবে৷ সে সময় তোমরা দেখবে অপরাধীরা নিজেদের জীবন খাতায় যা লেখা আছে সে জন্য ভীত হচ্ছে এবং তারা বলছে, হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, এটা কেমন খাতা, আমাদের ছোট বড় এমন কোনো কিছুই এখানে লেখা থেকে বাদ পড়েনি৷ তাদের যে যা কিছু করেছিল সবই নিজের সামনে উপস্থিত পাবে এবং তোমার রব কারোর প্রতি জুলুম করবেন না৷ [সূরা কাহাফ ৪৯]
→ আয়তাটি আবার পড়ুন এবং বুঝুন। কোরআন বলছে বান্দাগণ স্বীকার করবে যে, তাদের আমলনামা ছোট-বড় কিছুই বাদ পড়েনি, সবই তাতে আছে। আরও একটি আয়াত দেখুন।
-পড় তোমার কিতাব (আমলনামা) । আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট। [সূরা বনী-ইসরাঈল ১৪]
→ এই আয়াতের বর্ণনামতে যদি একজন ব্যক্তি তার আমলনামার ভিত্তিতেই নিজের হিসাব করতে পারে যে সে জান্নাতী নাকি জাহান্নামী। তাহলে বলুন একজনের কিছু নেক আমল যদি আমলনামার বাহিরে থেকে যায় তাহলে সে কি তার হিসাব গ্রহণের জন্য যথেষ্ট হবে?
!
_____________________
►►এখন আপনারাই বলুন,
১। আমরা ঐ কবির(!) প্রমাণবিহীন লেখকের কথা বিশ্বাস করবো নাকি, আল্লাহর বাণী কুরআনের কথা বিশ্বাস করবো?
২। এসব কথা লেখার আগে উল্লিখিত আয়াত গুলোর কথা একবারও কি লেখকের মন পড়েনি কেন?
৩। কিতাবখানি প্রকাশের পর এত বছর যাবৎ তাবলীগী জামায়াতের কোন আমীরের নজরে তা পড়েনি কেন?
৪। যদি চোখে না দেখেই থকেন, তাহলে একমাত্র এই কিতাব তারা কেমন পড়া পড়েন ? নাকি গোঁড়ামীর কারণে তা দেখেও সংশোধন করতে পারেননি।
অতএব আপনারাই ঠিক করুন, তালিমী বৈঠকে বসে কুরআন এবং সহীহ হাদীস বিরোধী এই সমস্ত বর্ণনা শুনলে আমাদের ঈমান ভেজাল মুক্ত হবে নাকি ভেজাল যুক্ত?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৯:২৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাইভারসিটি ভিসা লটারি আবার চালুর নির্দেশ আদালতের

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি লটারি) লটারির নিবন্ধন আবার চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

“‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’: ঘোষণার পর রাষ্ট্র কতটা বদলায়?”

লিখেছেন raselabe, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪

রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি পরিকল্পনা তখনই কার্যকর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে রূপ নেয়, যখন তা ব্যক্তিগত ঘোষণা থেকে বেরিয়ে সুস্পষ্ট নীতি, নির্দিষ্ট দায়িত্ব, বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা এবং পরিমাপযোগ্য জনকল্যাণের লক্ষ্যে পরিণত হয়।

এখানে নেতৃত্বের প্রথম... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×