somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষের জীবনে কখন কি হয়......... কেউ জানে না.................

৩১ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক প্রখ্যাত আলেমের স্ত্রী-সন্তানদের অবিশ্বাস্য জীবনযাপন -জিয়াউল হক মিজান

• মওলানা খলিলুর রহমানের পরিবারটি কি আপনার সহানোভূতি পাওয়ার যোগ্য নয়? পানি নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই- আছে শুধু ঝিলের অসহনীয় দুর্গনধ এবং কোটি কোটি মশার সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ। আর আছে রোদে শুকানো, বৃষ্টিতে ভেজা আর বন্যায় ডুববার দুঃসহ বাস্তবতা। খোদ রাজধানী ঢাকায় এমনই এক অবিশ্বাস্য পরিবেশে অনধকার খুপরিঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন একজন বিখ্যাত মুফাসসিরে কুরআনের বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তানরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আরো অসহনীয় করে তুলছে তাদের জীবন। বিশিষ্ট আলেম মাওলানা খলিলুর রহমান ছিলেন মগবাজারের নয়াটোলা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। কওমি মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ মাদ্রাসা থেকেও কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি বড় মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। চমৎকার তাফসির করতেন বিভিন্ন মাহফিলে। কিন্তু বিখ্যাত এই আলেমের মৃত্যু স্ত্রী-সন্তানদের দাঁড় করিয়েছে দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মাওলানা খলিলুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন ২০০৫ সালের ৫ ডিসেম্বর। তার আগে পর্যন্ত স্ত্রী লাভলী বেগম এবং দুই ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে সহকর্মী ইয়াছিন হুজুরের বাসায় ভাড়া থাকতেন। সঞ্চয় না থাকলেও সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য ছিল তখন। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে আকস্মিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন লাভলী বেগম। তাৎক্ষণিকভাবে খলিলুর রহমানের ছাত্ররাই চাঁদা তুলে দু�মাসের বাসা ভাড়া, কয়েক দোকানের বকেয়া পাওনা এবং লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ফ্ল্যাট বাড়ি ছেড়ে থাকা চার অবুঝ সন্তানকে নিয়ে অসহায় লাভলী বেগম আশ্রয় নেন একটি ঝুপরিঘরে।


মওলানা খলিলুর রহমানের পরিবারটি কি আপনার সহানোভূতি পাওয়া যোগ্য নয়?

পানি নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই- আছে শুধু ঝিলের অসহনীয় দুর্গনধ এবং কোটি কোটি মশার সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ। আর আছে রোদে শুকানো, বৃষ্টিতে ভেজা আর বন্যায় ডুববার দুঃসহ বাস্তবতা।

খোদ রাজধানী ঢাকায় এমনই এক অবিশ্বাস্য পরিবেশে অনধকার খুপরিঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন একজন বিখ্যাত মুফাসসিরে কুরআনের বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তানরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আরো অসহনীয় করে তুলছে তাদের জীবন।

বিশিষ্ট আলেম মাওলানা খলিলুর রহমান ছিলেন মগবাজারের নয়াটোলা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। কওমি মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ মাদ্রাসা থেকেও কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি বড় মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। চমৎকার তাফসির করতেন বিভিন্ন মাহফিলে। কিন্তু বিখ্যাত এই আলেমের মৃত্যু স্ত্রী-সন্তানদের দাঁড় করিয়েছে দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মাওলানা খলিলুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন ২০০৫ সালের ৫ ডিসেম্বর। তার আগে পর্যন্ত স্ত্রী লাভলী বেগম এবং দুই ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে সহকর্মী ইয়াছিন হুজুরের বাসায় ভাড়া থাকতেন। সঞ্চয় না থাকলেও সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য ছিল তখন। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে আকস্মিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন লাভলী বেগম। তাৎক্ষণিকভাবে খলিলুর রহমানের ছাত্ররাই চাঁদা তুলে দু’মাসের বাসা ভাড়া, কয়েক দোকানের বকেয়া পাওনা এবং লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর ফ্ল্যাট বাড়ি ছেড়ে থাকা চার অবুঝ সন্তানকে নিয়ে অসহায় লাভলী বেগম আশ্রয় নেন একটি ঝুপরিঘরে। ৩০০/৪ নম্বর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির শেষ প্রান্তে অবস্থিত এ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। নেই গ্যাস কিংবা পানির লাইনও। পেছনে বেগুনবাড়ি ঝিলের পচা-দুর্গনধযুক্ত ময়লা পানি। কোনায় ছোট ঘর। ঘরটি ৬০০ টাকায় ভাড়া নেন বৃদ্ধা আমেনা ও তার মেয়ে রহিমা। ওই ঘরে পার্টিশন দিয়ে লাভলীদের কাছে একাংশ সাবলেট দিয়েছেন তারা। এ বাড়িতে রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। বছরের পর পছর আশপাশের কোনো বাড়িতে অনুনয়-বিনয় করে রান্না করে আনতে হয় এ বাড়ির বাসিন্দাদের। টয়লেট সারতে হয় অন্য বাড়িতে গিয়ে। গোসল করা, কাপড় ধোয়া থেকে সবই করতে হয় অন্যের দয়া নিয়ে।

লাভলী বেগমের বড় মেয়ে মোর্শেদার বয়স ১৪ বছর। নয়াটোলা মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে পড়ে সে। একই মাদ্রাসায় পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে দুই ছেলে আতিকুর রহমান ও আশিকুর রহমান। ছয় বছরের মোমেনা আকতারকে দিয়ে দেয়া হয়েছে আমবাগানের এক এতিমখানায়। এতিমখানায় দেয়া হয়েছে দুই ছেলেকেও। বড় মেয়ের লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করা হয় মাদ্রাসার পক্ষ থেকে। মাওলানা খলিলুর রহমানের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় আইইএস স্কুলে এক হাজার টাকা বেতনে আয়ার চাকরিও পেয়েছেন তার বিধবা স্ত্রী। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর আর কোনোভাবেই কুলিয়ে উঠতে পারছেন না লাভলী।

১ হাজার টাকা বেতনের ৪০০ চলে যায় খুপরিভাড়া। মাসে ১০০ টাকা লাগে মেয়ের লেখাপড়ার জন্য কেরোসিন কেনা বাবদ। কাপড়-চোপড়, চিকিৎসা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা সবই করতে হয় বাকি ৫০০ টাকা দিয়ে। অথচ কেবল ভাত রান্না করে খেলেও মাসে ১ হাজার টাকার বেশি চাল লাগে তার পরিবারে। মাছ-গোশত তো দূরের কথা, ৪ টাকায় এক কেজি কলমিশাক কিনে তাও তিন দিন পর্যন্ত একটু একটু করে খেতে হচ্ছে তাকে। নিজের অতীত এবং স্বামীর মানমর্যাদার কথা ভেবে যেখানে-সেখানে হাত পাততে পারেন না। মানুষের দয়া-দাক্ষিণ্যে বেঁচে থাকতে হলেও এ জন্য তীব্র মনোকষ্ট আছে তার। তা ছাড়া মেয়েটা দিন দিন বড় হচ্ছে। তার ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হচ্ছে লাভলীকে।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে লাভলী বেগম বলেন, মাওলানা খলিলুর রহমানের স্ত্রী হিসেবে রান্না করা, গোসল করা, কাপড় ধোয়া, টয়লেট ব্যবহার করা, খাবার এবং ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করাসহ প্রতিটি কাজেই আশপাশের লোকজন আমাকে সহযোগিতা করেন। কিন্তু অন্যের বাসায় এসব নিত্যকাজের জন্য কত দিন যাওয়া যায় বলুন? একই অভিব্যক্তি মেয়ে মোর্শেদারও। মশার উৎপাতে যে খুপরিঘরে দিনের বেলায়ও বসা যায় না, সেই ঘরে গভীর রাত পর্যন্ত হারিকেন জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতে হয় তাকে। এ জন্য কোনো দুঃখ নেই তার। কিন্তু প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য না থাকায় নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগ নিতে না পারার কষ্ট ভুলতে পারছে না মেয়েটি কোনোমতেই।

দৈনিক নয়া দিগন্তে মওলানা খলিলুর রহমানের পরিবারের অসহায় অবস্থা বর্ণনা করে পরিবেশিত রিপর্টটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। আপনি চাহিলে আলেম পরিবারটির সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারেন। আমার বিশ্বাস নয়া দিগন্তের মাধ্যমে আপনার সহযোগতা তাদের কাছে পৌছে যাবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×